নওগাঁ
সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, সাপাহার হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগে রোগীরা
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে বহির্বিভাগের আশপাশে মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তিনি চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগের সামনে পৌঁছানোর পরই তাদের নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে। টিকিট কাটা থেকে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা—পুরো সময়ই তাদের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হাসান আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে! দ্রুত এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করা দরকার।’
আরেক রোগীর স্বজন সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে একটু স্বস্তি পেতে, কিন্তু এখানে এসে দেখছি উল্টো ভোগান্তি। টয়লেটের মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষের কি এদিকে কোনো নজরই নেই?’
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এমনিতেই কষ্টকর, তার ওপর এই পচা গন্ধের চোটে এখানে এক মুহূর্তও টিকতে পারছি না। ডাক্তার দেখানোর আগেই বমি আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে।’
কাজ ফেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, ‘শুধু রোগ নির্ণয় বা ওষুধ লিখে দেওয়াই চিকিৎসা নয়; সবার সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঠিকাদারের এ ধরনের অসমাপ্ত কাজ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আমরা একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি।’
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), রাজশাহী থেকে করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় রোগীসহ সেবা গ্রহীতারা চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ঠিকাদারকে দিয়ে হোক অথবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেই হোক, অতি দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কেন ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছেন এবং কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে—এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
৩ দিন আগে
নওগাঁয় পুকুর থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পুকুর থেকে মহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহিদুল ইসলাম উপজেলার ছাতড়া নিস্তানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভাঙারি (পুরাতন লোহা, প্লাস্টিক ও অব্যবহৃত জিনিসপত্র) কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর থেকে মহিদুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রাতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ামতপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৬ দিন আগে
নওগাঁয় আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মোটরসাইকেলে আগুন
নওগাঁর রাণীনগরে ৫ আগস্টের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা মারধর করে তার এক হাত এবং দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তযোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পূর্নবহালের আদেশ পান।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের আদেশে গতকাল (রবিবার) মাসুদ রানা আবার মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন বলে জানান অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ।
তিনি আরও জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক এসে সেখান থেকে মাসুদ রানাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
হামলার শিকার মাসুদ রানার ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, আমার ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন তার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। তাদের মারধরে ভাইয়ের এক হাত এবং দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী রানীনগর শের ই বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৭ দিন আগে
হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নাঈম হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে তাকে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি।
শিক্ষক বাসায় পৌঁছালে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখান। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা-ভিত্তিক একটি সক্রিয় প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৮ দিন আগে
নওগাঁয় স্বর্ণকারকে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামের এক স্বর্ণকার নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় অলিফের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে দত্ত জুয়েলার্স নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ছয় ভরি সোনা ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কেবলই ছিনতাই নাকি এর পেছনে শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।
২০ দিন আগে
নওগাঁয় স্টুডিও থেকে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার পয়না বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তারিকুল ইসলাম মল্লিক নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের পয়না বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই বাজারে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম ’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, সদর থানা এলাকার পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের ওই দোকানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ । এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।
তারিকুলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
২১ দিন আগে
নওগাাঁয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের মো. মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে কয়কেজন নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিপুলের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও কাকা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ঘর তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় প্রতারকদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে আসামিরা পাশের জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সিমলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে ধোলাই দেয়।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
২৯ দিন আগে
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে বাধার মুখে ইউএনও, বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এ বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বরপক্ষের লোকজন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) দুপুরে সমাসপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর গাড়ির গতিরোধ করে।
এ সময় প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, এ বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ বেশ কয়েজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উপস্থিতি ও বাল্যবিয়েতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুনিরুল জামান বলেন, বিয়েটা আরও দুই বছর আগে হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকে সেখানে গিয়েছি। পরে ইউএনও এসে বিয়ের অনুষ্ঠানটা বন্ধ করে দিলে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। আমি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। হামলায় আমার ইন্ধনের অভিযোগটি সঠিক নয়।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করি। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকেরা আমাদের গাড়ি আটকে দেয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য পুলিশ এবং স্টাফের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টার অভিযোগে বর-কনেসহ প্রথমে ৩ জনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে ইউএনও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গতকালের (শনিবার) ঘটনায় বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখ ও কনের বাবা জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আসামিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টার অপরাধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী সমাজ পাড়া গ্রামের মান্নানকে এক বছর, একই গ্রামের মো. রাব্বি শেখকে ৬ মাস ও মো. মাহাতাব আলীকে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
এ ছাড়াও, বর ও কনের বাবাকে বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত আইন মেনে চলার নিমিত্ত মুচলেকা নেওয়া হয় বলে জানান ইউএনও।
২৯ দিন আগে
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
৩১ দিন আগে
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে কাল
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশ পাঠানোর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪ টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর ৭ জন হলেন: আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আসতে পারে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ দেশে আসছে।
৩৩ দিন আগে