বিল পাস
এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র্যাব
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের পথ তৈরি হলো।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয়।
২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এ বিলে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র্যাব গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। সংশোধিত ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হয়। তার পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি।
এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে এসআরবি বিলটি উত্থাপন করা হয়। ওই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে বলেন, নতুন নামে কার্যত র্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ও তারা আটটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পাশাপাশি পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এস কে মুজিবুর রহমান ইকবাল।
বিলে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা হবে।
এসআরবির সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে।
এছাড়া এসআরবির মহাপরিচালক হবেন কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নিচে হবে না।
বিল অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দায়িত্ব, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধির আওতায় র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম বহাল থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির অধীনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।
এছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ ও ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও গুমের ঘটনায় কথিত সম্পৃক্ততার কারণে মানুষ এখনও র্যাবকে ভয় পায়।
যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য আরও প্রশ্ন করেন, প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে অভিযোগগুলোর যথাযথ প্রতিকার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে কি না। তিনি কমিটির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে রাখার প্রস্তাবও দেন।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হবে, বিলটিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এসআরবির সব স্থাপনা ও কার্যালয় গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি।
নাজিবুর রহমান ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ব্যবস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল।
তার মতে, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়-দায়িত্ব এসআরবির কাছে হস্তান্তরের অর্থ হলো ‘শুধু সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হচ্ছে’।
শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি ছিল। তবে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে র্যাবের সদস্য, সুযোগ-সুবিধা, লজিস্টিকস ও জনবল বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে বিলটি প্রত্যাহার করে প্রথমে এ ধরনের একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কেন রয়েছে, তা নির্ধারণের আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির অঙ্গীকার ছিল। বিলটি বিলম্বিত করার অর্থ হবে র্যাবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও এটি রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগের বিষয়গুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি দেখবে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর র্যাব বিলুপ্ত হবে এবং এরপর এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম কোথাও না কোথাও হস্তান্তর করতেই হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। নতুন সংস্থার কাছে এসব হস্তান্তর করা হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন করে কেনাকাটা করতে হবে না বলেও জানান তিনি।
এপিবিএন বিলও পাস
এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-ও পাস করেছে। এর মাধ্যমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বিলে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন ও সরকার নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের অধীনে থেকে তারা কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, সম্পত্তি জব্দ ও গ্রেপ্তারও করতে পারবে।
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের সদস্যদের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো ও জনমত নেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস হয়।
৫ দিন আগে
স্থায়ী আইনে রূপ নিল ৯১ অধ্যাদেশ, আজই পাস হলো ২৪টি
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ৯১টি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে আজকের অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে ৬৭টি বিল পাস করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি এবং ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে তাদের মূল আকারে এবং ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে।
বাকি ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে এবং ১৬টি নতুন বিল শক্তিশালী আকারে পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে মোট ৯১টি বিল সংসদে পাস করে অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হয়।
আজ (শুক্রবার) পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ কয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। কারণ এসব বিলের ধারার ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল।
অন্যান্য বিলের মধ্যে রয়েছে— আমানত সুরক্ষা বিল, আবগারি ও লবণ বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, অর্থ (অর্থবছর ২০২৫-২৬) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল।
বাকি বিলগুলো হলো— সাইবার নিরাপত্তা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
১৫৮ দিন আগে
সরকারি ক্রয় আইন সংস্কারে সংসদে বিল পাস
দেশের সরকারি ক্রয় কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘সরকারি ক্রয় (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট) (সংশোধন) অধ্যাদেশ- বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে এ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হলো প্রায় দুই দশকের পুরনো আইনটি সংস্কার করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; যেখানে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং অর্থের সঠিক মূল্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিলটির মাধ্যমে ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনি রূপ দেওয়া হয়েছে যা আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা হয়েছিল।
এই আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো এর মূল উদ্দেশ্যে। সংশোধনীতে শুধু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর নজর দেওয়ার পরিবর্তে একটি বিস্তৃত ম্যান্ডেট যুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণমান এবং টেকসই ক্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের মতো এই আইনে টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। নতুন ১৬ ধারা অনুযায়ী, দরপত্র নথিতে এমন কোনো শর্ত যুক্ত করা যাবে না যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে অথবা শ্রমিকের অধিকার (মজুরি, সামাজিক সুবিধা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ) লঙ্ঘন করে।
বিলে ‘রিভার্স অকশন’ বা বিপরীত নিলামের মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছে। এটি একটি রিয়েল-টাইম ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়া, যেখানে সরবরাহকারীরা কাজ পাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে তাদের দাম কমিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। এর ফলে সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, সমস্ত সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মের যেকোনো ব্যতিক্রমের জন্য এখন থেকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পূর্বানুমতি লাগবে।
কাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বিপিপিএকে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ভৌত সেবাকে ক্রয়ের একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করা। আইনটি কাঠামোগত চুক্তি ব্যবহারকেও প্রসারিত করেছে, যার ফলে একাধিক সরকারি সংস্থা আগে থেকে নির্বাচিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলোর জন্য সরকারি ক্রয় সহজ করতে বিলে বিধান রাখা হয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইন বা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে পারবে। তবে এর জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় বিলে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রযুক্তি সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশীয় কোনো পরামর্শক সংস্থাকে যৌথ অংশীদার হিসেবে রাখতে হবে।
বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা, সময়ানুবর্তিতা এবং মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আইনি কাঠামো হিসেবে সরকার ২০০৬ সালের ৬ জুলাই ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’ প্রণয়ন করেছিল।
প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সংযোজনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই আইনটি মোট পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও গুণমান নিশ্চিত করা এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারকে প্রাসঙ্গিক মনে করায় এই বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৬ সালের আইনের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের ফলে প্রতিযোগিতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রয় কৌশল প্রণয়ন, টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণা প্রবর্তন, সম্পদ নিষ্পত্তি, বিপরীত নিলাম এবং অবকাঠামোগত সেবাকে আলাদা ক্রয় হিসেবে গণ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ মে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল যা সরকার গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করেছে।
১৫৯ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের ৯টি অধ্যাদেশ সংসদে পাস
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ৯টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদে পৃথক ৯টি বিল পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এ বিলগুলো পাস হয়।
বিলগুলোতে ধারাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ নিয়ে কোনো দীর্ঘ আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপনের পর সরাসরি কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি মূল হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। আজ সকালে পাস হওয়া ৯টি বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি সেগুলোকে হুবহু পাসের সুপারিশ করেছিল।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল’, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল’ পৃথকভাবে পাসের প্রস্তাব করেন এবং সেগুলো পাস হয়।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ যারা বলছে, সরকার গুমের আইন করতে চাচ্ছে না, তাদের তিনি এ আইনটি ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, সেটার বহির্প্রকাশ এই আইনে এসেছে।’
বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে, তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরের অনেকে গুমের বিচারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, তাই তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করে পরবর্তী বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মূলত নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন সংশোধনের লক্ষ্যে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তিনটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো— ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’।
দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদ মৃদু হেসে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!’
সর্বশেষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
১৬১ দিন আগে
‘স্থূলতা বৈষম্য’ নিষিদ্ধ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বিল পাস
কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান বা জন পরিষেবার ক্ষেত্রে স্থূলতার কারণে বৈষম্যকে নিষিদ্ধ করে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) একটি বিলের অধীনে এটি পাস করা হয়।
এই বিলটি জাতি,লিঙ্গ বিভাজন, লিঙ্গ পরিচয় ও জাতীয়তার মতো সুরক্ষিত বলে বিবেচিত হবে এবং অধিবাসীদের শনাক্তকরণ তালিকায় ওজন ও উচ্চতার তথ্য সংযোজনের জন্য থাকা পূববর্তী আইনটি সংশোধন করবে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে পদ্মা সেতুর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
আইনটির পৃষ্ঠপোষক কাউন্সিলের সদস্য শন আব্রেউ বলেছেন, ‘ভিন্ন ধরনের শারীরিক গঠনের লোকদের কেবল তাদের প্রাপ্য চাকরি ও পদোন্নতি থেকেই বঞ্চিত করা হয় না, বরং তাদের পুরো অস্তিত্বকেও সমাজ অস্বীকার করে। আর তাই এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণার জন্য কোনও আইনি প্রতিকার ছিলোনা।’
তিনি বলেন, এ ধরনের সুরক্ষা দেয় এরকম শহরের তালিকায় নতুন করে নিউইয়র্ক যুক্ত হচ্ছে। মিশিগান হলো একমাত্র রাজ্য যেখানে স্পষ্টভাবে স্থূলতা বৈষম্যকে নিষিদ্ধে একটি আইন আছে এবং ওয়াশিংটনের একটি আদালত রায় দিয়েছে যে স্থূলতা বৈষম্যকে প্রতিবন্ধী কর্মচারীদের জন্য থাকা আইনের অধীনে বিবেচনা করা হবে। দেশের আরও কয়েকটি রাজ্য এই বিষয়ে আইন প্রবর্তনের কথা ভাবছে।
নিউইয়র্ক সিটি বিলটিতে উদাহরণ হিসেবে এমন চাকরির কথা বলা হয়েছে, যেগুলোতে তাদের নির্ধারিত উচ্চতা বা ওজন থাকা চাকরির অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছিলেন, স্থূলতার ওপর ভিত্তি করে মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা উচিত নয়।
তবে মন্তব্য চেয়ে তার অফিসে পাঠানো একটি ইমেইলের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, বিএনপির উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই: নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী
নিউইয়র্কে জয়শঙ্কর আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১২২১ দিন আগে
সংসদে সার্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তন বিল পাস
দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনসংখ্যাকে সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যে ইউনিভার্সাল পেনশন ম্যানেজমেন্ট বিল-২০২৩ সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিল অনুসারে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল বাংলাদেশি নাগরিক এই পেনশন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে বিলের খসড়া তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ।
এটির মাধ্যমে মূলত বয়স্ক জনগোষ্ঠী অবসরে বা বেকার হয়ে যাওয়ার পর উপকৃত হবেন। এছাড়া রোগ, পক্ষাঘাত, বার্ধক্য বা অন্যান্য অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উচ্চ আয়ু হারের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হলেও তারা সুবিধা পাবেন।
খসড়া আইন অনুসারে একজন ব্যক্তিকে ৬০ বছর বয়স থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পেনশন পেতে কমপক্ষে ১০ বছর বিরতিহীনভাবে প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে।
৭৫ বছর বয়সের আগে একজন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেলে মনোনীত ব্যক্তি অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পাবেন।
তবে প্রিমিয়ামের পরিমাণ প্রস্তাবিত আইনের অধীনে একটি নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ থাকবে এবং অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১৫ সদস্যের একটি গভর্নিং বডি থাকবে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের সাক্ষাৎ চেয়েছেন সিইসি
সরকার চেয়ারম্যান এবং বাকি চার সদস্যকে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেবে।
অর্থমন্ত্রী গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান থাকবেন যেখানে অন্য সদস্যরা হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, সমাজকল্যাণ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের
সচিব, প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, বিএসইসি চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই সভাপতি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, বিডব্লিউসিসিআই সভাপতি এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান।
গভর্নিং বডি প্রতি বছর কমপক্ষে তিনটি সভা করবে।
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে এবং পূর্বানুমতি সাপেক্ষে দেশের যেকোনো স্থানে এর শাখা স্থাপন করা যাবে।
এই পেনশন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি স্বেচ্ছায় হবে, যদি না সরকার এটিকে বাধ্যতামূলক করার জন্য কোনো গেজেট জারি না করে।
জমাকৃত ফিকে তিনি বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করবেন এবং কর মওকুফের জন্য প্রযোজ্য হবে যখন পেনশনটি করমুক্ত হবে।
বিলে বলা হয়েছে যে বিনামূল্যের একটি অংশ সরকার সর্বনিম্ন আয়ের স্তরের নীচে বা যারা দেউলিয়া তাদের জন্য দিতে পারে।
একটি সর্বজনীন পেনশন তহবিল জমাকৃত অর্থ সঠিকভাবে পরিচালনা করবে। এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংক তহবিলের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করবে।
নির্দিষ্ট সময়ে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সিস্টেমের মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর করা হবে এবং এর জন্য একটি কেন্দ্রীভূত এবং স্বয়ংক্রিয় পেনশন বিতরণ কাঠামো গঠন করা হবে।
সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে এই পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বিলটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।
তবে, তিনি বলেন যে এই পেনশন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের সাড়া পাবে না। কারণ সরকারি কর্মচারীরা যেভাবে পেনশন পান তার সঙ্গে অনেক কিছুই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, ‘মানুষ কীভাবে লাভ বা সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার নয়। এটা অনেকটা ব্যাংকিং প্যাকেজের মতো। এই বিল পাশ হওয়ার আগে জনগণের মতামত নেয়া উচিত।’
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেছেন, এই বিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে, বেকারত্ব, অসুস্থতা বা দুর্বলতা বা বিধবা, পিতামাতাহীনতা বা বার্ধক্য বা অন্যান্য অনুরূপ পরিস্থিতির মতো অনিয়ন্ত্রিত কারণে সরকারের কাছ থেকে জনগণের সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন: শপথ নিলেন নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোছা. ডরথী রহমান
তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের কাছ থেকে ফি নেবে এবং ফেরত দেবে। এই বিল পাশ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হক প্রশ্ন রেখে বলেন, বিলের কথাগুলো ভালো। ‘কিন্তু এই পেনশন স্কিমে সরকারের অংশগ্রহণ কি?
পেনশনে সরকারের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এটা ব্যাংকের ডিপিএস স্কিমের মতো। গুজব আছে যে সরকারের অর্থের অভাব থাকায় জনগণের কাছ থেকে টাকা নিতে বাধ্য হচ্ছে?
অর্থমন্ত্রীর মৌন অবস্থান নেয়ার সমালোচনা করে মুজিবুল হক বলেন, অর্থমন্ত্রী বেশি কথা বলেন না।
তিনি বলেন, ‘বোবার কম শত্রু আছে। কিন্তু কথাগুলো অর্থমন্ত্রীর কানে পৌঁছেছে কি না তা জানা যায়নি। তার কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া বা উদ্যোগ দেখা যায় না।’
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আপাতদৃষ্টিতে আইন ভালো। কিন্তু বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের দেয়া পথের বাইরে কিছু আছে বলে মনে হয় না।
‘সরকার কী লাভ দেবে তা পরিষ্কার নয়।’
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, এটা শেয়ালের কাছে মুরগি পালনের মতো।
‘মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবে এবং ব্যাংকগুলো টাকা বিদেশে পাচার করবে। ব্যাংকগুলো মানুষের আস্থা হারিয়েছে। এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ঋণ খেলাপিরা সব সুবিধা পাচ্ছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখার কেউ নেই।
যারা অর্থ পাচার করছে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এই বিল আনার আগে অনেক আলোচনা হয়েছে।
‘যারা লিখিত মন্তব্য জমা দিয়েছেন তাদের বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতেও বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিলটি গ্রহণযোগ্যতার লক্ষ্যে সংসদে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
১৩৩০ দিন আগে
জাতীয় আর্কাইভে কোন রেকর্ড নষ্ট করা যাবে না, সংসদে বিল পাস
জাতীয় আর্কাইভে কোন রেকর্ড বিনষ্ট করা যাবে না এমন আইন রেখে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ বিল-২০২১’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ১৯৮৩ সালের ন্যাশনাল আর্কাইভ অধ্যাদেশ বাতিল করে সংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ সংসদে বিলটি প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিদ্যমান আইনে যে কোনো রেকর্ড বিনষ্ট করার বিধান বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত কোনো রেকর্ড নষ্ট করা যাবে না। আইনে রেকর্ডের সফট কপি করার বিধান রাখা হয়েছে, যা আগের আইনে যা ছিল না।
আরও পড়ুন: শিশু হাসপাতালকে ইনস্টিটিউট করতে সংসদে বিল পাস
জাতীয় আর্কাইভ পরিচালনায় তিন বছরের জন্য ১৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে এবং এর মহাপরিচালক (ডিজি) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।
বিদ্যমান আইনে আবেদনের পর ফি দিয়ে গোপন দলিল না হলে যে কোনো ব্যক্তিকে রেকর্ড সরবরাহ করার বিধান রাখা হয়েছে।
কেউ আর্কাইভের কোনো ফাইল চুরি, নষ্ট বা হ্যাক করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এছাড়া রেকর্ড পাচার করলে পাঁচ বছরের জেল এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংসদে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিল’ পেশ
১৮২৫ দিন আগে
ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা নিয়ে সংসদে বিল পাস
প্রস্তাবিত আইনের অধীনে যে কোনো বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধি রেখে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২০ সোমবার সংসদে পাস করা হয়েছে।
২০৫৯ দিন আগে
সংসদে বিল পাস, এইচএসসির ফল প্রকাশের বাধা কাটল
জাতীয় সংসদে রবিবার তিনটি সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের বাধা দূর হলো।
২০৬০ দিন আগে
মেয়াদ শেষের ৩ মাসের মধ্যেই করতে হবে সিটি নির্বাচন, মন্ত্রিসভায় বিল পাস
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধনী) বিল-২০২০ খসড়া অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাসের মধ্যেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
২১৯২ দিন আগে