শিক্ষার্থী
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। বছরে একবার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দিতে সক্ষম হব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাতের উন্নয়নে থ্রি সি: কারিকুলাম, ক্লাসরুম, কনসিসটেন্সি ঠিক করতে হবে। ক্লাসরুমের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের প্রাইমারি শিক্ষার কারিকুলামে অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে স্কুলে স্কুলে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছি। কয়েকটি স্কুলে গিয়ে, বিশেষ করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই থেকে পড়তে বলার পর দেখেছি, পড়াটা তাদের জন্য বেশ মুশকিল হয়। আসলে আমাদের দেখতে হবে, তারা আসলে কী পড়ছে? পড়াগুলো, ভাষাগুলো তাদের জন্য উপযোগী কিনা। সাবলীলভাবে তারা পড়তে পারবে কিনা। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের জন্য পড়াগুলো বেশ কঠিন। কারিকুলাম পর্যালোচনা করে আপডেট করতে হবে।’
যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা চাই। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার আগ্রহ পায়, এমন কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। তবে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম আমরা আজকে তৈরি করে কালকেই চাপিয়ে দেব না। আমরা কারিকুলাম আপডেটের ঘোষণা দেব, পাইলটিং করব, প্রশিক্ষণ দেব; তারপর কারিকুলাম আপডেট করব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে (সহশিক্ষা কার্যক্রম) আমরা গুরুত্বারোপ করছি। প্রতিটি স্কুলে ৬-৭টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। এছাড়া নাচ, গান ও অভিনয় শেখার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, পিটিআই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১০ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ট্রেনিংয়ের কন্টেন্টগুলো বেশ ভালো, আমি দেখেছি ও পড়েছি। কিন্তু স্কুলে গিয়ে আমি এই ট্রেনিংয়ের কোনো প্রয়োগ দেখতে পাই না। টিচারদের প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী করা হবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।
৬ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
১২ দিন আগে
রাজধানীতে ‘বিষাক্ত দ্রব্য’ পানে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের একটি বাসায় বিষাক্ত দ্রব্য পানে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত সীমান্ত নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের সদরুল আমিনের ছেলে। তিনি ঢাবির রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
নিহতের চাচা রুহুল আমিন বলেন, আমার ভাতিজা হাজারীবাগের বাসায় সাবলেটে ভাড়া থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। তার রুমমেট জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টার পরে সীমান্ত তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছিল। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান সীমান্ত আর বেঁচে নেই।
তিনি আরও বলেন, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বেরোচ্ছিল। এতে আমরা ধারণা করেছি, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন সে এই কাজটি করেছে, তা আমরা কিছুই জানি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
স্কুলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ব্রিটিশ কাউন্সিল চালু করল বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’
স্কুলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন অনেক কষ্টসাধ্য। কেননা অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা দ্রুত পরিবর্তনশীল ঝুঁকি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে সহপাঠীদের দ্বারা হওয়া ক্ষতি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে করা হয়রানি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউনিসেফের সহায়তায় ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি নতুন বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো স্কুলগুলোতে ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরক্ষার অভিন্ন চর্চা নিশ্চিত করা।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল বা তার আশপাশে সহপাঠীদের কাছ থেকে কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া, ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ)-এর তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি তিন জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু। ফলে অনলাইনে শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সাতজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে, যা প্রায়ই স্কুলের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘সুরক্ষা কেবল ব্যক্তিগত অনুমান বা বিশেষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে পারে না। এটি প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হতে হবে। নির্দিষ্ট দায়িত্ব, তথ্যের সঠিক নথিভুক্তকরণ এবং স্বচ্ছ ধাপগুলো বজায় রাখার মাধ্যমে সমস্যাগুলো শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এই টুলকিট মূলত স্কুলের সুরক্ষা নীতিকে প্রতিদিনের অভ্যাসে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।’
ইউনিসেফ স্পেনের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার আলমোদেনা ওলাগুইবেল বলেন, ‘সেফগার্ডিং টুলকিটটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউনিসেফের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। কার্যকর সুরক্ষা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নয়, বরং সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সময়ে সুরক্ষা সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো যত জটিল এবং কম দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, ততই প্রস্তুতি, স্পষ্টতা এবং স্কুল-সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ অত্যন্ত অপরিহার্য হয়ে উঠছে।’
টুলকিটটি স্কুলের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। এটি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বগুলো পরিষ্কার করবে, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করবে এবং যৌথভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথনির্দেশনা দেবে। এছাড়া শিশুদের সুরক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণ আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
অনলাইন গ্রুমিং, হয়রানি, জালিয়াতি এবং এআই ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওয়ের মতো অনলাইন ঝুঁকিগুলোর মোকাবিলায় এই টুলকিট স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বড় আকার ধারণ করার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি দিকনির্দেশনা দেবে।
বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি সহযোগী স্কুলে এই টুলকিট চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি সুরক্ষার আওতায় আসবে। স্থানীয় আইন ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে।
১৯ দিন আগে
নাটোরে শিক্ষার্থী হত্যার দায়ে ২ যুবকের যাবজ্জীবন
নাটোরের সিংড়ায় শিক্ষার্থী আব্দুল কাহার হত্যা মামলায় মাসুদ রানা ও মিজানুর রহমান নামে ২ যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সিংড়া উপজেলার বড়গ্রাম এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল কাহারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুর রশিদ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান জানান, প্রথমে এজাহারে কিছু আসামির নাম উল্লেখ করেছিলেন বাদী, যারা কাহারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশের তদন্তে প্রকৃত হত্যাকারীদের নাম বেরিয়ে আসে। সে অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রামণ শেষে বিচারক আজ এ রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীর পিতা আব্দুর রশিদ। তিনি রায় কার্যকর দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।
৫২ দিন আগে
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ২
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী শিক্ষার্থীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া বাজারের জাহেদিয়া দাখিল মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদিজা মাশমুম ওই মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অন্যজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
পুলিশ জানায়, সকালে মহাসড়কের জাহেদিয়া মাদরাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে অটোরিকশাটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়। গুরুতর আহত ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মীরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার বলেন, চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার বিষয়টি দেখে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। দুজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। হাসপাতালে ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৮১ দিন আগে
পেঁয়াজ রোপণের ভরা মৌসুমে ঝিনাইদহে শ্রমিক সংকট, মাঠে নেমেছে শিক্ষার্থীরা
ঝিনাইদহের গ্রামে গ্রামে পেঁয়াজের চারা রোপণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে কনকনে শীত আর কুয়াশাকে উপেক্ষা করে কৃষকের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে স্কুল কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা।
বার্ষিক পরীক্ষার পর অবসর সময়টুকু কাজে লাগাতে পরিবারের সম্মতিতে অনেক শিক্ষার্থী পেঁয়াজের খেতে কাজ করছেন। এতে প্রতিদিন তারা পাচ্ছেন ৫০০ টাকা মজুরি।
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শৈলকুপার হাজরামিনা গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বড়দের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীরাও পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পড়াশোনার চাপ না থাকায় বন্ধুরাও দল বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।
শৈলকুপার গোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন বন্ধু সনেট, রবিণ ও আরিফ ভোর ৭টার আগেই ৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে গেছে মনোহরপুর ইউনিয়নের বিজুলিয়া মাঠে।
সেখানে কাজ করা আরিফ হোসেন জানায়, বাড়িতে অলস বসে থাকার চেয়ে কিছু টাকা রোজগার হলে পরিবারের উপকার হবে। এ জন্য সে ৫০০ টাকা হাজিরায় মাঠে পেঁয়াজ লাগাতে এসেছে।
দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণে ১৫/২০ জন শ্রমিক দরকার হয়। হঠাৎ একসঙ্গে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ শুরু হওয়ায় শৈলকুপা উপজেলায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘বাড়তি মজুরি দিলেও শ্রমিক মিলছে না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরাই ভরসা। তারা মাঠে না নামলে পেঁয়াজ রোপনের কাজ শেষ করা যেত না।’
শৈলকূপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান খান জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অন্যতম এলাকা শৈলকূপা। চলতি মৌসুমে এখানে ১২ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টরে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদন বাড়াতে ৫০০ কৃষককে এবার বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রমিক সংকটে শিক্ষার্থীদের মাঠে কাজ করা কৃষকদের বাড়তি সহায়ক শক্তি বলেও মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
১২১ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার: জাকসুর ভিপি প্রার্থী উজ্জল
দীর্ঘ ৩৩ বছরের অচলায়তন ভেঙে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
প্রতিশ্রুতি, প্যানেল গঠন ও নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেল থেকে মনোনীত ভিপি পদপ্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক যোবায়ের হোসেন জাকির।
আরিফুজ্জামান উজ্জল খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. আফজাল হোসেন এবং মাতা নাজমা খাতুন। তিনি কয়রা মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন এবং তিনি বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
পড়ুন: জাকসু নির্বাচন: বাগছাসের জিএস প্রার্থী সিয়ামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিগত জুলাই আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন সময়ে উজ্জল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেইসঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। কখনো সামনে থেকে এবং কখনো পিছন থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাকে।
এ ছাড়াও, উজ্জল ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যৌক্তিক আন্দোলনগুলোতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
উজ্জল ভিপি পদে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের কথাগুলোই তার মুখ দিয়ে বলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
প্যানেল গঠনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়নি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের সচেতন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ নামে একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল গঠন করেছি। এখানে এমন শিক্ষার্থীদেরই রাখা হয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে নেতৃত্ব দিয়েছেন’।
নির্বাচনে নারীদের অনাগ্রহের বিষয়ে বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত এত লম্বা সময় ক্যাম্পাসে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ না থাকায় নারীদের অনাগ্রহের মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে অনলাইনে নারীদের নিয়ে যে সমস্ত সাইবার বুলিং, ট্যাগিং, ফ্রেমিং করা হয়েছে, সেই জায়গা থেকেও এ নির্বাচনে নারীরা কিছুটা অনাগ্রহী।
পড়ুন: প্রতিশ্রুতি নয়, পরিবর্তনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: জাকসুর ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী করার জন্য জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এসব কারণেই হয়তো নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। তবে আমরা চেষ্টা করেছি, আমাদের প্যানেলে নারীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে। এজন্য আমরা নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৬টি আসনের পাশাপাশি অন্য যে সকল সম্পাদকীয় পদে নারী-পুরুষ উভয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে সেই পদগুলোতেও নারী প্রার্থী দিয়েছি।’
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে এখন পর্যন্ত আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। সেই জায়গা থেকে মনে হচ্ছে তারা বেশ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে। ফলে তাদের বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা আশা করছি এই নির্বাচন কমিশন একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেবে।’
নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। যেহেতু কোনো দলীয় সরকার ক্ষমতায় নেই, সেই জায়গা থেকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো কোনো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি না।’
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। কেননা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তাদের পাশে থেকেছি, আন্দোলন করেছি। এ ছাড়া আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে আকাঙ্খার কথাগুলো শুনছি, আমাদের অঙ্গীকারগুলো উপস্থাপন করছি। এতে তারা আমাদের আরও উৎসাহ প্রদান করছে।’
আপনি ভিপি নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কি কি কাজ করবেন এর জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার, আমার অঙ্গীকার’। এছাড়া, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, গবেষণা সহায়তা ও শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, একাডেমিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি ও জাকসুর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাই।’
পরিশেষে তিনি বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি—তাহলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে গবেষণাকর্মে অগ্রগামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে জায়গা করে নিতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হব।’
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক এবং স্বতন্ত্র মিলে মোট ৮ প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম ৮১৩ জন সংগ্রহ করে জমা দেন ৭৪০ জন। এর মধ্যে বাতিল হয় ২১ জনের। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে জাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৭৮ জন। আর হল সংসদসহ মোট প্রার্থী ৪৭৫ জন। বাকী প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে রিট করেছেন এক ভিপি প্রার্থী। রিটটি হাইকোর্টে এখন চলমান।
২২৩ দিন আগে
৬২ বছর ধরে স্কুল আছে শিক্ষার্থী নেই, জানেন ঊর্ধ্বতনরাও
প্রতি ক্লাসে ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী, তারপরও খিচুড়ি খাওয়া হলেই ছুটি; বাড়ি চলে যায় তারা। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র ভি এইড রোডে অবস্থিত কে এন রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যকার চিত্র এটি। গত ৬২ বছর থেকে এভাবেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজানা নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও বিদ্যালয়টির সরকারিকরণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। শুরু থেকে এমপি মন্ত্রীদের সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে আসছে বিদ্যালয়টিতে। এ কারণে প্রথম থেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম থাকলেও শিক্ষক ছিল পর্যাপ্ত।
বিদ্যালয়টি বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সুন্দর মনোরম পরিবেশে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থীর কোলাহলপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে তা নয়, কোমলমতি শিশুদের ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্কুলের কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠার ৬২ বছর পরও স্কুলের শিক্ষকের সংখ্যা কম না হলেও শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। কোনো বছর প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না বলেও স্কুলের খাতাপত্র ঘেটে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো ক্লাসে ছিল ১০ জন, কোনো ক্লাসে ১৫ থেকে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল না।
আবার দুটি ক্লাস চলে একই কক্ষে। দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা কীভাবে এক সঙ্গে নেওয়া হয়, তা অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: প্রভোস্টবিহীন জাবির কাজী নজরুল হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬২ বছরেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি বিদ্যালয়টি। অথচ শিক্ষকরা তাদের কর্তাব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে মাসিক ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করে বহাল তবিয়তে চাকরি করে আসছেন।
অনিয়মের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় কেউ এখানে ভর্তি হয় না বলে জানান স্থানীয় কাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, পড়ালেখার পরিবেশ নেই, শুধু ফাঁকিবাজি। সব জেনেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা সব হজম করে পকেট ভরছেন আর ভালো রিপোর্ট দিচ্ছেন।
সম্প্রতি স্কুলের পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করতে ৬ জন শিক্ষিকা ছাড়াও একজন দপ্তরি নিয়োগ করা হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষিকারা কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থী পেতে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন, কিন্তু কাজ হয়নি। বরং শিক্ষার্থী না পেয়ে তারাও হতাশ। অনেক চেষ্টা করে ৬টি শ্রেণির জন্য মাত্র ৬০ জন শিক্ষার্থীকে ধরে রাখতে পেরেছেন তারা। তার মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে ৩ জন আর চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করে।
স্কুলের সামনের বাসিন্দা এবং ওই স্কুলের একসময়ের শিক্ষার্থী দুলাল মিয়া বলেন, ‘স্কুলের চারদিকে ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিশুরা সেখানে পড়তে যায়। সেই কারণে কে এন রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা শিরিন বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে আমরা কম চেষ্টা করিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ করেছি, কিন্তু কাজ খুব বেশি হয়নি। তাছাড়া এই স্কুলের চারপাশে কোচিং সেন্টারসহ ভালো কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সে কারণে শিশুরা ওই দিকে ঝুঁকে পড়ছে।’
স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে এবং উপস্থিতি বাড়াতে আমরা নিজেদের বেতনের টাকায় ছাত্রছাত্রীদের দুপুরে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। খিচুড়ি খেয়েই শিক্ষার্থীরা চলে যায়। এই স্কুলের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন থাকলেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা তা এড়িয়ে যান। তারা কোনো পরামর্শ দিতেও স্কুলে আসেননি।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস স্কুলের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের সভায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা স্কুলে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করছি।’
২৩৪ দিন আগে
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর ক্লাসে ফিরছেন কুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘ পাঁচ মাস ১০ দিন পর আজ (মঙ্গলবার) ক্লাসে ফিরছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ক্লাস শুরুর নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) সকালে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন উপাচার্য। এরপরই ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত আসে।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর ক্লাস ও পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: কুয়েটের নতুন উপাচার্য ড. মাকসুদ হেলালী
এ বিষয়ে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, ‘উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিলে শিক্ষকরা যোগ দেবেন।’
উপাচার্য ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, ‘শিক্ষক ও ছাত্ররা একমত হয়েছে যে ক্লাস ও তদন্ত কার্যক্রম একসঙ্গে চলবে। এজন্য মঙ্গলবার থেকে ক্লাস শুরুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক আহত হন। ওই রাতেই হামলাকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তৎকালীন উপাচার্যসহ কয়েক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৫ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ৪ মে থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। এরপর শিক্ষকরা আর ক্লাসে ফেরেননি।
২৬৪ দিন আগে