মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ায় যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ৮ লাখ টাকা খরচ অন্যায্য: আসিফ মাহমুদ
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়াকে কোনোভাবেই ন্যায্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রবাসী শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে একজন কর্মীকে বিদেশে যেতে হলে সেটি কোনোভাবেই ন্যায্য বা সমান সুযোগের পরিস্থিতি হতে পারে না।
প্রবাসী শ্রমবাজারের অনিয়মের পাশাপাশি বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকায় নেমে এসেছিল। এখন একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারণে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এনসিপির এই মুখপাত্র।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দরজা খোলা রাখা উচিত। তবে কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক চুক্তিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, পররাষ্ট্রনীতি সেভাবেই পরিচালনা করা প্রয়োজন।
দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করার পরও নাগরিকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি আবার সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
এ সময় তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথাও জানান তিনি।
১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদ করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশ নয়, বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধেও একটি প্রতিবাদ।’
ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে দেশবাসী, সহযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এনসিপির মুখপাত্র।
৩ দিন আগে
বর্ষায় সড়কের ভাঙন রোধে ‘রাবারাইজড’ বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনায় সরকার
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন বা পলিমার মডিফাইড বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাবারাইজড বিটুমিন সাধারণত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও তাদের কার্পেটিং করা সড়ক সহজে নষ্ট হয় না। কারণ, তারা বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বর্ষা মৌসুমে যাতে রাস্তাগুলো বৃষ্টির সময় নষ্ট হয়ে না যায়, সে কারণে আমরা প্রযুক্তিটা পর্যায়ক্রমে শুরু করব। প্রযুক্তিটা আমাদের কাছে সহজলভ্য না হওয়ায় মালয়েশিয়া আমাদের কারিগরি সহায়তা দেবে।
রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের প্রযুক্তি বাংলাদেশে নতুন নয় জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৫ সালে যখন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, তখন বগুড়া সদরের নির্বাচনি এলাকায় আমরা মালয়েশিয়া থেকে এই পলিমার মডিফাইড বিটুমিন অর্থাৎ রাবারাইজড বিটুমিন নিয়ে এসে দুই কিলোমিটার রাস্তা পাইলটিং করেছিলাম। ওই সময় বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব সচিব শহীদুল হাসান এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণ করা ওই সড়ক এখনও ভালো আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে গ্রামীণ রাস্তাগুলো আমরা মেরামত করব, রক্ষণাবেক্ষণ করব বা নতুন রাস্তা তৈরি হবে তখন সেগুলোতে রাবারাইজড কার্পেটিং বিটুমিন দ্বারা কার্পেটিংয়ের জন্য আমরা এগিয়ে যাব।
বৈঠকে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান বা ইভি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এছাড়া সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ করবে দেশটি। পাশাপাশি হালাল খাদ্য খাতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
সেপ্টেম্বরের শেষে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি সমাপ্ত হবে বলে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে সর্বমোট ২ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। এর বাইরে মালয়েশিয়া আরও ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে নেবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আর এর বাইরে ১০ হাজার শ্রমিক তারা একদম ফ্রি নেবে, যেটাতে কোনো খরচ নেই। জিরো কস্ট। ওটাও সেপ্টেম্বরের শেষের দিক থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।’
এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়াকে এলএনজি আনার জন্য দেওয়া চিঠির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী আলোচনা হয়নি বলে জানান।
৪ দিন আগে
আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।
বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন (মালয়েশিয়ায়) শুরু হতে পারে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে বেশকিছু ভাইবোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।
দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছি, প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যেন বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।
এর আগে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইবোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহ্দী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আগের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সঙ্গে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।
গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ‘দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
৩৫ দিন আগে
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না সরকার: ড. জাহেদ
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার তাড়াহুড়া করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আগে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেটির সব সুপারিশের সঙ্গে সরকার শতভাগ একমত নয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সরাসরি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগের কমিশনের প্রতিবেদনটি যোগ্য ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফল এবং সেখানে অংশীজনদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কিছু ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে কিছু ঘাটতিও রয়েছে বলে সরকারের কাছে মনে হয়েছে। তাই বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং নতুন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ড. জাহেদ বলেন, আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার সময় নিচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার খুলছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ব্যাপারটা আসলে আমার পক্ষে জবাব দেওয়া কঠিন। এটা আসলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেবে, কারণ তারা মিটিংয়ে ছিল। কিন্তু আমরা এখান থেকে যেটা বুঝতে পারছি, এই ব্যাপারটা ভালোভাবে আলোচনা হয়েছে এবং আমি কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তার ক্ষেত্রে খেয়াল করেছি, আমার কাছে মনে হলো—আমি এটাও আবারও বলছি, আমি খুব নিশ্চিতভাবে বলছি না—এটা খুব দ্রুতই উন্মুক্ত হবে। আমরা এটা আশা করতে পারি, নিশ্চয়ই।
৭২ দিন আগে
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ান রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। আগামী দুই দিন তিনি দালিয়ানে একের পর এক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।’
তিনি জানান, তারেক রহমান পরবর্তীতে চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করবেন। সেখানে তার চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং উপ-হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে গতকাল (রবিবার) কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দালিয়ানে অবস্থানকালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সপ্তদশ বার্ষিক নিউ চ্যাম্পিয়ন্স সভায় যোগ দেবেন, যা ‘সামার ডাভোস’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এটি ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত লিয়াওনিং প্রদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই ইভেন্টে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শিল্প রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হবে।
ফোরামে যোগ দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী ২৫ জুন চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াং এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শেষ করে ২৬ জুন রাতে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।
৭৩ দিন আগে
বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো নতুন ও উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত অংশীদারত্বের দিকে এগোতে চাই। এটি শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গবেষণা, নতুন বিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতেও বিস্তৃত হবে। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতে আমাদের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’
বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মালয়েশিয়ার সঙ্গে আরও গভীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংস্কৃতি, সন্ত্রাস দমন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে দুই দেশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বিশাল সম্ভাবনাময় বড় দেশ। আমাদের যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা উচিত এবং কৃষির বাইরে জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন শিল্প (অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং) ও সেমিকন্ডাক্টরসহ নতুন খাতগুলোতে সহযোগিতা প্রসারিত করা প্রয়োজন।’
শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের তার দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একটি আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উভয় সরকার একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যা কর্মী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।
তিনি জানান, পেট্রোলিয়াম খাত, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার এবং আসিয়ানের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে একটি টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে।
বৈশ্বিক ইস্যুগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান অভিন্ন এবং সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে উভয় দেশ সমর্থন করে।
শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম তার আমন্ত্রণ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
৭৩ দিন আগে
মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খোলার আহ্বান, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর
মালয়েশিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য উপকারী। আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি।’
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান অনিয়মিত (অবৈধ) কর্মীদের বৈধকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী হয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সহযোগিতার একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।
পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অর্জন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম যাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তার আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমি ও আমার স্ত্রী এখানে এসে আনন্দিত।’
৭৩ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৭৪ দিন আগে
তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ফোন করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান।
এ সময় আনোয়ার ইব্রাহিম বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
১৯৫ দিন আগে