ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাবির আইবিএতে পরিচালকের মেয়ের জন্য নিয়োগের শর্ত শিথিলের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক নিয়োগে পরিচালকের মেয়েকে সুবিধা দিতে যোগ্যতা শিথিল করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আইবিএর বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মেয়েকে নিয়োগ দিতে প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতার শর্ত কৌশলে শিথিল করে প্রশাসনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
‘ইন্টিগ্রেটেড রুলস অ্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস ফর অ্যাডভারটাইসড টিচিং পজিশনস’ অনুযায়ী, প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০ এর মধ্যে) অথবা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। গত ১৩ মে আইবিএর প্রভাষকের ৭টি শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সেই নিয়ম মেনেই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে আইবিএর পরিচালকের মেয়ে নূর জাহান আব্দুল্লাহ আবেদন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে ‘সেকেন্ড ক্লাস অনার্স (আপার ডিভিশন)’ ফলাফল নিয়ে ইতিহাস, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বিএ (স্নাতক) সম্পন্ন করেছেন। তাই ঢাবির নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা শর্ত তিনি পূরণ করতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদনকারীদের নাম ও যোগ্যতা উল্লেখ করে আইবিএ পরিচালক একটি তালিকা উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) কাছে পাঠান। তবে কারা বিজ্ঞাপনের শর্ত পূরণ করেছেন এবং কারা করেননি, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট মন্তব্য না থাকায় উপ-উপাচার্য সেটি ফেরত পাঠান। পরে পরিচালক সেপ্টেম্বরে আরেকটি তালিকা উপ-উপাচার্যের দপ্তরে পাঠান। এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এর মাঝেই অভিযোগ ওঠে, বিজ্ঞপ্তির শর্তের কারণে পরিচালকের মেয়ে বাদ পড়ার আশঙ্কায় আইবিএ থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রভাষকের দুটি পদে নিয়োগের জন্য নতুন চাহিদাপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, পরিচালকের মেয়েকে সুযোগ দিতে নতুন চাহিদাপত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি পরিবর্তন করে ‘সিজিপিএ ৩.৫০ অথবা প্রথম শ্রেণি অথবা ৬৫ শতাংশের বেশি নম্বর’ লেখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে পরিচালকের মেয়ের স্নাতকে পাওয়া নম্বরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন এই শর্তটি আগের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল না এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থি।
এছাড়া চাহিদাপত্রে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতাও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিচালকের মেয়ের ডিগ্রির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘অর্থনীতি’ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন চাহিদাপত্রে নির্দিষ্ট করে অর্থনীতি, বিজনেস অ্যানালিটিক্স, বিজনেস ল ও এন্টারপ্রেনারশিপ চাওয়া হয়েছে। নূর জাহানের স্নাতক অর্থনীতিতে ও স্নাতকোত্তর এন্টারপ্রেনারশিপে হওয়ায় নতুন চাহিদাপত্রটি মূলত তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূলত নিয়োগের শর্ত ও মানদণ্ড ঠিক করে ইনস্টিটিউশনের ‘কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএন্ডডি)’ কমিটি। জ্যেষ্ঠতম এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষকের সমন্বয়ে কমিটিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক।
নতুন এই চাহিদাপত্রের শর্তের বিষয়ে আইবিএর একটি সূত্র জানায়, ‘চাহিদা অনুযায়ী সিঅ্যান্ডডি এটা অনুমোদন দিয়েছে, বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ইচ্ছা।’ ফলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদন পেলেই চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে।
এদিকে রেজিস্ট্রার ভবনের আরেকটি সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরে পাঠানো নতুন শর্তযুক্ত চাহিদাপত্রটি অনুমোদনের জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর পাঠানো হয়েছিল। তিনি নিজস্ব কোনো মতামত না দিয়ে সেটি সরাসরি উপাচার্যের কাছে পাঠান। কিন্তু উপাচার্য সেখানে উপ-উপাচার্যের কোনো মন্তব্য বা মতামত না দেখে ফাইলটি ফেরত পাঠান। ফাইলটি বর্তমানে সেখানেই আটকে আছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তিন দিন চেষ্টা করেও আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায়নি। তার মুঠোফোনে বার্তা পাঠালে তিনি অসুস্থ বলে জানান।
পরে পরিচালকের একজন সহকারী প্রতিবেদককে ফোন করে বনানীতে তার ব্যক্তিগত অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে বলেন। প্রতিবেদক সেখানে গিয়েও আইবিএ পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তিনি অসুস্থ বলে তার একজন গবেষণা সহকারী জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রথমত এটা প্রক্রিয়াধীন। তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই। আমরা সাধারণত সিঅ্যান্ডডি কমিটির সুপারিশকে সম্মান করার চেষ্টা করি। যদি এ রকম কিছু হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘এখনও আমার কাছে আসেনি।’
৩ দিন আগে
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য হস্তান্তর করল ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সব তথ্য-উপাত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবার ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের কাছে এসব তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এ সময় অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ঢাবি উপাচার্য।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণসাধন এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
গণতন্ত্রের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও বিরোধীদের পরিসর জরুরি: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য।’
গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে কার্যকরভাবে চলতে দিতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও উন্নত করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন, তিনি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।’
এ সময় স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার আহ্বান জানান।
দেশের প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না, দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর কখনও রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
ঢাবি ক্যাম্পাসের ৩ ঘটনা তদন্তে পৃথক কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিগুলো সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।
ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইট চালু, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিগুলোকে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ডাকসুর ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ কেন্দ্রের পরিচালক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্তে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ডাকসুর এই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্ত করবে কমিটি।
এ কমিটির সদস্যরা হলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনাটি তদন্তেও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। এ কমিটিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৩৪ দিন আগে
জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন, অনুমতি ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ: ডাকসুর কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রয়াত গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ অবস্থান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ডাকসু-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করার কথা উল্লেখ করে ঢাবি প্রশাসন বলেছে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও প্রবিধানের চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদকে যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নিতে হবে।
কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো ধরনের অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এটি এখতিয়ারবহির্ভূত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুকেও নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে তারা।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না বলে জানিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
৩৪ দিন আগে
ঢাবি শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে বরখাস্ত কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসাইন।
২০২৩ সালের আগস্টে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গবেষণাপত্র জমা দিতে এসে শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতের কক্ষে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ওয়াসেল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সের এক্সটার্নাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ওয়াসেল তার থিসিস সুপারভাইজার। ১৫ আগস্ট থিসিসের বিষয়ে দেখা করতে গেলে তিনি অত্যন্ত অমার্জিত আচরণ শুরু করেন। পরে ওয়াসেল তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
অভিযোগে বলা হয়, সেদিন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পুরো ভবনটি খালি ছিল।
ওই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ওয়াসেল বিন সাদাতকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে গত ৪ আগস্ট তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।
চূড়ান্ত বরখাস্তের ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। এর প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ রবিবার হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
৪২ দিন আগে
ঢাবির আন্তঃহল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ ও রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃহল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার ছাত্র বিভাগে জগন্নাথ হল এবং ছাত্রী বিভাগে রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ছাত্র বিভাগে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং ছাত্রী বিভাগে শামসুন নাহার হল রানার্স-আপ হয়েছে।
ছাত্র বিভাগের প্রতিযোগিতায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মানিক হাসান মীর ২৪টি গোল করে সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের মো. মোনায়েম বিশ্বাস সেরা গোলরক্ষক এবং জগন্নাথ হলের গাথী ডারড সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
ছাত্রী বিভাগের প্রতিযোগিতায় রোকেয়া হলের ইশরাত জাহান ২২টি গোল করে সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। একই হলের তিথি রানী সেরা গোলরক্ষক এবং শামসুন নাহার হলের লামিয়া আক্তার লিমা সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিযোগিতা শেষে সোমবার (১০ আগস্ট) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা আল মামুনসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা, ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন হলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬৮ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সভাপতি শাকিল, সম্পাদক তাসনিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের ২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে মো. শাকিল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নুসরাত জাহান তাসনিমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সংগঠনের মডারেটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরা সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আবৃত্তিচর্চা, বাচিক শিল্প এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিজা বিনতে সামসের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার পদ স্থগিত থাকবে।
সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মো. শাহ সুফি ওয়াছি মিয়া ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমি পূর্ণ নিষ্ঠা, সততা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। আশা রাখছি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বও সংগঠনের সাংগঠনিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তুলবেন। খুব শিগগিরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করব। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন রইল।’
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, নবনির্বাচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে আবৃত্তিচর্চা, বাচিক শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি দেশের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটির ইতিবাচক অবদান আরও বিস্তৃত হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।
মডারেটর অধ্যাপক ড. মুনিরা সুলতানা নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক নুসরাত জাহান তাসনিমকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি কামনা করেন।
৭৭ দিন আগে
ঢাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের নতুন কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের (সিএইচটিএসএফ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কে এইচ নওশাদ।
৩৪ সদস্যের এ কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হিসেবে আবু সাইদ ইবু, সহ-সভাপতি হিসেবে আবু আসিফ ও শেখ মাহমুদুল হাসান নকীব দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ আরমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অর্নি দে ও জাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. ইমরান হাবিব, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মো. আব্দুল্লাহ আল নাঈম, প্রচার সম্পাদক হিসেবে নুসরাত জাহান তানজিলা এবং অর্থ সম্পাদক হিসেবে তাসিম উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন।
নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে সভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক কে এইচ নওশাদ বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তারা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় নতুন কমিটি ক্যাম্পাসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে, সংগঠনের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
৮৭ দিন আগে