নওগাঁ
প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসক, দালালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি
নওগাঁয় বেসরকারি এক হাসপাতালে প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখেই অস্ত্রোপচার শেষ করা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও দালালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ সালমা বিবি নাজমা (৩২) এবং দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান সেকশনের প্রলোভন দেখিয়ে আট হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার অস্ত্রোপচার করেন।
তার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ কাপড় বের করে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং এটি একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গত ১৩ এপ্রিল আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
১০ দিন আগে
নওগাঁয় চালকলে বয়লার বিস্ফোরণ, শ্রমিক নিহত
নওগাঁ সদর উপজেলায় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত ও চার শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাঁপানিয়া এলাকার হাজি ইসারত আলী চালকলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল খালেক (৪৫) সদর উপজেলার হাঁপানিয়া পাড়া এলাকার বছির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ (বুধবার) সকালেও শ্রমিকরা চালকলে ধান সিদ্ধ করার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ করে বিকট শব্দে বয়লারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে চার দিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
পরে ধোঁয়া কিছুটা কমলে শ্রমিকরা চাতালে গিয়ে আব্দুল খালেককে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত চার শ্রমিক নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে চালকলের মালিক পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার সময় চাতালে কাজ করা নারী শ্রমিক হামিদা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হয়। তারপর আর ধোঁয়াতে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ফিরে এসে দেখি খালেক ভাই পড়ে আছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। চালকলগুলোতে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই। আমরা নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
নওগাঁ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের কারণ জানা যাবে।
নিহত আব্দুল খালেকের দেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১১ দিন আগে
নওগাঁয় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নীরেন চন্দ্র বর্মন ওরফে হীরেন (৪৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্যানের যাত্রী পরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নওগাঁ-নজিপুর আঞ্চলিক সড়কের এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নীরেন চন্দ্র বর্মন মহাদেবপুর উপজেলার মগরইল গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে। আহত পরেশ চন্দ্র বর্মন একই গ্রামের মৃত অধীর চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ (সোমবার) সকালে নীরেন ভ্যান চালিয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নজিপুরের দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও যাত্রী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নীরেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পরেশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত গতিতে পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
নওগাঁয় আজও বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ
নওগাঁয় চতুর্থ দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালেও গাড়ি বন্ধ রেখে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে মারামারির জেরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তঃজেলা রুটে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’ নামের একটি বাসের চালক ও সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাস শ্রমিকরা সকাল থেকে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ করে দেয়। বাস শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব চালক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের ওপর বাস শ্রমিকরা হামলা চালান বলেও অভিযোগ ওঠে ।
পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু দুই ঘণ্টাও সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা আবারও বাসচালকের ওপর হামলা চালান। ফলে ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে টানা চার দিন ধরে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
রাজশাহীগামী যাত্রী ইকবার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস বন্ধ। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে আকস্মিক যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়ে শুনি বাস নেই। তিন দফায় ভেঙে ভেঙে বিকল্প যানবাহনে আসায় অতিরিক্ত ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, সেই সঙ্গে সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রচুর। আমরা চাই দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান হোক।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার কোনো লিখিত রূপ আমরা পাইনি। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে নিরাপত্তার অভাব ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। লিখিত সিদ্ধান্ত পেলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে সাময়িক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালি ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই সমাধান আসবে।
১৮ দিন আগে
সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, সাপাহার হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগে রোগীরা
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে বহির্বিভাগের আশপাশে মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তিনি চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগের সামনে পৌঁছানোর পরই তাদের নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে। টিকিট কাটা থেকে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা—পুরো সময়ই তাদের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হাসান আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে! দ্রুত এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করা দরকার।’
আরেক রোগীর স্বজন সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে একটু স্বস্তি পেতে, কিন্তু এখানে এসে দেখছি উল্টো ভোগান্তি। টয়লেটের মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষের কি এদিকে কোনো নজরই নেই?’
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এমনিতেই কষ্টকর, তার ওপর এই পচা গন্ধের চোটে এখানে এক মুহূর্তও টিকতে পারছি না। ডাক্তার দেখানোর আগেই বমি আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে।’
কাজ ফেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, ‘শুধু রোগ নির্ণয় বা ওষুধ লিখে দেওয়াই চিকিৎসা নয়; সবার সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঠিকাদারের এ ধরনের অসমাপ্ত কাজ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আমরা একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি।’
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), রাজশাহী থেকে করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় রোগীসহ সেবা গ্রহীতারা চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ঠিকাদারকে দিয়ে হোক অথবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেই হোক, অতি দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কেন ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছেন এবং কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে—এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
২৩ দিন আগে
নওগাঁয় পুকুর থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পুকুর থেকে মহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহিদুল ইসলাম উপজেলার ছাতড়া নিস্তানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভাঙারি (পুরাতন লোহা, প্লাস্টিক ও অব্যবহৃত জিনিসপত্র) কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর থেকে মহিদুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রাতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ামতপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২৬ দিন আগে
নওগাঁয় আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মোটরসাইকেলে আগুন
নওগাঁর রাণীনগরে ৫ আগস্টের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা মারধর করে তার এক হাত এবং দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তযোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পূর্নবহালের আদেশ পান।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের আদেশে গতকাল (রবিবার) মাসুদ রানা আবার মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন বলে জানান অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ।
তিনি আরও জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক এসে সেখান থেকে মাসুদ রানাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
হামলার শিকার মাসুদ রানার ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, আমার ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন তার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। তাদের মারধরে ভাইয়ের এক হাত এবং দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী রানীনগর শের ই বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২৭ দিন আগে
হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নাঈম হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে তাকে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি।
শিক্ষক বাসায় পৌঁছালে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখান। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা-ভিত্তিক একটি সক্রিয় প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩৮ দিন আগে
নওগাঁয় স্বর্ণকারকে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামের এক স্বর্ণকার নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় অলিফের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে দত্ত জুয়েলার্স নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ছয় ভরি সোনা ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কেবলই ছিনতাই নাকি এর পেছনে শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।
৪০ দিন আগে
নওগাঁয় স্টুডিও থেকে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার পয়না বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তারিকুল ইসলাম মল্লিক নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের পয়না বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই বাজারে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম ’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, সদর থানা এলাকার পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের ওই দোকানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ । এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।
তারিকুলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
৪১ দিন আগে