শিক্ষার্থী
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।’
এ সময় স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার আহ্বান জানান।
দেশের প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না, দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর কখনও রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় রিয়া (১০) নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তার গলায় ফাঁসের দাগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
রিয়া উইলস লিটল কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা রুবেল গাজীপুরের কাপাসিয়ার সালুয়া দিগি এলাকার বাসিন্দা। তবে বর্তমানে পরিবারটি যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় বসবাস করে।
রিয়ার বাবা রুবেল বলেন, আজ (সোমবার) দুপুর ১টার দিকে পেটে ব্যথা নিয়ে বাথরুমে যায় রিয়া। সেখানে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে তার গলায় দাগ দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে গলায় দাগ দেখে ফাঁসের কথা বলেছেন। আমার মেয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কি না, সেটা আমরা জানি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, শনির আখড়া এলাকা থেকে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বাথরুমে পড়ে গিয়ে মেয়েটি আহত হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার গলায় দাগ দেখে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
১৪ দিন আগে
অর্থের অভাবে শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষাবঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী
অর্থের অভাবে দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, শিক্ষার মান যত উন্নত হবে, দেশ ততই এগিয়ে যাবে। একটি শিক্ষিত, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত বিনামূল্যের স্কুল ড্রেস ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তাদের জন্য সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করাও সরকারের দায়িত্ব।
বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা দিলেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিনসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
এক বছরেও শেষ হয়নি কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার বিচার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করেন।
স্বীকারোক্তিতে মোবারক আরও জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক করার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘(আদালতের) পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে। ’
২১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে’ ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দুপুরে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ পড়ে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য দিনের মতো আজও শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে। এরপর বেশি অসুস্থ বোধ করায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা অনুভবসহ খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা আশঙ্কামুক্ত হলেও তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে অসুস্থ এক শিক্ষার্থীর বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, সরকারই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের খাবার সরবরাহ করছে। কিন্তু খাবারের মান যাচাইয়ে আরও ভালো পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। নিম্নমানের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হচ্ছে, এতে সরকারের আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে বেসরকারি সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)। শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য গাকের জেলা সমন্বয়কারী কবির হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি বিদ্যালয়ে গাকের দেওয়া খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
২২ দিন আগে
খোলা আকাশের নিচে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, বৃষ্টি নামলেই বন্ধ পাঠদান
একটু বৃষ্টি নামলেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। হঠাৎ কালো মেঘ জমলেই বইখাতা গুটিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। আবার প্রচণ্ড রোদে খোলা আকাশের নিচেই চলছে ক্লাস। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি নতুন ভবনের অভাবে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভবন সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই শিক্ষকদের পাঠদান করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বাধ্য হয়ে খোলা স্থানে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি শুরু হলেই ভিজে যায় বইখাতা ও শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরে যেতে হয় তাদের।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে সরকারিকরণ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো ভবন ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভবনটি নিলামে বিক্রি করে অপসারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
৪১ দিন আগে
১৭ বছরেও বেরোবির হল ডাইনিংয়ে ভর্তুকি নেই, চড়া দাম ও নিম্নমানের খাবারে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা
প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে এখনো চালু হয়নি কোনো ভর্তুকি ব্যবস্থা। ফলে চড়া দামে খাবার কিনেও মান, স্বাদ ও পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা। কোনো কোনো ডাইনিংয়ে বাসি খাবার, পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিবেশন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হল—ছাত্রীদের শহিদ ফেলানী হল এবং ছাত্রদের বিজয়-২৪ হল ও শহিদ মুখতার ইলাহী হল। এসব হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাবারের বৈচিত্র্য কম, রান্নার মান খারাপ এবং নির্ধারিত দামের তুলনায় খাবারের পরিমাণ ও মান কম।
এ পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী ডাইনিংয়ের খাবার না খেয়ে হলের কক্ষে বৈদ্যুতিক হিটারে রান্না করছেন। কেউ কেউ আবার বাইরের হোটেল ও খাবারের দোকানে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে পড়াশোনার সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছেলেদের দুই হলের ডাইনিংয়ে একবেলা খাবারের জন্য ৪০ টাকা দিতে হয়। এর বিনিময়ে মাছ, মাংস অথবা ডিমের মধ্যে যেকোনো একটি এবং একটি সবজি দেওয়া হয়। অন্যদিকে শহিদ ফেলানী হলে ৬০ টাকায় তিনবেলার খাবার দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় খাবারের দাম নির্ধারণের পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে ডাইনিংয়ে ভর্তুকি দেওয়া হলে কম দামে তুলনামূলক ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
বিজয়-২৪ হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের ব্যবস্থাপনা ও রান্নার দায়িত্ব একই ব্যক্তি পালন করায় একবার বেশি পরিমাণে খাবার রান্না করে পরবর্তী বেলায় তা পরিবেশন করা হয়। এতে খাবারে টক গন্ধ ও বাসি ভাব তৈরি হয়।
ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মামুন বলেন, ‘হলের খাবারের কোয়ালিটি দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। আমরা মেসে তিন বেলা ৭০ টাকায় মিল খেয়েছি, সেটাও অনেক ভালো ছিল। এখানে দুই বেলা ৮০ টাকা দিয়েও নিকৃষ্ট খাবার খেতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সবজি লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করলেও ভালো হওয়া সম্ভব। কিন্তু এখানে রান্না করা প্রায় সবকিছুই টক লাগে।’
একই হলের শিক্ষার্থী মাসফিকুল হাসানের অভিযোগ, ডাইনিংয়ে অবশিষ্ট খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে আবার পরিবেশন করা হয়। অনেক সময় আগের সিদ্ধ করা ডিমও পুনরায় পরিবেশন করা হয়। এতে খাবার নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ে।
মাসফিকুল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মুখতার ইলাহী হলের খাবার অন্তত খাওয়া যায়। কিন্তু এই হলের খাবার দেখে রুচি আসে না। অনেকে বাধ্য হয়ে খাচ্ছেন।’
দামের তুলনায় মান নিয়ে প্রশ্ন
শহিদ মুখতার ইলাহী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম বলেন, হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ডাইনিংয়ের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যে দামে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী সব সময় খাবারের মান, স্বাদ ও পরিমাণ পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ভাত, তরকারি কিংবা মাছ-মাংসের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন থাকে। আমরা চাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা হোক।’
শহিদ ফেলানী হলের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খান বলেন, ডাইনিংয়ের নতুন ব্যবস্থাপকের আচরণ ও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
তার অভিযোগ, দুই দিন ডালের মধ্যে পোকা পাওয়া গেছে। ডাল খাওয়ার সময় পচা ডাল রান্না করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে। ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী মিল চালালেও খাবারের মানের তেমন উন্নতি হয়নি। মাছ-মাংস মোটামুটি ভালো রান্না হলেও সবজি খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
৪৩ দিন আগে
সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরসহ দেশের বিভিন্ন জাদুঘর শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরের একটি দিন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে নেওয়া হয়েছে। স্কুলের ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সরকারি উদ্যোগে এই জাদুঘরে নিয়ে এসে এটি দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জাদুঘর পরিদর্শনে টিকিট লাগবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, টিকিট ফ্রি, ইটস ফ্রি অব কস্ট (এটি একদম বিনামূল্যে)।’
জাহেদ উর রহমান জানান, শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু এই জাদুঘর না, আমাদের জাতীয় জাদুঘর যেটা আছে, সেখানেও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এনে সেটা দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে অন্যান্য জাদুঘরেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাদুঘরের পাশাপাশি অন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জাদুঘরগুলোতেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে সেগুলো দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে মানুষের প্রচণ্ড আগ্রহের কারণে একদিন সামান্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা হয়েছিল। পরে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে সবাই জাদুঘর পরিদর্শন করছেন।
শিক্ষার্থীদের জাদুঘর পরিদর্শনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি জাদুঘরমুখী করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
৪৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিদ্যালয়ে ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। এমন অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২ আগস্ট) থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তঘেরা দহগ্রাম ইউনিয়ন। দেশের উত্তরের আলোচিত এই জনপদে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডর। ওই ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিকে ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক সরকারিকরণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ।
৫৬ দিন আগে
বাকৃবিতে দুই হলের সংঘর্ষে ৪ শিক্ষার্থী আহত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ব্যক্তিগত বিরোধ দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষি অনুষদের সেকশন ‘এ’-এর ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি মিম পোস্ট দেওয়াকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে একজন শিক্ষার্থী অফিশিয়াল গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর পরামর্শ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের একদল শিক্ষার্থী ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়।
খবর পেয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, খুব বেশি শিক্ষার্থী আহত হননি; তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। সোহরাওয়ার্দী হলের আহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার পর সবাই নিজ নিজ হলে ফিরে গেছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
৫৭ দিন আগে