মালয়েশিয়া
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না সরকার: ড. জাহেদ
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার তাড়াহুড়া করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আগে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেটির সব সুপারিশের সঙ্গে সরকার শতভাগ একমত নয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সরাসরি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগের কমিশনের প্রতিবেদনটি যোগ্য ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফল এবং সেখানে অংশীজনদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কিছু ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে কিছু ঘাটতিও রয়েছে বলে সরকারের কাছে মনে হয়েছে। তাই বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং নতুন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ড. জাহেদ বলেন, আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার সময় নিচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার খুলছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ব্যাপারটা আসলে আমার পক্ষে জবাব দেওয়া কঠিন। এটা আসলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেবে, কারণ তারা মিটিংয়ে ছিল। কিন্তু আমরা এখান থেকে যেটা বুঝতে পারছি, এই ব্যাপারটা ভালোভাবে আলোচনা হয়েছে এবং আমি কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তার ক্ষেত্রে খেয়াল করেছি, আমার কাছে মনে হলো—আমি এটাও আবারও বলছি, আমি খুব নিশ্চিতভাবে বলছি না—এটা খুব দ্রুতই উন্মুক্ত হবে। আমরা এটা আশা করতে পারি, নিশ্চয়ই।
১২ দিন আগে
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ান রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। আগামী দুই দিন তিনি দালিয়ানে একের পর এক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।’
তিনি জানান, তারেক রহমান পরবর্তীতে চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করবেন। সেখানে তার চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং উপ-হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে গতকাল (রবিবার) কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দালিয়ানে অবস্থানকালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সপ্তদশ বার্ষিক নিউ চ্যাম্পিয়ন্স সভায় যোগ দেবেন, যা ‘সামার ডাভোস’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এটি ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত লিয়াওনিং প্রদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই ইভেন্টে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শিল্প রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হবে।
ফোরামে যোগ দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী ২৫ জুন চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াং এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শেষ করে ২৬ জুন রাতে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।
১৩ দিন আগে
বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো নতুন ও উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত অংশীদারত্বের দিকে এগোতে চাই। এটি শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গবেষণা, নতুন বিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতেও বিস্তৃত হবে। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতে আমাদের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’
বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মালয়েশিয়ার সঙ্গে আরও গভীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংস্কৃতি, সন্ত্রাস দমন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে দুই দেশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বিশাল সম্ভাবনাময় বড় দেশ। আমাদের যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা উচিত এবং কৃষির বাইরে জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন শিল্প (অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং) ও সেমিকন্ডাক্টরসহ নতুন খাতগুলোতে সহযোগিতা প্রসারিত করা প্রয়োজন।’
শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের তার দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একটি আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উভয় সরকার একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যা কর্মী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।
তিনি জানান, পেট্রোলিয়াম খাত, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার এবং আসিয়ানের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে একটি টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে।
বৈশ্বিক ইস্যুগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান অভিন্ন এবং সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে উভয় দেশ সমর্থন করে।
শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম তার আমন্ত্রণ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
১৩ দিন আগে
মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খোলার আহ্বান, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর
মালয়েশিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য উপকারী। আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি।’
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান অনিয়মিত (অবৈধ) কর্মীদের বৈধকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী হয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সহযোগিতার একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।
পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অর্জন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম যাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তার আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমি ও আমার স্ত্রী এখানে এসে আনন্দিত।’
১৩ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ফোন করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান।
এ সময় আনোয়ার ইব্রাহিম বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
১৩৫ দিন আগে
ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্ব বর্জ্যের ‘ভাগাড়’ হতে দেবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সকল ই-বর্জ্য তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ বিভাগের অধীনে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে নির্দিষ্ট কিছু ই-বর্জ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল করা হলো।
দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর অনুমোদিত নয়।’ অবৈধ আমদানি ঠেকাতে তিনি ‘দৃঢ় ও সমন্বিত আইন প্রয়োগমুলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ই-বর্জ্য নিয়ে এর আগেও সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দর থেকে সন্দেহজনক শত শত কন্টেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে সেগুলো আবার রপ্তানিকারক দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে তারা।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মূলত এই নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকি নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালকে আটক করে রিমান্ডে নেয় দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়, এটি পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।’
১৫০ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উদযাপন
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) কুয়ালামপুরের হাইকমিশনের মিলনায়তনে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহনে 'জুলাই বিয়ন্ড বর্ডারস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্টানে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের ওপর গ্রাফিতি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। ডিজিটাল মাধ্যমে এই প্রদর্শনীটি দূতাবাসে আগত সেবাপ্রার্থী ও দর্শনার্থীদের জন আগামী সপ্তাহেও উন্মুক্ত থাকবে।
গ্রাফিতি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানের ওপর এবং অভ্যুত্থানে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান নিয়ে নির্মিত দুটি পৃথক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উপলক্ষে হাইকমিশনার শামীম আহসান অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
'২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বীর যোদ্ধাদের এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন হাইকমিশনার।
পড়ুন: জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত সন্দেহে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তারে ঢাকার উদ্বেগ, কুয়ালামপুরের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান
অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে অভ্যুত্থান অনুষ্ঠিত হয়, সে আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ রুপ দিতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রবাসীবান্ধব এই সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে বহুমাত্রিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সরকারের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু করেছে মালয়েশিয়ার সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ইতিহাসের সেরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবস্থান করছে। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত, ব্যবসা বাণিজ্যসহ প্রসারসহ বহুমাত্রিক দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে এ সফরে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের চাওয়া সেবা যেমন পাসপোর্ট-ভিসা, কনসুলার সেবা, কর্মসংস্থানসহ কল্যাণমূলক সকল প্রকার সেবা দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। দূতাবাসের সেবা ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমেও সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাইকমিশনের ভ্রাম্যমান কনস্যুলার সেবা ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতা, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি, প্রবাসী সাংবাদিক এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩১৯ দিন আগে
নিজের নয়, জনগণের ইচ্ছায় ক্ষমতায় বসেছি: ড. ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পরিবর্তনের দাবি ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষ থেকে আসেনি, এটি জনগণের পক্ষ থেকে এসেছে এবং তিনি কেবল তাদের নির্বাচিত পথ ধরে পথপ্রদর্শন করছেন।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা বারনামাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, 'এটা আমার নয়, এটা সেসব মানুষের চাওয়া, যারা পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তারা যেভাবে চলতে চান, আমি শুধু তাদের সেভাবে চলতে সহায়তা করছি।'
গত ১১-১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সফরের শেষ দিকে বারনামার প্রধান সম্পাদক আরুল রাজু দুরার রাজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারটি দেন প্রধান উপদেষ্টা। সঙ্গে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিসের সম্পাদক ভুন মিয়াও পিং ও বারনামার ইকোনমিক নিউজ সার্ভিসের সহকারী সম্পাদক কিশো কুমারী সুশেদারাম।
ড. ইউনূস বলেন, 'আমি নিজের কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিই না। আমি অপেক্ষা করি এবং মানুষের ইচ্ছা কী তা দেখার জন্য অপেক্ষা করি। তারপর তা বাস্তবায়ন করি।'
অধ্যাপক ইউনূস নিজের বর্তমান ভূমিকা একজন নেতা নয় বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একজন অভিভাবক হিসেবেই তুলে ধরেন।
তবে, নিজের সামনে থাকা বিশাল চ্যালেঞ্জগুলোও স্বীকার করেন তিনি।
পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'বাংলাদেশে অসুবিধা অনেক। অনেকেই এটাকে ব্যাহত করতে চায়।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত রাজনৈতিক শক্তিগুলো পুরো ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।'
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, 'বাংলাদেশে গত দেড় দশকে অনেকে নতুন ভোটার হয়েছেন, তাদের বড় অংশ আগে কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। কেউ ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। কেউ ১৫ বছর ধরে।'
তিনি বলেন, 'একবার ভাবুন, আপনার ১৮ বছর বয়স হয়েছে, আপনি ভোট দিতে আগ্রহী। কিন্তু আপনি সেই সুযোগ কখনো পাননি। এর কারণ হলো— কখনো সুষ্ঠু নির্বাচনই হয়নি। এখন তারা ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভোট দিতে পারবেন।'
৩২৩ দিন আগে
মালয়েশিয়ার শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, বন্দর, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (১৩ আগস্ট) মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়।
অধ্যাপক ইউনূস সানওয়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা জেফ্রি চিয়াকে বিশেষভাবে বাংলাদেশের কারখানা শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কার করেছে, যা এখন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।’
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, আবাসন ও নির্মাণ খাতে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যেখানে নতুন বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নগরায়ন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও নতুন শহরবাসীর জন্য বাড়ি ও সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে বড় বিনিয়োগ দরকার।
অধ্যাপক ইউনূস সানওয়ে গ্রুপকে বাংলাদেশে হাসপাতাল স্থাপনের জন্যও উৎসাহিত করেন।
জেফ্রি চিয়া বলেন, তার প্রতিষ্ঠান অবশ্যই বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ খুঁজবে। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন। বর্তমানে হাজার হাজার বাংলাদেশি সানওয়ের নির্মাণ ও হাউজিং বিভাগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে পারে মালয়েশিয়ার ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস’ ভিসা
চিয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রশংসা করে জানান, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকে তিনি তাদের ছয় বছরের অনুমোদিত কর্মমেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন।
পৃথক এক বৈঠকে, মালয়েশিয়ার জাতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রোটন ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান এমএমসি করপোরেশন বেরহাদের মালিক—শীর্ষ শিল্পপতি সৈয়দ মোকতার আল-বুখারি বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু মুনাফার জন্য নয়, আমরা এটি করতে চাই বাংলাদেশের মানুষের জন্য।’
তিনি নদী উন্নয়ন ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করা প্রকল্পে দায়িত্বশীল পুনর্বাসনের গুরুত্বও উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাপক সংস্কার এনেছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সৌরশক্তি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণকে অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগ খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সৈয়দ মোকতার বাংলাদেশের সৌরশক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সৈয়দ মোকতার অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে ১৮ শতকের ভারতীয় ঔপনিবেশিক বিরোধী শাসক টিপু সুলতানের ওপর ২০ বছরের গবেষণা সংকলিত একটি বই উপহার দেন।
৩২৬ দিন আগে