কর্মী ছাঁটাই
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিউজিল্যান্ড সরকারের, চাকরি হারাতে পারেন ৯ হাজার কর্মী
সরকারি ব্যয় কমাতে নিউজিল্যান্ড সরকার আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে ১৪ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) নিউজিল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস এ ঘোষণা দেন।
উইলিস জানান, সরকারি সংস্থাগুলোতে এখন থেকে টানা ৩ বছর বাজেট কমিয়ে দেবে নিউজিল্যান্ড সরকার। এর আওতায় সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছেন তারা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির পুরো সরকারি খাতে দ্রুত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেবে সরকার।
নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ডে এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে উইলিস বলেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাশ্রয় হবে।
তিনি জানান, রাজধানী ওয়েলিংটনে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৭০০ জন। এই সংখ্যা কমিয়ে ৫৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ ৮ হাজার ৭০০ জন সরকারি চাকরিজীবী ছাঁটাই করা হবে।
উইলিস বলেন, এর ফলে নিউজিল্যান্ডের ৫৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে সরকারি কর্মচারীর হার ১ শতাংশে নেমে আসবে। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে সরকারি কর্মচারীর হার ১ দশমিক ২ শতাংশ।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে এত বেশি সংখ্যক সরকারি কর্মীর ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব না। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এত বেশি সরকারি কর্মী নেই। তবে সামরিক বাহিনী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের সরকারি চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে না বলে জানান তিনি।
এছাড়া, এই ছাঁটাই কার্যক্রমের আওতায় ৩৯টি সরকারি বিভাগ ও সংস্থার সংখ্যাও কমিয়ে আনা হবে। এর ফলে কোন বিভাগ ও সংস্থাগুলো বাদ পড়বে, তা অবশ্য তিনি উল্লেখ করেননি। তবে এই কার্যক্রম এখনই শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উইলিস। তবে ভবিষ্যতে কারা চাকরি হারাতে পারেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানাননি তিনি।
নিউজিল্যান্ডে ২০২৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন ক্রিস্টোফার লাক্সনের মধ্য-ডানপন্থি সরকার। এর আগে, লাক্সন সরকার তার নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি খাত ছোট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিকে, আগামী নভেম্বরে দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স বলেন, সম্মুখ সারির সরকারি চকিরিজীবীদের ছাঁটাইয়ের বাইরে রেখে এত বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী ছাঁটাই করা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়।
হাজারো সরকারি কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের মুখপাত্র ডুয়েন লিও বলেন, সরকারের এমন পদক্ষেপ ধ্বংসাত্মক।
এদিকে ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার দাবি করেছে, এর আগে মধ্য-বামপন্থি লেবার সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় লেবার সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা ৪৮ হাজার থেকে বেড়ে ৬৩ হাজারে পৌঁছায়।
উইলিস আরও জানান, মে মাসের শেষ দিকে ঘোষিত সরকারি বাজেটে সরকারি সংস্থাগুলোর বরাদ্দ ২ শতাংশ কমানো হবে। সরকার সামনের নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হলে পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ করে বাজেট কমানো হবে।
তিনি উল্লেখ বলেন, নিউজিল্যান্ডে সরকারি খাত এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। তাই সরকারি সংস্থাগুলোতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি চলছে। এরই মধ্যে সরকারি খাতে এই কাটছাটের ঘোষণা এলো।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুদ্ধার করার প্রমাণ দেখাতে চাইছেন। এ সময় তিনি নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভালো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
মঙ্গলবার লাক্সন বলেন, নিউজিল্যান্ডে সরকারি খাতে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। এ সময় সরকারি চাকরি কোনো কর্মসংস্থান তৈরির প্রকল্প নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৮ দিন আগে
৪ শতাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের নোটিশ বোয়িংয়ের
প্রফেশনাল অ্যারোস্পেস লেবার ইউনিয়নের ৪০০-এর বেশি সদস্যকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাঠিয়েছে বোয়িং।
সিয়াটল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সোসাইটি অব প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমপ্লয়িজ ইন অ্যারোস্পেস বা এসপিইইএ'র সদস্যদের কাছে গোলাপি স্লিপগুলো পাঠানো হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শ্রমিকরা বেতনভুক্ত থাকবেন।
অক্টোবরে বোয়িং ঘোষণা দিয়েছিল, আগামীতে ১০ শতাংশ এবং প্রায় ১৭ হাজার কর্মী চাকরি ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি।
সিইও কেলি অর্টবার্গ কর্মীদের বলেন, ‘আমাদের আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য কর্মী স্তরগুলো পুনরায় সাজাতে হবে।’
এসপিইইএ ইউনিয়ন জানিয়েছে, ৪৩৮ জন সদস্যকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ইউনিয়নের স্থানীয় শাখায় ১৭ হাজার বোয়িং কর্মী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ওয়াশিংটন রাজ্যে অবস্থান করছেন। তবে কিছু কর্মী ওরেগন, ক্যালিফোর্নিয়া ও উটাহতে অবস্থান করছেন।
৪৩৮ জন কর্মীর মধ্যে ২১৮ জন এসপিইইএর পেশাদার ইউনিটের সদস্য। এর মধ্যে প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা রয়েছেন। বাকিরা কারিগরি ইউনিটের সদস্য। এর মধ্যে বিশ্লেষক, পরিকল্পনাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ ব্যবসায়ী রয়েছেন।
যোগ্য কর্মীরা ক্যারিয়ার ট্রানজিশন সেবাসমূহ এবং তিন মাস পর্যন্ত ভর্তুকিসহ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন। কর্মীরা সেভারেন্স প্যাকেজ হিসেবে প্রতি বছরের পরিষেবার জন্য প্রায় এক সপ্তাহের বেতন পাবেন।
বোয়িংয়ের ইউনিয়নভুক্ত মেশিনিস্টরা ধর্মঘটের পরে এই মাসের শুরুতে কাজে ফিরতে শুরু করেছিলেন।
এই ধর্মঘট বোয়িংয়ের আর্থিক অবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করে।
ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত বোয়িং আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। উৎপাদন হার অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ৭৩৭ ম্যাক্সের উৎপাদন প্রতি মাসে ৩৮টি বিমান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করেছে। এটি এখনও পূর্ণ করতে পারেনি বোয়িং।
৫৫৬ দিন আগে
পোকেমন গো’র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়ানটিক এক-চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে
পোকেমন গো ভিডিও গেমের নির্মাতা কোম্পানি নিয়ান্টিক ইনকরপোরেটেড জানিয়েছে, মহামারি চলাকালীন সময়ে ডাউনলোড বেড়ে যাওয়ার পরবর্তী সময়ে গেমিং শিল্পে চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা তাদের এক চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে।
কোম্পানিটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এর স্টুডিও-ও বন্ধ করবে এবং দুটি গেম বাতিল করবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিয়ান্টিকের প্রধান নির্বাহী জন হ্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্যয়কে রাজস্বের চেয়ে দ্রুত বাড়তে দিয়েছি।’
পোকেমন গো ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পরে এটি বিশ্বব্যাপী আলোচনা ও আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সে সময় প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছিল যে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) গেমটি এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোডে অ্যাপ স্টোরের রেকর্ড ভেঙেছিল।
আরও পড়ুন: গুগল স্ট্রিমিং গেম পরিষেবা বন্ধ করবে আগামী জানুয়ারিতে
হ্যাঙ্ক বলেন, ‘শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো পোকেমন গো-কে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং চিরদিনের জন্য একটি গেম হিসেবে এগিয়ে নেওয়া।’
তিনি আরও বলেন যে গেমটি চালু করার পর স্মার্টফোন মার্কেটে বেশ ভিড় বেড়েছে, তাছাড়া অ্যাপ স্টোর ও বিজ্ঞাপনের পরিবর্তনের কারণে বড় পরিসরে নতুন গেম ছাড়া এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ছাঁটাইয়ের ফলে নিয়ান্টিকের গেম প্ল্যাটটফর্ম টিমসহ মোট ২৩০ জন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কোম্পানিটি এর এনবিএ অল-ওয়ার্ল্ড গেমটিও বাতিল করবে, যা জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর মার্ভেল ওয়ার্ল্ড অব হিরোস শিরোনামের গেমের বাজারজাত বন্ধ করবে।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন: পোকেমনে আর দেখা যাবে না অ্যাশ-পিকাচুর বন্ধুত্ব
ইন্টারেক্টিভ গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘হাসিনা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ উদ্বোধন করলেন পলক
১০৬২ দিন আগে
আরও ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে অ্যামাজন
অনলাইন রিটেইল জায়ান্ট অ্যামাজন খরচ বাঁচাতে আরও ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করেছে।
বিশ্বব্যাপী ১৫ লাখ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্লাউড কম্পিউটিং ও বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ছাঁটাই কমবে।
এতে কোন কোন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা না বললেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উক্ত পদগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ডি জেসি বলেছেন যে এটি একটি ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’, তবে এতে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির জন্য সেরাটাই হবে।
আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ার রাস্তায় রোবোট্যাক্সির সফল পরীক্ষা চালাল অ্যামাজনের জুক্স
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে যে কোম্পানিটি ইতোমধ্যে জানুয়ারিতে ১৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।
জেসি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যামাজনের ব্যবসার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ‘ভূমিকা’ যোগ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যাইহোক, আমরা যে অনিশ্চিত অর্থনীতিতে বাস করি এবং নিকট ভবিষ্যতে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার কারণে আমরা আমাদের ব্যয় ও হেডকাউন্টে আরও সুশৃঙ্খল হতে বেঁছে নিয়েছি।’
অনেক প্রযুক্তি জায়ান্টের মতো অ্যামাজনও মহামারির সময় বিক্রয় বৃদ্ধি দেখেছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের কারণে ভোক্তারা কম ব্যয় করায় সম্প্রতি এর বিক্রয় হ্রাস পেয়েছে।
আরও পড়ুন: অ্যামাজন প্রাইমে বাংলাদেশের সিনেমা
১১৬৩ দিন আগে
১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট
মাইক্রোসফট ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে পাঁচ শতাংশ জনবল কমাচ্ছে। ছাঁটাই হওয়ারা অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৩) কোম্পানিটি একটি নিয়ন্ত্রক ফাইলিংয়ে বলেছে, ‘খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থা এবং গ্রাহকদের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করার’ প্রতিক্রিয়ায় ছাঁটাই করা হয়েছিল।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সফটওয়্যার জায়ান্ট রেডমন্ড বলেছে যে এটি তার হার্ডওয়্যার পোর্টফোলিওতে পরিবর্তন আনবে এবং এর চুক্তিভিত্তিক অফিসগুলোকে একত্রিত করবে।
মাইক্রোসফট কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে নেয়া কর্মীর তুলনায় অনেক কম ছাঁটাই করেছে, কারণ এটি তার কর্মক্ষেত্রের সফটওয়্যার এবং ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবাগুলোর চাহিদা বৃদ্ধিতে সাড়া দিয়েছে যাতে অনেক লোক বাড়ি থেকে কাজ করে এবং পড়াশোনা করে।
ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির ফিন্যান্স প্রফেসর জোশুয়া হোয়াইট বলেন, ‘এর একটা বড় অংশ হল নিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যধিক উৎফুল্লতা।’
মহামারি শুরুর পর মাইক্রোসফটের কর্মশক্তি প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২০ সালের জুনের শেষে এক লাখ ৬৩ হাজার কর্মী থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালের জুনে দুই লাখ ২১ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
সিইও সত্য নাদেলা কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি ইমেলে বলেছেন, ছাঁটাইগুলো ‘আমাদের মোট মূল কর্মচারী পাঁচ শতাংশেরও কম প্রতিনিধিত্ব করে, আজ কিছু বিজ্ঞপ্তি এসেছে।’
নাদেলা বলেন, ‘যদিও আমরা কিছু ক্ষেত্রে ভূমিকা বাদ দিচ্ছি, আমরা মূল কৌশলগত এলাকায় নিয়োগ অব্যাহত রাখব।’
তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি ব্যবহার করে একটি ‘নতুন কম্পিউটার প্ল্যাটফর্ম’ নির্মাণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: গুগল-মাইক্রোসফটের মুনাফায় মন্থর গতি
তিনি বলেছিলেন যে গ্রাহকরা মহামারি চলাকালীন ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের ব্যয়কে ত্বরান্বিত করেছিল তারা এখন ‘কম দিয়ে আরও বেশি করার জন্য তাদের ডিজিটাল ব্যয় অপ্টিমাইজ করার’ চেষ্টা করছে।
নাদেলা লিখেছেন, ‘আমরা প্রতিটি শিল্পে সংস্থাগুলোকেও দেখছি এবং ভূগোল সতর্কতা অবলম্বন করছি। কারণ বিশ্বের কিছু অংশ মন্দার মধ্যে রয়েছে এবং অন্যান্য অংশগুলো একটির প্রত্যাশা করছে।’
অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও অর্থনৈতিক মন্দার উদ্বেগের মধ্যে চাকরি থেকে কর্মীদের ছাঁটাই করছে।
মাইক্রোসফট জনবল ছাঁটাই এবং অফিস বন্ধ করে কোথায় কেন্দ্রীভূত হবে সে সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছে।
বুধবার সংস্থাটি ওয়াশিংটন রাজ্যের কর্মসংস্থান কর্মকর্তাদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে যে এটি রেডমন্ড এবং নিকটবর্তী শহর বেলভিউ এবং ইসাকাহের অফিসে ৮৭৮ জন কর্মী ছাঁটাই করছে।
জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ২২ হাজার এবং অন্যত্র ৯৯ হাজার কর্মী ছিল।
ভ্যান্ডারবিল্টের অধ্যাপক হোয়াইট বলেছেন যে সমস্ত শিল্প সম্ভাব্য মন্দার আগে খরচ কমাতে চাইছে। তবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো সুদের হারের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হতে পারে। যা এমন একটি হাতিয়ার যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে মোকাবিলায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘এটি কারিগরি সংস্থাগুলোকে শিল্প বা ভোক্তা প্রধানদের তুলনায় একটু বেশি আঘাত করে। কারণ মাইক্রোসফটের মূল্যের একটি বিশাল অংশ নগদ প্রবাহসহ প্রকল্পগুলোতে রয়েছে যা কয়েক বছর ধরে পরিশোধ করবে না।’
সম্প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাইক্রোসফট এর সান ফ্রান্সিসকো প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ওপেনএআই লেখার টুল চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য এআই সিস্টেমের নির্মাতা যা পাঠযোগ্য লেখা, ছবি এবং কম্পিউটার কোড তৈরি করতে পারে।
মাইক্রোসফট এক্সবক্স গেম ব্যবসার মালিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। তার পরিকল্পিত ৬৮ দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ভিডিও গেম কোম্পানি অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ডের নিয়ন্ত্রণ বিলম্বিত করেছে, যার এক বছর আগে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কর্মী ছিল।
আরও পড়ুন: মাইক্রোসফটের উদ্ভাবন কার্যক্রম পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রী পলকের
১২২৪ দিন আগে
টুইটারের ৭৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ইলন মাস্কের
ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের মালিক হলে কোম্পানিটির বেশিরভাগ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছেন তিনি। বিষয়টি বৃহস্পতিবার মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ইলন মাস্ক যে টুইটার কিনে নেয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন, সে প্রক্রিয়ায় বেশকিছু বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমটির সাত হাজার ৫০০ কর্মীর প্রায় ৭৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনার কথা জানান। এ বিষয়টিকে কোম্পানিটির শুধু কঙ্কাল রেখে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। সংবাদপত্রটি কিছু নথি ও নাম না প্রকাশ করা সূত্রের উদ্ধৃতি টেনে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে।
টুইটার এবং মাস্কের প্রতিনিধি হিসেবে অ্যাটর্নি অ্যালেক্স স্পিরোর কাছে জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যদিও কোম্পানিটির হাতবদলে কর্মী ছাঁটাই অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে মাস্কের ভাবনা টুইটারের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি চরম। মাস্ক নিজেই পূর্বে কোম্পানির কিছু কর্মীকে বাদ দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা বলেননি, অন্তত প্রকাশ্যে নয়।
পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগবিষয়ক সংস্থা ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজ এর একজন বিশ্লেষক ড্যান আইভেস বলেন যে সহজভাবে বললে, ৭৫ শতাংশ জনবল ছাঁটাই করলে অর্থের প্রবাহ সহজতর হবে এবং এতে লাভ বৃদ্ধি পাবে। যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের জন্য মার্কিন তহবিল চেয়েছেন ইলন মাস্ক
তবে আইভেস বলেন যে টুইটারের জনবলে এতো ঘাটতি কোম্পানিটিকে বেশ কয়েকবছর পিছিয়ে নেবে।
ইতোমধ্যেই বিশেষজ্ঞরা কন্টেন্টে পরিবর্তন ও তথ্য নিরাপত্তায় বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনলে টুইটার ও এর ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাস্ক যতটা কঠোরভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে এতে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত ক্ষতির মুখোমুখি হবে।
এপ্রিলে টুইটার কিনে নেয়ার জন্য চার হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিলেও মাস্ক পরবর্তীতে মাধ্যমটিতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট না সরানোর অভিযোগ তুলে তা থেকে সরে আসে। তবে এ মাসে আবার তিনি প্রস্তাবে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন: ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নিচ্ছেন ইলন মাস্ক
টেসলার রোবট ‘অপটিমাস’ দেখালেন ইলন মাস্ক
১৩১৪ দিন আগে