রুহুল কবির রিজভী
দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে: রিজভী
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
রিজভী জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে সেটি মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্যাসের রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে।
‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। বিদ্যুৎ থাকবে—তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার রাজনীতি করে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।
দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ (অস্পষ্ট) টার্ম।’
রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’
রিজভী আরও বলেন, সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এসব মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার কথায়, ‘সংকট আসবে। কিন্তু সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসে নেই। সব সংকট মোকাবিলা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
২ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
সেপ্টেম্বরের উপযুক্ত সময়ে আরও দুটি কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। আরেকটি কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণে নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
রিজভী জানান, এসবের বাইরে আরও বেশ কিছু কর্মসূচি থাকবে। এসব কর্মসূচির খসড়া দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।
যৌথ সভায় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
এত অপপ্রচারের পরও প্রধানমন্ত্রী-বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি—৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।
তিনি বলেছেন, জনগণের পক্ষে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের জন্য কাজ করলে সেই দলের সরকার কোনো দিনই ব্যর্থ হবে না। সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি একথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
রিজভী বলেন, তার প্রধান দায়িত্ব হবে দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তিনি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, জনগণের শুভেচ্ছা ও সমর্থন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। তার ঘোষিত কর্মসূচিগুলো জনগণের স্বার্থ, মানবকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়াতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত থেকে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না। সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কাজ করবে না।
বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক উন্নয়নে তাদের নেওয়া পদক্ষেপ বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন যেগুলো জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন এবং জনগণের কাছে তা তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সারা দেশে হয়তো দুয়েকজন বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে যারা নানা ধরনের অপকর্মে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। নেতাকর্মীরা যাতে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে।
ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। কারণ এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পাশে থাকবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি—৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এ ছাড়াও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার বা তার জোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, গুম, খুন ও নজিরবিহীন দুর্নীতির এক চরম বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বিগত সরকারের সময় দেশের সার্বিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চারদিকে ছিল অরাজকতা-নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ। কে কখন গুম হয়ে যাবে, কে কখন অদৃশ্য হয়ে যাবে, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না। বিচারবহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল এবং প্রত্যেকটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি আরও বলেন, কেউ খালের ধারে, কেউ নদীর ধারে, কেউ পুকুরের ধারে—প্রতিদিন একটার পর একটা মরদেহ পাওয়া যেত। সে মরদেহ উপজেলা চেয়ারম্যানের হতে পারে, সাবেক এমপির হতে পারে, কোনো ছাত্রনেতার হতে পারে কিংবা কোনো যুবনেতার হতে পারে। যারা গত সরকারের রাজনৈতিক মতামতের ভিন্নমত পোষণ করত, তাদের ওপরও নির্যাতন হয়েছে। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকারের মধ্যে একটি বিপুল তরঙ্গের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্ট পেলাম এবং একটি পরিবর্তন ঘটল। কিন্তু যে লিগ্যাসি বা ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছিল, সেটি রাতারাতি নির্মাণ বা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, উড়ে গেল এবং সেটা উড়ে বেড়াল কোথায়? ফিলিপাইনের জুয়ার আসরের ক্যাসিনোর মধ্যে। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক—একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। অর্থনীতিতে এক কঠিন অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
রিজভীর ভাষায়, লোক দেখানো কিছু মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট, মেগা দুর্নীতির রূপকথার সমস্ত গল্প আমরা সেই সময় শুনে এসেছি। সেই পরিস্থিতির পর আজকে নতুন একটি সরকার এসেছে। যে সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করেছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় প্রথম দিন বা দ্বিতীয় দিন থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, সেই কর্মকাণ্ডগুলো অব্যাহত রেখেছেন। দিনরাত নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কোনো ধরনের কমতি করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা সরকারের উন্নয়নের গতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দুর্যোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সুষ্ঠ উন্নয়নের যে গতি, সেখানে অনেকটা বাধা হয়েছে। কিন্তু সে বাধা থাকার পরেও সেটাকে অতিক্রম করে এই সরকার জনগণের স্বস্তির জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য তার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
রিজভীর ভাষ্য, আজকে বিভিন্ন সেক্টরে যে সমস্ত সংকট আমরা দেখি, সেই সংকটগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় যে নির্দেশনা, সে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটা দেশে মহামারি আসতে পারে, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, বন্যা আসতে পারে, ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু জনগণের একটি সরকার সেগুলোকে মোকাবিলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই হচ্ছে সেই সরকারের ব্রত। কারণ এই সরকার নির্বাচিত সরকার। আর নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণেই প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আজকের অনুষ্ঠানটি সেই জবাবদিহিতারই একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহত্তর জবাবদিহিতা কার কাছে? জনগণের কাছে। আর জনগণের কাছে জবাবদিহিতা কীভাবে হয়? একটি সরকারের পার্লামেন্টের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে।’
রিজভী বলেন, ছয় মাসে সরকারের অগ্রগতি, অর্জন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
১৬ দিন আগে
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভীসহ চার নেতা
সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার নেতাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যরা হলেন: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সদস্যরা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
১৯ দিন আগে
সরকারের কাজে কোনো গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়ন যাত্রা গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন ও আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বই অন্ধকার ঘোচাতে বাতির মতো কাজ করে, একটি বড় প্রদীপের কাজ করে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজ আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা আমাদের বক্তব্য লিখে রাখছেন, এ সবই বিজ্ঞানের অবদান।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি লিখেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়েছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিবছর ও প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছে। তাই বইয়ের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি।
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, আমরা যদি বই না পড়ি, জ্ঞান অর্জন না করি এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হই, তাহলে আমাদের মনের জগত ও বিশ্বজগত, দুটোই অন্ধকার হয়ে থাকবে। বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলেই মনের জগতের পাশাপাশি বহির্জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই পাঁচ মাসে সরকার কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনাবলি বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। জাতি এসব জানে এবং দেখেছে। তবে সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিনরাত তিনি কাজ করছেন এবং তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিজেই দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সে আমলাতন্ত্রের লোক হোক, বুরোক্রেসির লোক হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক। গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বা জোট সরকার জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হতে চলছে, সেসবের মোটামুটি বিস্তৃত বর্ণনা বইটিতে পাওয়া যাবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে এবং নানাভাবে সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি তার নিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ রচিত হলে সেটি সবার হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, তখন মানুষ বুঝতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যাভিত্তিক কথা বলছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।
২৬ দিন আগে
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুল’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ নিজেদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহিদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘শহিদ জুলাই স্মৃতি সংসদ’।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আগে ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সে কারণে শেখ হাসিনাকে আবারও ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে— একজন পলাতক আসামি কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারেন? ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যে তারিখে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের ‘গ্রিন সিগনাল’ না থাকলে একজন খুনি, পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এলে দেশে আবারও রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।’
তিনি বলেন, সংগত ন্যায়বিচার আওয়ামী লীগের আমলে কেউ করেনি। শেখ হাসিনার আমলে কোনো আদালত, কোনো বিচারকই ন্যায় বিচার করেননি। যদি কেউ বিচার করার চেষ্টা করতেন, তবে তার গুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকত এবং তাকে প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হতো।
২৭ দিন আগে
হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগটি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত: রিজভী
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রোগ্রামে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ভারতের নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। আমাদের দেশের ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইনের মাধ্যমে সে দেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার সেদেশে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সেই আইনে দুই দেশ সই করেছে, এগ্রিমেন্ট করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া মানে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান। এই অপমান পার্শ্ববর্তী দেশ—যাকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পর অবস্থান করব—আর অন্যান্য দেশ যারা রয়েছে, সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এতে দুদেশের পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই সংবাদ যখন বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু ভারত সরকার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। গত ৫ই আগস্ট—যেদিন তার পতনের দিন, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আদায়, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সম্পন্ন করেছিল এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন—ঠিক সেই দিনটিতেই দিল্লিতে এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। আর সেখানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, বাংলাদেশে এক ভয়ঙ্কর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো এক ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট, তাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে!
তিনি বলেন, ওই যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ঙ্কর রক্তঝরানো পথ পেরিয়ে বিপ্লব সাধিত হলো, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ওই শহিদদের প্রতি, যাদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে তাকে বক্তব্যে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি আবারও এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়, ঠিক ওই সময় আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান যখন এই জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করেছেন, এই জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন খাদ্যে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন, তখন তাকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছে। ঠিক এখনও নানা আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
২৮ দিন আগে
পরবর্তী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে: রিজভী
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রায়ত্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের নিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিচারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে অবস্থান নিয়েছে, সেটিও তাদের নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্ত।
এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৪০ দিন আগে
রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মিলিতভাবে ন্যূনতম প্রধান বিষয়ে একটা ন্যূনতম বোঝাপড়ার মধ্যে থাকতে হবে। এই বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই রাজনীতিক বলেন, এই জুলাই, ১৮ জুলাই, সেই বেদনাবিধুর স্মৃতি আমরা এখনও ভুলে যাইনি।
তিনি বলেন, সেই মুগ্ধ যে শহিদ হয়েছেন, আমরা তার কথা তো ভুলতে পারি না। একজন ভয়ঙ্কর দানব রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে ছিলেন জোর করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে। নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান; গণতন্ত্র যেখান থেকে শক্তিশালী হয়, সেই বিচারব্যবস্থা, ইলেকশন কমিশন, মিডিয়া— সবকিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি যা বলবেন মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হবে—এমন অবস্থা ছিল। মুগ্ধদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই দানবকে দমন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ধরনের একটি ভয়ঙ্কর দানবীয় রাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মধ্যে। একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের তো কমপক্ষে ব্যবস্থা হয়েছে। কমপক্ষে কেউ যদি সরকারের জোরালো সমালোচনা করেন, সে গুম হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কথা বলা, সমালোচনা করা, এটা তো একটা গণতান্ত্রিক সমাজের একটা অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, সেটি তখন ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে। তাই জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর এবং তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের বাকি আছে সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে আরও যদি কিছু সেখানে কথা বলার থাকে, কিছু সংযোজন করার থাকে, সেটা করতে অসুবিধা কোথায়? সেটা করে যেগুলো আইনিকরণ করা দরকার সংসদে, যেগুলো সংবিধানে সংশোধন করা দরকার, সেগুলো করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য একটা টেবিলে বসতে হবে, বসে কথা বলে ঠিক করে এটিকে আইনিকরণ করা সম্পন্ন করতে হবে।
৪৪ দিন আগে