শিক্ষার্থী
সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর
দেশে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৩২৮ জন (৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ) এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩৬ জন (৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২৩ জন (২৬ দশমিক ১১ শতাংশ)। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯২৭ জন (১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ)। মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন (৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ)। এছাড়া বাইসাইকেল ও রিকশার আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৫১৯ জন (৭ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে নিহত হয়েছেন ১৫৪ জন (২ দশমিক ৯ শতাংশ)।
সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৮২ জন (২০ দশমিক ১২ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন (২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন (২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন (২৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ)।
পথচারী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে জাতীয় মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ২৫১ জন (১৩ দশমিক ৫ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন (২১ দশমিক ২৬ শতাংশ), শহরের সড়কে ৫৩৭ জন (২৭ দশমিক ৯২ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন (৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ)।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মূলত স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।
এতে আরও বলা হয়, বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও অনিরাপদ মালবাহী যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছে। আর অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতাকে দায়ী করা হয়েছে।
বছরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
এছাড়া গত সাড়ে সাত বছরে অসাবধানে রেললাইন পারাপার এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থী নিহতের পেছনে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সংস্থাটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত একবার সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের আয়োজন, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অহিংস আন্দোলন হয়েছিল। তবে আট বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীন উদ্যোগ, সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকর প্রয়োগ না হওয়া এবং পরিবহন খাতের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি ঘটছে না।
১ দিন আগে
রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে ৯ ঘণ্টা পর রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের সবকটি দাবি রেল কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ায় আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। সেই সঙ্গে রেলযাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
আম্মার বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল, যিনি অপরাধী, তিনি সশরীরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর কাছে জবাবদিহি করবেন। তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশ্যে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পুরো রেল কর্তৃপক্ষও আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি পূরণ হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তকে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে তিন কার্যদিবসের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে অনাস্থা জানালে বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, প্রক্টোরিয়াল বডির একজন প্রতিনিধি, একজন শিক্ষক প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
রাকসুর জিএস বলেন, তৃতীয় দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিষয়ে যে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছয় মাস বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের প্রস্তাবও তিনি সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা আমাদের জন্য সম্মানের।
চতুর্থ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ‘পদ্মা’, ‘তিতুমীর’ ও ‘মধুমতী’ ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রাবিরতির বিষয়ে রেজুলেশন হয়েছে। পাশাপাশি রাতের ট্রেনগুলোর যাত্রীদের জন্য রাজশাহী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল বাস চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, দীর্ঘদিনের দাবি এবং আমাদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার বিচার আমরা পেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মোটামুটি সন্তুষ্ট। আগামী ৬ আগস্ট ফলোআপ বৈঠকের পর বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হবে। সে পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।
৮ দিন আগে
রাবি শিক্ষার্থীকে টিটির ‘মারধর’, ট্রেন চলাচল বন্ধ
ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়।
সকাল থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ কোনো ট্রেনই ছেড়ে যেতে পারেনি। একই সঙ্গে রাজশাহীগামী অন্যান্য ট্রেনের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ফোরকান বলেন, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফেরার পথে দেখতে পাই, টিটিরা রসিদ ছাড়াই সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা আদায় করছেন। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়ে টিটিদের জিজ্ঞাসা করি, ‘রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ, কিন্তু টিকিট না দিয়ে কেন টাকা নিচ্ছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় হঠাৎ পেছন থেকে ৬-৭ জন টিটি আমার গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যান। সেখানে ঘাড় ও পিঠে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার চশমা ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অভিযুক্ত টিটি সুমনকে দ্রুত হাজির করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলাসংলগ্ন রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহিদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রেলে অন্যায় ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসে এই অপকর্ম ও মারধরের সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।’
এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এবং আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
এছাড়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
রাকসুর ভিপি লেখেন, ‘পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটিরা রাবির এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজে এসে সমাধান না করা পর্যন্ত এই রেলপথ বন্ধ থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আজকের পর থেকে যেন কোনো রেলগুন্ডা শিক্ষার্থীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস না পায়, রাকসু তা নিশ্চিত করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সোমবার (গতকাল) রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে টিটিরা মারাত্মকভাবে মারধর করেছে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি জানান, রেল অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, দ্রুতই একটা সমাধান বের হবে এবং ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে।’
তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। ফলে রাজশাহী স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েই চলেছে। হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
৮ দিন আগে
ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরায় নিষেধাজ্ঞা
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফেনীর জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মাগরিবের নামাজের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া ও অকারণে ঘোরাঘুরি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিশোর অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থেকেই এ বিষয়ে জেলাজুড়ে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক মাইকিং শুরু হয়েছে।
নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের বিশেষ তদারকি দলের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীও মাঠে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার কিশোর অপরাধ ও গ্যাং কালচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। এদের একটি বড় অংশ পরবর্তীতে মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থীরা বাইরে বের হলেই তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—বিষয়টি এমনও নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরাকে নিরুৎসাহিত করা।’
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ফেনী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব ফেনী গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আইন মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আড্ডা নয়, বরং শিক্ষাকেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগ সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সর্বস্তরের নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জিরো পয়েন্ট মজমপুর এলাকায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে কুষ্টিয়ার ব্যস্ততম এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কুষ্টিয়া-বটতৈল ও কুষ্টিয়া-ত্রিমোহনী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন। এ সময় ‘তুমি কে, আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী তাসনিম রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টি আর বন্যার মধ্যে আমরা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেব? অনেক সহপাঠী কেন্দ্রে পৌঁছাতেই পারেনি। অথচ আমাদের দুর্ভোগের সমাধান না করে উল্টো দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা ফার্মের মুরগি নই যে খাঁচায় বন্দি থেকে সব মেনে নেব। আমাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
আরেক পরীক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ১৩ জুলাইয়ের বৈরী আবহাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা শুধু একটা পরীক্ষা নতুন করে নিয়ে পুষিয়ে দেওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক যে ধকল গেছে, তা শিক্ষামন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল। আমরা পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস ও আমাদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন চাই।
এদিকে, আন্দোলন শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি গত সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং অনেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ এসেছে। যদিও আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এ পরীক্ষাটি নিয়ে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি, আমাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা যখন নিতে যাব—পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা, সে সময় আমরা এ পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পরও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়ার মজমপুর মোড়ে তাদের অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক’ তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ এবং দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদেরকে গড়ে তুলতে হয়, যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের যে ছোট কোমলমতী শিশুগুলো আছে, তাদের আমাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি মানবিক মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রটি রচনা করতে পারব।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আসুন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করুন। এই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সৈনিকদের দরকার, সেই সৈনিকরা কিন্তু আপনাদের কাছে আছে, আপনাদের সামনে আছে। সেই সৈনিকদের আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনারাই তাদের গড়ে তোলার কারিগর।
১৪ দিন আগে
দাবি না মানলে ১৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীকে নওগাঁয় ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি
নওগাঁয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সড়কে নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ সফরে শিক্ষামন্ত্রীকে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা শিক্ষা ভবনের সামনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা ও বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষাগ্রহনের সুযোগ নিশ্চিতসহ সকল দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতে আসলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নওগাঁয় প্রবেশে বাধা দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারশিয়া রহমান, নাইম আহম্মেদ, রাহিম হোসেনসহ অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজন ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদমান বক্তব্য রাখেন।
১৫ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা ইস্যু: সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান ছাত্রদলের
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং সড়ক অবরোধ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আলাপ-আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ছাত্রদল মনে করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে; সেজন্য আমরা প্রেস রিলিজ দিয়েছি। সুতরাং বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবে সড়ক অবরোধ করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে সেজন্য সরকার চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর বাইরে উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছে। এটি আমরা সকলেই অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষা স্থগিতকরণের দাবির সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও একই দাবি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার কোনো দাবি করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটির পক্ষে থাকত। কিন্তু ছাত্রদল সরকারের বিপক্ষে গিয়ে বলেছে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এবং আমরা শুনেছি সরকার সিদ্ধান্ত বিবেচনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছে।’
১৫ দিন আগে
১ জানুয়ারি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন
আগামী ১ জানুয়ারি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রবিবার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দময় শিখন’ বইটিকে প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্নধর্মী করা উচিত। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শেখা আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, প্রচলিত পাঠ্যবইগুলো সাধারণত লেখানির্ভর হওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের কাছে সেগুলো আকর্ষণীয় মনে হয় না। তাই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে আরও বেশি ছবি, সারণি, চিত্র, ডায়াগ্রাম এবং অন্যান্য দৃশ্যমান উপাদান যুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, বইটির শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এতে বইটির উদ্দেশ্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর দার্শনিক ভিত্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।
কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, এ শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও এখনো এটিকে ঘিরে একটি সামাজিক সংকোচ বা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। ফলে অনেক ভালো পরিবারের শিক্ষার্থীরাও কারিগরি শিক্ষায় আসতে চায় না।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে একটি প্রারম্ভিক অধ্যায় যুক্ত করা যেতে পারে, যেখানে দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং কীভাবে কারিগরি দক্ষতা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। কারণ, কারিগরি শিক্ষার মূল বিষয়ই হলো মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ ও প্রেরণা সৃষ্টি করা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন, বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের স্কুল থেকে শুরু করে ঢাকার সেরা স্কুল পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্কুলে কারিগরি শিক্ষার একটি ল্যাব বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীও যেন অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে। সুতরাং, মোটিভেশনের বিষয়টি আনতে হবে যে, কী কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরই অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নতুন চারটি বই প্রণয়নের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ে প্রণীত পাঠ্যবইয়ের ভুল ও ইতিহাস বিকৃতির বিষয়গুলোও সংশোধনের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বলেছি, ইতিহাসের নির্মোহ বহিঃপ্রকাশ যেন থাকে। আমাদের ইতিহাসকে আমাদের মতো করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত সরকার, জনগণের সরকার এবং ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সঠিক অবস্থানে ছিল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আমরা চাই, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই উঠে আসুক।’
তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছরই সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি টিম গঠন করে মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা এবং বইগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া একটি বড় মহাযজ্ঞ। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বিষয়বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। বিশেষ করে এই চারটি বইয়ের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক আবেগ রয়েছে। এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মপরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে যেহেতু প্রায় এক মাস সময় রয়েছে, তাই রিভিশনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু কাজ আরও করা উচিত।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ এই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। অবশ্যই খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ; তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস”, কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’
তিনি বইটির পাঠ্যক্রম আরও আকর্ষণীয়, প্রাসঙ্গিক এবং প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও ভাবনার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। সে হিসেবে বই বিতরণের লজিস্টিকসের জন্য প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন হবে।’
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৩১ কোটি বই প্রস্তুত রাখতে হবে। এরপর সারা দেশে বই প্রকাশ, মুদ্রণ ও বিতরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েছি যে, এই মাসের মধ্যেই আমরা বইগুলোর ফাইনাল কপি তার কাছে উপস্থাপন করব। তিনি সেগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং আমরা যে কাজ করেছি, তা তার চিন্তাধারা ও প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে তার মতামত দেবেন। এরপর তার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।’
১৭ দিন আগে
প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি বলেন, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একটি মেধার ভিত্তিতে) বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়।
তিনি জানান, এবারের পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় মোট উপস্থিত ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন (৬২ দশমিক ১ শতাংশ) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ) পরীক্ষায় অংশ নেয়। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ) এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০ দশমিক ৩২ শতাংশ)।
মন্ত্রী জানান, বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।
তিনি বলেন, মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এরইমধ্যে ফল আপলোড করা শুরু হয়েছে। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ফল আপলোড সম্পন্ন হবে।
১৭ দিন আগে