নওগাঁ
নওগাঁয় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেল স্টেশনের পাশে শিমুলিয়া নামক স্থান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
নিহত নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশিরের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর তার বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন শিমুলিয়া নামক স্থানে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ‘সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
২ দিন আগে
নওগাঁয় মৌসুমে নষ্ট হচ্ছে ৩০০-৪০০ কোটি টাকার আম, আমভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার দাবি
থোকায় থোকায় গাছে ঝুলছে আম। বাগানে শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষিরা। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন নওগাঁর কৃষকরা। চলতি মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে বাজারে আসতে শুরু করবে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আম্রপালি জাতের আম।
দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। তবে বিপুল উৎপাদন হলেও এই খাতকে ঘিরে গড়ে ওঠেনি কোনো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিবছর মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।
আমচাষিদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় ও শ্রমিকের মজুরি ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়ছে না আমের দাম। আবার ফলন বেশি হলে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে বাজারমূল্য কমিয়ে দেয়। এতে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। বড় ধরনের সংরক্ষণাগার বা আমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার আম নষ্ট হয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন। গত বছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন।
১২ দিন আগে
টাঙ্গাইলের দুর্ঘটনা: খরচ বাঁচাতে ৯ বন্ধু ওঠেন ট্রাকে, গেল সবার প্রাণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভরশো ইউনিয়নে চলছে শোকের মাতম। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে দিশেহারা ১০টি পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে যোগ দিতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ বন্ধুসহ ১০ জন। বাসভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় উঠেছিলেন ট্রাকে। কিন্তু খরচ বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে করে তাদের যাত্রা যে জীবনের শেষযাত্রা হবে, তা কে জানত!
সোমবার (২৫ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ। তাদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁর মান্দার উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের সেই ৯ বন্ধু। আর এক জনের বাড়ী নিয়মতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামে।
মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় মান্দা উপজেলার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব দিকে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন।
নিহতদের মধ্যে মো. সুলতান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বর হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ হোসেন, মো. শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
২৫ দিন আগে
নওগাঁয় রায়ের নথি চুরি করে চাঁদা দাবি, কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৪
নওগাঁয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কমর্চারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া নথিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩মে) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১মে) নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার ওই নথিগুলো হারিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার (২২মে) দিনব্যাপী রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের এস এম আকাশ (২৬), যুগ্ম জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন পলাশ হোসেন। পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং শহরের বকুল তলা এলাকার সবুজ (৪০)। তিনি কোর্টের মুহুরী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবের নেতৃত্বে একটি চৌকষ দল দিনব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।
তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর ৯০৪/২০২২ নম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা হবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ওই মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া নথিটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে আদালতের এক কর্মচারীর নিকট ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ নওগাঁ হতে রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে জানার পর ডিবি পুলিশকে দ্রুত চোর শনাক্তসহ মামলার নথি উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল চোরকে শনাক্ত করে প্রথমে রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে এস এম আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আকাশ তার বাড়ির আঙিনায় একটি খড়ের পালা থেকে নথিটা বের করে দেন।
এসপি বলেন, পরবর্তীতে আকাশের দেওয়া তথ্যমতে নওগাঁ সদর ও বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে যুগ্ম জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন পলাশকে ও তার ভাই পিয়ন আরিফ এবং সর্বশেষ কোর্টের মুহুরী সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি আকাশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকা আসামির কথা উল্লেখ করেন। এর পেছনে কী উদ্দেশ্যে আছে, তা উদঘাটন করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
২৭ দিন আগে
বাসচালককে মারধরের জেরে নওগাঁয় দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ
নওগাঁ-ঢাকার রুটে চলাচলকারী একতা পরিবহনের এক বাসচালকে মারধরের প্রতিবাদে নওগাঁ থেকে বগুড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা। কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার পর থেকে নওগাঁ শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। বাসটির চালক বাদল হোসেন যাত্রীদের নামিয়ে বাসটি ঘোরানোর সময় একটি অটো চার্জারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় পাশের চায়ের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন যুবক উঠে গিয়ে কোনো কথা ছাড়াই চালককে মারধর করেন। পরবর্তীতে বাসটি কাউন্টারে গেলে সেখানে গিয়েও কাউন্টার ভাঙচুরের চেষ্টা করেন তারা। এই মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান তারা।
গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় থাকা যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাব। একটু আগে আগেই ছুটি নিয়েছি। এসে দেখছি বাস বন্ধ। নওগাঁতে মাঝেমাঝেই শ্রমিকেরা এমন কর্মসূচি দিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে।’
মুনিরা আক্তার নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকা যাব। কাউন্টারে এসে শুনি বাস চলবে না। সময়মতো পৌঁছানো দরকার ছিল, এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একতা বাস কাউন্টারের কর্মচারীদের কে বা কারা মারধর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে কী হয়েছে জেনে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম কালিমি বাবু জানান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর নেতৃত্বে শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু করবে না বলে শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অতি দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যাত্রীদের জিম্মি না করার জন্য সকল প্রকার আলোচনা চলমান আছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, দুপুর পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে বৈঠক চলছে। তবে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমঝোতা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
৩১ দিন আগে
নওগাঁয় ধান কাটার ভরা মৌসুমেও বাড়ল চালের দাম
নওগাঁ জেলা ধান-চাল উৎপাদনে বরাবরই সমৃদ্ধ। বর্তমানে এ জেলায় চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। এর মধ্যে বেশির ভাগ ধানই খেত থেকে কৃষকের ঘরে উঠে গেছে। হাট-বাজারে রয়েছে পর্যাপ্ত ধানের সরবরাহ। বোরোর এই ভরা মৌসুমে স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় কথা। অথচ, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ২ থেকে ৩ টাকা করে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে নতুন চালের সরবরাহ কম। এছাড়া হাট-বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম।
এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির পিছনে সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করছেন ভোক্তারা। তাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে চালকলগুলোতে মজুতবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন।
শহরের পৌর ক্ষুদ্র খুচরা চাল বাজারে বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৪৯ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকায়। প্রতি কেজি পুরাতন কাটারি (শটেজ) চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩-৭৫ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে যা বিক্রি হয়েছে ৭০-৭২ টাকা। প্রতি কেজি পুরাতন কাটারি (হাতছাটি) চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকায়। তবে জিরাশাইল আগের দামে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইকবাল হোসেন নামে এক ভোক্তা বলেন, ‘একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে যে বেতন পাই, সেটা বাজার করতেই শেষ হয়ে যায়। গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমাদের আয় কম, কিন্তু খরচ বেশি হচ্ছে।’
মানিক হোসেন নামে আরেকজন ভোক্তা বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি করার কোনো যুক্তিই হয় না। ধান-চাল মজুত করে রেখে কেউ দাম বাড়াচ্ছে কি না, সে বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখতে হবে।’
পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের লক্ষ্মী চাল ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী উত্তম সরকার বলেন, ‘সরু জাতের কাটারি ও মোটা জাতের স্বর্ণা-৫ চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। পাইকারিতে বেশি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া বাজারে নতুন চালের সরবরাহও কম।’
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু ফসল নষ্ট হয়েছে এবং শুরুতে ধানের দাম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। এখন বাজারে ধানের দাম বেশি। এছাড়া সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এজন্য পাইকারিতে চালের দাম প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।'
৩৩ দিন আগে
নওগাঁয় আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ: লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার কোটি টাকা
নওগাঁয় চলতি মৌসুমে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে আম সংগ্রহের সময়সূচি (ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাগান থেকে নামাতে পারবেন চাষিরা।
নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রবিবার (১০ মে) বিকেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলা থেকে এবার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
কবে কোন জাতের আম
প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে সব ধরনের গুটি জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে। উন্নত জাতের আমের মধ্যে ৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ২ জুন ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর, ৫ জুন নাক ফজলি এবং ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা আম সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ফজলি ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং আগামী ৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম পর্যায়ক্রমে বাজারে আসবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ ঠেকাতে প্রতি বছরের মতো এবারও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ কোনো দুর্যোগ বা প্রাকৃতিক কারণে কোনো বাগানের আম আগে পেকে গেলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তা সংগ্রহ করা যাবে।
অধিক মুনাফার আশায় অসাধু উপায়ে নির্ধারিত সময়ের আগে আম না নামানোর জন্য চাষি ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। নওগাঁর আমের সুনাম রক্ষায় বাগান ও হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোসনে আরা মন্ডলসহ জেলা-উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৯ দিন আগে
একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়: মির্জা ফখরুল
একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠি এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় এই সমাজকে আবার অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনীতি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন না। বারবার মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।
তিনি আরও বলেন, আমি শুধু বলতে চাই আমাদের যে মূল জায়গাটা—১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে সক্রিয়তা ও পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি তা সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে।
তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট ছিল তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে, অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে, ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে, প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। আমরা কেউ চাই না দেশে আর কোনো গোলযোগ হোক।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবন, কাজ ও কবিতার বাইরের ব্যপার ছিল। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব মানবতার কবি। আমার প্রায়ই মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারা জীবন পড়লেও পড়া যায় না।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ।
৪২ দিন আগে
বজ্রপাতে তিন জেলায় ৫ প্রাণহানির খবর
সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতে পৃথক স্থানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই মাঠে ধান কাটা ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় এ ঘটনাগুলো ঘটে বলে ইউএনবির জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
নওগাঁয় তিন কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন কৃষক নিহত হয়েছেন।
আজ (বুধবার) বিকেলে ধান কাটার সময় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দিলীপ চন্দ্র বর্মন নামে এক কৃষক নিহত হন।
অন্যদিকে, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজিনগর ইউনিয়নে ধান কাটার সময় রফিকুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে শ্রমিকের কাজ করতে এসেছিলেন।
এছাড়া চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান ঘরে তোলার সময় বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মোহন্ত নামে এক ব্যক্তি মারা যান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত এই তিন ব্যক্তির পরিবারকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রামে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণহানি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে মো. ওবাইদুল হক (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নিজের জমিতে ধান কাটার সময় বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
লালমনিরহাটে ভুট্টাখেত থেকে ফেরার পথে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্লারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইউসুফ আলী ওই এলাকার আকবর আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় পথে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে কর্মরত কৃষকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
৪৪ দিন আগে
নওগাঁয় ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই
দেশের ধান উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁয় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারের চিত্র ভিন্ন। গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক। কৃষি বিভাগ অবশ্য আশা দিচ্ছে, মৌসুমের শুরু বলে দাম কিছুটা কম থাকলেও পুরোদমে ধান ওঠা শুরু হলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮০ টন, যা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৫ টন চাল পাওয়া যাবে।
খরচ ও আয়ের হিসাব মিলছে না
মাঠে ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও বাজারে গিয়ে হতাশ হতে হচ্ছে কৃষকদের। গত মৌসুমে এই সময়ে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে দাম মিলছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।
রানীনগর উপজেলার বিজয়কান্দি গ্রামের প্রান্তিক চাষি আবুল কালাম আজাদ ও ভাটকই গ্রামের বিপথ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বর্তমান বাজারমূল্যে তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ফলে বিঘা প্রতি অন্তত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় তারা ধান শুকাতে পারছেন না। এছাড়া পাওনাদারের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়ে ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
তাদের দাবি, মন প্রতি দুই-তিনশ টাকা বেশি পাওয়া গেলেও তাদের অন্তত লোকসান গুনতে হতো না।
বাজারের চিত্র ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য
নওগাঁর বৃহত্তম ধানের মোকাম আবাদপুকুর, লোহাচুড়া হাট, আহসানগঞ্জ হাট, চকগৌরি হাট, মাতাজী হাট, সতী হাট, শিষা বাজার, শিবপুর বাজার, মহাদেবপুর হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা অধিকাংশ ধানই কাঁচা বা ভেজা। সেই সঙ্গে ধানের ক্রেতাও কম। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় একদিকে যোগান বেশি, তার ওপর আবার ধানের মান তুলনামূলক নিম্ন। ফলে কৃষকরা গতবারের মতো দাম পাচ্ছেন না।
আবার অনেক ব্যবসায়ীর গুদামে গত বছরের ধান এখনও রয়ে গেছে। ফলে তারা মৌসুমের শুরুতেই ধান কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বড় ব্যবসায়ীদের ধান অবিক্রিত থাকার কারণ হিসেবে বিগত সরকারের অতিরিক্ত আমদানিকে দায়ী করেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধান-চাল অবিক্রিত থাকায় বড় বড় ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বের করতে পারেননি। তারা নিজেরাই আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের হাত টাকা না থাকলে তারা হাটে গিয়ে ধান কিনবেন কী দিয়ে? মূল ধারার ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় শুরু না করলে বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম।
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, তাছাড়া সরকারি খাদ্য গুদামগুলো যদি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করে, তাহলেও বাজারে দাম কিছুটা বাড়বে। সরকার-নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পারলে সব শ্রেণির কৃষকই লাভবান হবেন। অন্যথায়, জেলাজুড়ে এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক তার নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমাইরা মন্ডল বলেন, জেলায় মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কৃষকরা এখন তড়িঘড়ি করে ভেজা ধান বিক্রি করছেন বলেই কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ধান শুকিয়ে বাজারে আনলে এবং সরকারি ক্রয় অভিযান শুরু হলে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এছাড়া, সরকারি গুদামগুলোতে ধান ক্রয় শুরু হলে অবস্থার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি। এই কর্মকর্তার মতে, প্রথম দিকে ধান বিক্রি না করে চাষিদের একটু ধৈর্য ধরা উচিৎ। ভরা মৌসুমে ধান বিক্রি করলে সব কৃষকই চলতি বছরের বাম্পার ফলনের সুফল ঘরে তুলতে পারবেন।
তবে নওগাঁর কৃষি-সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করে, শুধু ফলন ভালো হলেই হবে না, প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় বারবার লোকসানের মুখে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
৪৪ দিন আগে