মো. সাহাবুদ্দিন
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হতে যাওয়া তার পাঁচ বছরের মেয়াদকালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ (শুক্রবার) বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটের দিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় গাড়ি এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) দুটি প্রোটোকল স্কর্ট জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন শিগগিরই জাতীয় সংসদ ভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।
পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি লেখেন, ‘আমি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে।’
তিনি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের এক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।
‘রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’
দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজন—উল্লেখ করে সাহাবুদ্দিন জানান, ‘এমতাবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’
সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময়ে দেশ এক গভীর সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি।’
তিনি জানান, সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে।
সাহাবুদ্দিন আরও জানান, তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে চলা গুঞ্জন ও জল্পনার মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তার নির্ধারিত থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দুপুরে দেশে ফেরেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালেও সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে বহাল ছিলেন।
আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন ও নেতৃত্ব বঙ্গভবন ঘেরাওসহ সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে সরানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংসদীয় আসন পায়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ায় সাংবিধানিক নিয়ম মেনে খুব দ্রুতই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২৩ ঘণ্টা আগে
থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন।
এর আগে, গত ১৯ জুলাই স্পিকার থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি আগেই দেশে ফেরেন।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলা ‘গুজবে’ কান না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে বিএনপি সব সময় গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি আস্থাশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও গণজবাবদিহিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎকালে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল হাসান দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি নৌবাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিন সফল ও সুচারূভাবে দায়িত্ব পালন করায় বিদায়ী নৌপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাহিনীর উন্নয়নে নৌপ্রধানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান আগামী ২৩ জুলাই নতুন নৌ-প্রধানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
৩ দিন আগে
সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ মান ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
আইন সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নৈতিক মান, সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে কাজ করার জন্য এই বিটে কাজ করা সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বুধবার (১ জুলাই) বঙ্গভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
আইন সাংবাদিকতা বিচারব্যবস্থা ও জনগণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ল’ রিপোর্টার্সগণ আদালতের কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রায় সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভুল সংবাদ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া সহজ ভাষায় জনগণকে আইন বিষয়ে সচেতন করতে তারা তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের প্রাধান্য, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। বর্তমান সরকার সংবিধানের আলোকে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচার বিভাগ, আইনজীবী, আইনবিষয়ক সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি আরও সহজ ও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি আইন সাংবাদিকদের প্রতি আদালতের মর্যাদা ও বিচারাধীন বিষয়ের সংবেদনশীলতা অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। একইসঙ্গে অপতথ্য, ভ্রান্ত তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকতে বলেন রাষ্ট্রপ্রধান।
এর আগে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব খান মো. নূরুল আমীন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ও রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির নিকট ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের পরিচয়পত্র পেশ
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে গঠিত নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, আমাদের দুইটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, আর এটাই স্বাভাবিক।
রাষ্ট্রপতি এ সময় দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
৩০ দিন আগে
চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য গেলেন রাষ্ট্রপতি
ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শনিবার (৯ মে) সকাল পৌনে ৮টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান।
রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, তার চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফলো-আপ হিসেবে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
৭৭ দিন আগে
কর্মস্থলে নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নারী শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমান মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সমান কাজে সমান মজুরি নিশ্চিত করে একটি মানবিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার শ্রম খাতে সরকারের উদ্যোগ ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
বিশ্বের সকল শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মে দিবসকে শ্রম অধিকারের জন্য ত্যাগ, সংহতি ও সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
১৮৮৬ সালে শিকাগোতে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের সেই সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী মেহনতি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, শ্রম অধিকার আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও নির্যাতিত শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকেরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। দেশের শিল্পকলকারখানা, কৃষি, পরিবহন, গৃহকর্ম ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, সভ্যতা ও উন্নয়নকে বেগবান ও সমৃদ্ধ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে অর্জিত আয় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি।
শ্রমিক কল্যাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের নতুন যুগের সূচনা করে।
মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন ও শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, ন্যায্য অধিকার রক্ষা, শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুসারে শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সব কটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ শিল্পকলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি পাটকল চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শ্রম খাতে শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখা এবং শ্রমিক-মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে এই সরকার সচেষ্ট।
আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। শ্রম মান উন্নয়নে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রটোকল অনুসমর্থন করেছে।
সম্প্রতি মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গুদামে আগুনে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনা রোধে কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে শ্রম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—এর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন উপস্থিত ছিলেন।
৮৪ দিন আগে
সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক-বাহক হিসেবে নববর্ষ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম: রাষ্ট্রপতি
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩৩ সনের প্রথম দিন। নববর্ষের উৎসব নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন।
দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। এই উৎসবমুখর দিনে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে জানাই নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি বলেন, নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা—সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
তিনি আরও বলেন, এই আনন্দঘন দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে গড়ে তুলি একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। আবারও সবাইকে জানাই ‘শুভ নববর্ষ’।
১০২ দিন আগে
পাবনা সফর শেষে আগামীকাল ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি
চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার নিজ জেলা পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে রাষ্ট্রপতি গতকাল (রবিবার) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে আরিফপুর সদর কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি পাবনা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এছাড়া আজ তিনি ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং সন্ধ্যায় জুবিলী ট্যাংক এলাকায় নিজের বাসভবনে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
গত ২৮ মার্চ চার দিনের সফরে পাবনা যান রাষ্ট্রপতি। সেদিন দুপুরে বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে পাবনার শহিদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন তিনি। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহজাহান, পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্টেডিয়াম থেকে পাবনা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।
১১৭ দিন আগে