ইরানে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চার শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য রয়েছেন। দেশটির ৩১টির মধ্যে ২৭টি প্রদেশের ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সমগ্র ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে বিক্ষোভকারী সংগঠনটি। ফলে অস্থিতিশীল পরিবেশেও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে তারা। অতীতেও বিক্ষোভের সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের জন্য তারা পরিচিত।
দেশটির আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য রয়েছেন আহতদের তালিকায়।
ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
গেল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্পের এসব মন্তব্য হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিলেন মাদুরো।
অবশ্য ট্রাম্প কীভাবে এবং আদৌ হস্তক্ষেপ করবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্যের পর ইরান থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এটিকে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে চলমান আন্দোলন এখনও আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মতো ব্যাপক ও তীব্র হয়নি। সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে আমিনির মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্প্রতি ১২ দিনের যুদ্ধের পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখে নেমে আসে। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ।
কিন্তু চলমান বিক্ষোভের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে খুব কম তথ্য দিচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে শুধু অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বা গুলির শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি ইরানে সাংবাদিকদের চলাচলে অনুমতির বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মাঝে মধ্যেই তাদের হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের খবর শোনা যায়।
এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ থামছে না বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের উপযুক্ত জায়গায় রাখা উচিত।’