গৃহবধূ
ফরিদপুরে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামী-শাশুড়ির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সুমি আক্তার হত্যা মামলায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিহতের স্বামী আতিয়ার রহমান তালুকদার (২৮) ও শাশুড়ি মোছা. রাহেলা বেগম (৫০)। এ মামলার অপর আসামি সুমির শ্বশুর খলিলুর রহমান তালুকদারকে (৫৫) খালাস দেওয়া হয়েছে। আতিয়ার বর্তমানে পলাতক এবং রাহেলা ও খলিলুর রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করে এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।
মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের আতিয়ার রহমান তালুকদারের সঙ্গে ২০১০ সালে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী নিহতের ভাই মো. সরোয়ার মোল্যা (৪৫) এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর সুমি অন্তঃসত্ত্বা হলে আতিয়ার ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। তার পর থেকেই সুমিকে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সুমিকে নির্যাতন করা থামেনি বলে অভিযোগ করেন তার ভাই।
২০১১ সালের ১১ মে সকালে কেশরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুজার মোল্যা মোবাইল ফোনে সুমির মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা কেশরাইল গ্রামে গিয়ে আতিয়ারের বাড়ির ঘরে খাটের ওপর সুমির মরদেহ দেখতে পান।
বাদী অভিযোগ করেন, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেহ ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় মামলা করেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে তার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডিদাসদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না ওই এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে তামান্নার ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন তার স্বামী। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তামান্নাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়।
তামান্নার মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার স্বামী শাখাওয়াত নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
৭ দিন আগে
রাজধানীতে স্ত্রীর গলা কেটে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে স্বামী পলাতক
রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাসা থেকে ইয়ানুর (২৫) নামের এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল রানা পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে কদমতলী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত ইয়ানুর পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিনি কদমতলীর ডিপটির গলির জিএম কাদেরের বাড়িতে বসবাস করতেন।
কদমতলীর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুনাহার পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, ‘ডিপটির গলির জিএম কাদেরের বাড়ির একটি সাবলেট ভাড়া বাসায় স্বামী জুয়েল রানার সঙ্গে থাকতেন ইয়ানুর। প্রায় তিন মাস আগে তারা এই বাসায় ওঠেন। প্রায় দু-তিন মাস যাবৎ প্রতিদিনই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। গতকাল রাতেও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
‘রাত থেকে ইয়ানুরের মা তাকে ফোন দিয়ে না পেলে তার ভাইকে বলে ইয়ানুরকে কল দিতে। পরবর্তীতে নিহতের ভাই তাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়েও পায়নি। এরপর তিনি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই বাসায় যান এবং বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে তিনি দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন। রুমে রক্তের দাগ দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে খাটের নিচে ইয়ানুরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
‘পরবর্তীতে আমাদের খবর দিলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময়ে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ইয়ানুরকে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে খুনি পালিয়ে গেছে।
কদমতলী থানা পুলিশ জানায়, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল রানা আত্মগোপনে থাকায় তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
১০ দিন আগে
লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো কারা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ শ্বশুরবাড়ির উঠানে রেখে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি একটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি ওই বাড়ির উঠানে রেখে সটকে পড়েন। তবে নিহতের বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, ওই নারীকে তার স্বামীই নির্যাতন করে হত্যা করে লোক দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আফরোজা ওই গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে দীন ইসলামের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের সুবাদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই আফরোজাকে তার স্বামী শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন আফরোজা।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, গতকাল (রবিবার) রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এ কথা বলার পরই ফোনটি কেটে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আফরোজার স্বামী দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে বলেন, ‘আফরোজা অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা পাঠান, তার চিকিৎসা করাতে হবে।’
তবে বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও আফরোজার বাপের বাড়ির লোকজন টাকা পাঠাননি। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের জানান, আফরোজা মারা গেছেন।
এরপর সোমবার সকালে গাজীপুর থেকে একটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন ব্যক্তি আফরোজার মরদেহ কালীগঞ্জে দীন ইসলামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিচিত ওই ব্যক্তিরা মরদেহটি টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির উঠানে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এ সময় তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির, এমনকি বাপের বাড়ির কাউকে তাদের সঙ্গে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, আফরোজার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
আফরোজার চাচাতো বোন শাপলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুরের বাসায় তার স্বামী দীন ইসলাম আফরোজাকে কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। চিকিৎসার কথা বলে তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। তারা টাকা না দেওয়ায় কৌশলে মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার বিচার দাবি করেন শাপলা বেগম।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মরদেহের সঙ্গে থাকা ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ওই কাগজে বিষপানে আফরোজার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরা তদন্ত করছি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪২ দিন আগে
কুমিল্লায় গৃহবধূকে খণ্ডিত করে হত্যার অভিযোগ, ভাড়াটিয়া আটক
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম ওই এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে ফরিদা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন।
পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি বস্তা ও প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় কাছে গিয়ে তিনি খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। সে সময় সন্দেহের ভিত্তিতে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, লাইলী বেগম প্রায় আট দিন আগে দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রাম থেকে এসে ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন।
নিহত ফরিদা বেগমের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের এক ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এদিকে, স্থানীয়রা জানায় সূত্রে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের একটি পুরোনো হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় একটি শিশুকে হত্যার অভিযোগে লাইলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তারা জামিনে মুক্তি পান। তবে ওই মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক, কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘৯টি প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটক নারী আরও চারজনের নাম বলেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
৫০ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে শাহবাগ থানাধীন ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরডাঙ্গি গ্রামে।
নিহতের বাবা লতিফ মল্লিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে পাঁচ দিন যাবৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ‘আজ (শুক্রবার) ভোররাতে পাশের অন্য রোগীর স্বজনরা আমাকে বলে, এই দেখেন, আপনার মেয়ে লাফ দিচ্ছে।
‘সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সব শেষ। আমার মেয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। সবাই তাকে লাফ দিতে নিষেধ করলেও সে কারও কথা না শুনে লাফ দিলে নিচে থাকা একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসএসসি পাস করার পরই সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে মোবাইলে আমার মেয়ের বিয়ে দেই। এর মধ্যে ওর স্বামী দেশে এসে আবার চলে যায়। অনেক চেষ্টার পরও সন্তান না হওয়ায় ধীরে ধীরে ওর মানসিক সমস্যা শুরু হয়। গত দশদিন যাবৎ ওর সমস্যাটা একটু বেশি হচ্ছিল। সব সময় উল্টাপাল্টা কথা বলত। ওকে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলত, ‘এটা কোন দেশ? আমি কোন দেশে আছি?’ এছাড়া জিহ্বায় ঘা ও শরীরের অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন যাবত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমার দুই সন্তানের মধ্যে আমার মেয়ে ছিল বড়।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।
৫৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগে জামায়াত নেতাকে মারধর
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূর সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত প্রেমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়েছেন ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদা।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক হোসেন দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
স্থানীয়রা জানান, এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন ফারুক হোসেনকে আটক করে মারধর করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪ থেকে ৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার একটি বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে এক নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছিল। পরে আমি সরে গেছি। আমাকে কোথাও হাতেনাতে ধরতে পারেনি। এরপরও তারা আমার বিরুদ্ধে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মারধর করেছে।’
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম দাবি করেন, ফারুক অনেক দিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিরক্ত করতেন। বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখাতেন এবং তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। আশপাশের লোকজন আগে থেকেই বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি। পরে ফারুকের ছেলে আমার ছেলেকে কিছু ছবি দেখায়, এরপর আমরা বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও তিনি আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬০ দিন আগে
চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আরেক নারী আহত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে জানালা ভেঙে বসতঘরে ঢুকে রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে ডাকাতদল। এ সময় তাদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)। এ সময় ঘরে থাকা কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাওলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। নিহতের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে ও চার মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে ছুরি দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলেন। তিনি ভয়ে আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা হঠাৎ তার ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যান ডাকাতরা। এরপর তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করেন।
তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেননি।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালার কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি চিৎকার করেন। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে আসেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বাড়িটির বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ সময় পুত্রবধূদের দাদা-শ্বশুর নুরুল ইসলাম গেট খুলে দিলে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করেন। তারা ছোট গৃহবধূকে হাত বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্বজনরা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমাইয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন, গেটটি বাইরে থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ইউএনবিকে বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
৭৫ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বকশীগঞ্জ উপজেলার রাশেদুর রহমান, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জসিম মিয়া, আজমত আলী, মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে অটোরিকশায় চড়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে জানকীপুর মাজালিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে নিলক্ষিয়া বাজারের কাছে অটোরিকশাচালকের সহায়তায় কয়েকজন তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামী নিলক্ষিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় ইদ্রিস আলী নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক।
৮৪ দিন আগে
বগুড়ায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রীতা রানী মজুমদার স্থানীয় বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করেন। স্বামী-স্ত্রী নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।
নিহতের স্বামী বিধান চন্দ্র রায় জানান, গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে তারা রাতের খাবার শেষ করে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ তার ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় পাশের ঘর থেকে স্ত্রীর গোঙানির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান তিনি।
ঘরে ঢুকেই তিনি দেখতে পান, রীতা রানী মজুমদার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং তার গলা কাটা। পরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় বাড়ির মূল দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) হুমায়ুন কবীর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
১৩০ দিন আগে