বিজিবি
চোরাচালান, মাদকপাচার ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবিকে আরও কার্যকর হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির কাজের প্রশংসা করে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাহিনীটিকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাতকালে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনে বিজিবির উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে ৬ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৬ জন পুরুষকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিজিবির নওগাঁ ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রামদাসপুর সীমান্তের ২১৬ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শমসের নগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৬ জন পুরুষকে পুশ ইনের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবির রামদাসপুর বিওপির টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে তা মোকাবিলা করে। বর্তমানে ওই ৬ জন সীমান্তের শূন্য রেখায় ভারতীয় অংশে অবস্থানরত অবস্থায় রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পুশ ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে কড়া নজরদারি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
১২ দিন আগে
আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরাল বিজিবি
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতায় বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদের শূন্যরেখা থেকে আরাকান আর্মির কাছ থেকে জেলেদের গ্রহণ করে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কার্যক্রম চলছে। পরিচয় নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিজিবি জানায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে এসব জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় মিয়ানমারের আরাকান আর্মি তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
পরে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটক রাখা হয়। আটক জেলেদের পরিবারের উদ্বেগ ও মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখে।
এরই ধারাবাহিকতায় আটক জেলেদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেদের পরিবারের মধ্যে এ ঘটনায় স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
অবশিষ্ট আটক জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—বিজিবি মহাপরিচালকের এ ভিশন বাস্তবায়নে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবির এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
১৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তিনজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান। গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, মাধবখালী সীমান্তের ৭০/২-এস সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন গেট দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই মাধবখালী বিওপির টহল দলের নজরে পড়েন তারা।
পরে বিজিবি সদস্যরা শূন্যলাইন থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় ওই তিনজন সীমান্তের শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৪০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। সে সময় বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা ভারতের কাঁটাতারের কাছে ফিরে যান। পরে সকাল ৮টার দিকে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ৬৮/৫-এস সীমান্ত গেট খুলে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নকে জানানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৩০ দিন আগে
যশোরে বিজিবির পোশাক-সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩
যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামে এক চিহ্নিত দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। গতকাল (শনিবার) শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবিপুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়া এলাকার মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০), হরিশচন্দনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩২) এবং একই এলাকার মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৩০)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ষষ্ঠীতলা এলাকার রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ির তৃতীয় তলার পূর্ব পার্শ্বের ভাড়াটিয়ার বাসায় কয়েকজন দুস্কৃতিকারী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পরে বাড়ির মালিক, নিচতলার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের দরজায় কড়া নাড়া হয়। তখন ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি দরজা খোলেন এবং নিজেকে বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন।
পরে বাড়ির মালিকসহ ওই ঘরে প্রবেশ করে আরও দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকে নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। সে সময় তারা তর্কাতর্কি করে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন।
তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা বিজিবির সদস্য নন। তারা বিজিবির সরকারি পোশাক পরে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন।
পরে তাদের ঘর তল্লাশি করে উজ্জ্বল হোসেনের শোবার ঘরের খাটের নিচে একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক সেট বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি স্টিলের হ্যান্ডকাফ, দুটি ওয়াকিটকি, একটি স্টিলের চাইনিজ কুড়াল, দুটি স্টিলের কাটারি, একটি লোহা কাটার (গেন্ডার) মেশিন, একটি তালা কাটার মেশিন, একটি হ্যাকসো ব্লেড ও একটি নোস প্লাস জব্দ করা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি ও তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৩৬ দিন আগে
দেশে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়াবে বিজিবি
কুমিল্লার কোটবাড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। জব্দ করা এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।
৪২ দিন আগে
কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৮জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির বাধায় ওই ব্যক্তিরা নদীপথে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীন প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডি এলাকার জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা নদীপথে সাঁতার কেটে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ, চারজন নারী এবং দুজন ট্রান্সজেন্ডার ছিলেন।
বিজিবি আরও জানায়, বিজিবির টহল দল ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে দ্রুত সীমান্তে অবস্থান নেয় এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে বিএসএফের পুশ ইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কুষ্টিয়া বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
৪৬ দিন আগে
অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না, বৈধ বাংলাদেশিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশ বরদাশত করবে না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা পাঠানো হলে জাতীয়তা যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের শহিদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’-এর অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্ক অবস্থানে আমরা প্রতিটি পুশ-ইন সফলভাবে প্রতিহত করেছি।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী পাঠানো হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।
জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও সীমান্ত সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিজিবির প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
৫০ দিন আগে
পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ‘আলো নিভিয়ে’ ৩ নারীকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ৩ ভারতীয় নারীকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনার পর সীমান্তে টহল আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করেছে বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ৩ নারীকে বিএসএফ ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় প্রধান পিলার ৮৩৪-এর ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে দেয় বিএসএফ। এ সময় পুশইনের জন্য আনা ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাহিনীটি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই তিনজনকে পুনরায় ভারতের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়। এতে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় প্রায় ২২ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন তারা।
ঘটনার পর গতকাল দুপুর ১টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খড়খড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন এবং ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন অংশ নেন।
৫৮ দিন আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম রবিবার (১২ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা দুর্গত মানুষের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা প্রদান করছেন।
এছাড়া বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বাহিনীটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।
৫৮ দিন আগে