ফিলিং স্টেশন
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেল গায়েব, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুদ, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মজুদ ও বিক্রির হিসাব চাইলে ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।
তার বক্তব্যের সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে করা প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুদ এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুদ ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক বলেন, ‘আমি যে পেট্রোল এনেছি তা প্রতিদিন বিক্রি করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে অযথা হয়রানি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
৭ দিন আগে
নড়াইলে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় ‘হত্যা’
নড়াইলে তেল না পেলে একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে এক ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৫) চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাহিদের বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে (২৯) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাহিদ সরদার উপজেলার তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে ছিলেন তিনি। তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে বাগবিতণ্ডার পরও ওই ট্রাকচালক পাম্পেই অবস্থান করেন। রাত ২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে সহকর্মী জিহাদকে নিয়ে পাম্প থেকে বের হন নাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে তাদের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায় ওই ট্রাকটিকে। পরে ওই ট্রাকের চাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বন্ধু জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মীরা ও স্থানীয়রা।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তেল নিতে সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। এ সময় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৭ দিন আগে
জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন
জ্বালানি তেল মজুদ প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।
গত ২৫ মার্চ সকাল হতে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে সর্বমোট ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি।
এ ছাড়াও, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।
১৮ দিন আগে
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রমে নজরদারি জোরদার করতে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৮ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত ২৭ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, দেশের সকল পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) তাদের অধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন
চাহিদার তুলনায় ডিপোগুলো থেকে কম সরবরাহের কারণে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তীব্র তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে জ্বালানি নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে যানবাহনের চাপ ও জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলচালকসহ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। গ্রাহকদের চাপ সামলাতে গিয়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার হচ্ছে।
এদিকে, তেলের সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা জায়গায় বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
২২ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে পাম্পে পেট্রোল নেই, বাজারে ৩৫০ টাকা লিটার
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেটোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জ্বালানির জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন ক্রেতারা। কোথাও সীমিত পরিমাণ এলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও পেট্রোল না পেয়ে গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছেন।
তবে পাম্পে পেট্রোল না মিললেও একই সময়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে অতিরিক্ত দামে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা। বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেলের চালকদের ভোগান্তি অনেক বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পেট্রোল ও অকটেন পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক যানবাহন পেট্রোল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, রুহিয়া রামনাথ হাটে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৭০ টাকা, সেনিহারী বাজারে ৩৫০ টাকা, ঢোলারহাটে ৩১০ টাকা, আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি বাজারে ২৫০ টাকা, রাণীশংকৈল চেকপোস্ট বাজারে ২৩০টাকা, ধনিরহাটে ৩০০ টাকা, ভরনিয়া বাজারে ৩২০ টাকা, বাদামবাজারে ২৮০ টাকা, সনগাঁও বাজারে ৩০০ টাকা, লাহিড়ী বাজারে ২৬০ টাকা, কাচকালী বাজারে ৩০০ টাকা, পল্লীবিদ্যুৎ বাজারে ২৮০ টাকা এবং কাউন্সিল বাজারে ২৫০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৫০-৬০ জনের অজ্ঞাত পরিচয় একটি দল স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে স্টেশনটির অন্তত দুজন স্টাফ আহত হন।
একই রাতে শহরের বিসিক এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। অভিযোগ ছিল, মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছিল।
এ ছাড়াও শহরের আরেকটি ফিলিং স্টেশনে তেল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ছবি ধারণে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোটরসাইকেলচালক রাশেদ বলেন, পাম্পে গেলেই বলা হচ্ছে তেল নেই, অথচ একটু দূরে গেলেই একই তেল বোতলে করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই তেলগুলো আসছে কোথা থেকে? পাম্পে যদি সত্যিই পেট্রোল না থাকে, তাহলে বাজারে এত পেট্রোল কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে? বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছে খুবই সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট—এখানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সীমিত রেখে বা বন্ধ দেখিয়ে বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। এতে করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়া হচ্ছে।
কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এখন সেচের মৌসুম চলছে। এই সময়টায় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে ধানসহ অন্যান্য ফসল বাঁচানো একেবারেই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে দাম এত বেশি যে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা খুবই কষ্টকর। তারপরও ফসল বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী পেট্রোল ও ডিজেল প্রতি লিটার কত হবে, সেটা কাগজে ঠিক করা হলেও মাঠে সেটার কোনো প্রভাব নেই। ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত তেলের সরবরাহ নেই, তাই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। আমরা পাম্পে যাই, সেখানে তেল নেই বলে ফেরত আসতে হয়। তারপরও খোলা বাজারে সেই একই তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদা বেশি হওয়ায় যা আসে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি হেলমেট ও মাস্ক পরে ছদ্মবেশে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাজারের দোকানে দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন। এতে কিছুটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
২৩ দিন আগে
সিলেটে ডিপো থেকেই কমেছে তেল সরবরাহ, সংকটে ফিলিং স্টেশনগুলো
সিলেটে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখনও চাহিদামাফিক পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্কটের কারণে কিছু পেট্রোল পাম্প জ্বালানি তেল বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছে।
সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল কম সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদামাফিক সরবরাহ পেলে সংকট কেটে যাবে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন থেকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি পাচ্ছেন যানবাহন চালকরা। আবার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকার কথা বলে বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার-সংলগ্ন জালাবাদ পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সে সময় ওই পাম্পে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে আসেন বিকাশের মার্চেন্ট এজেন্ট মিলন (২৮)। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে তেল পাচ্ছি না, ডিউটি করব কীভাবে, আর যাতায়াত করব কীভাবে?
সন্ধ্যায় নগরীর পাঠানটুলার নর্থ ইস্ট পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, এই পাাম্পে সীমিত আকারে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
নগরীর আম্বরখানার জালালাবাদ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে ২০০ বা ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে অকটেন নিতে চাইলেও অকটেন নেই বলে জানান পাম্পের কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে জালালাবাদ পাম্পের ব্যবস্থাপক বা মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এ অবস্থা চলছে গত শক্রবার থেকেই। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের তেল কেনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় তেলে ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ফিলিং স্টেশন ব্যাবসায়ী সমিতির নেতারা।
বৈঠক শেষে সমিতির নেতাদের একজন জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন নিয়মের নির্দেশনায় সিলেটের অনেক স্টেশনে তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আাশা করি, সোমবারের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বৈঠকে তেলের সরবরাহ নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী নেতারা।
বৈঠক শেষে সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াসাদ আজিম বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট নেই। দেশেই এগুলোর চাহিদামাফিক উৎপাদন হয়। কেবল ডিজেল আমদানি করতে হয়। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে সিলেটে সংকট দেখা দিয়েছে। ডিপো থেকে চাহিদামাফিক সরবরাহ মিলছে না।
তিনি বলেন, আজকে আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।
সিলেটের ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরকার আগেই ভেবেছে, যার কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। মানুষ সম্ভাব্য সঙ্কটের কথা শুনেই ২ লিটারের জায়গায় ১০ লিটার কিনে নিচ্ছে বলে এ কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সিলেটের ডিপোগুলো থেকে যেভাবে তেল সাপ্লাই দেওয়ার কথা, তা এখন চার ভাগের এক ভাগে চলে এসেছে। এটি মারাত্মক একটি বির্পযয়।
অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ না করার অনুরোধ জানিয়ে জনগণের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে জাহাজ আসছে। সরকার ডিজেল পেট্রলের দাম বাড়াচ্ছে না। হঠাৎ সারা দেশে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটে এই সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আপনারা দয়া করে বাড়তি তেল কিনে কৃত্রিম সংকট করবেন না।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, তেলের ঘাটতি এখনও শুরু হয়নি দেশে। যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা বিবেচনায় রেখে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে প্রশাসন। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে, সিলেটের এই সংকট আশা করি দুয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসির নির্দেশনায় জ্বালানি তেল সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল দেওয়া হবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া পিকআপ বা স্থানীয় বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ শহরের সৃজনী পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাম্পকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা তাদের মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তারা ফিরে আসার সময় দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তাদের মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩৮ দিন আগে
রমজানে সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকবে ৬ ঘণ্টা
পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সারা দেশে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। রমজানে ৬ ঘন্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে হবে। একইসঙ্গে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিএনজি ও ফিলিং স্টেশন সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়, প্রথম রমজান থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। অর্থাৎ টানা ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে স্টেশনগুলো। আগে এই সময়সূচি ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৫ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ও ফিলিং স্টেশন সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।
আগামী ২৬ মার্চ থেকে আবার আগের নিয়মে ফিরে যাবে সময়সূচি। তখন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকবে।
এই উদ্যোগের ফলে একইসঙ্গে মহাসড়কে যাত্রীবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি সংকট এড়ানো সহজ হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
৫৪ দিন আগে
ঈদে ছুটিতেও খোলা থাকবে সব ফিলিং স্টেশন
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে সড়কপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহের সুবিধার্থে ঈদের দিনসহ আগের ৭ দির ও ঈদের পরের ৫ দিন ফিলিং স্টেশন সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে।
বুধবার (৪ জুন) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঈদে যেন যাত্রীরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সড়কপথে চলাচল করতে পারে, এজন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিবদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই দিনগুলোতে উপলক্ষ্যে সিএনজি/ফিলিং স্টেশনগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ঈদের দিনসহ পরবর্তী ১০ দিন ঢাকায় চামড়া পরিবহন নিষিদ্ধ এতে রাস্তায় তেলের প্রয়োজন হলে যানবাহনগুলোকে ঝামেলায় পড়তে হবেনা। পাশাপাশি ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগও লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সম্পর্কিত অফিস আদেশে সব ফিলিং স্টেশনগুলোকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩১৫ দিন আগে