মার্কিন প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে যেসব অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে
দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরেই অভিবাসীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের জীবনে যেন অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে অভিবাসীবিরোধী কঠোরনীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, একজন ভিসাধারীর চেয়ে বর্তমানে দেশটিতে অপরাধীরা বেশি অধিকার ভোগ করে থাকেন।
অভিবাসীদের গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে। আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এরইমধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির খড়গ নেমে এসেছে ফিলিস্তিনপন্থি দুই শিক্ষার্থীর ওপর। তাদের মধ্যে খলিল মাহমুদকে ধরে নিয়ে লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্র রাখা হয়েছে। তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে মার্কিন প্রশাসন।
এছাড়া এল সালভাদরগামী অভিবাসীদের একটি ফ্লাইট ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যা আদালতের নির্দেশের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে আদালত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রগামী পর্যটকদের সীমান্তে আটকে দেওয়া ঘটনা ঘটছে। এতে দেশে-বিদেশে কূটনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যেতে চাচ্ছেন, তাদের মধ্যে শঙ্কাটা একটু বেশি কাজ করছে।
নিউ ইয়র্কের কারডোজো স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক ও অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল উইল্ডেস বলেন, কেউ যদি সশরীরে আমেরিকাতে উপস্থিত থেকেও আইনগত অনুমোদন না পান, তাহলে দেশটিতে তিনি উপস্থিত আছেন বলে গণ্য হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে তারা ‘অ্যারাইভিং এলিয়েন’ (আগন্তুক অভিবাসী) হিসেবে পরিচিত হবেন।
মূলত, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বেশ জোরেশোরেই অভিবাসনবিরোধী নীতির কথা জানান দিয়েছিলেন। এবার তার কথা-কাজে মিল রাখার পালা। ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তন করেই তিনি খড়গহস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের ওপর।
শুক্রবার (২২ মার্চ) মোমোদু তাল নামের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে মার্কিন অভিবাসন পুলিশ। তার আইনজীবী দলকে এই চিঠি মেইল করা হয়েছে। দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক কর্মকর্তারা এই চিঠি দেন।
দেশে ভেতরে থাকা অভিবাসীদের না হয় এসব সহ্য করতে হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে হয়রানিও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
এরই মধ্যে কিছু ঘটনা বিশ্বজুড়ে অনেকের নজড় কেড়েছে। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে কানাডীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেত্রী জ্যাসমিন মুনি দুই সপ্তাহ আটক ছিলেন। মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক কর্মকর্তারা তাদের আটক করে রেখেছিলেন।
আরও একটি আশঙ্কাজনক কথা হলো, কেউ রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পবিরোধী হলেও তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হতে পারে। ফ্রান্সের এক বিজ্ঞানী জানান, তার মোবাইলে ট্রাম্পের সমালোচনামূলক কিছু বার্তা পাওয়ায় নাকি তার ভিসা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কর্মকর্তারা।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করেছে। যখন-তখন আটক হওয়ার ভয় তৈরি করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কি বলা আছে, কী কী অধিকার রয়েছে অভিবাসীদের, কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে তা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে করণীয় ও নিয়ম-কানুন নিয়ে আমেরিকান সিভিল লির্বাটিস ইউনিয়ন (এসিএলইউ) নামে একটি অলাভজনক সংগঠন—যারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে থাকে—তারা কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে তল্লাশি করতে পারেন?
অবাক হলেও উত্তরটি হচ্ছে, হ্যাঁ। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য বৈধ কাগজপত্র থাকলেও কোনো ধরনের সন্দেহজনক কিছু বহন করছে কিনা কোনো ভ্রমণকারী; এটি নিশ্চিত হওয়ার স্বার্থে তাদের ব্যাগপত্র তল্লাশি করতে পারেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। এমনকি সন্দেহভাজন মনে না হলেও অভিবাসন কর্মকর্তারা এটি করতে পারেন বলে জানায় এসিএলইউ।
তবে সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী, ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ, নৃতাত্ত্বিক বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে তল্লাশি করা যাবে না।
প্রশ্ন: ব্যক্তিগত মোবাইলও কী তল্লাশি করা হচ্ছে?
সরকারী আইন অনুযায়ী এয়ারপোর্টে সন্দেহজনক কোনো কিছু বহন করা হচ্ছে কিনা তা জানতে যেসব জিনিস অনুসন্ধান করা হবে, তার মধ্যে মোবাইল ও ল্যাপটপও রয়েছে। যদিও এটি নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে। কখনো-কখনো অভিবাসন কর্মকর্তার তাদের তদন্তের স্বার্থে মোবাইল বা ল্যাপটপের পাসওয়ার্ডও চেয়ে থাকেন বলে জানিয়েছে এসিএলইউ।
প্রশ্ন: যদি কেউ মোবাইল আনলক করতে অস্বীকৃতি জানান, তখন কী হবে?
এসিএলইউয়ের দেওয়া নির্দেশনা মতে, এটির ফলাফল মোটেই সুখকর নয়। যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী তাদের ডিভাইস আনলক করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে তাদের বাধা দেওয়া না হলেও নানা হয়রানির মুখে পড়তে হবে।
যেমন, তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা, অভিবাসন কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত জেরা, এছাড়া পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের মোবাইল জব্দ করেও নিয়ে যেতে পারেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
তবে ভিসা নিয়ে ভ্রমণকারী বা ভিসা-মুক্ত দেশের তালিকায় থাকা কোনো দেশের নাগরিক যদি তার ডিভাইস আনলক করে দেখাতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রশ্ন: ভিসা-মুক্ত প্রোগামের আওতাধীন হলে কি প্রবেশ করা যাবে যুক্তরাষ্ট্রে?
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-মুক্ত প্রোগামের আওতায় প্রায় দুডজন দেশের নাগরিক ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ কিংবা ব্যবসায়িক কাজে ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও একইভাবে ভিসা ছাড়া ওই দেশগুলোতে ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ করতে পারেন।
তবে সেক্ষেত্রে ভ্রমণের অন্তত তিনদিন আগে বৈদ্যুতিন ভ্রমণ কর্তৃপক্ষের (ইএসটিএ) অনুমোদন নিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করতে করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, নির্ধারিত সময়ের পরে কিন্তু আর ইএসটিএ অনুমোদন পাওয়া যাবে না। যেমন, কিউবার নাগরিকরা ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারির পর আর কিন্তু ইএসটিএ পাচ্ছেন না।
প্রশ্ন: ইএসটিএ অনুমোদন নিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা যাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অনুমেয়, এই প্রোগ্রামের আওতায় ভ্রমণকারীরা কোনো ধরনের কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া তারা লেখাপড়া করতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রে। এর বাইরেও তাদের কিছু অধিকার হরণ করা হয়ে থাকে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেমন, ভিসা ছাড়াই যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, তারা দেশটি থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিবার্সিত করা হচ্ছে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে অভিবাসন কর্মকর্তারা ইএসটিএ অনুমোদন থাকা ব্যক্তিদের আটক পর্যন্ত করতে পারেন।
প্রশ্ন: তবে ভিসা নিয়ে কি কাজ করা যাবে?
উত্তর হলো, না। স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নন, তারা কোনো কাজ করতে পারবেন না, লেখাপড়াও করতে পারবেন না। ভ্রমণকারীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এমনকি যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীনও থাকে, তাও অভিবাসন কর্মকর্তারা ভর্তির অনুমোদন নাও দিতে পারেন। সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী নয় এমন ভ্রমণকারীদের জন্য তিন ধরনের ভিসা রয়েছে। সেগুলো হলো, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অস্থায়ী প্রবেশের ভিসা, পর্যটন ভিসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের সমন্বিত ভিসা।
এই ভিসাগুলোর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তবে এই ভিসাধারীরা একটানা সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।
প্রশ্ন: আটক হলে করণীয় কি?
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি যেহারে অভিবাসীরা আটক হচ্ছেন, তাতে অভিবাসীদের পাশাপাশি ভ্রমণকারীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কি করে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির দুষ্টচক্র থেকে বের হবেন তা জানতে আগ্রহী অনেকে।
এ বিষয়ে এসিএলইউয়ের পরামর্শ হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরকি নন, কিন্তু অভিবাসী বা ভ্রমণকারী যাই হোক না কেন; একজন অভিবাসী আইনজীবীর তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে। যেকোনো সময়ে প্রয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতি যেভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য সত্যিই উদ্বেগজনক বলে অভিমত দিয়েছেন এসিএলইউয়ের আইনজীবী নূর জাফর। এ কারণে আটক হলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনে চলা এবং যতদ্রুত সম্ভব একজন অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রে তাহলে কি অধিকার আছে একজন ভ্রমণকারীর?
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের কেবল নীরব থাকার অধিকার রয়েছে, অবশ্য তাও সবসময় নয় বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ধরা যাক, বিমানবন্দরে একজন ভ্রমণকারীকে প্রশ্ন করা হলো তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চান কিনা, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দেওয়া হলেও ওই ব্যক্তির ভ্রমণভিসা বাতিল হতে পারে।
প্রশ্ন: প্রবেশাধিকার যদি বাতিল হয়েই যায় তখন করণীয় কী?
মূলত এক্ষেত্রে কর্তার আদেশেই কর্ম হবে। তার মানে এই যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা চাইলে ভিসা বাতিল করে নিজ দেশে ফেরতও পাঠাতে পারেন, আবার আটকেও রাখতে পারেন।
সাধারণত আমেরিকার সীমান্তে উপস্থিত হয়ে যদি ভিসা বাতিল হয়, তাহলে ভিসাধারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, আবার আটকেও রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। কারণ আইন অনুযায়ী, এই ঘটনাগুলো দেশটির সীমানার বাইরে ঘটার কারণে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাদের থাকে না। এমনকি সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীও পান না।
এসব কারণে আইনজীবী ও শিক্ষক মাইকেল উইল্ডস বলেছেন, ‘একজন অপরাধী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যতটুকু অধিকার আপনার আছে, একজন ভিসাধারী হিসেবে সেটুকু অধিকারও নেই।
৩ দিন আগে
দেশগুলো ট্রাম্পের শুল্কারোপের পাল্টা জবাব দেবে কীভাবে?
কোনো কথার কথা বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা-মেক্সিকো ও চীনের ওপর চড়া শুল্কারোপ করে সেটিই প্রমাণ করলেন। এরমধ্য দিয়ে ওভাল অফিস থেকে প্রথম তোপধ্বনি ছুড়লেন তিনি।
বিবিসির বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী থাকে, তার ওপর নির্ভর করছে দেশগুলো কীভাবে এই শুল্কারোপের জবাব দেবে।
বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় এরআগে কখনো এমন ধাক্কা লাগেনি। প্রথমে ইউরোপের বিরুদ্ধে একই ধরনের শুল্কারোপের প্রস্তুতি নিয়েছেন ট্রাম্প। পরে সেটা সার্বজনীন পর্যায়ে কমিয়ে আনা হয়েছে।
সবমিলিয়ে বিশ্ব আবারও একটা বাণিজ্যযুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটার ফল কী আসবে? বিশ্ব কীভাবে জবাব দেবে? এসবের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী অর্জন করতে যাচ্ছেন?
শুল্কারোপ নিয়ে নিজের যুক্তিতে বারবার পরিবর্তন আনছেন ট্রাম্প—বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় হয় বলপূর্বক কূটনৈতিক পরিবর্তন কিংবা বড় অংকের রাজস্ব বাড়াতে জোর দিতে হয়েছে তাকে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকো-কানাডা ও চীনা পণ্যে ট্রাম্পের শুল্কারোপ, বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা
তবে সব অর্জন ট্রাম্প একইসাথে করতে পারবেন না।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অভিজ্ঞতা থেকে উদহারণ দিয়ে বলা যেতে পারে—তখন হোয়াইট হাউসকে কিছুটা জয় এনে দিতে আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে পশ্চিমা কূটনীতিকদের।
এবারও সেই প্রবণতা থাকুক কিংবা না-থাকুক, সেটা কোনো বিষয় না; বিজয়ের ছক কষতে কর্মকর্তাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই তাড়া দেবেন।
এখানে কী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনাই ট্রাম্পের লক্ষ্য?
প্রাণঘাতী সিনথেটিক মাদক ফেনটানিলের প্রবাহ রোধ করতে কানাডা-মেক্সিকো ও চীনকে সাজা দিচ্ছেন তিনি। সাধারণত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু জরুরি পদক্ষেপের অজুহাতে নির্বাহী আদেশে এই শুল্কারোপকে আইনসিদ্ধ করছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের শুল্কারোপের জবাব দেবে কানাডা, মেক্সিকোর ধীরে চলার নীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কানাডা অনেকটা তেজি মনোভাব দেখিয়েছি। মানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রবণতা দেখায়নি উত্তর আমেরিকার দেশটি। এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের প্রতিদ্বন্দ্বি মার্ক কারনি।
‘আমরা পাল্টা পদক্ষেপ নেব...ডলারের বদলে ডলার,’ বলেন তিনি। ফেনটানিলের অজুহাতকে পরিহাস করে তিনি বলেন, ‘কানাডা এসব ধমকের মোকাবিলা করবে।’
জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত কিংবা জি সেভেনের সভাপতি হতে পারুক কিংবা না পারুক মার্ক কারনির এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর হিসেবে জি২০ ও জি সেভেন বৈঠকে সরাসরি ট্রাম্পকে প্রত্যক্ষ করেছেন মার্ক কারনি। সেখান থেকে তার একটি স্পষ্ট ধারণা জন্মেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল শক্তিমত্তাকে সমীহ করেন।
যেসব দেশ চুপচাপ থাকতে চায় ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চোখে চোখ রাখতে চায় না, তাদের জন্য একটি গোপনীয় সতর্কবার্তা রয়েছে তার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের প্রতিই জোর দিচ্ছেন ইউরোপীয় বাণিজ্য আলোচকরা। এমনকি গ্রিনল্যান্ডকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ন্যাটোমিত্র ডেনমার্কের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুমকি দিলেও সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে তাদের।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপে বিশ্বের অন্য দেশগুলো, অন্তত নীরবে, সহযোগিতা করে যাবে কিনা? প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের প্রভাবশালী সমর্থক হলেন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। এই পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গত সপ্তাহে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন তিনি।
এতে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্বন বাণিজ্য কর প্রয়োগের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হলেও এই প্রভাব পড়তে পারে।
আসলে এসব কিছু নির্ভর করছে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী থাকে, তার ওপর। কোনো কোনো দেশের জন্য বিকল্প উৎস থাকতে পারে। কিন্তু বিশ্ব যখন এক অজানা গন্তব্যে, তখনই প্রতিনিয়ত এই শুল্কারোপের হুমকি বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
৫৩ দিন আগে
বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র: কুগেলম্যান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি মূল্যবোধভিত্তিক না হয়ে নিতান্তই লেনদেনমুখী হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের মূল্যায়ন করবে ওয়াশিংটনের নতুন প্রশাসন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক কুগেলম্যান বলেন, ‘প্রথম দিকে মার্কিন প্রশাসন সম্পর্কে আমরা যতটুকু ধারণা করতে পারি, সেই অনুসারে যদি বাংলাদেশের দিকে চোখ দেই, তাহলে দুটো দিকে আমাদের আলোকপাত করতে হবে—বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক। দ্বিপক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে আলোচনায় বাণিজ্য থাকবে। এটিই নিয়মিত বিষয় হয়ে থাকবে।’
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক: ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। কসমস গ্রুপের দাতব্য প্রতিষ্ঠান কসমস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড মিডিয়া সামিটে আমন্ত্রণ পেলেন ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েতউল্লাহ খান
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতউল্লাহ খান। সঞ্চালনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী।
এতে বক্তব্য রাখেন দ্য বে অব বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও কসমস ফাউন্ডেশনের ইমেরিটাস উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক আহমদ করিম, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ আপাতত ট্রাম্পের চোখে পড়তে যাচ্ছে না। সম্ভবত এটি একটি ভালো দিক। এসব থেকে দূরে থাকলে বাংলাদেশ ভালো করতে পারবে।’
‘সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চেয়ে রাশিয়ার প্রতি অনেক বেশি উদারনীতি অনুসরণ করছেন ট্রাম্প। যে কারণে রুশ তহবিলের পরমাণু জ্বালানি প্রকল্প ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য (যুক্তরাষ্ট্র) বাংলাদেশকে ঝামেলায় ফেলবে বলে মনে হচ্ছে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন গতি পেয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে বড় শক্তিগুলো, যেমন: যুক্তরাষ্ট্র-চীন, ভারত-চীন ও যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বহুমাত্রিক ও ব্যাপক প্রতিযোগিতা কিছুটা কমে এসেছে। বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতা ততটা জোরালো না-ও হতে পারে।’
‘কাজেই কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ যে একটা বাজে সংকটের মুখে পড়েছিল, তেমন কিছু না-ও ঘটতে পারে। তখন রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লির যন্ত্রাংশবাহী জাহাজ বাংলাদেশে ভিড়তে না দিতে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।’
৫৬ দিন আগে
টিকটক ডোবালেন ট্রাম্প, ত্রাতাও হলেন তিনি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে টিকটক নিষিদ্ধে নেওয়া উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সেই তিনিই এবার ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটির ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হলেন। যদিও টিকটককে একেবারে স্বস্তি না দিয়ে একটা প্যাঁচ রেখে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) শপথ নেওয়ার পর টিকটক নিষেধাজ্ঞার আইন কার্যকরে আরও ৭৫ দিন বিলম্ব করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।
তবে অ্যাপটি যুক্তরাষ্ট্রে সচল রাখতে হলে দেশটির সরকারকে অর্ধেক মালিকানা দিতে হবে বলেও এ সময় আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প।
শুধু তাই নয়, চীনকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘টিকটকের সঙ্গে মার্কিন চুক্তির অনুমোদন দিতে বেইজিং যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে রাজস্ব আরোপ করা হবে।’
জনপ্রিয় অ্যাপটি নিষিদ্ধের আইন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখায় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দিনের শেষভাগে অ্যাপল ও গুগলসহ মার্কিন অ্যাপ স্টোর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় টিকটক।
তখন এক বার্তায় টিকটক জানায়, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে টিকটিক নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রে একটি আইন কার্যকর করা হয়েছে। যে কারণে এখন থেকে ব্যবহারকারীরা আর অ্যাপটিতে ঢুকতে পারবেন না।’
কিন্তু পরের দিনই আবার অ্যাপ স্টোরে দেখা দেয় টিকটক। পরে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘টিকটক ফিরেছে, আমাদের হাতে এটির কোনো বিকল্প নেই।’
আরও পড়ুন: টিকটক বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে!
৬৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে বাইডেনের চিঠি: ‘এখন বিএনপি কী বলবে?’ প্রশ্ন কাদেরের
আন্তর্জাতিক কূটনীতির তাৎপর্যপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এই চিঠি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উদ্দেশে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন কী বলবে?’
আরও পড়ুন: বিএনপির কালো পতাকা কর্মসূচি 'গণবিরোধী': কাদের
এর আগে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের প্রতি জনগণ কেন আস্থা রাখবে।
কাদের বলেন, ‘জনগণ ইতোমধ্যে আপনাদের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আপনাদের বিদেশি মিত্ররাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন শেখ হাসিনার সরকারের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার আশা কী?’
মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওবায়দুল কাদের।
সেখানে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গ্রামের নাগরিকদের সরে যেতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেনি তিনি।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন ওবায়দুল কাদের
মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও মর্টার শেল পড়ার কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই সংঘাত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে নিশ্চিত করতে হবে যে আতঙ্ক যেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে।’
মিয়ানমারের অব্যাহত অস্থিরতার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ আর শরণার্থী গ্রহণের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাবে না। আমরা আর এই বোঝা বহন করতে পারছি না।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের জিরো টলারেন্স নীতির উপর জোর দেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দলের সবাই সৎ হতে পারে না, কিন্তু আমরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অপরাধ করে কেউ রেহাই পায়নি।’
আরও পড়ুন: বিএনপির কালো পতাকা মিছিল অবৈধ: ওবায়দুল কাদের
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা।
৪১৬ দিন আগে
সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ট্রাম্প নথির পর্যালোচনা সম্পন্ন
আগস্টের শুরুর দিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডা এস্টেট থেকে বেশকিছু নথি জব্দ করা হয়। নথিগুলোতে ‘অ্যাটর্নি-ক্লায়েন্ট’ বিষয়ে সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত তথ্য থাকতে পারে ধারণা করা হয়। বিচার বিভাগ সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নথিগুলোর পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। সোমবার আদালতে দাখিল করা এক ফাইল থেকে এসব জানা যায়।
বিচার বিভাগের উক্ত ফাইলে দেয়া এক বিচারকের নির্দেশ হচ্ছে, তিনি (বিচারক) ট্রাম্পের আইনি দলের বিশেষ একজন (মাস্টার) নিযুক্ত করার অনুরোধের বিষয়ে অনুমতি দেয়ার পক্ষে ছিলেন। যিনি মার-এ-লাগো এস্টেট থেকে ৮ অগাস্ট আটক নথিগুলোর পর্যালোচনা তত্ত্বাবধান করবেন এবং নিশ্চিত করবেন যেন কোনো ধরনের আইনি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হলে তাদের আলাদা করে রাখা হয়।
বিভাগটি সোমবার জানিয়েছে, সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্য যোগাযোগের বিষয়টি বিচার বিভাগ পর্যালোচনা করেছেন। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা বলছেন, তৃতীয় পক্ষের বিশেষ মাস্টার নিয়োগ এখন বিতর্কিত হতে পারে। বিভাগটি সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত যোগাযোগগুলোর বিষয় আলাদা করার জন্য একটি বিশেষ দলের উপর নির্ভর করছে। বিচারকের আদেশের আগেই পর্যালোচনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
শনিবার মার্কিন জেলা জজ আইলিন ক্যানন জানিয়েছেন, বিশেষ মাস্টার নিয়োগ ছিল তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। যা ট্রাম্পের আইনি দলের জন্য প্রাথমিক পদ্ধতিগত জয় নিশ্চিত করত। কিন্তু বর্তমানে বিভাগকে সাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার শুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে সিলগালাভাবে জানানোর জন্য বিচারক বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: এফবিআই: ম্যাগাজিন ও অন্যান্য নথির সঙ্গে ‘টপ সিক্রেট’ নথি মিশিয়ে রেখেছিল ট্রাম্প
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাতিলে ফের বাইডেনের স্বাক্ষর
৯৪০ দিন আগে
বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ: বাইডেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
বৈঠকে বাইডেন বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই পক্ষই সম্পর্ক জোরদার করতে চায় বলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র এ বছর একাধিক দ্বিপক্ষয়ি বৈঠক করেছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপুল আস্থার প্রতিফলন: নেপাল
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথ দেশগুলোর সহায়তা চায় ঢাকা
১০০৫ দিন আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
পালাউয়ের করর শহরে ‘৭ম আওয়ার ওশান কনফারেন্স’-এর দ্বিতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে জন কেরি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এসময় উভয় নেতা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। ড. মোমেন সমুদ্র-সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
জন কেরি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতাসহ বেড়িবাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে মার্কিন সহায়তার আশ্বাস দেন। এসময় ‘আওয়ার ওশান কনফারেন্স’- এর আলোচ্য বিষয়ের অংশ হিসেবে সমুদ্র-দূষণরোধে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারেও উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে জন কেরি কঠিন বর্জ্য থেকে নির্গমন কমাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা লাভের লক্ষ্যে ‘বৈশ্বিক মিথেন অঙ্গীকার’-এ যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এফেয়ারস ইউনিট প্রধান মো. খুরশিদ আলম এবং পালাউয়ে সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এফ এম বোরহান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সম্মেলনের সাইডলাইনে পালাউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুস্তাভ আইতারোর সঙ্গেও বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। এ বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে পর্যটন, ঔষধ সামগ্রী, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনা এবং দু'দেশের মধ্যে সদ্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে তারা আলোচনা করেন।
ড. মোমেন সকালে সম্মেলনের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলে আলোচনায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় আসছেন জন কেরি
জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশ-মার্কিন সহযোগিতা নিয়ে কেরি-মোমেনের ফোনালাপ
১০৭৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে রাশিয়ার বিমান চলাচল নিষিদ্ধ
রাশিয়ার কোন বিমান আমেরিকার আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডা তাদের আকাসসীমা রাশিয়ার জন্য বন্ধ করে দেয়ার পর আমেরিকার কাছ থেকেও এ ধরণের পদক্ষেপ এলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে (স্থানীয় সময়) প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে জো বাইডেন এসব কথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে আছে।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে দেখা গেছে, আগ্রাসী আচরণের কারণে স্বৈরশাসকরা যদি মূল্য না দেয়, তাহলে তারা আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।’
বাইডেন বলেন, কোন রকম উসকানি ছাড়াই রাশিয়া পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনে হামলা করেছে।
পড়ুন: ইউক্রেন সম্পর্কে বিস্ময়কর কিছু তথ্য
ইউক্রেনের জনগনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা হচ্ছে 'শক্তিশালী প্রাচীরের' মতো, যেটা কেউ ধারণা করেনি। ছয়দিন আগে পুতিন চেয়েছিল স্বাধীন পৃথিবীর ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে। সে ভেবেছিল তার মতো করে এটা বাঁকা করতে পারবে।
‘কিন্তু তার হিসেব ছিল পুরোপুরি ভুল,’ বলেন বাইডেন
ইউক্রেনের জনগণ যেভাবে ইস্পাত কঠিন মনোভাব নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে সেখান থেকে আমেরিকার জনগণকে অনুপ্রেরণা নিতে আহবান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, পুতিন হয়তো ট্যাংক দিয়ে কিয়েভ শহর ঘিরে রাখতে পারে কিন্তু তারা কখনোই ইউক্রেনের জনগণের হৃদয় অর্জন করতে পারবে না।
পড়ুন: ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকায় হামলা জোরদার রুশ বাহিনীর
ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে তদন্ত করবে আইসিসি
১১২১ দিন আগে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ফার্স্টলেডি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের প্রতি নববর্ষের এ শুভেচ্ছা জানান।
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ব্লিনকেনের
এর আগে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ও তাঁর পরিবারকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ও তার স্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি নববর্ষের এ শুভেচ্ছা জানান।
আরও পড়ুন: আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১১৬২ দিন আগে