ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বিএনপির দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংর্ঘষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম এ আদেশ জারি করেন।
ইউএনও বলেন, স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ একই এলাকায় একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ (রবিবার) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুফতি মাহমুদুল্লাহর অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের জেরে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্থানীয় যুবদলের রিয়াদ নামের এক নেতা ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এমপির পক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিলের অনুসারী যুবদল নেতা রিয়াদ আহত হন।
মূলত ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার তারাকান্দা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শাকিলের অনুসারীরা। এ খবরে মোতাহার হোসেনের সমর্থকরা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে একটি পক্ষ বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে আসনটি হারায় বিএনপি। এ নিয়ে নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
৫ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৮
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৮ শিশু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গতকাল (শনিবার) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা যায়।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫১৯টি শিশু এবং ১৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৭২টি শিশু।
তিনি জানান, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এখনও শিশুদের আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থার শিশুদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকল্প বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
১১ ঘণ্টা আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৩ শিশু।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে ১১ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে একই দিন সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালে সব রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে আলামিন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলামিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সেনের চকপাড়া গ্রামের রশিদ (৪১), জসিম উদ্দিন (৫০) ও তার স্ত্রী হুরেনা খাতুন, তাদের ছেলে রিয়াদ (২৫) এবং জোনাকি আক্তার (৩৮)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে জসিম উদ্দিনদের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুপুরে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা হাফিজুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে মারধর করেন।
ঘটনার সময় হাফিজুল ইসলামের ভাই আলামিন হামলা ঠেকাতে গেলে আসামিরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পর নিহতের চাচা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত ৫ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।
১১ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিশুকে ‘হত্যা’, অভিযোগের আঙুল বাবার দিকে
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাবার হাতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম লাবিব। সে তার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে বসবাস করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা সোহাগ চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সোহাগ একাধিক বিয়ে করায় লাবিবের মা তাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতেন।
গতকাল (বুধবার) বিকেলে সোহাগ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ছেলে লাবিবকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটির নানার বাড়িতে পাশের একটি নির্জন স্থানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা থানায় খবর দিলে ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড এবং শিশুটি বাবার হাতেই হত্যার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটকে পুলিশের অভিযান চলছে।
১৭ দিন আগে
অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভিগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশের অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভিগুলোকে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ এলাকা নান্দাইলে প্রেসক্লাব পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গত ১৭ বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এবং নিয়ম-নীতির যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি। তবে এখন থেকে সবকিছু নিয়মের ভিত্তিতেই চলবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি মোবাইল ফোনকে সম্বল করে যারা অনলাইন পোর্টাল পরিচালনা করছেন, তাদেরও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। তবে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্র বিকাশে অপরিহার্য—এমন অবস্থানই সরকারের।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নান্দাইলে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম নান্দাইল সফর।
নান্দাইলে পৌঁছার পর সদরে অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় নান্দাইলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত উপস্থিত ছিলেন।
প্রটোকল শেষে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি চৌরাস্তায় অবস্থিত নান্দাইল প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন। সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ, নান্দাইল এবং গফরগাঁও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং কল্যাণ তহবিল থেকে নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এরপর প্রতিমন্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে তিনি নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
৫২ দিন আগে
ময়মনসিংহে সেনা ট্রাক-বাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫ জন
ময়মনসিংহে সেনাবাহিনী সদস্যবহনকারী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে উভয় গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় কাকলি রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেনাবাহিনীর ট্রাকচালক সার্জেন্ট রেজাউল (৩৬) ও বাসচালক আব্দুল বাসেত (৫০)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, আজ (বুধবার) সকালে সেনাবাহিনী তাদের ক্যাম্প কার্যক্রম শেষ করে ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ ফেরার পথে বালিয়া মোড়ে পৌঁছালে শেরপুরগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৬ জনকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকটির ড্রাইভার সার্জেন্ট রেজাউল করিম (৩৬) এবং যাত্রীবাহী বাসের চালক আব্দুল বাসেত (৫০) মারা যান।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে দুর্ঘটনার শিকার যান সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৬০ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৬৪ দিন আগে
ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির ৮টি, জামায়াতের ২টি এবং একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর
ময়মনিসংহের ১৩টি উপজেলায় ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। আর ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহের আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বহিষ্কৃত) সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)
এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৪ ভোট।
ময়মনসিংহ -৩ (গৌরীপুর)
এই আসনে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইন ৭৪ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র বিএনপি বিদ্রোহী) ‘ঘোড়া’ প্রতীকে আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫১৩ ভোট।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে। আর ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কামরুল আহসান এমরুল।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। ১ লাখ ৮৭৬ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)
এখানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন বিজয়ী হওয়ার পথে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) আখতার সুলতানার ফুটবল প্রতীকে পড়েছে ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)
এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ৯৮ হাজার ৫৭৯ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের আসাদুজ্জামান সোহেল ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)
এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন এডিপির প্রার্থী (১১ দলীয় ঐক্য) অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (১১দলীয় ঐক্য) বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) এবি সিদ্দিকুর রহমানের ‘হাঁস’ পেয়েছে ৬৬ হাজার ৪২৪ ভোট।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই আসনে ভোটের দৌঁড়ে হেরে গেছে মোর্শেদ আলমের ‘হরিণ’। স্বতন্ত্র এ প্রার্থী পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।
৬৫ দিন আগে
উত্তরায় অগ্নিকাণ্ড: ময়মনসিংহে পাশাপাশি সমাহিত হলেন এক পরিবারের ৩ জন
রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পড়েছে পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা, ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২) কাজের সন্ধানে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় যান। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন তারা। গতকাল (শুক্রবার) সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তার (১৫) নিহত হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হয়েছে। মসজিদের সামনে বাঁশ কেটে রাখা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, মাদরাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো মানুষের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
হারেছের দোকানে একসময় কাজ করতেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, তিনি দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তিনি দোকানে চলে গিয়েছিলেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।
হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন মানুষ মারা গেল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।
এই অগ্নিদুর্ঘটনায় মোট ৬ জন নিহত হয়েছে। অন্য তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তাদেরও নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
৯২ দিন আগে