জাপান সফর
জাপানের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি: হুমায়ুন কবির
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশ বা বঙ্গোপসাগর নিয়ে কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, যৌথ বিবৃতিতে তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই। এখানে বঙ্গোপসাগরেরও কোনো উল্লেখ নেই। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করে বিগ-বি ধারণাকে আঞ্চলিক শিল্প সরবরাহব্যবস্থায় সম্প্রসারণ করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম।
আঞ্চলিক উদ্যোগে অন্য দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে। একইভাবে আমাদেরও তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, জাপান থেকে এলএনজি আমদানি করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্মিনালটি পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশও এ ধরনের একটি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ কারণে টার্মিনালটির নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনাপদ্ধতি সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের এলএনজি টার্মিনাল একটি পরীক্ষিত উদাহরণ। তাই সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল, টার্মিনালটি দেখতে কেমন, তারা কীভাবে এটি তৈরি করেছে এবং এটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখা। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের জন্য একটি ধারণা পেতে চেয়েছি।
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত জাপানি অর্থনৈতিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ বৈঠকের পর শিগগিরই মিশন পাঠানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা যেখানেই যাই না কেন, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয়—এটি আমাদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও বিনিয়োগনির্ভর একটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তে থাকা ঝুঁকি, প্রযুক্তির দ্রুত উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জাপান বিগ-বি ধারণাকে ‘সমৃদ্ধির অংশীদারত্বের জন্য বিগ-বি’ (বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি) নামে নতুন রূপ দিতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অংশীদারত্বের আওতায় এটিকে ‘কৌশলগত সহযোগিতা’ উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।
গত ২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা ‘জাপান-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় জাপান হালনাগাদ ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ (ফ্রিপ অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক—এফওআইপি) রূপকল্পের আওতায় বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার দৃঢ়তাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। পাশাপাশি ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে জাপান আগ্রহী। এছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন সানায়ে তাকাইচি।
৬ দিন আগে
স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম যাত্রীবাহী গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী
জাপানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কোম্পানিটির নির্মিত প্রথম যাত্রীবাহী গাড়িতে বসেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী কারখানাটি পরিদর্শনে যান।
এ সময় টয়োটার কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে ঐতিহাসিক গাড়িটিতে বসার আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান এ সুযোগ গ্রহণ।
টয়োটা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ ‘টয়োটা এ১’ তৈরি করা হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। পরের বছর ১৯৩৬ সালে টয়োটা তাদের প্রথম যাত্রীবাহী গাড়ি ‘টয়োটা এএ’ তৈরি করে।
ঐতিহাসিক গাড়িটির একটি প্রতিরূপ জাপানের টয়োটা অটোমোবাইল জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেন।
৭ দিন আগে
টোকিওতে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটির কারণে চার ঘণ্টা ৪৪ মিনিট বিলম্বের পর টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাপানে তার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হলো।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় উড়োজাহাজটি।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় উড়োজাহাজটির টোকিও ছাড়ার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে এটি উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে এগিয়ে যায়। এরপর উড্ডয়নের আগে উড়োজাহাজটি থেমে যায়।
প্রায় ১৫ মিনিট পর ক্যাপ্টেন মো. ইমামুল ইসলাম ঘোষণা দেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গী দলের অন্য সদস্যরা উড়োজাহাজটিতে ছিলেন।
পরে উড়োজাহাজটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দুই প্রকৌশলী ত্রুটি সারানোর কাজ করার সময় সব যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ক্যাপ্টেন আবার ঘোষণা দেন, সমস্যাটি মেরামত করতে আরও আড়াই ঘণ্টা লাগবে। পরে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে এবং শিগগিরই আবার বোর্ডিং শুরু হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফ্লাইট বিলম্বের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে টোকিও বিমানবন্দরে তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে। সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে।
এ সময় উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের জন্য নিরাপদ বলেও জানান মন্ত্রী।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছান তারেক রহমান।
সফরকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করে।
প্রধানমন্ত্রী জাপানের বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তাদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন এবং জাপানি কোম্পানিগুলোকে এ দেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
সফরকালে উপকূলীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ পরিবেশ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল সই হয়।
এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দুই দেশ মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ঋণ প্রকল্পে সম্মত হয়।
জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থায় (জেটরো) বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান
বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন সে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আকাজাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত সহযোগিতার বিভিন্ন খাত এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান আগ্রহকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
৮ দিন আগে
জ্বালানি, রেল, প্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ এবং দ্রুতগতির রেল ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সহায়তা ও সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইয়ের পর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া উচিত। এ ধরনের চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে এটিই বাংলাদেশের প্রথম অভিজ্ঞতা।
জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জেটরো ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন জেটরোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা।
অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের বাজারে ১৮ কোটির বেশি মানুষ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশই তরুণ এবং জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ২৭ বছর।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সই হওয়া ইপিএর আওতায় বাংলাদেশের সাত হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে জানান তারেক রহমান। অন্যদিকে ইস্পাত, অটোমোবাইলের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, দুই দেশের বিনিয়োগকারীরাই বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি চালু হওয়া সহজ ও উন্নত নিয়মের সুবিধা পাবেন।
জাপানের অটোমোবাইল নির্মাতা, বড় খুচরা বিক্রেতা, কৃষিযন্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেক কোম্পানি আড়াইহাজারে জাপানিজ ইকোনমিক জোনে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।
তিনি আরও বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো তিনটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে—নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য শুল্ক ছাড়করণ ও করব্যবস্থা। সরকার ইতোমধ্যে এসব উদ্বেগের কিছু সমাধান করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বুঝি, ব্যবসার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা দরকার। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের কাজ।’
এ উদ্যোগে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করাই দেশের লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করলে আপনারা শুধু বড় ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগই পাবেন না, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য উৎপাদনের দক্ষ উপাদানগুলোর সুবিধাও নিতে পারবেন।’
৮ দিন আগে
জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বড় পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন ও আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারেক রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য শিগগিরই বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। তার পর থেকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতেও দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছে।
তিনি তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাপান সফর এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তারেক রহমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সম্প্রতি দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তি ও অবকাঠামো
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তারেক রহমান।
এ পার্কের মাধ্যমে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের সংযোগ স্থাপনের কথা বলেন তিনি।
প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণসহ আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এসব বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা চান তিনি। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে তার সরকার বিধিবিধান, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও কার্যকর করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চুক্তিটির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়
আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের বহুপক্ষীয়তা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বহুপক্ষীয়তা জোরদার ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য টোকিওর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব
সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এ শীর্ষ বৈঠক বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই দেশের অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করা, বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান।
পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কানতেইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনার প্রদান এবং দুই নেতার নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
৯ দিন আগে
আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসব খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মারুবেনি করপোরেশন ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
এ সময় কাকিনোকি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দুই দেশের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।
কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে আরেকটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।
সেই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) উন্নয়নে জেবিসিসিইসি ও মারুবেনি করপোরেশনের সহায়তা চান তিনি।
১০ দিন আগে
বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী
জাপানের কাছে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন দেশটির আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ সহযোগিতা চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (জেবিপিএফএল) প্রতিনিধিদলটি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জেবিপিএফএলের নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান।
২০০৬ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের সময় তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তারো আসো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে তারো আসোর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করতেও সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
১০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রদূত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত জাপান সফরের আগে ঢাকায় ফিরেছেন সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
অন্যদিকে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সমন্বয় করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলামকে টোকিওতে পাঠানো হয়েছে।
ড. নজরুল টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে। আর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এ পদক্ষেপকে অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আপাতদৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে দাউদ আলী দূরে থাকছেন।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দাউদ আলী। এর আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা দাউদ আলী কূটনৈতিক জীবনে টোকিও, প্রিটোরিয়া ও লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বিভিন্ন অনুবিভাগে একাধিক পদে কাজ তিনি করেছেন।
দাউদ আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
১৪ দিন আগে
সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-জাপান, টোকিওতে বৈঠকে বসছেন দুই প্রধানমন্ত্রী
‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
চার দিনের আসন্ন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অন্যদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে সমন্বয়ও বাড়বে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতির মিল রয়েছে।
এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে অথবা নতুন কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানাতে পারে।
সূত্রটি আরও বলে, চ্যালেঞ্জিং সময়েও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং এ বাজার থেকে সরে যায়নি।
কয়েকটি কোম্পানি সফরকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, সফরের সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে।
সফরের সময় এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম এবং চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাপান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি।
গত এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি-সংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা তা সমাধান করা সম্ভব নয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনলাইনে ওই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবার এ সফরের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও সিয়াম আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বাড়বে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই নেতা বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সিয়াম।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
সিয়াম বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলছে।
এ সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব।
বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার জন্য আসন্ন সফরকে সময়োপযোগী সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের চিবা প্রিফেকচারের কাৎসুরা শহরে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লো সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
১৬ দিন আগে