একনেক
রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৬,২০৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত ও একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে সাতটি প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন; এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ।
একনেক সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয় সংশোধনীতে অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের একটি রেল প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবনটি ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পও একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এর একটি হলো ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং অন্যটি থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।
এদিকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত একটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার ও হারাবতী নদী এবং নুনগোলা ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন করা হবে।
১১ দিন আগে
একনেকে ১৫,৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি প্রশাসন, গ্রামীণ সড়ক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
১৩টি প্রকল্পের মধ্যে আটটি নতুন, তিনটি সংশোধিত ও দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—বাংলাদেশে যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রকল্প এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২ (এফএসএসপি-২)-ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল সুবিধা সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। অন্য প্রকল্পটির লক্ষ্য মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা করা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্বিতীয় সংশোধিত একটি প্রকল্পের আওতায় তিনটি সিটি করপোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। এগুলো হলো রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন।
একনেক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) তৃতীয় সংশোধিত পর্যায় অনুমোদন করেছে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প আগে র্যাব নামে পরিচিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।
পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন—এমন ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভায় জানানো হয়েছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নির্ঝরে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, কুর্মিটোলায় বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা মহানগর ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন।
অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রথম সংশোধন, মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন, ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের প্রথম সংশোধন এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।
তালিকায় আরও রয়েছে হবিগঞ্জে বিবিয়ানী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সামনে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, ২৩টি পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, ভূয়াপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় পরিশোধিত ভূ-উপরিস্থ পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্প।
১৯ দিন আগে
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১ অক্টোবর ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরটি এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি দেখতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও প্রস্তাবিত জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাবেন এবং খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এছাড়া পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন।
বেলা ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে তিনটি জোন—রেড, ইয়োলো ও হোয়াইটে ভাগ করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের আগে গতকাল (রবিবার) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন করা হবে, তা জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, রেড জোনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরাই কেবল সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের এলাকাকে হোয়াইট জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পরশুরাম যাবেন। তবে তার ফেরার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপন এবং অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এছাড়া পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকার বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
২০ দিন আগে
আড়াই লাখ কোটি টাকার ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুটসহ তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প হিসেবে এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুট এবং জাপানের অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুট গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
রুটটির ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ হবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রুটটি রাজধানীর টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, নাসিরাবাদ হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে।
এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৬৪ শতাংশ
এমআরটি লাইন-১-এর সংশোধিত ব্যয়ও অনুমোদন করেছে একনেক। ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে।
২০১৯ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এবার সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
সংশোধিত প্রস্তাবে সরকারি অর্থায়ন বেড়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ বেড়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতার কারণে ব্যয় বেড়েছে।
বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তনের মধ্যে স্টেশনের আয়তন বৃদ্ধি, স্টেশনের প্রবেশপথ, বের হওয়ার পথ ও ভেন্টিলেশন শ্যাফটের স্থান পরিবর্তন, তিনতলা রাজাবাগ স্টেশন নির্মাণ এবং নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার ডিট্যুর সড়ক নির্মাণের বিষয় রয়েছে।
৩২ দিন আগে
একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ এবং ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক ছাত্রাবাস (প্রথম সংশোধন) নির্মাণ।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন’ প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প রয়েছে। এর একটি ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা এবং অন্যটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট ও ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করার একটি প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো: জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) এবং ঢাকার ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও নয়টি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন বলে সভায় জানানো হয়।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিএসএল-৩ গবেষণাগার স্থাপন এবং ভ্যাক্সিন ও বায়োলজিক্যাল গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) প্রথম সংশোধিত প্রকল্প, সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), ঢাকার গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ, ডিপিডিসির আওতাধীন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত), মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (চতুর্থ পর্যায়), জনসেবা প্রদানে নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কক্সবাজার জেলা ও নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন (প্রথম সংশোধন)।
৬০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে এ সভা শুরু হয়েছে।
একনেকের এ সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ একনেকের অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।
৬০ দিন আগে
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়-সংবলিত আটটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হলো— সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প, বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।
এর পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো— সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন ও একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ এবং সুনেত্র-২) খনন প্রকল্প।
এ ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় সংশোধিত একটি প্রকল্পের আওতায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্রকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়-সংবলিত ১১টি প্রকল্প সর্ম্পকেও সভায় জানানো হয়।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, গৌরনদীতে বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন জেলায় বিটাকের ছয়টি কেন্দ্র স্থাপন।
অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
৮৮ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা চলছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
৮৮ দিন আগে
একনেকে ২,২৬৬.৪১ কোটি টাকার ৮ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ মঙ্গলবার ২,২৬৬.৪১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদিত প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২,২২৯.১৩ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭.২৮ কোটি টাকা জোগানো হবে।
অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, এই প্রকল্পগুলো মূলত পানিসম্পদ, পরিবহন অবকাঠামো, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
অনুমোদিত প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ এবং ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টৈটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ইদমানি) আঞ্চলিক মহাসড়ক’ যথাযথ মান্ন্নেয়ন ও প্রসস্তকরণ প্রকল্প।
এছাড়া, ঠাকুরগাঁওসহ ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট স্থাপন এবং স্বাস্থ্য খাতের অধীনে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান গ্রিড সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইন সম্প্রসারণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্পটিও একনেকে পাস হয়।
অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়), মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য পদ্ধতি (মেমিস) সহায়তা প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং সারা দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়, যা আগেই পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছিলেন।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেবা (সংশোধিত), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক পার্কিং সুবিধা, ডাক সেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ উদ্যোগ (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং খুলনার পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন (সংশোধিত) প্রকল্প।
একনেক সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
১৩১ দিন আগে
বাজেট-পূর্ব একনেক বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সকাল ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয় এবং দুপুর সোয়া ১টায় তা শেষ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবগণ বৈঠকে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেন।
আগামী ১১ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর।
এর আগে, গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী অর্থবছরের জন্য ৩,০৮,৯২৪.৮৩ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করে।
তারও আগে, গত ১২ মে ৩৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ নয়টি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছিল একনেক।
১৩১ দিন আগে