সন্ত্রাসী
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
খুলনার পূর্ব রূপসায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুর সহযোগী রাজু মোড়ল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে তাকে উপজেলার রামনাগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গ্রেপ্তার রাজু মোড়ল খুলনার একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসে। এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, ‘গ্রেপ্তার রাজু মামুন মীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি। আমরা তাকে খুঁজছিলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজু মোড়ল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী ‘‘গ্রেনেড বাবুর’’ অন্যতম সক্রিয় সদস্য। তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।’
৭ দিন আগে
চাঁদাবাজির অভিযোগে খুলনায় পিস্তল-ককটেলসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে লবণচরা থানার রূপসা সেতুর নিচে জালালের তুষ মিলের পাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা জুট মিল এলাকার মো. আল আমিন (২৩), রূপসা মডার্ন সীফুড এলাকার মো. রনি মোল্লা ওরফে কসাই রনি (২৮) ও রূপসা স্ট্যান্ড ডাক্তার গলির স্বরন জোমাদ্দার ওরফে সজল জোমাদ্দার (২৬)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, খুলনার দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার আসামিরা বিভিন্ন সময়ে ঘাটের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতিও দেখানো হতো।
এসব অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাত ১০টার দিকে রূপসা সেতুর উত্তর পাশে যায়। এ সময় গ্রেপ্তার আসামিরা হেলমেট, মুখোশ ও গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে ঘটনাস্থলে আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বালুর মধ্যে পড়ে যান। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পিস্তল, গুলি ও ককটেল উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৬ দিন আগে
শীর্ষ সন্ত্রাসী চিংড়ি পলাশের স্ত্রী আটক, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
খুলনা নগরীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ তালুকদার ওরফে চিংড়ি পলাশের স্ত্রী টিকলি মাক্কি রাানীকে (৩০) আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের বাড়ি থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
ডিবি জানায়, পলাশের বাড়িতে কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে সেখান থেকে পলাশের স্ত্রীকে আটক করা হয় এবং তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
আটক টিকলি মাক্কি রাানী জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তার স্বামী পলাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। স্বামীর সংসারে তিনি আর ফিরতে চাননি। কিন্তু তার স্বামীর জামিন হয়েছে—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার ভাসুর তাকে আবার খুলনায় নিয়ে আসেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন বলেও দাবি করেছেন।
ডিবির কর্মকর্তা আহাদুজ্জামান বলেন, পলাশের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। তবে সন্ত্রাসী পলাশের বড় ভাইয়ের কাছে এসব অস্ত্র ছিল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। পলাশ মূলত খুলনা ও আশপাশের জেলার চিংড়ির ঘেরের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানায় আটটি হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
২১ দিন আগে
ঝিনাইদহে বন্দুকসহ ‘সন্ত্রাসী’ আবু সাইদ গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহে হরিণাকুণ্ডু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আবু সাইদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ সদর থানায় আবু সাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা হয়েছে।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুণ্ডু মাঠপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু সাইদ হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারদখলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুণ্ডু মাঠপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে বসবাস করছিলেন।
ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহিষকুণ্ডু এলাকায় এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। স্থানটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে আবু সাইদের কাছ থেকে একটি অবৈধ ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, ‘গ্রেপ্তার আবু সাইদ এলাকার একজন দুর্ধর্ষ ও পরিচিত সন্ত্রাসী। তিনি হরিণাকুণ্ডু অঞ্চলে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধ চেইন নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও একাধিক অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের তথ্য রয়েছে। তার হেফাজত থেকে ১টি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু সাইদের বিরুদ্ধে আজ (বুধবার) ঝিনাইদহ সদর থানায় অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২৯ দিন আগে
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার
খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ খুলনার এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ । এর আগে গতকাল (রবিবার) রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আরমান দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েকদিনের পুলিশের তৎপরতার কারণে খুলনা ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন। রবিবার রাতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভৈরব নদ থেকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ঘাউরা রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলার এজাহারনামায় আরমান দুই নম্বর আসামি।
এদিকে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরমান একসময় দৌলতপুর থানা এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী হুমার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই বাহিনী গঠন করে প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দৌলতপুর থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
৩৮ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
সোমবার (১৫ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার মুন্সিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তাররা হলেন: রায়েরমহল মুন্সিপাড়ার বিল্লাল সিপাই ওরফে বিল্লু (২৬) এবং তার সহযোগী একই এলাকার রবিউল ইসলাম রনি ওরফে হৃদয় (২১)।
র্যাব-৬-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল রায়েরমহল মুন্সিপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া বিল্লাল সিপাইয়ের শয়নকক্ষের কার্নিশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র্যাব। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, বিল্লাল সিপাই ওরফে বিল্লুর বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা ও হরিণটানা থানায় অস্ত্র আইন এবং হত্যাচেষ্টা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
১২২ দিন আগে
সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে সমস্ত সন্ত্রাসী দেখিয়েছে, তাদের যথাযথভাবে দমন করা হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলাকারী ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সর্বশেষ আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরসহ পার্শ্ববর্তী সমগ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেজন্য এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিকল্পিত সরকারি স্থাপনা ও অ্যাকাডেমি নির্মাণের লক্ষ্যে আজ সব বিভাগীয় প্রধানদের সাথে ম্যাপ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের বর্তমান কারাগারটি বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের পাশের ওই এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারা অধিদপ্তর প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবে যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য কোন স্থানে কী স্থাপনা করা হবে, তাও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
১৩৭ দিন আগে
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৩১ মে) সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, যার প্রত্যক্ষ উদাহরণ জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে। ব্যবসায়ীদের বাসভবনে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার পর সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
তিনি বলেন, অপরাধীদের দমনে গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাহারা বসিয়ে সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্য শতভাগ অর্জন সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কীভাবে দেখাল, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে জড়িত ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। জনগণকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন কারণে যারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। প্রকৃত বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।’
উচ্ছেদ নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জঙ্গল সলিমপুরে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ড্রোনচিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের দীর্ঘদিনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে। দেশে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩৮ দিন আগে
খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফয়সাল গ্রেপ্তার
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিম বাহিনীর অন্যতম প্রধান সহযোগী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলনা মহানগর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈমুর ইসলাম জানান, ফয়সালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী নুর আজিমের অবর্তমানে ফয়সাল ওই বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন।
তাকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে খুঁজছিলাম। আজ (শুক্রবার) তার সঠিক সন্ধান জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৮৮ দিন আগে
‘সন্ত্রাসের জনপথ’ জঙ্গল সলিমপুরে চলছে যৌথবাহিনীর অভিযান
চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসের জনপথ’ খ্যাত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৫টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবির সমন্বয়ে এ অভিযান শুরু হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, অভিযানে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য। এছাড়া সেনাবাহিনীর সাজোয়া যান, পুলিশের জলকামানসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করছে যৌথবাহিনী।
সকাল থেকে অভিযান শুরু হলে পুরো জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে রেখে ভেতরে সন্ত্রাসী, অস্ত্র এবং মাদকের সন্ধানে অভিযান চলছে। দুপুর পর্যন্ত বেশ কিছু সন্ত্রাসীকে আটক করার কথা জানালেও পুলিশ এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে বেশ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। অভিযানে ৫৫০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব, ১২০ বিজিবি, ১৫ এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ অংশ নিয়েছে। প্রবেশ ও বাহিরের পথে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি।
বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত যৌথবাহিনীর এ অভিযান চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে আসামি ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় র্যাবের মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় আসামি করা হয় আরও ২০০ জনকে। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২ যুগ ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ এবং ২০২২ সালেও প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করতে চেষ্টা করে। তবে সে সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছে হার মেনে ব্যর্থ হয়। এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্স এবং কঠোর বার্তা প্রদানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর সমন্বিত অভিযান চলছে।
২২১ দিন আগে