শিক্ষার্থী
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
৪ দিন আগে
গাইবান্ধায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
গাইবান্ধায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার জামিয়া কওমি দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আজ সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ওই ছাত্রকে ফোনে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে তাকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে তার অনেকক্ষণ ধরে ধস্তাধস্তি চলে।
পরে ছাত্রের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রবিউকে হাতেনাতে আটক করে মাদ্রাসা কক্ষ থেকে বের করে গণধোলাই দেয়। এরপর তাকে বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রবিউল ইসলাম প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে চাকরিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মাদ্রাসাটি সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, আটক শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ, একদিন পর মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বয়রা বাজার খেয়া ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নাম মোকরামিন হাসান রাফি (২৫)। তিনি বয়রা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে এবং ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যান রাফি। একপর্যায়ে তারা সাঁতরে বেশি পানিতে চলে যান। এ সময় ধীরে ধীরে দুই বন্ধু সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও রাফি পানির স্রোতে পানিতে তলিয়ে যান। পরে নিজেরা খোঁজাখুজির পরও সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে ডুবুরি দল, কিন্তু তাতেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত হয়ে যাওয়ার উদ্ধার কাজ স্থগিত রাখা হয়। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আবারও ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত রাফির ফুফাতো ভাই এখলাছুর রহমান বলেন, রাফি সাঁতার জানে। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানিতে চলে যাওয়ার পর সে পাড়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছিল, কিন্তু স্রোতের মধ্যে পড়ে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে। এরপর সে ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, রাফি খুব ভালো ছেলে ছিল। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ (বৃস্পতিবার) জোহরের নামাজ শেষে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। ফলে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হবে।
১৫ দিন আগে
বনশ্রীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আব্দুল্লাহর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে গত রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এ সময় বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডের আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের কোথাও কোনো জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার পায়ুপথে অস্বাভাবিক ফাঁকা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
৩০ দিন আগে
স্মার্টফোন আসক্তি ও সামাজিক অস্থিরতা: ঝিনাইদহে বিপথগামী প্রজন্ম নিয়ে উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা
ঝিনাইদহ জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের আচরণ, মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতায় ভয়াবহ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে আসক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের আচরণে এক ধরনের ‘বেপরোয়া ভাব’ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টিকে ইতোমধ্যেই ‘অ্যালার্মিং’ বা চরম উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
শিক্ষকরা বলছেন, কয়েক বছর আগেও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ যেমন ছিল, বর্তমানে তার সঙ্গে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে আইন-কানুন বা নিয়ম-নীতির প্রতি এক ধরনের অনীহা ও অবাধ্যতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষক বা অভিভাবকদের শাসন না মানা, জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া এবং তুচ্ছ কারণে ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে যা সামাজিক শৃঙ্খলাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষক জানান, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। সামান্য বিরতি পেলেই তারা মোবাইল ফোন, গেম কিংবা ছোট ভিডিও (শর্ট কনটেন্ট)-এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক শিষ্টাচারের চরম অভাব।
ঝিনাইদহ পৌর এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি মানসিক সংযোগ তৈরি করা যেত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি উদ্ধত। বড়দের সম্মান করা বা শিক্ষকের নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে চরম গাফিলতি ও অনীহা দেখা যাচ্ছে।’ এর পেছনে ভার্চুয়াল জগতের আসক্তির পাশাপাশি বর্তমান সামাজিক অস্থিরতাও বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু বক্কর সিদ্দিকীর মতে, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতেই বেশি সময় কাটায়। ফলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে তারা দিন দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে সমাজে যে শ্রদ্ধাবোধ ও জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ সুসম্পর্ক থাকার কথা, তা ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
যশোর অটিজম ও এনডিডি সেবাকেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানের পরামর্শক সাব্বির আহমেদ জুয়েল এ বিষয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত স্ক্রিন-টাইম কিশোরদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে তারা বাস্তব জীবনে খিটখিটে মেজাজের ও অবাধ্য হয়ে ওঠে। যখন তারা চারপাশের সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবেশে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা লক্ষ করে, তখন অবচেতনভাবেই সেটিকে নিজেদের আচরণের অংশ করে নেয়।’
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের এই মানসিক ও নৈতিক বিকাশের ক্রান্তিকালে পরিবারকে ‘সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্তানদের কেবল স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখলেই হবে না, তাদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত কাউন্সিলিং প্রয়োজন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল প্রজন্ম গড়তে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
৩৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে এমপি আমির হামজা
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে ক্যাম্পাসে যান মুফতি আমির হামজা। সে সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে কলেজের প্রবেশদ্বারের মুখে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিলেন। আমির হামজা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মঞ্চে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন এবং ব্যানার হাতে নিয়ে মঞ্চের পাশে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত, এমনকি আমির হামজা যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, সে সময়ও শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি আনন্দও পেয়েছি, আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। কারণ এখানে গাছ কাটার যে বিষয়টা শুনলাম। আসলে গাছ কে বা কারা কেটেছে এটা তদন্তের মাধ্যমে বের করেন, কিন্তু বাকি যেগুলো হচ্ছে, এগুলোকেও তদন্ত করা দরকার। বাকি যারা যা করছেন, মনে করছেন আমি লেবাস পরে আছি, মনে করছেন আমি হুজুর, আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাব আজকে। আপনাদের যা করা লাগে, আমি তাই করব। আর আমি ‘ভুয়া’ না কী, আপনাদের দেখাব আজকে। আপনাদের যে কয়জনের তালিকা ইতোমধ্যে আমার কাছে আছে, এরা এই শিক্ষা ভবনটা নষ্ট করার জন্য। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। আমি তাদের নামে নালিশ দেব একেবারে উপরে। দেখি আপনারা কতদূর পারেন।
ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় কলাপসিবল গেট আটকে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পরে এমপি আমির হামজা পুলিশের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লেখা হয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
পরে আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু নয়। সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। আমি বলছি, খেলা চলাকালীন এসব ঝামেলার দরকার নাই।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।
তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।
প্রসঙ্গত, কলেজের বিশাল এই খেলার মাঠ বাদ রেখেই আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নামে প্যান্ডেল তৈরির জন্য গত ৪ মে রাতের আঁধারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রায় ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা মিলে তাদের নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন ওই গাছগুলো। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন।
রাতের আঁধারে এই গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কলেজে এসে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন তারা। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একজনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
৪৩ দিন আগে
সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের সেশন ফি ও অনান্য ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কলেজ ক্যাস্পাস ও শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতি বছর অতিরিক্ত সেশন চার্জ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক খাত দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ টাকা নিচ্ছে। যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার কোনো সেবা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না। দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি সল্প সময়ের, আবার কিছু দীর্ঘ সময়ের। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৪৫ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। বছরে একবার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দিতে সক্ষম হব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাতের উন্নয়নে থ্রি সি: কারিকুলাম, ক্লাসরুম, কনসিসটেন্সি ঠিক করতে হবে। ক্লাসরুমের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের প্রাইমারি শিক্ষার কারিকুলামে অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে স্কুলে স্কুলে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছি। কয়েকটি স্কুলে গিয়ে, বিশেষ করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই থেকে পড়তে বলার পর দেখেছি, পড়াটা তাদের জন্য বেশ মুশকিল হয়। আসলে আমাদের দেখতে হবে, তারা আসলে কী পড়ছে? পড়াগুলো, ভাষাগুলো তাদের জন্য উপযোগী কিনা। সাবলীলভাবে তারা পড়তে পারবে কিনা। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের জন্য পড়াগুলো বেশ কঠিন। কারিকুলাম পর্যালোচনা করে আপডেট করতে হবে।’
যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা চাই। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার আগ্রহ পায়, এমন কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। তবে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম আমরা আজকে তৈরি করে কালকেই চাপিয়ে দেব না। আমরা কারিকুলাম আপডেটের ঘোষণা দেব, পাইলটিং করব, প্রশিক্ষণ দেব; তারপর কারিকুলাম আপডেট করব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে (সহশিক্ষা কার্যক্রম) আমরা গুরুত্বারোপ করছি। প্রতিটি স্কুলে ৬-৭টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। এছাড়া নাচ, গান ও অভিনয় শেখার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, পিটিআই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১০ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ট্রেনিংয়ের কন্টেন্টগুলো বেশ ভালো, আমি দেখেছি ও পড়েছি। কিন্তু স্কুলে গিয়ে আমি এই ট্রেনিংয়ের কোনো প্রয়োগ দেখতে পাই না। টিচারদের প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী করা হবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।
৬৭ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৭৩ দিন আগে
রাজধানীতে ‘বিষাক্ত দ্রব্য’ পানে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের একটি বাসায় বিষাক্ত দ্রব্য পানে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত সীমান্ত নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের সদরুল আমিনের ছেলে। তিনি ঢাবির রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
নিহতের চাচা রুহুল আমিন বলেন, আমার ভাতিজা হাজারীবাগের বাসায় সাবলেটে ভাড়া থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। তার রুমমেট জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টার পরে সীমান্ত তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছিল। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান সীমান্ত আর বেঁচে নেই।
তিনি আরও বলেন, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বেরোচ্ছিল। এতে আমরা ধারণা করেছি, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন সে এই কাজটি করেছে, তা আমরা কিছুই জানি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৭৭ দিন আগে