ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনা জানার বিষয় নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের পথও নির্মাণ করতে পারে না।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ইতিহাস বিভাগের ২০তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯–৯০ শিক্ষাবর্ষে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে আমার মনে হচ্ছে, যেন আমি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি। এখানে আমার অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের সান্নিধ্য আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘একদিন আমিও আপনাদের মতো এই বিভাগের করিডোরে বুকভরা স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং কিছুটা শঙ্কা নিয়ে হেঁটেছি। কিন্তু এই বিভাগ আমাকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়নি; শিখিয়েছে মানুষকে বুঝতে, সমাজকে বিশ্লেষণ করতে এবং দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে। ইতিহাস বিভাগ আমার চিন্তা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এমন একটি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন, যেখানে শুধু অতীতের ঘটনা মুখস্থ করা শেখানো হয় না। ইতিহাস আমাদের শেখায় কেন একটি ঘটনা ঘটেছিল, তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট কী ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের জন্য কী শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়ের আয়না। যে জাতি তার ইতিহাসকে জানে না, সে ভবিষ্যতের পথও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাণ করতে পারে না।’
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘এই বিভাগে অধ্যয়নের মাধ্যমে আপনারা যুক্তিনির্ভর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, গবেষণামনস্কতা এবং সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা অর্জন করবেন। এসব গুণ শুধু একজন ইতিহাসবিদ হওয়ার জন্য নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কূটনীতি, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন এবং করপোরেট নেতৃত্বসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
১ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্রস্থলে কি সংকুচিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক পরিসর?
দেশের অন্যতম প্রাণবন্ত সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে শিল্পীরা নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা, দর্শন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ পান। থিয়েটার থেকে চারুকলা, আবৃত্তি থেকে সংগীত পরিবেশনা—বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাংস্কৃতিক পরিচয় তার অ্যাকাডেমিক পরিচয়ের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
তবে বর্তমানে সেই পরিচিত ধারায় কোথাও যেন একটা পরিবর্তন এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নীরব কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্যে যে ক্যাম্পাস একসময় মুখর থাকত, সেটিকে এখন অনেকটাই ভিন্ন মনে হয়। অনেকের দাবি, বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন, সাংস্কৃতিক আড্ডা এবং ক্যাম্পাসের সেই সাংস্কৃতিক আবহ আগের মতো এখন আর দৃশ্যমান নয়। অনুষ্ঠান এখনও হচ্ছে, তবে তা ছোট পরিসরে এবং সেখানে অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনা অনেকটাই কম।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ, ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, এই পরিবর্তন ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় আসা বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তাদের দাবি, অনিশ্চয়তার পরিবেশ, আদর্শিক মেরুকরণ এবং জনরোষের আশঙ্কা ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ক্যাম্পাস এখন একটি অভিযোজন প্রক্রিয়ার ((অ্যাডজাস্টমেন্ট) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে না, বরং নতুন রূপ নিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠেনি, বরং প্রতিদিনের অসংখ্য অনানুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড ও আড্ডার মাধ্যমে প্রাণবন্ত থাকত ক্যাম্পাস। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), চারুকলা এবং অন্যান্য স্থানে অনানুষ্ঠানিক মহড়া, গানের আসর, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক আলোচনা চলত সবসময়। এই কর্মকাণ্ডগুলো সবার মধ্যে এক ধরনের একাত্মবোধ তৈরির মাধ্যমে সংস্কৃতিকে ক্যাম্পাস জীবনের একটি দৃশ্যমান ও অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিল।
সাংস্কৃতিক কর্মী ও ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী রবিউল হোসেন বলেন, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির আগে টিএসসিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আবহ ছিল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি ছোট ছোট দল (বিভাগীয় কিংবা বাইরের) গান, আবৃত্তি বা নৃত্যচর্চা করত। সেসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দেখতেও বহু মানুষের সমাগম হতো।
তিনি আরও বলেন, সে সময় শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন ও আগ্রহী ছিল। ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক দলগুলোও পৃষ্ঠপোষক ও দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেত। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করত। বিভিন্ন বিভাগের অনুষ্ঠানেও স্থান পেত আদিবাসী ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাদান। পহেলা বৈশাখসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে চারুকলা আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো নানা শ্রেণির বিপুল পরিমাণ দর্শক টানত।
তবে ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করেন রবিউল।
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আগে প্রধান উদ্বেগ ছিল কোনো অনুষ্ঠান আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যাচ্ছে কি না। এরপর ৫ আগস্টের পর ভেবেছিলাম সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো আরও সুষ্ঠুভাবে হবে, কিন্তু তা হয়নি। সবাইকে এক ধরনের “মব কালচারের” ভয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ঢাবিতে সরাসরি বড় ধরনের কোনো ঘটনা হয়তো ঘটেনি, তবে পরোক্ষভাবে আমাদের অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক সংস্কৃতিচর্চা নিয়েও এখন বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
গত বছর টিএসসিতে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই প্রদর্শনী থেকে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলে।
রবিউল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে অনেক অনুষ্ঠান হতো। তবে সেগুলো মূলত আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগকেন্দ্রিক ছিল, যেন মুক্তিযুদ্ধে কেবল তাদেরই অবদান ছিল। সে সময় আমরা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর সেই ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা সেটিও করতে পারিনি। এখন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। ফলে টিএসসিকেন্দ্রিক অনেক সংগঠনই “ট্যাগ” খাওয়ার ভয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক থিম নিয়ে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করছে।’
শামসুন নাহার হল সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর কয়েকজন সমন্বয়ক টিএসসির একটি নিবন্ধিত সংগঠন ‘স্লোগান ৭১’-এর কক্ষ দখল করে সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘ইনকিলাব ২৪’ রাখেন।
তবে টিএসসির পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, ইনকিলাব ২৪ নয়, ২০৭ নম্বর কক্ষটি বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব ব্যবহার করছে।
ডাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব না থাকার পর একটি নির্বাচিত ডাকসু প্যানেলের প্রত্যাবর্তনকে ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবীত করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু এখন কিছু শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীর অভিযোগ, ডাকসু সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং তারা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে।
যদিও অনেকে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে ইঙ্গিতটি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকেই। জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমিতে ওই নির্বাচনের ফলও জাতিকে বিস্মিত করেছিল।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আব্দুল কাদের গত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তার দাবি, ছাত্র সংসদ ক্রমেই একটি নির্দিষ্ট ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়ে উঠছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মূলত ‘ইসলামী ভাবধারা’র অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন। বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ খুবই কম।
কাদের বলেন, ‘শিল্পীরা নিরাপদ ও উৎসাহিত বোধ করেন এমন একটি পরিবেশ তৈরিতে ডাকসু এবং বর্তমান ছাত্র প্রতিনিধিরা ব্যর্থ হয়েছেন। তারা সাংস্কৃতিক অঙ্গন পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারতেন, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড একমুখী হয়ে গেছে। তাদের বুঝতে হবে যে তারা কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন।’
বর্তমান পরিস্থিতিকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস হয়তো আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবমুক্ত হয়েছে, কিন্তু তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ‘আরেকটি রক্ষণশীল গোষ্ঠী’ ক্যাম্পাস জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে।
কাওয়ালি ও মিলাদ মাহফিলের উত্থান
২০২৪ সালের আগস্টের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। কাওয়ালি গানের অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিল এর মধ্যে অন্যতম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আতিকুর রহমান তোহা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি দীর্ঘদিনের বাঙালি সংস্কৃতির ধারার বিপরীতে একটি বিকল্প সাংস্কৃতিক ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হতে পারে।’
তবে বর্তমানে এ ধরনের আয়োজন আগের মতো আর ততটা দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে তোহা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে কাওয়ালি সংস্কৃতিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও সফল হয়নি। এ কারণেই এই প্রবণতা ধীরে ধীরে গতি হারিয়েছে।’
তবে এ ধরনের চর্চাকে সম্পূর্ণ নতুন বলে মানতে নারাজ রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, ‘মিলাদ মাহফিল সবসময়ই ছিল, বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে। পার্থক্য হলো, তখন এগুলো সাধারণত মসজিদ ও ছোট পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।’
তার মতে, মুসলিম শিক্ষার্থীদেরও বৈধ সাংস্কৃতিক পরিসর থাকা উচিত। বিগত বছরগুলোতে ইসলামি সংস্কৃতির প্রকাশকে অনেক সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সমস্যাজনক হিসেবে তকমা দেওয়া হতো।
একই সঙ্গে কিছু গোষ্ঠী ইসলামি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাও স্বীকার করেন রবিউল।
তিনি বলেন, ‘কাওয়ালি একটি সমৃদ্ধ ও মূল্যবান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এটি যখন রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন মানুষ এটিকে সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে দেখতে শুরু করে। সংস্কৃতির মতো আগস্ট-পরবর্তী কিছু উদ্যোগ রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল।’
অনিবার্য পতন, নাকি সাময়িক স্থবিরতা?
অনেকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার মূল কারণ ছিল এক ধরনের অজানা আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং ‘মব কালচারের’ ভয়। অন্যরা মনে করেন, ৫ আগস্টের পর নতুন কমিটি গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের কারণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমে গেলেও এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
রবিউল হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আমরা যারা নিরপেক্ষ ছিলাম, তারা আশা করেছিলাম যে অবশেষে কোনো বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে সংস্কৃতিচর্চা করতে পারব। তবে “মব কালচারের” প্রভাবে তা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এই মব কালচারের কারণে সবাই এক ধরনের ভয়ের সময় পার করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বড় কোনো ঘটনা না ঘটলেও আমাদের পরোক্ষভাবে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী ও ক্লাবকর্মী ছিলেন যাদের আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে পারিবারিক বা অন্য কোনোভাবে সম্পর্ক ছিল। তাদের অনেকেই কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা জনপরিসর থেকে সরে গেছেন। এই বড় অংশটি সরে যাওয়ার কারণে টিএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়ে। এখন টিএসসির কার্যক্রমের জন্য সক্রিয় সদস্য খুঁজে পাওয়াটাই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অন্যদিকে, আতিকুর রহমান তোহা বলেন, ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন কিছুটা কমেছিল, তা সত্য; এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এখন আবার নিয়মিত অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং এসব কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সময় অনুষ্ঠান কমে যাওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ ছিল। তখন ভয় ও অনিশ্চয়তার একটা পরিবেশ ছিল। অন্যদিকে, ক্লাবগুলোর নতুন কমিটি গঠন এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় সামলাতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে এই বিষয়গুলোর কারণে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’
অর্থাৎ, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সাংস্কৃতিক পরিসরও তাতে প্রভাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে মব কালচারের আতঙ্ক, রাজনৈতিক মেরুকরণ আর ইতিহাসের নতুন সমীকরণ ক্যাম্পাস জীবনের চেনা গতিপ্রকৃতিকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
একদিকে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতির ধারক সংগঠনগুলোর স্থবিরতা কাটানোর লড়াই, অন্যদিকে বিকল্প ধারার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রয়াস—সব মিলিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস এখন বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈচিত্র্য ও সংকটের দোলাচলেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে—শতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তচিন্তা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের এই চেনা চত্বরটি শেষ পর্যন্ত কোন অভিমুখে যাত্রা করবে।
১৫ দিন আগে
ঢাবিতে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে মালির মৃত্যু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে ছিয়াকুল (৩৯) নামে এক বাগান মালির মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ছিয়াকুলের বাড়ি নড়াইলের নড়াগাতী থানার দেবদূত এলাকায়। তার বাবার নাম রয়জুল। বর্তমানে তিনি ঢাবির রোকেয়া হলের বাগানের মালি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের সহকর্মী সুনীল জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ছিলেন ছিয়াকুল। এ সময় অন্য আরেকটি কাঁঠাল তার মাথার ওপর পড়লে গাছ থেকে নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হলেন ঢাবি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ শনিবার (২৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য ইউজিসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন।
ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডেলফি ইউনিভার্সিটিতে ফুলব্রাইট রিসার্চ প্রফেসরশিপ লাভ করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জাপানে জাপান ফাউন্ডেশন ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাডার্সফিল্ডের অর্থনীতি, অর্থায়ন এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা পদ্ধতির ওপর পোস্টগ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট লাভ করেন।
এছাড়া ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থামব্রিয়া থেকে সার্টিফিকেট ইন ল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রিধারী। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ড. মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানিজ স্টাডিজ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা, উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সহায়তা কার্যকারিতা, উন্নয়ন সমাজবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান।
ড. মামুনের দেশ-বিদেশে দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি ও লিডস ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি, জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনিভার্সিটি অব কোবে, ভারতের জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি এবং ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষকতা ও লেকচার প্রদান করেছেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক, আশা, ইউএসএআইডি, ইউএনডিপি, জেট্রো, জাপান ফাউন্ডেশন এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (জেবিসিসিআই) সঙ্গে কাজ করেছেন।
গবেষণা ও প্রকাশনায়ও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের প্রকাশিত বই, বইয়ের অধ্যায় ও গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০টির বেশি। তার গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি স্প্রিঙ্গার, রাউটলেজ, প্যালগ্রেভ ম্যাকমিলান এবং এমেরাল্ডের মতো খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা থেকে তার বই ও বইয়ের অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; চিরকুটে শিক্ষকের নাম, হেফাজতে ২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।
তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করি।
নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’
নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে ইউএনবিকে জানান, মিমোর মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন।
ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।
৭৪ দিন আগে
প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সঙ্গীত শিক্ষা চালু করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সঙ্গীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতিতে এই উদ্যোগ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করা হবে। এ পদ্ধতিতে সঙ্গীত প্রশিক্ষকরা একটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করবেন।
সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল প্রতিষ্ঠানে উপজেলাভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সঙ্গীত শিক্ষা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একইভাবে সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তখন সব প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং তারা মূলত জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা ছিল না।
তিনি বলেন, ওই সময়ে কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যা আমাদের মতে এড়িয়ে যাওয়া যেত। তবে আমি বলব না যে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
এ বছরের পহেলা বৈশাখ উদযাপন ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাকি চিরাচরিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমুন্নত রাখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকবেই, কিন্তু মানুষ একই সমাজে সহাবস্থান করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
১০০ দিন আগে
ঢাবি স্টেশনে ২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ মেট্রোরেল
আজ দুপুর দেড়টা থেকে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ কারণে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন সাময়িকভাবে ২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না। একইসঙ্গে এ সময় কোনো ট্রেনও স্টেশনে থামবে না।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনে মেট্রো ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকবে না। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
১৩৩ দিন আগে
নারীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে করা ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে এই মিছিল শুরু হয়। ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়।
গতকাল (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ করা হয়। নারীদের নিয়ে ওই পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় তারা ‘শফিক তুই জানিস নাকি, দেশের শক্তি অর্ধেক নারী’, ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’, ‘শফিক তুই ক্ষমা চা, নারী নয় পতিতা’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
১৫৮ দিন আগে
ডাকুস নেতা সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্ত জানান।
ওই পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেওয়া হয়েছে।
‘সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই। নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।’
তিনি লেখেন, ‘এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা (নারী শিক্ষার্থী) অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ডিএমসি-সংলগ্ন দেওয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেওয়াল টপকিয়ে ঢোকে বহিরাগতরা। কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গত মাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়। আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এই কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে (কেন্দ্রীয় মাঠ) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।
‘আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়-নিরাপত্তা বিধানে যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ (চালিয়ে যাওয়া) করার সক্ষমতা নেই।’
সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’
১৬৪ দিন আগে
সরস্বতী পূজা কাল, জগন্নাথ হলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা-১৪৩২ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল (শুক্রবার)। পূজা উদযাপনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।
বসন্ত পঞ্চমীতে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করতে অসংখ্য মণ্ডপ প্রস্তুত করা হয়েছে জগন্নাথ হলে। সেখানকার এক মণ্ডপে এবার বাক দেবী আসবেন ‘ঘরের নারীর’ আবহে। এ বছর জগন্নাথ হল প্রশাসনের কেন্দ্রীয় পূজাসহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিক জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে প্রতিবছরের মতো এবারও সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা পূজার আয়োজনে অংশ নেবেন। এ বছর পূজা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জগন্নাথ হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোট ৭৬টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে।
জগন্নাথ হলের দীর্ঘদিনের পূজার ঐতিহ্যকে ধারণ করে অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ভক্তিমূলক সংগীত ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা আয়োজন থাকবে। নারী ও শিশু ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রয়োজনীয় আয়োজনও করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
পূজায় সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আতশবাজি ও ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেছে হল প্রশাসন।
হল কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই সকল ধর্ম-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করে আসছে। আমরা সর্বদাই সকল ধর্মের প্রতি সমান ও বৈষম্যহীন আচরণের মাধ্যমে এক সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন টেকসই সমাজ বিনির্মাণে সদা যত্নশীল।
সকল ধর্ম, মত, আদর্শ, শ্রেণি, পেশার মানুষকে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সরস্বতী পূজায় স্বাগত ও সাদর নিমন্ত্রণ জানিয়েছে জগন্নাথ হল প্রশাসন। এই উৎসবে আগত সকল পুণ্যার্থীর শুভাগমনে জগন্নাথ হল সম্প্রীতির বন্ধনের এক অপূর্ব মিলনমেলায় রূপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে তারা।
১৬৮ দিন আগে