তেজগাঁও কলেজ
ফার্মগেটে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর ফার্মগেট মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এতে ফার্মগেটসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন। দুপুর ১২টার দিকে ফার্মগেটে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
ডিসি জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরার চেষ্টা চলছে। রাজধানীর বাইরে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির দুটি দল একযোগে অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসের ছাদে মাদক সেবন করতে দেখে সাকিব ও তার কয়েকজন বন্ধু মাদকসেবীদের বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিন রাতে কলেজের ছাত্রাবাসে বিচার বসে। সেই বিচারে উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোরশেদ তরুণসহ আরও অনেকে। কিন্তু তারা মাদক সেবনকারীদের পক্ষ নিলে হোস্টেলের ছাত্ররা তাদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে তারা ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে এসে হোস্টেলের প্রতিটি রুমে রুমে ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাকিব আহত হন।
তার মাথায় হাতুড়ি ও রড দিয়ে আঘাত করা। এতে মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সাকিবের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর গত ১০ ডিসেম্বর মালিবাগের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
৩ দিন আগে
টিপ পরা ছবি প্রকাশ করে তারকাদের প্রতিবাদ
সম্প্রতি টিপ পরা নিয়ে তেজগাঁও কলেজের এক নারী প্রভাষককে হেনস্থা করেছেন এক পুলিশ সদস্য। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যেখানে অংশ নিয়েছেন তারকারাও।
অভিনেত্রী মিথিলা এ নিয়ে চার লাইনের একটি প্রতিবাদী কবিতা লিখেছেন, ‘আমার টিপ নিয়ে কোন কথা নয়/আমার স্বাধীনতা নিয়ে কোন কথা নয়/যদি থাকে আমার আগুনে নিশ্চিহ্ন হবার ভয়/পৃথিবীটা তোমার একার নয়!’ পোস্টের সঙ্গে নিজের টিপ পরা ছবিও দিয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রী ও কবি সানারেই দেবী শানু নিজের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ধর্ম খুব সংবেদনশীল নিজস্ব বিশ্বাসের বিষয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। টিপ পরার দায়ে প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে জনৈক পুলিশের ইভটিজিং ও বাইক দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এই অসংযত আচরণের বহিঃপ্রকাশকে অবদমিত করা না হলে কদিন পর আর টিপ পরার বিষয়টি আলাদা করে ধর্মীয় ভাবনায় ভাগ হয়ে যাবে। সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা।’
অভিনেত্রী ফারজানা চুমকী লিখেছেন, ‘টিপ আমি পরবোই।’ অন্যদিকে অবসকিওর ব্যান্ড নেতা টিপু নিজ কপালে টিপ পরে বলেন, ‘টিপ, ভালোবাসার চিহ্ন।’ অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা ছবি প্রকাশ করে হ্যাশট্যাগ দেন #টিপপরছোসকেন!’
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার শিকার সবচেয়ে বেশি হয় নারীরা: আশফাক নিপুণ
অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা এ নিয়ে কথা বলেন জাতীয় সংসদে। তিনি বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে বিশেষ করে নারী সমাজের জন্য অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ঘটনা। ইভটিজিং আমরা শুনে এসেছি। বখাটে ছেলেরা স্কুলের বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের টিজ করে। সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু আমি যখন দেশের আইনরক্ষাকারী কাউকে ইভটিজিংয়ের ভূমিকায় দেখি, তখন সেটা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কোন সংবিধানে, কোন আইনে লেখা আছে যে একজন নারী টিপ পরতে পারবে না। এখানে হিন্দু-মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ এমনকি সে বিবাহিত না বিধবা সেটা বিষয় নয়, একটি মেয়ে টিপ পরেছে। তিনি একজন শিক্ষক। রিকশা থেকে নামার পর দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার তাকে টিজ করেছে।’
শুধু নারী তারকারাই নন, এই ইস্যুতে টিপসহ ছবি প্রকাশ করে প্রতিবাদ করেছেন পুরুষ তারকারাও। অভিনেতা সাজু খাদেম টিপ পরা ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘লাল টিপ… লাল সূর্য’। অভিনেতা-প্রযোজক স্বাধীন খসরু টিপ পরা ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘সংহতি টিপ।’
এছাড়াও টিপ পরে ছবি দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন প্রাণ রায়, আনিসুর রহমান মিলন, মনোজ প্রামাণিক, চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকসহ অনেকে।
আরও পড়ুন: ‘টিপ’ পরায় শিক্ষিকাকে হয়রানি: অভিযুক্ত শনাক্ত
১৩৭৪ দিন আগে
‘টিপ’ পরায় শিক্ষিকাকে হয়রানি: অভিযুক্ত শনাক্ত
নগরীর ফার্মগেটে ‘টিপ’ পরায় কলেজ শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে শনাক্ত করা হয়েছে।
সোমবার তেজগাঁও অঞ্চলের জেলা প্রশাসক বিপ্লব সরকার বলেন, সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্য নাজমুল তাহের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (প্রটেকশন ডিভিশন)।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওই শিক্ষিকা শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর ভিত্তিতে পুলিশ দুই দিনের প্রচেষ্টায় কনস্টেবলকে শনাক্ত করেছে। কনস্টেবল তাহের তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান হাইকোর্ট
তদন্ত সাপেক্ষে কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বিপ্লব সরকার।
তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক অভিযোগ করেন- শনিবার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কপালে ‘টিপ’ পরার কারণে ফার্মগেট এলাকায় তাকে এক পুলিশ সদস্য হয়রানি ও মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ওই পুলিশ সদস্য তাকে হুমকি দেয় এবং প্রতিবাদ করলে তার মোটরসাইকেল দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুন: ৮৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার: বিএনডব্লিউএলএ
১৩৭৪ দিন আগে