ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ২, আহত ২১
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভবন আবাসিক এলাকা ও স্কুলসহ অন্তত ৪০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ মে) সারা রাত কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজেছিল। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা কিয়েভ শহরের কেন্দ্রে এবং সরকারি ভবনের আশপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সূর্য ওঠার পরও কিয়েভে হামলা চলছিল। এ সময় কিয়েভের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন তারা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রামে পোস্টে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাজারে ২২ বছর ধরে কাজ করাছেন কিয়েভের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী স্বিতলানা অনোফ্রিয়িচুক। তিনি বলেন, ‘গতরাত ছিল ভয়াবহ এক রাত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলার পুরো সময়টতে এমন বিস্ফোরণ আগে কখনও ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলছি, এখন আমার কিয়েভ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি আর এখানে থাকছি না। এখানে থাকার কোনো উপায়ই নেই। হামলায় পুরো বাজার পুড়ে গেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
৭৪ বছর বয়সী কিয়েভবাসী ইয়েভহেন জোসিন বলেন, হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার কুকুরটিকে আনতে দৌড়ে যান। তিনি বলেন, ‘তার ঠিক পরপরই আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের আঘাতে আমি আর আমার কুকুর দুজনই ছিটকে পড়ি। আমরা দুজনই প্রাণে বেঁচে গেলেও আমার বাসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে, কিয়েভের শেভচেঙ্কো এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, ওই আবাসিক ভবনে একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার সময় মানুষ একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে সেই স্কুল ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুপারমার্কেট ও গুদামঘরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া তাদের ওপর হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীও রাশিয়ার ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার কথা জানায়।
রাশিয়া প্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলে দ্বিতীয়বার রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে জানিয়েছেন, ওরেশনিক শব্দের অর্থ হলো হ্যাজেল বাদাম গাছ। ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম। এটি মাটির নিচে অনেক গভীরে থাকা বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্রটি উল্কাপিণ্ডের মতো ছুটে যায়। বিশ্বের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে থামাতে পারবে না। পুতিনের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পারমাণবিক হামলার মতোই ভয়াবহ হতে পারে। ওয়ারহেড বহন করেও এর আঘাত প্রতিহত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
৯ দিন আগে
আজ আসছে না হাদিসুরের লাশ
তুরস্কে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের লাশ রবিবার দেশে আসছে না।
হাদিসুরের লাশ তুরস্ক এয়ারলাইন্সে ইস্তাম্বুল হয়ে দেশে আসার কথা থাকলেও রোমানিয়া থেকে ইস্তাম্বুল আসার পর প্রচণ্ড তুষার ঝড়ের কারণে বিমানটি সময় মত উড়তে পারেনি। তবে দু-একদিনের মধ্যে লাশ ঢাকায় আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: হাদিসুরের মরদেহ দেশে পৌঁছাবে ১৩-১৪ মার্চ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর বরাত দিয়ে বিএমএমওএ’র সভাপতি ক্যাপ্টেন এনাম চৌধুরী বলেন, ইস্তাম্বুলে ভারী তুষারপাতের কারণে ঢাকাগামী হাদিসুরের লাশবাহী ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে বলে দূতাবাস আমাদের জানিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামীকাল সোমবার হয়তো হাদিসুরের লাশ দেশে পৌঁছবে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে থাকা ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গোলার আঘাতে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র তৃতীয় প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন। পরিবারের দাবি ছিল- জীবিত না পেলেও যেন অন্তত লাশটি তারা পান। এরপরই হাদিসুরের লাশ ইউক্রেন থেকে উদ্ধার করে দেশে আনতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়।
এর আগে শনিবার রাতে রোমানিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেছিলেন, ‘রোমানিয়া সময় রাত পৌনে ১০টায় নাবিক হাদিসুরের লাশ টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। বাংলাদেশ সময় ২টায় হাদিসুরের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’
আরও পড়ুন: হাদিসুরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গত শুক্রবার হাদিসুরের লাশ ইউক্রেন থেকে মালদোভায় পৌঁছায়। সেখান থেকে শনিবার সকালে রোমানিয়ায় পৌঁছায়।
এদিকে, ৩ মার্চ জাহাজটি থেকে জীবিত ২৮ নাবিক ও নিহত হাদিসুরের লাশ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর ওই ২৮ নাবিককে ইউক্রেন থেকে মলদোভা হয়ে রোমানিয়ায় নিয়ে যায় সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস। গত ৯ মার্চ রোমানিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রোমানিয়ায় অবস্থান করা ২৮ নাবিককে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
১৫৪২ দিন আগে