আমদানি
খৈলের চালানে ‘অন্য পণ্য আমদানি’, বেনাপোল বন্দরে আনসার সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সরিষার খৈলের চালানের মধ্যে অন্য পণ্য আমদানি এবং অবৈধভাবে অপসারণ ও আত্মসাতের অভিযোগে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল পোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া।
মামলায় ৩ আনসার সদস্য, ৪ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ভারত থেকে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ২৫ জুন ট্রাকটি কেমিক্যাল জোনে অবস্থানকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে অবৈধভাবে ৪০ প্যাকেট পণ্য স্থানান্তর করা হয়। পরে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দশ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
১২ দিন আগে
৭ দিন পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
টানা ৭ দিন ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আবারও শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সকাল থেকে বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজে যোগদান করেছেন। ফলে বন্দরে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
এর আগে, গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন ঈদের ছুটিতে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। তবে এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লম্বা ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট। আজ (সোমবার) সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় পণ্যজট কমতে শুরু করবে বলে জানান তিনি।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারত থেকে ৩৯ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ১৩ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এ সময় কোনো পণ্য আমদানি হয়নি ভারত থেকে। আজ ছুটি শেষে আবারও দু-দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছুটিতে গিয়েছিলেন সবাই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস নিতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩৮ দিন আগে
আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিসটিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’
বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআই-ভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ শৃঙ্খল) পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপ আরও কার্যকর, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটিও চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া, কোরবানি-পরবর্তী সাত দিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং বস্ত্র ও পাট সচিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬৬ দিন আগে
১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার, মূল্য নির্ধারণ
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এরমধ্যে ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ৫ লাখ টন ধান ও এক লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ মেয়াদে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকিউরমেন্টের জন্য ধান ও চাল সংগ্রহ এবং গম সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের চাহিদার বিপরীতে কী এবং আমাদের লক্ষ্যমাত্রা কী এবং আমরা কী পরিমাণ মজুদ রাখব, কী পরিমাণ নিরাপত্তা মজুদ এবং কী পরিমাণ আমদানি করব—এগুলো এবং তার মূল্য নির্ধারণ, এ সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বোরো ধান ক্রয়ের জন্য আমরা কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দাম নির্ধারণ করেছি, যেটা পূর্বের দাম অর্থাৎ আগে যেভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল তেমনই। সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ৪৯ টাকা কেজি প্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটাও আগের মতো। আতপ চালের ক্ষেত্রেও তাই, ৪৮ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া গমের কেজি প্রতি আমরা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছি ৩৬ টাকা।
বোরো ধান, চাল ও গম কেনার লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চলতি বছরে বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন, সেদ্ধ চাল ১২ লাখ টন, আতপ চাল ১ লাখ টন ও গম ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩ মে থেকে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
গম সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে গমের ক্ষেত্রে আমরা প্রকিউরমেন্টটা কখনও সফলভাবে এখানে করতে পারি না। কারণ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টনের মতো হলেও কৃষকরা সাধারণত সরকারের কাছে গম বিক্রি করতে আগ্রহী হন না। দেশের মোট গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন, যার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গমের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনটা বাদ দিলে এই প্রায় ৭০-৭২ লাখ টনই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে সরকার ৮ লাখ টনের মতো আমদানি করে, সেটা সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) এবং কোনো কোনো সময় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের ১৭-১৮ লাখ টন চাল মজুদ আছে। এর বাইরেও আমরা এ বছর আরও বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করব বলে আশা করছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বোধ হয় ২৪-২৫ লাখ টন। সে হিসেবে আমাদের এখন মজুদ আছে ১৭-১৮ লাখ টন। এখন আমরা ৫ লাখ টন এই বোরো মৌসুমে প্রকিউর করব এবং সেটা চাহিদা অনুসারে, সময় অনুসারে, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুসারে আমরা সেটা বৃদ্ধি করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।
৭৮ দিন আগে
আমদানির বর্ধিত সময়ে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ১২৫৯ টন চাল
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সরকারঘোষিত বর্ধিত মেয়াদের ৪০ দিনের মধ্যে তিন কার্যদিবসে ৬টি চালানে মোট ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। সরকারঘোষিত বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর আমদানি করা এসব চালের চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
গত ১১ মার্চ থেকে সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ কার্য দিবসে এ চাল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
এসব চালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ও লাইবা ওভারসিস। আমদানি করা চাল বন্দর থেকে ছাড়করণের জন্য কাজ করেছে মেসার্স রাতুল ইন্টারন্যাশনাল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চাল আমদানির পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় এবং দেশের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার পুনরায় চাল আমদানির সময় বাড়ায়। গত ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪০ দিন এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে মাত্র ৩ দিনে ৬টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৫ হাজার ৫ টন।
ওই সময়ে গত ১৮ জানুয়ারি ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে চাল আমদানি ফলপ্রসূ না হওয়ায় পুনরায় ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ৪০ দিন সময় বৃদ্ধি করে। এবারও চাল আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে সোমবার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সময় বৃদ্ধির আর কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন বলেন, বর্ধিত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র তিন দিনে ভারত থেকে ৩৪ ট্রাকে ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, আমদানিকৃত চালের চালানগুলো বন্দর থেকে ইতোমধ্যে খালাস নেওয়া হয়েছে।
৭৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৬২ হাজার টন গম চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২ হাজার ১৫০ টন গম নিয়ে ‘এমভি উবন ন্যারী’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আলোকে নগদ ক্রয় চুক্তি জিটুজি-৩-এর অধীনে এ গম আমদানি করা হয়েছে। এর আগে, একই চুক্তির আওতায় প্রথম শিপমেন্টর মাধ্যমে ৫৮ হাজার ৪৫৭ টন গম দেশে পৌঁছায়।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাহাজের ৬২ হাজার ১৫০ টন গমের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯০ টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২৪ হাজার ৮৬০ টন গম মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকার টু সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি টু জি-১ এবং ২-এর আওতায় আমদানিকৃত সকল গম দেশে পৌঁছেছে।
এর আগে, জি টু জি-১-এর আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টন এবং জি টু জি-২-এর আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ টন মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ টন গম দেশে এসেছে।
উল্লেখ্য, দেশে মোট গমের চাহিদা আনুমানিক ৭০ লাখ টন। দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ টন। চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অবশিষ্ট গম বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
১০৪ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে পোলট্রি মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
খবরে বলা হয়েছে, এই ৪০ দেশের মধ্যে কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০০৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি দেশকে নতুন করে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো
মুরগি ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধের সৌদি তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনিগ্রো থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি করবে না সৌদি আরব।
আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব দেশ
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও কঙ্গোর নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য বা শহরে আংশিক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকেই এসব পণ্য উৎপাদিত হতে হবে।
বছরে ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে সৌদি আরব। ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্দান, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি ডিম আমদানি করে থাকে দেশটি। আর মুরগির মাংসের চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ হয় সৌদি আরবের নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা থেকে। বাকিটা আমদানি হয় মূলত ব্রাজিল থেকে।
১৩৪ দিন আগে
বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকেছে ২১০০ টন ভারতীয় চাল
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ৬ দিনে ১৫টি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ২ হাজার ১০০ টন (নন বাসমতি) মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা চালের এসব চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব চাল আমদানি করেছে। আর আমদানি করা চাল ছাড়করণের কাজ করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মের্সাস ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে ১৫টি চালানের মাধ্যমে ২ হাজার ১০০ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ১২৮ টন। এরপর চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি ২৩২ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে আমদানি করা চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।
হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ জানান, ভারত থেকে ৬ দিনে ৫৮টি ট্রাকে ২ হাজার ১০০ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আমদানি খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, আমদানি করা চাল দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৪২ দিন আগে
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা–২০২৬ ঘিরে উদ্বেগ
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা–২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বাণিজ্যিক খামারে এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে পোল্ট্রি শিল্পে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সক্ষমতা যাচাই ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পোল্ট্রি শিল্পের অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা তীব্র চাপে পড়বেন। একইসঙ্গে বাজারে গুটিকয়েক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট তৈরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
পোল্ট্রি শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া নীতিমালাটি হুবহু বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৬০–৭০ হাজার কোটি টাকার এই শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিম ও মুরগির মাংসের দাম বেড়ে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে স্বনির্ভর করতে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমানোই নীতিমালাটির মূল লক্ষ্য। তবে খামারিদের দাবি, বাস্তবতায় সেই সক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া আমদানি বন্ধ করা হলে বাজারে তীব্র বাচ্চা সংকট তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে দেশে এক দিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন মূলত হাতে গোনা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। জিপি ও পিএস ফার্মের সংখ্যাও সীমিত। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগ সংক্রমণ বা উৎপাদন ব্যাহত হলে বিকল্প উৎস না থাকায় পুরো সরবরাহব্যবস্থা হঠাৎ অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা–২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বাণিজ্যিক পোল্ট্রি মুরগি পালনের জন্য এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের প্রস্তাব রাখা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। খসড়া অনুযায়ী, এক দিন বয়সী কমার্শিয়াল মুরগির বাচ্চা আমদানির অনুমতি থাকবে না। তবে গ্র্যান্ড প্যারেন্ট (জিপি) স্টক আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সংকট দেখা দিলে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে’ প্যারেন্ট স্টক (পিএস) আমদানির অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।
নীতিমালায় ব্যবহৃত ‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে’ শব্দবন্ধটি নিয়ে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—কোন পরিস্থিতিকে ‘প্রয়োজনীয়’ ধরা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কে নেবে এবং কত দিনের মধ্যে অনুমোদন মিলবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে সংকটকালে প্রশাসনিক লালফিতার জটিলতায় সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পোল্ট্রি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৫–১৬ অর্থবছরে মুরগির সংখ্যা ছিল ২,৬৮৩.৯৩ লাখ, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৩৬০.৭০ লাখে। একই সময়ে হাঁসসহ মোট পোল্ট্রির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪,০৬৬.৫২ লাখ। এই বিশাল উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশই নির্ভর করছে ধারাবাহিক ও সময়মতো এক দিন বয়সী বাচ্চা সরবরাহের ওপর।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসাইন চৌধুরী ইউএনবিকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে এক দিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। আমদানির পথ বন্ধ হলে বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা বা সিন্ডিকেট করার সুযোগ বাড়বে। কোনো কারণে দেশীয় উৎপাদনে মহামারি বা রোগ দেখা দিলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মোট চাহিদার ১০–১৫ শতাংশ বাচ্চা আমদানি করতে হয় এবং তা কেবল তখনই করা হয়, যখন দেশীয় বাজারে বাচ্চা পাওয়া যায় না। সংকট কখন তৈরি হবে তা আগে থেকে জানা যায় না। হঠাৎ সংকটে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমদানি অনুমোদন পাওয়া বাস্তবসম্মত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বার্ড ফ্লু কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো একটি কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত এক বছর দেশের ডিম ও মুরগির বাজার চাপে থাকবে। তাই পরিকল্পনামাফিক এবং ধাপে ধাপে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। অন্যথায় প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাচ্চা আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের জন্য সীমিত পরিসরে সুযোগ রাখা প্রয়োজন। তার মতে, এতে একদিকে স্বনির্ভরতা বাড়বে, অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে ঘাটতি মোকাবিলার সুযোগ থাকবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) এ বি এম খালেদুজ্জামান জানান, প্রায় দুই বছর ধরে এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ২০২১ সালে কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালাটি সংশোধন ও হালনাগাদ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ত্রিমুখী সংকট তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে প্রান্তিক খামারি ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বড় সিদ্ধান্তের আগে অংশীজনদের নিয়ে গণশুনানি হওয়া জরুরি ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, আমদানি বন্ধের আগে নিশ্চিত করতে হবে—দেশীয় উৎপাদনে নিয়মিত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না এবং খামারিরা ন্যায্য দামে বাচ্চা পাচ্ছেন কি না।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের ইউএনবিকে বলেন, ‘নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো পোল্ট্রি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও স্বনির্ভর করা। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি আমরা পেয়েছি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়গুলো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ইউএনবিকে বলেন, ‘দেশ ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে সবার মতামত নেওয়ার জন্য। সব মতামত বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
১৬৭ দিন আগে
মোবাইল ফোন আমদানিতে বিরাট শুল্ক ছাড়, দাম কমবে
মোবাইল ফোনের মূল্য সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি পণ্যটি আমদানিতে শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এর ফলে মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে।
এছাড়া কাস্টমস ডিউটি হ্রাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান উপকরণ আমদানি করলে তার ওপর কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করে আরও একটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দুটি জারির ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের আমদানি হওয়া প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের দাম অন্তত সাড়ে ৪ হাজার টাকা কমবে। এ ছাড়া ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম অন্তত দেড় হাজার টাকা হ্রাস পাবে।
সরকার আশা করছে, মোবাইল ফোন আমদানি এবং মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক কমানোর ফলে সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। সেইসঙ্গে দেশের নাগরিকগণের পক্ষে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।
মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
১৭৭ দিন আগে