চাদ
চাদে পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪২
উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের পূর্বাঞ্চলে পানি ব্যবহারের একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সুদান সীমান্তের কাছে ওয়াদি ফিরা প্রদেশের ইগোটে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত। আহতদের প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাহামাত বলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওই দুই পক্ষ এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে তারা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছে এবং এখন পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
গ্রামটিতে একটি প্রচলিত ‘মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া’ শুরু এবং অপরাধমূলক দায় নির্ধারণে বিচারিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী।
মধ্য আফ্রিকার এই দেশে সম্পদ নিয়ে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। গত বছর দক্ষিণ-পশ্চিম চাদে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪২ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার সময় বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মাহামাত বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।
চাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো কয়েক মাস ধরে সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে তাদের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে চাদে আশ্রয় নিচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ সুদানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় চাদ। তারা মনে করে, যুদ্ধরত সুদানি পক্ষগুলোর যোদ্ধারা একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করায় সংঘাত তাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের যুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়েছে এবং সুদানের কিছু অংশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
চাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৬০
চাদের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির দুটি বড় শহরে বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়। বিষয়টি সরকারের এক মুখপাত্র ও মর্গের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে অন্তর্বর্তী নেতা মহামত ইদ্রিস দেবির ক্ষমতার দুই বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট এই সহিংসতার পরে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করে।
চাদ সরকারের মুখপাত্র আজিজ মহামত সালেহ বলেন, রাজধানী এনজামেনায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই সংখ্যা ৪০ হবে।
শহরের মর্গের একজন কর্মকর্তা জানান, চাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাউন্ডুতে আরও ৩২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় কারফিউ উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত
অন্যান্য বিক্ষোভ দেশটির ডোবা ও সারাহ শহরে সংঘটিত হয়।
তিন দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর দেবির বাবার হত্যাকাণ্ডের পর তিনি গত বছর দায়িত্ব নেন। সেসময় থেকে এটিই হচ্ছে বড় আকারের মারাত্মক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি ইতনো ২০২১ সালের এপ্রিলে দেশটির উত্তরাঞ্চলে যুদ্ধক্ষেত্রে চাদ সেনাদের সঙ্গে দেখা করার সময় বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।
এনজামেনার প্রধান হাসপাতালে, বন্দুকের গুলিতে আহত অনেক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে হিমিশিম খেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে লিবার্টি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন: কাজাখস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ১৬৪
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, বিক্ষোভকারীরা এনজামেনার রাজধানী জুড়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত ৩ টার দিকে জড়ো হতে থাকে। পুলিশ ভিড় লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়লেও বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে আসতে থাকে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখনই নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়, বিক্ষোভকারীরা কাঁদানে গ্যাসের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে মৃতদের জড়ো করতে লড়াই করে।
নিহতদের মধ্যে একজন চাদ সাংবাদিক নার্সিস ওরেজে আছেন। যিনি সিইএফওড রেডিওতে কাজ করতেন এবং এক বুলেট আঘাতে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত ১, আহত ১৩
১২৮৪ দিন আগে