গুলি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরজন মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)।
মরদেহ দুটি আগরতলার বিজিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
একই ঘটনায় বাংলাদেশি একাধিক তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন ওই সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। আহত নবীর হোসেনকেও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে তাকে নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটকু জানি, রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাটাতারের সামনে যায়। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছেন।'
এ বিষয়ে চণ্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন জানান, আমরা একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: গ্রেপ্তার ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রোগ্রামার
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ চলাকালে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তার লিংকডইনের পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি পেশায় শিক্ষক এবং ভিডিও গেম ডেভেলপার।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে তার প্রোফাইল ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিটিকে তাকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সময় ক্যাপ ও গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়। ওই প্রোফাইল ছবির সঙ্গে শনিবার রাতে ট্রাম্পের পোস্ট করা হোয়াইট হাউসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবির ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেছে।
অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ডোমিঙ্গেজ হিলস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি একটি খ্রিস্টান ছাত্র সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের একটি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক বিন তাং জানান, অ্যালেন তার কয়েকটি ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সব সময় সামনের সারিতে বসত, মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করত এবং প্রায়ই ইমেইলে পড়াশোনার বিষয়ে প্রশ্ন করত।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মানুষ ছিলেন। এই খবর দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছি।’
কলেজ জীবনের শেষ বছরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি স্থানীয় টেলিভিশন অ্যালেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। সেখানে বয়স্কদের সাহায্যকারী নতুন প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তিনি হুইলচেয়ারের জন্য নতুন ধরনের জরুরি ব্রেকের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া, ফেডারেল ক্যাম্পেইন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি রাজনৈতিক কমিটিতে অ্যালেন ২৫ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
অ্যালেনের অনলাইন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তিনি গত ছয় বছর ধরে সি২ এডুকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত পরামর্শ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সেবা দিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি পোস্টে তাকে ‘মাসসেরা শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ছাড়াও, লিংকডইনের একটি পোস্টে অ্যালেন উল্লেখ করেন, তিনি স্টিম প্ল্যাটফর্মের জন্য আণবিক রসায়নভিত্তিক একটি ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, তিনি মহাকাশকে প্রেক্ষাপট করে একটি নতুন ‘টপ-ডাউন শুটার’ কমব্যাট গেম তৈরির কাজ করছেন।
১৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়াদের ছররা বন্দুকের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ভারতের প্রায় ১ কিলোমিটার ভেতরে একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালেহ আহমেদ কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার-সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালেহ আহমেদ ও তার আরও দুই সহযোগী মিলে মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে সালেহর সঙ্গে থাকা নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং কারবালার টুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ (২০) তার মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ওই তিনজনই এর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
২৯ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহতের চার দিন পরও ফেরেনি যুবকের মরদেহ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতের রাজনটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দামসহ চারজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি আনতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় গুলিতে সাদ্দাম নিহত হওয়ার পাশাপাশি ফরহাদ মিয়া নামে আরেকজন আহত হন। পরে অন্য সঙ্গীরা ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। আহত ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আবু বক্কর (৩০) ও জফির মিয়া (২৮)।
নিহতের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার মরদেহ দেশে আনতে পারিনি।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগৎ জ্যোতি দাস বলেন, ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম বলেন, বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৩৪ দিন আগে
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাসেল (৩১) নামে এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার নয়াবাজার পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ রাসেল কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য। তিনি রাজধানীর শ্যামপুরের আরসিং গেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
রাসেলের বন্ধু রিপন দাস জানান, রাতে নয়াবাজার পার্ক এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে একটি গুলি লাগে। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে রাসেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, রাতে নয়াবাজার এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের বাম পাশে গুলির আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বজনরা তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
৩৫ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) ইউপিডিএফের পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এক দল লোক সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিত খীসাপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৪৩ দিন আগে
খুলনায় ছিনতাইকারীর গুলিতে প্রাণ গেল আরেক ছিনতাইকারীর
খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় এক ছিনতাইকারীর ছোড়া গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ব্যবসায়ী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে চড়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমারঘাট-সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করেন। ছিনতাইকারীরা তাহিদুলের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেন তাহিদুল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোড়েন। এতে তাদের নিজেদের এক সহযোগী সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়ার দেয়াড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত তাহিদুল বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ খুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
৪৩ দিন আগে
জমির দ্বন্দ্বে বড় ভাইয়ের গুলিতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বড় ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন ছোট ভাই। জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পেছনে রেলগেটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সকালে চতুল ফায়ার সার্ভিসের পেছনে রেলগেট এলাকায় গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে তারা দুজন বিতর্কে জড়ান। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ডা. গোলাম কবির তার ছোট ভাই মিন্টুকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
সে সময় গুরুতর অবস্থায় মিন্টুকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক করেন। পরে বোয়ালমারী থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
৪৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘরে ঢুকে বিএনপি নেতাকে গুলি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনিকে (৪২) তার ঘরে ঢুকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করেছে মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার বাবা-মাকেও আহত করা হয়।
রবিবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টার পর সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গঞ্জম আলী সরকারের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় ওসমান গণির হাতে ও পেটে এবং তার বৃদ্ধা মা আছিয়া বেগমের পায়ে গুলি লেগেছে। এছাড়া ওসমান গনির একটি হাতে ও পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তার বাবা রশিদ আহমদের মাথায়ও আঘাত লেগেছে বলে জানান তাদের স্বজনরা।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওসমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার মা ও বাবাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা আশংকামুক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
ঘটনার খবর শুনে রাতেই উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ওসমান গণির বাড়িতে যান।
স্থানীয়রা জানান, হামলায় ওসমানের শরীরে একাধিক ছররা গুলি লেগেছে। এর মধ্যে পেটে লাগা গুলিটি গুরুতর। এছাড়া তার একটি হাত কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন, এটি কেটে ফেলতে হতে পারে। তবে বিএনপি নেতারা অনুরোধ করেছেন, না কেটে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যায় কিনা। তার মেরুদণ্ডেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন হামলার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুখোশ পরা চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত বিএনপি নেতা ওসমান গণির বাড়িতে হামলা করেছে। শুনেছি তিনি গুলিতে আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ওই এলাকায় গেছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা এলাকার বাসিন্দা শরীফুল আনামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাশু রাজনীতির পাশাপাশি কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের পাশে ইট বালুর ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে একটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৫৪ দিন আগে