ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ছয় আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে বাহার মিয়া (২২) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন রাতে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
অন্য আসামিরা হলেন জাকির (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৩৫) ও আলামিন ওরফে জিকির (৪০)।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওয়াজ শুনতে স্থানীয় একটি মাদরাসায় যাচ্ছিল মেয়েটি। পথে একই গ্রামের জাকির, নাঈম, সোহাগ, মোকলেস, আলামিন ও বাহার তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জাকির, নাঈম ও সোহাগ ধর্ষণ করেন। এ সময় অন্য তিনজন ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
ঘটনার পর রাত ১১টার দিকে আসামিরা কিশোরীকে তার বাড়ির পাশে রেখে যান। এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিশোরীর বাবা জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর তার মেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে গত বৃহস্পতিবার তিনি মেয়েকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসীরা স্থানীয়ভাবে বিচারের আশ্বাস দেন। তবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা মামলা করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, শনিবার রাতে ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে বাহার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর ভুক্তোভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার পরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি জানা যাবে।
১০ ঘণ্টা আগে
বেড়াতে যাওয়ার পথে সড়কে ঝরল দুই বন্ধুর প্রাণ
শ্রীমঙ্গলে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী নরসিংদীর দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বৈশামুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড় মহল্লার প্রয়াত ক্ষিতীশ দাসের ছেলে অনুপ কুমার দাস (৫৭) এবং একই শহরের শিববাগ মহল্লার বাসিন্দা ও গাজীপুরের পূবাইল আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম (৫৮)। তারা সম্পর্কে বন্ধু ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (বুধবার) সকালে দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বৈশামুড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি মালবাহী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনাস্থলেই অনুপের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আনোয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। পরে খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা দেহ নরসিংদীতে নিয়ে আসেন।
অনুপের ছোট ভাই তরুণ কুমার দাস বলেন, তার ভাই একসময় প্রবাসে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
দুই বন্ধুর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুজনের মধ্যে গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল, চলেও গেলেন একই সঙ্গে।’
অনুপের দেহ নরসিংদীর শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে আনোয়ারুলের দেহ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সরাইল খাঁটিহাতা (কুট্টাপাড়া) হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন আনোয়ারুল। এ সময় দুই আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল বলেও জানান তিনি।
৪ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
চুরি হওয়া নবজাতকটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসবব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন মরিয়ম বেগম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী বোরকা পরিহিত এক নারী অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন ওই নারী।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মরিয়মের পেটে ব্যথা অনুভূত হলে সহযোগিতার কথা বলে নবজাতককে কোলে নেন ওই নারী। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে নিয়ে কক্ষের দরজার কাছে যান তিনি। এ সময় মরিয়ম তাকে কক্ষের ভেতরে আসতে বলেন। কিন্তু তার কথা উপেক্ষা করে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।
এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই নারীকে শিশুটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
নবজাতকের নানি মমতাজ বেগম বলেন, দুপুরে ওই নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি আমাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মরিয়মের পেটে ব্যথা শুরু হলে তিনি শিশুটিকে কোলে নেন। এরপর তিনি মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।
শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্রসন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়। ওই নারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সন্তানকে না নিয়ে হাসপাতাল থেকে যাব না। সরকারি হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয়ে যাবে, এটা কী করে হয়? এখানে নিরাপত্তা কোথায়?’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘হাসপাতালে সবসময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনের অসচেতনতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভি স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে আবেদন করা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত ও শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
৯ দিন আগে
নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে নিজের জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করেছেন এক পুলিশ সদস্য। পৌর এলাকার শিমরাইল সেতুর কাছে ওই নারী নদীতে ঝাঁপ দিলে পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসানও পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তাকে উদ্ধার করেন। পরে একটি নৌকার সহায়তায় তাকে তীরে এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম সেতুতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই নারী বিবাহিত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেই অভিমান থেকে গতরাতে তিনি সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন।
এ সময় এক ব্যাচমেটকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া কনস্টেবল অমিত হাসান বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করেন তিনি। একটি নৌকার সহায়তায় তাকে নদীর তীরে এনে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী জানান, ওই নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজ নেন।
ওই নারীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
প্রাথমিকভাবে ওই নারী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমাদের এক পুলিশ সদস্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টায় তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
কনস্টেবল অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
৫৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলার বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ও তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) উপদেষ্টা সিদারাতুল মুনতাহার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি হচ্ছিল। অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে আওয়াজ কমাতে বলেন।
পরে শতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে। সে সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। মাদরাসার ছাত্ররাও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাল্টা ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এতে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ ৩০ জন আহত হন।
আহতরা হলেন: শেখ সানি (১১), সাখাওয়াত (২০), বিন ইয়ামিন (২০), আব্বাস (১৭), জাকারিয়া (২১), মেরাজ (১৮), আশরাফ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), সিয়াম (১৭), ফাইজুর রহমান (২১), আরাফাত (১৮), বাশার (১৯), মাহাদী (২০), তাওহীদ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), বাইজিদ (১৭), শেখ সাদী (১৬), ফাহিম (২০), আব্দুর রহিম (২০), মিরাজ (২৭), আশরাফ (১৭), সাদেক (১৯), মনি (২৭), রাফি (১৮), শামিম (১৭), তালহা (১৮), আতাউল্লাহ (১৯), নিয়ামত উল্লাহ (২২), ইমতিয়াজ (১৭), আশরাফ (১৭) ও তানভির (১৭)।
আহতদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দাবি, বুধবার তাদের মাদরাসায় পরীক্ষা ছিল। গানবাজনার উচ্চশব্দে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তারা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গিয়ে শব্দ কমানোর জন্য বলেন। প্রথমে শব্দ কমালেও পরে তারা আবারও তা বাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদরাসার ছাত্রদের তর্কাতর্কি হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে মাদরাসা ছাত্রদের আহত করে।
এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তারা। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, ওই ঘটনার পর রাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় মাদরাসা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় গভীর রাতে দুপক্ষের বৈঠক হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম জানান, বৈঠকে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ সময় হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজুল ইসলাম পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, পুলিশ লাইন্সের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনকারী তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে।
৬০ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কুট্টাপাড়া এলাকার বাসিন্দারা।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কুট্টাপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান। পরে হাইওয়ে থানা, সরাইল থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই রাতে কুট্টাপাড়া হাইওয়ে থানার পূর্ব পাশে একটি সেতুর কাছে কুট্টাপাড়া গ্রামের জিহাদ (১৭) নামের এক কিশোর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন।
৯১ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইটবোঝাই ট্রাক খাদে, নিহত ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইটবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ও সহকারী আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার তিনলাখপীর-চারগাছ সড়কের বাদৈর ইউনিয়নের মান্দারপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জেলার সরাইল উপজেলার বৈশামুড়া এলাকার আরব মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া (১৮) এবং একই এলাকার ফরহাদ মিয়ার ছেলে আরমান মিয়া (১৭)। তাদের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকালে চারগাছ এলাকা থেকে ইট নিয়ে আসার সময় মান্দারপুর এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় স্থানীয়রা চালক ও হেলপারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
১১১ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশি বৈঠকে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার সালিশে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবার জানায়, জাহাঙ্গীর আলমের ভাতিজির সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই এলাকার সাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আতাউল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। গতকাল (সোমবার) বিকেলে এই বিরোধ মীমাংসার জন্য এলাকায় এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আতাউল্লাহর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মেয়ের বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীরসহ ৫-৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উর রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২৪ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৪, আহত ২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে উল্টে চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামুড়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আরশ আলী (৬৫) ও তার নাতি আলিফ মিয়া (৭), হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মৌসুমী দাস (৩০) এবং জেলার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের সেতু মজুমদারের ছেলে তনয় কুমার মজুমদার।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মাধবপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড এলাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি একটি মালবাহী ট্রাককে অতিক্রম করার সময় অতিরিক্ত গতি থাকায় বৈশামুড়া এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসে থাকা ৪ জন যাত্রী নিহত হন। এছাড়াও কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপর ফায়ার সার্ভিসের সরাইল ইউনিট ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা মরদেহ নিজ জিম্মায় বাড়িতে নিয়ে যান।
সড়ক দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সেখানে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছিল। পরে দুপুর ২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান দূর্ঘটনার হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও তার সহকারী পালিয়ে যান। খাদে পড়া বাসটি উদ্ধারে প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১৩২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুরপাড়ে শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানে নিয়মিত টেলিভিশন চালানোর কারণে সারা দিনই দোকান ও এর পাশের পুকুরপাড়ে মানুষের ভিড় থাকে। দোকানের পাশ দিয়ে চলাচলকারী গ্রামের নারী ও মেয়েদের উদ্দেশ্য করে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অপ্রীতিকর মন্তব্য করা হয়। এ নিয়ে চায়ের দোকানটি তুলে দেওয়ার আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে।
পাশাপাশি গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির মো. জোবায়েরের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামের মইধ্যের বাড়ি হাজী মো. জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের সঙ্গে চায়ের দোকান উচ্ছেদের প্রসঙ্গটি নতুন করে যুক্ত হয়। মিন্দান আলী বাড়ির লোকজন গ্রামের ওই চায়ের দোকান উচ্ছেদের পক্ষে রয়েছেন।
সম্প্রতি গ্রামের একটি সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজন ওই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল (শনিবার) সকালে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে উভয়পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একপর্যায়ে গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরে দুপুর একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, গ্রামে জারু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েকদিন আগে এক সালিশে দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানেনি। এসব নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩৩ দিন আগে