ভাড়া বৃদ্ধি
বাসভাড়া বাড়ল প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাস ও মিনিবাসের নতুন ভাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।
গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়।
এরপরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন মালিক ও শ্রমিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এর আগে ২০২২ সালে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
১ দিন আগে
জ্বালানির মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ হবে: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহনের ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
যানবাহনের ভাড়া নিয়ে একটা সংকট হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি এটা যৌক্তিকভাবে হবে। এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে এসি বাসের ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে এবং আসন্ন ঈদে সেটা কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর পরিবেশ মানোন্নয়নে বিশেষ করে টয়লেট ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরপর ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাড়া শুধু বাস নয়, আসলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বেশি প্রভাব পড়বে ট্রাকের ভাড়ায়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, সরকারের কাজ কিন্তু শুধু জনগণ বলতে যাদের বুঝি—ভোক্তার স্বার্থরক্ষা নয়, সরকার কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও সরকার। যে মানুষটা বাস চালান, যে মানুষটা ট্রাক চালান, তিনিও এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এই সরকার কিন্তু তারও সরকার। সুতরাং তার ওপরও এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে তার ব্যবসা না হতে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার কিন্তু কারো পক্ষ নয়, সরকার সবার। সরকার চেষ্টা করবে এমন একটা পয়েন্টে আসা যেখানে সবার কম ক্ষতি হয়। আমি আগে একদিন বলেছিলাম, এই সংকটে আমাদের প্রত্যেকের ক্ষতি হবে; এটা মেনে নিতে হবে। এটা সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যখনই তেলের দাম বাড়ছে, ভাড়া বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য ওই অজুহাতে যতটুকু বাড়ার কথা তার চাইতে অনেক বেশি বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করব আসলে এই জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।
জনগণের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কিছুটা কষ্ট করতে হবে, প্রত্যেকটা মানুষ কষ্ট করছে। তবে আমরা যে চেষ্টাটা করে যাব সেটা হচ্ছে, সবচেয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল যে মানুষগুলো, কিছু কিছু চাপ কারও কারও জন্য, এই যে আমি বলে ফেললাম যে কষ্ট হবে সহ্য করা, এটা সহ্য করা সবার জন্য সোজা না।
উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা ডিমের দাম যখন এক-দুই টাকা বেড়ে যায়, কিছু কিছু মানুষের জন্য দুই টাকা ডিমের দাম বৃদ্ধি তার শিশুকে একটার জায়গায় অর্ধেক ডিম দেবে কিনা—এই সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে। তাই ওই শ্রেণির বা ওই মানুষগুলোর জন্যই আমরা প্রয়োজনে অন্য কর্মসূচি বাড়াব।’
এ সময় ফ্যামিলি কার্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের তো ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের একটা কর্মসূচি হয়েছে যেটা পাইলট। একটা কথা একটু বলে রাখি, এই বাজেটে আমরা ৪০ লাখ মানুষকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেব, যাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনারা কেউ কেউ পত্রিকায় হয়তো দেখেছেন, এই বরাদ্দ রাখার জন্য আইএমএফের সঙ্গে সম্ভবত আমাদের আলোচনার কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের, সবচেয়ে দুর্বল, সবচেয়ে দরিদ্র জনগণের পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। শুধু সেটা নয়, প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে আরও অনেক বেশি মানুষকে তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেবে। সুতরাং সরকার জনগণের পাশে নিশ্চয়ই থাকবে।
ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় আটটি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। মানে আমরা যখন ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করি, ফুটপাত আসলে হকারদের জন্য নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, এটা হাঁটার জন্য, নামই তো ফুটপাত। কিন্তু আমাদের এই সংকট যেহেতু আছে, তাদের কীভাবে আমরা কোনভাবে জোগান দিতে পারি, সেই চেষ্টাটা চলছে।
২ দিন আগে
যাত্রী দুর্ভোগ ও সেবা না বাড়িয়ে ভাড়া বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য: ক্যাব চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপদ ও সহজ গণপরিবহন হলেও বিগত সরকারগুলোর রেলওয়ের উন্নয়নে মনোযোগ না থাকায় রেলপথ যেভাবে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ হবার দরকার ছিলো তা হয়নি বলে দাবি করেছে ক্যাব চট্টগ্রাম।
অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ যাত্রীর চাহিদা থাকা সত্বেও টিকেট না পাওয়া, মন্ত্রণালয়ের লোকজন যাত্রী/ভোক্তাদের ভোগান্তি, হয়রানি ও অনিয়মের কথা শুনার সময় পাচ্ছে না।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কোভিড শয্যা বাড়ানোর দাবি ক্যাবের
এতে সংগঠনটি আরও দাবি করেছে যে মান্দাতার আমলের গ্রাহক অভিযোগ পদ্ধতি, গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোর দুরাবস্থা, অকার্যকর, টিকেট কালোবাজারীদের সঙ্গে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আতাঁতের কারণে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না।
ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলা হয় যে সাধারণ জনগণ যখন নিত্যপণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চরমভাবে জর্জরিত। এমতাবস্থায় রেলওয়ের সেবা না বাড়িয়ে ও ভোগান্তি নিরসন না করে ট্রেনের টিকিটের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত ভাড়ার হার কার্যকর হয়েছে ২৫ জানুয়ারি থেকে। এতে শোভন চেয়ার শ্রেণির ৩৮০ টাকার ভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০৫ টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে আসন প্রতি ভাড়া ৭০ টাকা বাড়িয়ে ৬৩০ টাকার ভাড়া হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নেতারা।
২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ইং গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সই করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহ-সভাপতি সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, রেলপথ যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, যাত্রীর স্বার্থ রক্ষায় চরম অবহেলা, অনীহা, রেল বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রাখার জন্য রেল বিভাগ যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে আন্তরিক নয়।
আরও পড়ুন: গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিতে প্রজ্ঞাপন চায় ক্যাব
যার কারণে রেলের ভাড়া দ্বিগুন করা হলেও সেবার মান বাড়েনি।
আর রেল ব্যবস্থাপনায় ভোক্তাদের কোন অংশগ্রহণ গুরুত্বই পায়নি। অভিযোগ প্রতিকারে ঢাবি’র শিক্ষার্থীদের লাগাতর ধর্মঘট ডাকলেও পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন হয়নি। এমনকি মান্দাতার আমলের সেই কোটা পদ্ধতি, টিকেট বিক্রয়ে সিন্ডিকেট প্রথা অব্যাহত আছে। যার কারণে রেলের টিকেট যাত্রীদের জন্য সোনার হরিণ হলেও কালোবাজারীদের কাছে অতি সহজলভ্য হয়ে আছে।
অনলাইনে টিকেট ছাড়ার পর সবগুলো বিক্রি দেখালেও ট্রেন ছাড়ার পর অনেক সীট খালি থাকে এবং লোকসানের সব দায়ভার রেলওয়ের ঘারে চাপে।
নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কারণে রেলপথ মন্ত্রণালয় পৃথক মন্ত্রী পেলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত হয়নি।
তাই অবিলম্বে রেলপথে যাত্রী হয়রানি, ভোগান্তি ও অনিয়ম রোধে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ডিজিটাল গ্রাহক সেবা কেন্দ্র (প্রয়োজনে প্রতিকার না পেলে ডিজি, মন্ত্রী, সচিবকে অবহিত করা যায় এমন ব্যবস্থা), বর্তমান টিকেট বিক্রয় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন ও ঢেলে সাজানো, কোটাপদ্ধতি বাতিল, যাত্রীদের জন্য টিকেটপ্রাপ্তি সহজলভ্য করা, যাত্রীসেবার অনিয়ম রোধে রেলে তাৎক্ষণিক গ্রাহক সেবা কেন্দ্র/হেলপ লাইন চালু, সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম ও যোগ্য প্রতিনিধিকে রেলস্টেশনে অবস্থান নিশ্চিত করে সপ্তাহে অন্তত একদিন গণশুনানির আয়োজন করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রেলপথের সেবা ও ব্যবস্থাপনায় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভোক্তা প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: ইফতার বিতরণের পরিবর্তে অর্থ প্রদানের আহ্বান ক্যাবের
১১৮১ দিন আগে