নওগাঁ
নওগাঁয় স্বর্ণকারকে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামের এক স্বর্ণকার নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় অলিফের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে দত্ত জুয়েলার্স নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ছয় ভরি সোনা ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কেবলই ছিনতাই নাকি এর পেছনে শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় স্টুডিও থেকে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার পয়না বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তারিকুল ইসলাম মল্লিক নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের পয়না বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই বাজারে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম ’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, সদর থানা এলাকার পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের ওই দোকানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ । এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।
তারিকুলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
নওগাাঁয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের মো. মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে কয়কেজন নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিপুলের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও কাকা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ঘর তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় প্রতারকদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে আসামিরা পাশের জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সিমলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে ধোলাই দেয়।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
৯ দিন আগে
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে বাধার মুখে ইউএনও, বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এ বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বরপক্ষের লোকজন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) দুপুরে সমাসপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর গাড়ির গতিরোধ করে।
এ সময় প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, এ বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ বেশ কয়েজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উপস্থিতি ও বাল্যবিয়েতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুনিরুল জামান বলেন, বিয়েটা আরও দুই বছর আগে হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকে সেখানে গিয়েছি। পরে ইউএনও এসে বিয়ের অনুষ্ঠানটা বন্ধ করে দিলে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। আমি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। হামলায় আমার ইন্ধনের অভিযোগটি সঠিক নয়।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করি। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকেরা আমাদের গাড়ি আটকে দেয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য পুলিশ এবং স্টাফের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টার অভিযোগে বর-কনেসহ প্রথমে ৩ জনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে ইউএনও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গতকালের (শনিবার) ঘটনায় বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখ ও কনের বাবা জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আসামিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টার অপরাধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী সমাজ পাড়া গ্রামের মান্নানকে এক বছর, একই গ্রামের মো. রাব্বি শেখকে ৬ মাস ও মো. মাহাতাব আলীকে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
এ ছাড়াও, বর ও কনের বাবাকে বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত আইন মেনে চলার নিমিত্ত মুচলেকা নেওয়া হয় বলে জানান ইউএনও।
৯ দিন আগে
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১১ দিন আগে
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে কাল
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশ পাঠানোর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪ টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর ৭ জন হলেন: আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আসতে পারে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ দেশে আসছে।
১৩ দিন আগে
মান্দায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের শ্রমিক মজুরির ৫০ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন
দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া নওগাঁর মান্দা উপজেলার দুই ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রায় ৫০ লাখ টাকার শ্রমিক মজুরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া ৪০ দিন মেয়াদি এ প্রকল্পে কাগজে-কলমে প্রতিদিন ২৫০ জন অতিদরিদ্র শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের পুরো সময়ে কোনো দিনমজুরকে খাল খননের কাজে দেখা যায়নি।
সরকারের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় কুসুম্বা ও ভারশো ইউনিয়নে ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের এ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কুসুম্বা ইউনিয়নের হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল সেতু থেকে বাদলঘাটা সেতু এবং ভারশো ইউনিয়নের বাকাপুর মৌজার বাকাপুর দফাদার মোড় থেকে প্রধান সড়ক হয়ে বিল উথরাইল পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কথা ছিল।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি, জলাবদ্ধতা কমানো এবং অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা শ্রমিকদের মজুরি এবং বাকি অর্থ এক্সকাভেটর পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বরাদ্দ ছিল।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। তবে খাল পুনঃখননের চেয়ে এখন শ্রমিকদের তালিকা ও মজুরির হিসাব নিয়েই বেশি প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে প্রকৃত অতিদরিদ্র শ্রমিকদের পরিবর্তে স্বচ্ছল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, মুদি দোকানদার, সচ্ছল কৃষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের নাম শ্রমিকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবে শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়েই প্রতিদিন দুই ইউনিয়নে ১২৫ জন করে মোট ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করেছে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
অবশ্য প্রকল্পের ৪০ দিনে ১০ হাজার শ্রমিক-দিবসের মধ্যে মাত্র ৬১ শ্রমিক-দিবস অনুপস্থিত দেখিয়ে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলায় একই ধরনের প্রকল্প শেষে ফেরত দেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা।
কাজে শ্রমিক দেখেননি স্থানীয়রা
প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিক দিয়ে খাল খননের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
ভারশো গ্রামের বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান দেওয়ান বলেন, তিনি প্রকল্প এলাকা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। প্রকল্পের কাজ চলার এক মাসের বেশি সময়ে তিনি কোনো দিনমজুরকে খাল খননের কাজ করতে দেখেননি।
১৫ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ইলিয়াস হোসেন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াস হোসেন সাহাগোলা ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে।
আজ সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে সান্তাহার থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ইলিয়াস হোসেন ইয়ারফোন লাগিয়ে রেল লাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরাও থানায় আসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ট্রেন চলাচলের সময় মানুষের চলাচল করতে দেখা যায়। এর আগেও এ এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে রেললাইন ও স্টেশন এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওসি মো. দুলাল উদ্দিন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, ইলিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
২২ দিন আগে
লোডশেডিংয়ে নওগাঁর কারখানাগুলোতে কমছে উৎপাদন, ব্যাহত হচ্ছে সেচ
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে নওগাঁর কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় কমছে উৎপাদন। এছাড়া, শহরের বাইরের এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম।
লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর ফলে কারাখানার উৎপাদন কমছে, কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আবার ঘাটতি মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ৭০০-এর বেশি চালকল রয়েছে। এছাড়া জেলায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছোট-বড় অসংখ্য কারখানা রয়েছে।
নেসকোর আওতাধীন নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটিতে গতকাল (বুধবার) দুপুর ১২টা থেকে আজ (বৃহষ্পতিবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ডিজেল ব্যবহার করে মেশিন চালু রাখায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চালকল কারখানাটির মালিক দ্বীজেন ঘোষ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা পর আসে।
তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল দিয়ে মেশিন চালানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিজেল খরচ কমানোর জন্য কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না।
নওগাঁ বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশন) পল্লীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে তাদের কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা থাকলেও ডিজেলের খরচ কমাতে সবসময় জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
২৫ দিন আগে
সুগন্ধি আতপ চাল ‘রপ্তানির অনুমতিতে’ নওগাঁয় চালের বাজার লাগামহীন
ধান চাল উৎপাদনে বরাবরই শীর্ষে উত্তরের জেলা নওগাঁ। এখানকার উৎপাদিত সুগন্ধি চালের বিশেষ কদর রয়েছে সারা দেশের খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে গেল এক সপ্তাহ ধরে চাল বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কেজিতে এবার ২-৪ টাকা নয়, বেড়েছে ৯০ টাকা।
নওগাঁর বাজারে এক কেজি সুগন্ধি আতপ চালে ৯০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। শুধু তাই নয়, সুগন্ধি চালের পাশাপাশি বেড়েছে কাটারিসহ সব ধরনের সরু চালের দামও।
ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কিছু মিল আর করপোরেট কোম্পানিগুলোর মজুত সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়ছে চালের দাম। তবে মিল মালিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, সরকারিভাবে বিদেশে আতপ চাল রপ্তানি আর হাটে ধানের বাড়তি দামের কারণে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পরিরিস্থি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে কারোরই দেখা মেলেনি।
নওগাঁ শহরের সবচেয়ে বড় খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গেল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে সকল প্রকার সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মোট বিক্রির ৮০ শতাংশই হয় কাটারি চাল। শর্টার ও নন শর্টারসহ সব ধরনের কাটারি চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। ৭৬ টাকা কেজির চাল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, কয়েকদিন আগেও যার দাম ছিল ৫৮ টাকা।
তবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি (আতপ) চাল। দুই সপ্তাহ আগেও এই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা কেজিতে। কিন্তু প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতেই বেড়েছে ৯০ টাকা। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে। বাজারে চাল কিনতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকা থেকে পৌর চালের বাজারে আতপ চাল কিনতে এসেছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ কেজি আতপ চাল কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে শুনি, সেই চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৯০ টাকা। এভাবে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলার বালুভরা গ্রামের কৃষক আল ফারুকের সঙ্গে কথা হয় নওগাঁর খুচরা বাজারে। ৫ কেজি ভাতের চাল কিনতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন এই কৃষক। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়লে যারা দিন এনে দিন খান, তাদের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
৩৮ দিন আগে