বিদ্যুৎ বিভ্রাট
জ্বালানি সংকটে পুরো কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ও পুরনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে কিউবাজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য দেশ থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ, দুর্বল বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে পুরো কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দেশটির পুরনো বিদ্যুৎ গ্রিডও ভেঙে পড়ছে।
কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানায়, দেশটির বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যেসব ইউনিটগুলো সচল ছিল, সেগুলোতে কোনো ত্রুটি ছিল না, তারপরও কেন এমন বিপর্যয় হলো তার তদন্ত করা হচ্ছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক লাসারো গেরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জন্য তাদের কর্মীরা কয়েকটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করার কাজটি ধীরে ধীরে করতে হবে, যাতে কোনো সমস্যা না হয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা সিস্টেমগুলো অল্প সমস্যাতেই আবার বিকল হয়ে যেতে পারে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাভানার কিছু বাড়িতে মোমবাতি জলতে দেখা যায়। একটি অন্ধকার বাড়িতে শিশুদের খেলাধুলা ও মায়ের সঙ্গে গান গাওয়ার শব্দ শোনা যায়।
হাভানার বাসিন্দা ইউনিসি সেসিলিয়া রিভিয়ক্স একটি খোলা দরজার দিকে ইশারা করে বলেন, ‘আমাদের এখানে মেয়েদের জন্য একটি বিছানা পেতে রাখতে হবে যাতে তারা এখানে ঘুমাতে পারে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমার কাছে কোনো রিচার্জেবল ফ্যান বা জেনারেটরও নেই।’
গত চার মাসের মধ্যে এটি কিউবায় তৃতীয় বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
হাভানার ৬১ বছর বয়সী বাসিন্দা তমাস দাভিদ ভেলাসকেস ফেলিপ বলেন, ‘বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তার মনে হয়, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কিউবা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের খাবার নষ্ট হয়ে যায়। আমার মতো বয়স্ক মানুষদের এভাবে কষ্ট সহ্য করা কঠিন।’
তবে সোমবার রাতে কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হাভানার প্রায় ৫ শতাংশ বাসিন্দার বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, সংখ্যায় যা প্রায় ৪২ হাজার গ্রাহকের মতো। দ্বীপজুড়ে কয়েকটি হাসপাতালেও বিদ্যুৎ ফিরেছে।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে দেশটির যোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। তবে যেসব ছোট ছোট সার্কিটে আপাতত বিদ্যুৎ ফিরেছে সেগুলো আবারও বিকল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর অবনতি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে এবং দেশজুড়ে বড় বড় ব্ল্যাকআউট হচ্ছে।
কিউবার সরকার এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করেছে। কারণ জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কিউবাকে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করে এমন যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, কিউবা যদি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয় এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যেতে পারে। ট্রাম্প কিউবার ওপর বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে কিউবা দখল করার সম্মান তারই হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিউবাকে মুক্ত করব নাকি দখল করব? আমি মনে করি আমি যা চাই তা-ই করতে পারি।’ এসময় তিনি কিউবাকে একটি খুব দুর্বল জাতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এবং ওয়াশিংটন ও হাভানার আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপরাষ্ট্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিউবা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবেদনশীল আলোচনার বিষয় হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কাকে কিউবার ক্ষমতায় দেখতে চায়, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি তারা।
কয়েকদিন আগে দিয়াস-কানেল প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এর আগে, সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমস এই আলোচনার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে।
১৭ দিন আগে
বুধবার সিলেট নগরীর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
বৈদ্যুতিক লাইন ও ট্রান্সফরমারের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের কারণে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সেসব এলাকার গ্রাহকরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মু. তানভীর হায়দাদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৩/১১ কেভি আম্বরখানা ফিডার ও লাক্কাতুড়া ফিডারের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আম্বরখানা ফিডারের আওতায় রয়েছে: আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনি, মজুমদারী, কমলা বাগান, পূর্ব পীরমহল্লা ও হাউজিং এস্টেট ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকা।
এছাড়া লাক্কাতুড়া ফিডারের আওতায় বাদাম বাগিচা, বড়বাজার, চৌকিদেখী, আনার মিয়ার গলি, সৈয়দ মূগনী, ইলাশকান্দি, উদয়ন, পাহাড়িকা, বড়বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দারুস সালাম মাদ্রাসা, দবির মিয়ার গলি, শেভরন এলাকা, লাক্কাতুড়া চা বাগান, বনশ্রী আবাসিক এলাকা ও আশপাশের এলাকায়ও বিদ্যুৎ থাকবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাকের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১ কেভি রায়নগর ফিডারের আওতাধীন সেনারপাড়া, মজুমদারপাড়া, দর্জিপাড়া, পূর্ব মিরাবাজার, খারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সেইসঙ্গে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১ কেভি নাইওরপুল ফিডারের আওতাধীন কাজী জালাল উদ্দিন স্কুল এলাকা, নাইওরপুল পয়েন্ট, ওসমানী জাদুঘর, ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়, অনাবিল, হোটেল অনুরাগ, ঝরণারপাড়, কুমারপাড়া পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
৮৮ দিন আগে
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
জরুরি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও গাছের ডালপালা কাটার জন্য শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ–১-এর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত ও বিভাগ-২–এর প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, আগামী শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৩/১১ কেভি আম্বরখানা উপকেন্দ্রের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এই উপকেন্দ্রের অধীন এলাকাগুলো হলো: ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড, আম্বরখানা পয়েন্ট, রায়হুসেন গলি, মজুমদারী, সৈয়দমুগনী, লেচুবাগান, পীর মহল্লা (পূর্ব–পশ্চিম), হাউজিং এস্টেট, জালালাবাদ আবাসিক এলাকা, দরগাহ গেট, চন্দনটুলা, ঘূর্ণি আবাসিক এলাকা, দরগাহ মহল্লা, গৌরগোবিন্দ টিলা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, পুরান লেন, লালবাজার, জল্লারপাড়, স্টেডিয়াম মার্কেট, মিয়া ফাজিলচিস্ত, পিটিআই, সুবিদবাজার, বনকলপাড়া, কলবাখানী, চাষনীপীর মাজার রোড, গোয়াইপাড়া, শাহী ঈদগাহ, হাজারীবাগ, টিবি গেট, উঁচা সড়ক, কাহের মিয়ার গলি, মক্তব গলি, কাজীটুলা, মীরবক্সটুলা, তাঁতীপাড়া ও আশপাশের এলাকা।
এ ছাড়াও সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বালুচর, সেনপাড়া ও শিবগঞ্জ ফিডার এলাকার অধীন শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, সোনার বাংলা আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার, আল-ইসলাহ, আরামবাগ, বালুচর ছড়ারপাড়, ফোকাস, জোনাকী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, আলুরতল, সেনপাড়া, শিবগঞ্জ, ভাটাটিকর, সাদিপুর, টিলাগড়, গোপালটিলা, এমসি কলেজ এলাকা, সবুজবাগ, বোরহানবাগ, হাতিমবাগ, লামাপাড়া, রাজপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তারা আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই প্রকৌশলীরা।
১২০ দিন আগে
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোগান্তি
কারিগরি ত্রুটির কারণে তিন সপ্তাহ ধরে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে সিলেট নগরীসহ পুরো বিভাগে প্রতিদিনই একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।
কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে অবস্থিত ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ আচার্য বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। ‘আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহের মধ্যেই এটি আবার চালু করা সম্ভব হবে।’
গ্রিড উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন পরীক্ষা ও পরিদর্শনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ আচার্য বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা দলটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করছে। সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে সিস্টেম সঠিক প্রমাণিত হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এই সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা যাবে বলে আমরা আশা করছি।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব চুরির পর ভেঙে নিচ্ছে দেয়ালও
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এখান থেকে সিলেট বিভাগের চারটি জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় বর্তমানে সিলেট পুরোপুরি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে সিলেটে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং আরও বেড়েছে। এতে ওই চার জেলায় মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
এ ছাড়া, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় প্রতিদিনই পানি সংকট দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং চলতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপও হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
২৪৩ দিন আগে
শ্রীলঙ্কাজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বানরকে দায়ী করলেন মন্ত্রী
শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের জন্য একটি বানরকে দায়ী করেছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জায়াকোদি। রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় সারা দেশে ব্ল্যাকআউট দেখা দেয়। এরপর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা লেগেছিল।
বিদ্যুৎ না থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, এটি ছিল শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউটের একটি। এতে সেখানকার বহুলোককে বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
একদল বানর হট্টগোল ও মারামারি করতে করতে পানাদুরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ঝাঁপ দেয়, তাদের মধ্য থেকে একটি এসে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে পড়ে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী কুমারা জায়াকোদি।
‘একটি বানর গ্রিড ট্রান্সফর্মারের সংস্পর্শে এলে সিস্টেমে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়,’ বলেন তিনি। অসুবিধার জন্য দেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন দেশটির এই জ্বালানিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একজন নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, তিনি বিকট বিস্ফোরণ শুনতে পেয়েছেন ও আগুনের গোলা দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু একটা বানর এমন একটা সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে হচ্ছে না।
‘প্রায়ই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর বানর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু তার মানে এই না যে, সে কারণে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেবে,’ বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা
স্থানীয় ডেইলি মিরর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জামিলা হুসেইন লিখেছেন, ‘একমাত্র শ্রীলঙ্কাতেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যেখানে একটি একদল বানরের মধ্যে লড়াইয়ে পুরো দ্বীপে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে।’
পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৌশলীরা কয়েক বছর ধরেই সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। তারা সরকারকে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকীকরণ না করলে বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটবে।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীর ভাষ্যে, দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এতটাই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে যে, সামান্যতম সমস্যা থেকেও পুরো দ্বীপে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল।
৪১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে নিহত ১৮
যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে বড়দিনের উৎসবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ঝড়টি অনেকটাই ঘূর্ণিঝড়ের তেজ নিয়ে পূর্ণমাত্রায় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে আঘাত হানে। এতে পুরো এলাকা সাদা চাঁদরে ঢেকে যায়। ফলে জরুরি অভিযান বাঁধার সম্মুখীন হয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মৃত্যুর সংখ্যা, গাড়ি দুর্ঘটনা, গাছপালা পড়ে যাওয়া এবং ঝড়ের অন্যান্য প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। বাফেলোতেই অন্তত তিনজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু তুষারঝড়ের কারণে মেডিকেল টিম পৌঁছাতে না পাড়ায় তাদের জরুরি চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: আটলান্টিক কানাডা উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ফিওনা
গভীর তুষার, নিম্ন তাপমাত্রা ও দিনভর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাফেলোর বাসিন্দাদের শনিবার তাদের ঘর থেকে বের হয়ে উত্তাপ পাওয়া যাবে এমন জায়গা খুঁজতে হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বলেন, বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং শহরের প্রায় প্রতিটি ফায়ার ট্রাক তুষারে আটকা পড়েছে। আমাদের যতই জরুরি যানবাহন থাকুক না কেন, সেগুলো আমাদের কথামতো কাজ করতে পারবে না।
ভয়াবহ তুষারঝড় ও হিমশীতল ঠাণ্ডায় মেইন থেকে সিয়াটল পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। একটি প্রধান বিদ্যুৎ গ্রিড অপারেটর পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৬৫ মিলিয়ন মানুষকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয় সতর্ক করেছে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ইয়ান: ফ্লোরিডায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭
হাইতিতে ভূমিকম্পে ১৪শ’র বেশি মৃত্যুর পর এবার ঝড়ের আশঙ্কা
১১৯৬ দিন আগে