কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে আবাসিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে এসব হামলা হয়। এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এক্সে সতর্ক করেছিলেন।
চেরনিহিভ অঞ্চলের উত্তরের শহর প্রিলুকিতে ক্ষেপণাস্ত্র একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ চাউস। ঘটনাস্থলে সব ধরনের জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত চারজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে।
চাউসের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনটির একটি প্রবেশপথ আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। মধ্যরাত ৩টার দিকে শহরের কেন্দ্রজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে দুজন নিহত হয়েছে বলে নগর সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে।
সামরিক প্রশাসন আরও জানায়, কিয়েভের পডিলস্কি জেলায় রকেট একটি অনাবাসিক ভবনে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। অন্য একটি হামলায় দারনিতস্কি জেলায় একটি গ্যারেজ কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। পরে আগুন নেভানো হয়। এছাড়া কাছের একটি খোলা জায়গাতেও রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। ওবুখিভ জেলায় তিনটি উৎপাদন ও গুদাম স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
পোলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুকে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিতালি দিয়াকিভনিচ। সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনজুড়ে ফ্লামিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে রাতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) স্বাধীনভাবে এ দাবি যাচাই করতে পারেনি।
মস্কো শুধু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলে এলেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের আবাসিক এলাকা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চল, চেরনিহিভ, কিরোভোহরাদ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলের স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি ওডেসা অঞ্চলে বন্দর ও জাহাজ মেরামতের স্থাপনা এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য পণ্য বহনকারী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে।