ব্যায়াম
শীতে ওজন বেড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান
শীতের আমেজ যতই বাড়তে থাকে, ঘরে থাকার লোভটা যেন ততই জেঁকে বসে। একই সঙ্গে মুখরোচক মৌসুমি খাবারগুলো এড়ানোটা রীতিমত দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। ঋতুর এই পালাবদলে চিরায়ত নিয়মেই সারা শরীর জুড়ে ভর করে আড়ষ্টতা। এই প্রবণতা প্রকোট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরুৎসাহ চলে আসে শরীর চর্চার প্রতি। অপরদিকে জিভে জল আনা খাবারের লোভ সামলাতে না পারায় সঙ্গত কারণেই বিপত্তি ঘটে শরীরের ওজন নিয়ে। বসন্ত পেরিয়ে গরম আসার আগেই বেজায় ভারী হয়ে ওঠে সারা শরীর। প্রতি শীতে এভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে কেন এতটা ঝামেলা পোহাতে হয়? এ থেকে মুক্তিই বা কিসে! চলুন, শীতকালে শরীরের ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধে কার্যকরি উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
শীতে কেন ওজন কমানো কঠিন
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো সৃষ্টি হয় পরিবেশগত, মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক দিক থেকে সামগ্রিকভাবে। পৃথকভাবে এই প্রভাব বিভক্ত করা হলে নিম্নোক্ত কারণগুলোর অবতারণা ঘটে।
শরীর চর্চার ঘাটতি
দিন ছোট হয়ে আসা এবং শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য আবদ্ধ জায়গায় থাকার প্রবণতা বাড়তে থাকে। খোলা জায়গায় জগিং, দৌড়ানো এবং খেলাধুলা তো বন্ধ হয়ই, এমনকি অন্যান্য সময়ের মতো হালকা পায়চারির জন্যও কেউ ঘরের বাইরে বেরতে চান না। ঘরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার দরুণ দেহের স্থিতিশীলতা শীতের প্রাকৃতিক জড়তাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে করে শরীরের পেশীগুলোর সঙ্কোচন-প্রসারণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। এই পরিবর্তন প্রতিদিনের ক্যালোরি ব্যয়কে কমিয়ে দিয়ে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকে অবনতি ঘটায়। এভাবে সপ্তাহ কিংবা মাসব্যাপি চলতে থাকলে দেহ ক্রমশ ওজন বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়।
আরো পড়ুন: সার্কেডিয়ান রিদম বা দেহ ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
অতিরিক্ত আহার
অন্যান্য মৌসুমের ন্যায় শীতের মাসগুলোতেও পাওয়া যায় নতুন সবজি, ফল ও অন্যান্য মুখরোচক খাবার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও শর্করা সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো তৃপ্তির সঙ্গে তাৎক্ষণিক উষ্ণতা দেয়। তাই এগুলো শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য সহায়ক। তবে ক্রমাগত আহারের ফলে শরীরে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ বেড়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন তার থেকেও উদ্বৃত্ত থাকে ক্যালোরির পরিমাণ। যথা সময়ে নির্গত না হলে এই ক্যালোরি শরীরে মেদ সৃষ্টিতে অংশ নেয়।
এমনকি পুষ্টিকর খাবারগুলোও অতিরিক্ত খাওয়া হলে পুষ্টির ভারসাম্য ব্যাহত হয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওজন বেড়ে যায়। একদিকে শীতের জড়তা, তারপর দেহের নড়াচড়া কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে আবার অতি আহার যুক্ত হয়ে সুস্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
সূর্যালোকের স্বল্পতা
শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা থাকে শীতের মৌসুমে। কেননা অধিকাংশ দিনগুলোতে কুয়াশার কারণে সূর্যালোকের দেখা পাওয়া যায় না। দেহের হাড়ের গঠন, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। সেখানে শীতকালের অভাবে ক্লান্তি ও হতাশার অনুভূতি সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে যেগুলো সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (এসএডি)-এর সাধারণ লক্ষণ।
এসএডি কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়, যা সাময়িকভাবে দেহে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটে, তবে অতিরিক্ত মাত্রা বিরামহীন ভক্ষণ ও অলসতার একটি চক্র তৈরি করে, যা ভেঙে বের হওয়া কঠিন।
আরো পড়ুন: থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
মেটাবলিজমের পরিবর্তন
মানবদেহের বিপাক প্রক্রিয়া প্রকৃতিগতভাবেই ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। ঠাণ্ডা তাপমাত্রা শরীরের আভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রেখে বিপাকীয় হারে সামান্য বৃদ্ধি ঘটায়। কিন্তু যখন শীতকালীন খাবার অতিমাত্রায় গ্রহণ করা হয় তখন এই বিপাক প্রক্রিয়া ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে শরীর একটি হালকা ‘হাইবারনেশন মুডে’ প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থায় শক্তি ব্যবহার না করে বিপাকের গতিকে কিছুটা কমিয়ে দেয়। এর সঙ্গে বাহ্যিকভাবে যখন শরীরের পেশীগুলোর স্থবিরতা যুক্ত হয়, তখন তা দেহকে স্থুলতার দিকে পরিচালিত করে।
মানসিক চাপে আহারের প্রবণতা
মেজাজ ও দেহের অভ্যন্তরে সঞ্চিত শক্তির উপর ঋতুগত প্রভাবের কারণে ‘ইমোশোনাল ইটিং’ বা ‘স্ট্রেস ইটিং’-এর প্রবণতা তীব্র হয়। ফলে ব্যক্তি মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে ঘন ঘন আহার করতে উদ্যত হন। অনেকের মাঝেই শীতল আবহাওয়া বিষন্নতার উদ্রেক ঘটায়। এর সঙ্গে বাহ্যিক প্রভাবক যেমন একাকীত্ব বা একঘেয়েমির অনুভূতি যুক্ত হলে তা মানসিক চাপে রূপ নেয়। এ সময় আহারের জন্য তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিক ক্যালোরি সমৃদ্ধ মুখরোচক খাবারগুলোকেই বেছে নেন। এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে উষ্ণতা ও তৃপ্তির একটি অস্থায়ী অনুভূতি দেয়। কিন্তু এই আচরণের পুনরাবৃত্তি পরবর্তীতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
আরো পড়ুন: মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়
শীতকালে ওজন বৃদ্ধি এড়ানোর কার্যকরি সমাধান
উপরোক্ত অসুবিধাগুলোর কারণে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ কষ্টসাধ্য হলেও তা অসম্ভব নয়। আশার কথা হচ্ছে- উষ্ণ মৌসুমে যে কোনো অভ্যাস গড়ে তোলার সময়ে অল্পতেই প্রচণ্ড ক্লান্তি চলে আসে। কিন্তু শীতে এই সমস্যা নেই, বরং এ সময় অল্প শ্রমেই পাওয়া উষ্ণতা আরও বেশি কায়িক শ্রমের খোরাক যোগায়। এই উদ্দীপনাকে পুজি করে নিম্নলিখিত কৌশলগুলো অবলম্বন করা হলে ওজন বৃদ্ধি এড়ানোর কঠিন পথটা সহজ হয়ে আসবে।
ঘরে থাকার সময়গুলো কর্মচঞ্চল রাখা
প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে স্বাভাবিক ভাবে ঘরের বাইরে আনাগোণাটা কমে আসে। তাই ঘরের ভেতরে থাকার মুহুর্তগুলো দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া অব্যাহত রাখার দিকে মনযোগ দিতে হবে। বর্তমানে অনলাইন থেকেই ওয়ার্কআউট ভিডিওগুলোর মাধ্যমে হোম জিম সেট-আপ করা যায়। খুব বেশি আয়োজনের দিকে যেতে না চাইলে যোগব্যায়াম বা পাইলেটেস-এর মত ব্যায়ামগুলো যথেষ্ট উপযোগী।
রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং এবং কার্ডিও এক্সারসাইজ সমৃদ্ধ ওয়ার্কআউটগুলো ক্যালোরি পোড়ানো এবং একই সঙ্গে ঘরের ভেতরে ব্যায়ামের জন্য উৎকৃষ্ট। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড, কেটলবেল, লাঞ্জ এবং পুশ-আপ।
আরো পড়ুন: রক্তের গ্রুপ: কে কাকে রক্ত দিতে পারবে?
ঘরে থাকার মুহুর্তগুলোতে শরীরের পেশী সচল রাখার জন্য ব্যায়ামই একমাত্র উপায় নয়। আরও একটি কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে ঘর গোছানো। প্রায় সময় দেখা যায় সারা বছর ধরে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘর পরিপাটি রাখার দিকেই নজর দেওয়া হয় না। এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হতে পারে এই শীতকাল।
এই কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে রিডিং বা কম্পিউটার টেবিল গোছানো, বইয়ের তাক ছোট করে আনা, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা, এবং বহু দিনের জমে থাকা ময়লা যেমন স্টোর রুম পরিষ্কার প্রভৃতি। সিলিং-এর ঝুল, ফ্যান, টয়লেট, এবং আসবাব পরিষ্কারের মত নিত্য-নৈমিত্তিক কাজগুলোও করা যেতে পারে। এই উৎপাদনশীল ক্রিয়াকলাপ কর্মচঞ্চলতার মাধ্যমে উষ্ণতার যোগান দেয় এবং বাধাধরা ব্যায়াম ছাড়াই দেহের ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, এই কাজগুলো অযথা দুশ্চিন্তা থেকে মনকে অন্য দিকে ফিরিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট কার্যকর। উপরন্তু, বসবাসের ঘরটি সুসংগঠিত ও বিশৃঙ্খলামুক্ত হলে তা মনস্তত্ত্বের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ঘরের বাইরে শরীর চর্চা
উন্মুক্ত পরিবেশে শরীর চর্চার কোনও বিকল্প নেই। নিদেনপক্ষে আবহাওয়া একটু সহনীয় হয়ে এলে ঘরের বাইরের শারীরিক অনুশীলনগুলো শুরু করা উচিত। যারা নিয়মিত শরীর চর্চায় অভ্যস্ত তাদের জন্য দুয়েক সপ্তাহের গ্যাপ সামগ্রিক ভাবে শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজনে অন্যান্য মৌসুমগুলোর তুলনায় শরীর চর্চার সময়টা কিছু কমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যায়াম না করে আবহাওয়া বুঝে ভিন্ন ভিন্ন সময় বেছে নেওয়া যায়। এতে করে অভ্যাস বজায় থাকবে এবং সেই সঙ্গে দেহের পেশীগুলো সচল থাকবে।
আরো পড়ুন: এমপক্সের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি গুরুত্বারোপ
শীতের মৌসুমি খাবারগুলো উপভোগের জন্য প্রোটিন ও ফাইবার পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবারগুলো সর্বোত্তম। প্রোটিন পেশী রক্ষণাবেক্ষণ, বিপাক এবং ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। আর ফাইবার স্বল্পাহারেই পাকস্থলির পূর্ণতা বৃদ্ধি ও হজমে সহায়তা করে ঘন ঘন খাওয়ার উন্মাদনা কমায়। এছাড়াও এ ধরণের খাবার মশলা বা উচ্চ-চর্বিযুক্ত উপাদানগুলোর প্রয়োজন ছাড়াই আলাদা স্বাদ যোগ করতে পারে।
যেমন মিষ্টি আলু, গাজর, শালগম এবং পালং শাকের মত হাল্কা খাবারগুলো রাখা যেতে পারে লাঞ্চ ও ডিনারে। এগুলোর সঙ্গে চর্বিহীন প্রোটিন ও কম সোডিয়াম সম্পন্ন স্যুপ অতিরিক্ত ক্যালোরি ছাড়াই উষ্ণতার যোগান দিবে। এছাড়া মটরশুটি, ডিম ও শিমের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হতে পারে।
স্ন্যাক হিসেবে চিনাবাদাম ও মাখনের মিশ্রণের সঙ্গে আপেল কুঁচি সহ দই একটি উৎকৃষ্ট বিকল্প। বেশি তেলযুক্ত ও মশলাদার খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই উত্তম।
আরো পড়ুন: অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ
সূর্যালোকের অভাবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো সব মৌসুমেই পাওয়া যায়। যেমন ফ্যাটযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ফোর্টিফাইড দুগ্ধজাত খাবার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখা শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগানের জন্য যথেষ্ট। এই ভিটামিনের অভাব খুব বেশি খারাপের দিকে এগোলে অবশ্যই পরিপূরক বিকল্পের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সরণাপন্ন হতে হবে।
পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলা
ঠান্ডায় ঘামের ঝামেলা না থাকলেও শরীরে পানির ভারসাম্য ধরে রাখা আবশ্যক। বিপাক সহ শরীরের আভ্যন্তরীণ প্রতিটি কার্যকলাপে একটি অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে পানি। অল্প মাত্রায় পানিশূন্যতাও কখনও কখনও অতি মাত্রায় ক্ষুধার উদ্রেক ঘটাতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা ছাড়াও এই সমস্যার একটি উপযুক্ত সমাধান হচ্ছে ভেষজ চা। এটি তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি দেহে আরামদায়ক উষ্ণতা সরবরাহ করে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিনির পরিমাণ কমাতে হবে।
প্রতিদিন ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখা
ক্ষুধা ও ক্ষুধার সঙ্গে সম্পৃক্ত হরমোন নিয়ন্ত্রণে রুটিন মাফিক ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার সময় এবং ঘুম থেকে উঠার সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রাখতে হবে। এমনকি মাঝের ঘুমের সময়টিও কখনও বেশি কখনও কম হওয়া উচিত নয়। অপর্যাপ্ত ঘুম মানেই মেজাজের ভারসাম্যহীনতা, যার রেশ ধরে আসে ক্লান্তি, বিষণ্নতা এবং কর্মবিমুখতা। এ সবকিছু পরিচালিত করে মানসিক চাপের দিকে, যে অবস্থায় অনেকেই অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর এবং অতিরিক্ত আহারের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
আরো পড়ুন: ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
অলসতা পরিহার ও স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য দিনে ঘুম পরিত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে ঘুমের বিছানাটিও হতে হবে সমতল। উচু-নিচু নরম বিছানা ঘুমের সময়কালীন শরীরের আভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এমন বিছানায় ঘুম থেকে ওঠার পরেও শরীরের বিভিন্ন সন্ধিস্থলে ব্যথা অনুভূত হয়।
দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা
প্রচণ্ড মানসিক চাপের সময় দেহের ভেতর কর্টিসল নামক হরমোনের অধিক মাত্রায় নিঃসরণ ঘটে। ফলে অধিক চর্বি বা চিনিযুক্ত খাবারের জন্য প্রচণ্ড উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। এই প্রভাবকে প্রশমিত করতে মেডিটেশন ও বাইরে অল্প হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়। আসলে নিয়মিত শরীর চর্চা শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেরও একটি মোক্ষম হাতিয়ার।
তবে ব্যায়াম ছাড়াও দুশ্চিন্তা মুক্তির আরও কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। তন্মধ্যে ঘর গোছানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রথম কৌশল পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ফলপ্রসূ পদক্ষেপ হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হওয়া।
আরো পড়ুন: বাইপোলার ডিসঅর্ডার: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র, খাদ্য ব্যাংক ও অনুদান সঙ্ঘগুলো প্রায়ই শীতের মাসগুলোতে বঞ্চিত নাগরিকদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মৌসুমি ইভেন্টগুলোতে দাতব্য তহবিল সংগ্রহ, বিনামূল্যে মুদ্রি সামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ, এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার ব্যবস্থা করা হয়। এগুলোতে শুধু অর্থ সাহায্য না দিয়ে সশরীরে অংশগ্রহণ করা যায়। এই সামাজিক কার্যকলাপ একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে সমুন্নত রাখে।
দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখার আরও একটি আকর্ষণীয় উপায় হচ্ছে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণে যাওয়া। প্রতিটি ভ্রমণেই উদ্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত ও আবাসান সহ দর্শণীয় স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ানোতে পর্যাপ্ত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ সংঘটিত হয়। যারা হাইকিং, রাফ্টিং, কায়াকিং, বা ট্রেকিং-এ যান তাদের অবশ্য শারীরিক ধকলটা একটু বেশিই হয়। তবে মনের যাবতীয় নৈরাশ্য দূরীকরণে এর থেকে উৎকৃষ্ট বিকল্প আর নেই। তাছাড়া প্রকৃতির সান্নিধ্যে যে কোনও অস্থির মন নিমেষেই শান্ত হয়ে যায়। সর্বপরি, স্থুলতা এড়িয়ে ফিটনেস ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভ্রমণ হতে পারে নিশ্চয়তার মাপকাঠি।
পরিশিষ্ট
শীতকালে শরীরের ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধ করা কেন কঠিন সে ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকলে এর কার্যকরি কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। হিম শীতল আবহাওয়ার আড়ষ্টতা, মৌসুমি খাবার ও সূর্যালোকের স্বল্পতাই মূলত এখানে প্রধান নির্ধারক। এগুলোর পথ ধরে আসে মানসিক ও শারীরিক জীর্ণতা, যার বদৌলতে শরীর ধাবিত হয় স্থুলতার দিকে। এর বিপরীতে শরীর চর্চা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণে দৃঢ়চেতা হওয়া গেলে নেতিবাচক প্রভাবগুলো কাটিয়ে ওঠা যাবে। দেহকে সার্বক্ষণিক নড়াচড়ার মধ্যে রাখা জড়তা কাটানোর পাশাপাশি আরামদায়ক উষ্ণতা পাওয়ার জন্যও সহায়ক। আর মুখরোচক খাবারের স্বাদ নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখলে প্রাণ ভরে উপভোগ করা যাবে শীতের আমেজ।
আরো পড়ুন: এইচএমপিভি ভাইরাস: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
৭৬ দিন আগে
ঢাকার কোথায় ভালো পরিবেশে সাঁতার শেখা যায়
সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং হৃদযন্ত্রে কার্যকলাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার চমৎকার উপায় হলো সাঁতার। এক ঘণ্টা সাঁতার কাটা হাড় এবং জয়েন্টগুলোতে কোন নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই শরীরের ক্যালোরি খরচ করতে সাহায্য করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কমাতে বা শারীরিক সুস্থতাকে ত্বরান্বিত করার জন্যও সাহায্য করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা শারীরিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন বা দীর্ঘ দিন ধরে আহত ব্যক্তিদের ব্যায়ামের জন্য সাঁতারকে বেছে নিতে বলেন। এছাড়া দুশ্চিন্তা কমিয়ে মানসিক প্রশান্তি লাভের ক্ষেত্রেও সাঁতার বেশ কার্যকর। তাই চলুন জেনে নিই, ঢাকার কোথায় ভালো পরিবেশে সাঁতার শেখা যায়।
ঢাকায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিংপুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলে সাঁতার শেখার জন্য ২ হাজার ১০ টাকা দিয়ে ৪৫ মিনিট করে ১৬টি ক্লাস করা যায়। দ্বিতীয় মাসে অনুশীলন করতে চাইলে নবায়ন ফি বাবদ এক হাজার টাকা দিতে হয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা ১০০ টাকা দিয়ে সপ্তাহে দুটো করে ক্লাস করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সুইমিংপুলের সদস্য নিতে পারেন ২৬০ টাকা দিয়ে। বিকালের শিফটে সুইমিংপুলের সদস্যদের ফি ছয় মাসের জন্য ৮ হাজার টাকা ও এক বছরের জন্য ১২ হাজার টাকা।
এখানে ভর্তি হওয়া যাবে সাত বছর বয়স থেকে, কিন্তু প্রশিক্ষনার্থীকে লম্বায় কমপক্ষে অবশ্যই চার ফুট হতে হবে। সুইমিংপুলের সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পিংক সল্ট বা হিমালয় লবণের উপকারিতা
সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স, মিরপুর
এই সুইমিংপুলে এক ঘণ্টা করে সাঁতার কাটা যায়। এখানে ভর্তির বয়স কমপক্ষে আট বছর। রবিবার ও সোমবার বাদে প্রতিদিনি খোলা থাকে সুইমিংপুলটি। ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা দিয়ে মাসের যে কোন দিন-ই সাঁতার প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়া যাবে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ ত্রিশ দিন যেখানে প্রতি সপ্তাহে ক্লাস থাকবে পাঁচ দিন। দ্বিতীয় মাস থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া একদিন সাঁতার কাটতে চাইলে এক ঘণ্টার জন্য ২৫০ টাকা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আছে। দশ বছরের নিচে প্রশিক্ষণার্থীর ক্ষেত্রে সাথে একজন অভিভাবক সুইমিংপুলে প্রবেশ করতে পারবেন।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সুইমিংপুল
এই সুইমিংপুলটি শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। সাত বছর বয়স থেকে এখানে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি নেয়া হয়। প্রথম মাসে ভর্তি ফি আড়াই হাজার এবং দ্বিতীয় মাস থেকে দুই হাজার টাকা। মাসের যে কোন দিন ভর্তি হয়ে শুরু করা যাবে ত্রিশ দিনব্যাপি কোর্সটি। সপ্তাহে পাঁচ দিন এক ঘণ্টা করে ক্লাস। সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার, বুধবার এবং সোমবার বিকালে। শুধুমাত্র যারা সাঁতার জানেন তাদের একদিনের সাঁতার অনুশীলনের জন্য ঘণ্টা প্রতি নেয়া হয় ২০০ টাকা।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত আবেগ হতে পারে শরীরের ক্ষতির কারণ
১১৮৬ দিন আগে
হার্ট অ্যাটাক: করণীয় এবং প্রতিরোধে যে সকল পদক্ষেপ নিতে হবে
যখন হার্টের পেশীর একটি অংশ পর্যাপ্ত রক্ত পায় না, ঠিক তখনি হার্ট অ্যাটাক হয়। রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক হতে যত বেশি সময় যায়, হার্টের পেশীর তত বেশি ক্ষতি হয়। সাধারণত করোনারি ধমনীর মারাত্মক খিঁচুনি বা আকস্মিক সংকোচনের ফলে হৃদপিণ্ডের পেশীতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হতে পারে। চলুন, ভয়াবহ এই হৃদরোগটির লক্ষণ ও প্রতিরোধের পাশাপাশি জেনে নিই- হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিকভাবে কি করবেন।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণসমূহ
দেহের বিভিন্ন অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি
বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাক-এর সময় বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে ব্যথা বা অস্বস্তি শুরু হয়, যা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় অথবা কখনো হঠাৎ চলে যেয়ে আবার ফিরে আসে। কখনও কখনও এই অস্বস্তি ঘন্টাখানেক পর বা এমনকি এক দিন পরে ফিরে আসে। এমনটা হলে বুঝতে হবে যে, আপনার হার্টের পেশী পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না।
বুক ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারণ লক্ষণ। অনেকে এই ব্যথাকে ব্যথা বলে না বলে বুকে চাপ অনুভব করছে বলে। কিন্তু এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, বুক ব্যথা প্রতিটি হার্ট অ্যাটাকের সময় নাও হতে পারে।
অনেকেই হার্ট অ্যাটাকের সময় তলপেটের উপরের দিক, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়/গলা, দাঁত বা চোয়াল ইত্যাদি স্থানে ব্যথা অনুভব করে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তলপেটে এবং বুকের নিচের অংশে ব্যথা করে। পিঠের উপরের দিকে ব্যথা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায়।
পড়ুন কোলেস্টেরল কমানোর কার্যকরী ঘরোয়া উপায়
সারাদিন ধরে প্রচণ্ড ঘাম
আপনি যদি ব্যায়াম না করেন, তাহলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘাম হওয়া আপনার হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক কারণ হতে পারে। জমে থাকা ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত পাম্প করতে যেয়ে আপনার হৃদযন্ত্র বেশি পরিশ্রম করে, কাজেই শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য ঠিক রাখতে আপনার শরীর বেশি ঘাম ছেড়ে দিতে থাকে।
অনেক সময় রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘামের জন্য চাদর ভিজে যায় বা ঘুম হয় না। এটিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে।
পড়ুন করোনা মহামারি থেকে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন কীভাবে?
প্রচণ্ড ক্লান্তি ও নিঃশ্বাসের দূর্বলতা
হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে অস্বস্তির সাথে অথবা আগে নিঃশ্বাসের দুর্বলতাও অনুভূত হতে পারে। মুলত রক্ত প্রবাহের একটি এলাকা বন্ধ থাকার কারণে আপনার হৃদযন্ত্র অতিরিক্ত চাপের ফলে পাম্প করার চেষ্টা করে। ফলে আপনার প্রচন্ড অবসন্ন অনুভূত হয়। যদি আপনি প্রায়শই বিনা কারণে ক্লান্ত হন, তাহলে ব্যাপারটিকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা চলবে না।
ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং এমনকি হার্ট অ্যাটাকের কয়েক মাস আগে থেকেও শুরু হতে পারে।
আপনার শ্বাস -প্রশ্বাস এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকরীভাবে রক্ত পাম্পিং; পরস্পর খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। আপনার হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করে যাতে এটি আপনার টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন করতে এবং ফুসফুস থেকে অক্সিজেন পেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে যখন আপনার হার্ট ভালভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখনি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
পড়ুন কঠোর ডায়েটের স্বাস্থ্য ঝুঁকিসমূহ জেনে নিন
দ্রুত হৃদস্পন্দন
দ্রুত হৃদস্পন্দনের সময় মনে হয় হৃদযন্ত্রটা বুকের ভেতর জোরে জোরে ধাক্কা মারছে বা বুক ধড়ফড় করছে। আপনার হৃদযন্ত্র এবং শরীর আপনার শরীরের সর্বত্রে রক্ত সঞ্চালনের জন্য একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিটের উপর নির্ভর করে। যে কোন একটি ছন্দপতন আপনার হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব বা বমি
হার্ট অ্যাটাকের আগে মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রম করার সময় আপনি মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারেন। হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য উপসর্গগুলোর মধ্যে বমি বমি ভাব বা বমিও অন্তর্ভুক্ত। বিশেষত মহিলাদের এই উপসর্গ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পড়ুন বর্ষা মৌসুমে যেসব পুষ্টিকর সবজি খেতে পারেন
হার্ট অ্যাটাকের সময় তাৎক্ষণিকভাবে করণীয়
তাৎক্ষণিকভাবে হার্ট অ্যাটাক বন্ধ কোন মতেই সম্ভব নয়। কিন্তু এসময় জরুরি চিকিৎসার সরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে।
১৬২৬৩-তে কল করা
এটি হার্ট অ্যাটাকের সময় সেবা পাওয়ার দ্রুততম ও নিরাপদ উপায়। ১৬২৬৩ তে কল করে ২ প্রেস করে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবা নিতে পারেন।
দরজা-জানালা খুলে আরামদায়ক বিশ্রামের ব্যবস্থা
হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়ির ভেতর থাকলে তার আশেপাশের লোকজন ঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এছাড়া এতে অ্যাম্বুলেন্স দল যতদ্রুত সম্ভব বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে পারবে।
অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিটিকে একটি আরামদায়ক অবস্থানে বিশ্রাম নেয়ার ব্যবস্থা করুন। বিশ্রাম হার্টের চাপ কমায় কারণ এটি শরীরের সর্বত্র রক্ত পাম্প করার চেষ্টা করে।
পড়ুন মশার উপদ্রব থেকে সুরক্ষিত থাকার কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়
আঁটসাঁট পোশাক আলগা করা
আঁটসাঁট পোশাক, যেমন নেকটি বা বেল্টগুলি আলগা করে দিন। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নেওয়া সহজ হবে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স দলের জন্যও ঢিলেঢালা জামাকাপড় পরিহিত ব্যক্তিকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া সহজ হবে।
প্রাথমিক সিপিআর
আক্রান্ত ব্যক্তিতে ঘুমিয়ে পড়া থেকে বিরত রাখুন। তার সাথে অবিরত কথা বলতে থাকুন। মাথাটি দেহের সাথে ৩০-৪৫ ডিগ্রি কোণ করে উচু অবস্থায় রাখুন। এতে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া সহজ হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিৎ করে শুইয়ে দিন। তারপর আপনার এক হাতের আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে অন্য হাতের আঙ্গুলগুলো ঢুকিয়ে (এই পদ্ধতি কার্ডিয়াক পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) হিসেবে বহুল পরিচিত) আপনার পুরো শরীরের ভর আলিঙ্গনবদ্ধ দুই হাতের উপর চাপিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির বুকের মাঝখানে পাম্প করতে থাকুন। ১৬-১৮ সেকেন্ড ধরে ৩০ বার এভাবে পাম্প করুন। রোগীর নাক দু’আঙ্গুলে চেপে চিবুক উচু করে দিন। তারপর আবার বুকে পাম্প শুরু করুন। কমপক্ষে পাঁচবার প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করুন।
পড়ুন সাইক্লিং, দৌড় কিংবা সাঁতার: ওজন কমাতে কোনটি বেশি কার্যকরী?
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়
সুষম খাদ্য গ্রহণ
সুষম খাদ্য খাওয়া আপনার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। সুষম খাবারের তালিকায় ফল, সবজি, শাকসবজি, বাদাম, চর্বিহীন প্রোটিন এবং মাছ অন্তর্ভুক্ত থাকে। পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে প্রক্রিয়াজাত মাংস, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং মিষ্টি পানীয়ের পরিমাণও সীমিত করা উচিত।
শারীরিক ব্যায়াম
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট জোরালো ব্যায়াম করার চেষ্টা করা উচিত।
আর যারা ইতিমধ্যে সক্রিয়, তাদের কার্যকলাপের মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করতে পারেন।
পড়ুন জেনে নিন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের ক্ষতিকর দিকগুলো!
পরিমিত ওজন বজায় রাখা
পরিমিত ওজন বজায় রাখা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আপনার উচ্চতা এবং বয়স অনুসারে আপনার ওজন কতটা হওয়া উচিত তা পরীক্ষা করে নিতে পারেন। এটি আপনার ক্যালোরি গ্রহণ এবং প্রয়োজনে ব্যায়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে।
ধূমপান পরিত্যাগ
যে কোন মূল্যেই ধূমপান বন্ধ করা উচিত। সিগারেট বা বাষ্পের মতো তামাকজাত দ্রব্যের ধোঁয়া হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।
অন্যান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন স্বাস্থ্যের অবস্থার চিকিৎসা করা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের আরেকটি উপায়। এই অবস্থার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত শর্করা অন্তর্ভুক্ত।
পড়ুন যদি স্লিম থাকতে চান রোজ ৫ রকমের বাদাম খান
পর্যাপ্ত ঘুম
সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক পরিমাণে ঘুমের কোন বিকল্প নেই। এমনকি এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণগুলোর মধ্যে একটি। ১৮-৬০ বছর বয়সী বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে ৭ বা তার বেশি ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি পান করা
প্রচুর পানি পান ডিহাইড্রেশন এড়াতে সাহায্য করে। রক্তরসে পানির পরিমাণ ৯০-৯২ শতাংশ তাই পানিশূন্যতাতে হৃদযন্ত্র ও সারা দেহে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে যা হার্ট অ্যাটাকের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক নারী -পুরুষ উভয়েরই যেকোন বয়সে হতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। কিন্তু জীবন ধারণ নিয়ে একটু সতর্ক হলেই আপনি এই ঝুঁকি এড়াতে পারবেন। স্বাস্থ্য প্রত্যেকের কাছেই মহামূল্যবান সম্পদ। তাই শত কষ্ট হলেও এই সম্পদটি রক্ষার জন্য রুটিন মাফিক চলা উচিত।
পড়ুন জেনে নিন ডেঙ্গু জ্বর থেকে সুরক্ষার উপায় ও করণীয়
১৩২৫ দিন আগে
মুখের কোন ব্যায়ামে বয়স ছুটবে উল্টো দিকে?
যৌবন ধরে রাখার ইচ্ছে সবারই থাকে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সবার আগে মুখে বয়সের ছাপ পড়ে যায়।
১৮৫৮ দিন আগে
টানা ৮-৯ ঘণ্টা বসে কাজ করেও ফিট থাকার উপায়
অফিসে প্রতিদিন একটানা ৮-৯ ঘন্টা ডেস্কে বসে কাজ করতে হয়? সারাদিন অফিসে বসে কাজ করছেন বলে শরীরে মেদ জমে যাচ্ছে? ব্যায়ামের সময় পাচ্ছেন না!
১৯০২ দিন আগে