রুহুল কবির রিজভী
ভারত থেকে দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীর দোসররা: রিজভী
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ভারতে অবস্থানরত ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক এলাকায় লকাই বিশ্বাসের জন্য নবনির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এ অভিযোগ করেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবারে’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে লকাই বিশ্বাসকে চিকিৎসা সহায়তা, নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ ও অসহায়দের নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে রিজভী বলেন, বিশ্ববাজারে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এ সময় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতাকর্মীরা ব্যাংক লুটের অর্থ বিদেশে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। আর সেখানে বসেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তারা।
নিউইয়র্কে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্মান করার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেছ আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খন্দকার সেলিম, কৃষকদল নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, যুবদল নেতা রাজিব হোসেন, বেনজীর আহমেদ তাবরিজসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘মাফিয়াতন্ত্র’ বন্ধের আহ্বান রিজভীর
সড়ক পরিবহন খাতে ‘মাফিয়াতন্ত্রের’ অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নবগঠিত কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়কে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য ও অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে নতুন ফেডারেশন সক্রিয় ও সোচ্চার থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, নতুন ফেডারেশনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা ছাত্ররাজনীতিতে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন চিন্তা ও পদ্ধতির মাধ্যমে সড়ক পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করে আইনসঙ্গত করবেন এবং যাত্রীসেবায় দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখবেন বলে তিনি আশাবাদী।
খাতটির উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একটি খাতে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে অন্য খাতগুলোতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেগুলোও উন্নত হতে উৎসাহ পেতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ফেডারেশনের নেতৃত্ব ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে’ তৈরি হওয়া সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার অবনতিশীল পরিস্থিতির পরিবর্তে এমন একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যা জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং যাতায়াতের সময় মানুষকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিবোধ করাবে।
৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করছে বিরোধীরা: রিজভী
বিরোধী দলের কিছু নেতা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশোভন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলগুলোর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১১ দলীয় জোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধিতা করছে। তবে সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন, কথা বলা ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
বিরোধী দল আয়োজিত দুটি লংমার্চ কোনো বাধা ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে বিরোধী দলগুলোকে তাদের কর্মসূচি পালন ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তারা কথা বলুক। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়।’
রিজভীর মতে, গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবে। তিনি বলেন, ‘যা বলবেন, সত্য বলবেন।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সংকট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, কিন্তু যখন সেটা ‘তুই-তুকারি’তে চলে আসে, তখন সেটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি।
প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা নিয়ে এক বিরোধী নেতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করা তার মতে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংস্কৃতির’ মতো।
তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও খালেদা জিয়াকে একই ধরনের ভাষায় সম্বোধন করতেন।
রিজভী জানান, এ ধরনের ভাষা নিয়ে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষও গভীরভাবে বিরক্ত ও কঠোরভাবে সমালোচনামুখর ছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাওয়ায় বিএনপিকে এর জবাব দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তর দিতেই হবে। তবে সেই উত্তর অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ভাষায় নয়। বরং মার্জিতভাবে কঠোর ও দৃঢ় ভাষায় কথা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, কঠোর সমালোচনা করলে, সেখানেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায় এবং বিএনপি সেটিই করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা নয়, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য বা বোঝাপড়া থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ‘গণতন্ত্রের কথা বাদই দিলাম, রাষ্ট্রই তো থাকবে না।’
২১ দিন আগে
১৭ বছরে জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার পাশাপাশি জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করা হয়েছে। মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের যে প্রতিযোগিতা ছিল, সেটা ইসলামিক হোক বা টেকনোলজিতে হোক—আমাদের সেই প্রতিযোগিতা থেকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ‘বড় জায়গা’ থেকে ফোন এলে খাতায় কিছু না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে শুধু প্রশ্নপত্র জমা দিলেও তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা নাসের, কেরানীগঞ্জ সিএনজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইমাম উল্লাহ মাস্তানসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা।
স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুনকুটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদ। পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের পক্ষে বক্তব্য দেন টেগুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মাসুদ আলম স্বাধীন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও বৃত্তি পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
২৬ দিন আগে
ব্রিকস সামিটে না গিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো তাকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত দেবেন না? সে গিয়ে ওখানে সাইডলাইনে বসবে? এটা তো হতে পারে না। উনি যাননি। এই না যাওয়ার মধ্যে যে গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন গোটা জাতির সামনে, গৌরব তৈরি করেছেন জনাব তারেক রহমান।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারপরেই তারা বলল, তাদের সুইচ, এদের সুইচ আছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। সেই সুইচ তারা যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারে, চালু করতে পারে। তারা ঘোষণা দিল যে, এই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বুঝতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। আপনারা হস্তান্তর করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যাদের বিচার চলছে, তাদের হস্তান্তর না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যের কথা বলা হলেও আড়ালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
২৯ দিন আগে
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্ন নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর
ভারতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্নের পেছনে নাশকতা বা কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি আরও বলেন, ‘সেটার একটা ইউনিট নষ্ট। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সেটা সরবরাহে বিঘ্নিত হচ্ছে। কত দিক থেকে সংকট!’
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এখন আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয় যে, কোনো ঘটনা আছে কি না? একটা রহস্য আছে কি না? কোনো সাবোটাজ হচ্ছে কি না কোথাও? এটা মানুষের মনে—আমার শুধু নয়, সব মানুষের মনে এই প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে। যে কেন এখন একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি করা হবে? জনকল্যাণমুখী যে কর্মসূচিগুলি, সে কর্মসূচিগুলোতে বাধা দেওয়ার জন্যই কি নানা ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে কি না—সেটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে যে অর্থ পাওনা থাকে, তা সরকার কিস্তিতে পরিশোধ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ভারতকেও পাওনা পরিশোধ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে এটা হচ্ছে কেন? মানুষের মনে যে প্রশ্নটা—সেই প্রশ্নটির কথা আমি আপনাদের সামনে এখানে তুলে ধরলাম।’
দেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতির মধ্যে দেশ আছে, সেটা আমি বলব যে একটি সংকট এবং সে সংকটটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এবং কোথাও কোনো কনস্পিরেসি হচ্ছে বলে আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে! অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, আপনি কীভাবে বলছেন? কিন্তু আমার সবকিছু—বাস্তবতা এবং বিরাজমান ঘটনাগুলো দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, কোথাও কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না? কোথাও কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না?’
তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও এ ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। এসব ঘটনা একটি সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম, যার মধ্যে জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও রয়েছে, তা ব্যাহত করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে কোনো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না।
এছাড়া নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে আবার প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো করতে পারল, সেই প্রশ্নও তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? এত বড় একটি... তারা মানুষ জড় করল এতগুলো! তো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানে না? পুলিশ প্রশাসন—তারা কী করছেন?’
রংপুরে একই হিন্দু পরিবারের চার সদস্য হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে তাদের আইনের মুখোমুখি করেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের কোনো সুযোগ যেন এ দেশে না হয়। যদি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটে, তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণমানুষের অধিকার চরম হুমকির মুখে পড়বে।’
৩৩ দিন আগে
ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব অপকর্ম সমাজ থেকে মুছে দেব: রিজভী
ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সমাজের সব ধরনের অপকর্ম মুছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘এই সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন—যত ধরনের অপকর্ম, আমরা এটা মুছে দেব। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সেই কাজ করবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের যে সরকার, সেই সরকার নারীদের সমস্ত নাগরিক মর্যাদা, নারীদের বেঁচে থাকা, নারীদের আইনি অধিকার—প্রত্যেকটি নিশ্চিত করবে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির আগে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। নারীদের মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সমানভাবে দক্ষ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জেলা পর্যায়ে, মহানগর পর্যায়ে বা কেন্দ্রে, তাদের নেতারা কেউ অযোগ্য নয়। তারা অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন। এরা একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় তারাও সমানভাবে দক্ষ।
তিনি বলেন, এখন মানুষ নির্বিঘ্নে কথা বলতে ও চলাচল করতে পারছেন এবং নারীরাও নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ সংগঠনের নেত্রীদের অতীতের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কি মনে নেই? এই আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ এবং আপনাদের এখানকার অনেক নেত্রীরা কতবার কারাগারে গেছেন? কতবার রিমান্ডে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে? কতবার অত্যাচারিত হয়েছেন? কত নির্মমভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?’
এসব নেত্রীকে কীভাবে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হতো, সেখান থেকে আদালতে তোলা হতো এবং পরে মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হতো, তা স্মরণ করিয়ে দেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—এই সরকারে আপনাদেরও রক্ত-ঘাম আছে। অতএব এই সরকারের অংশ আপনারাও।’
জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, এটি সংগঠনের জন্য গর্বের বিষয়। দলের কর্মসূচি ও সরকারের কার্যক্রমের দিকে নজর রেখে জনগণের জন্য এবং সামাজিক সুরক্ষায় সরকার কী অবদান রাখছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
৩৩ দিন আগে
১৭ বছর মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল একজন ও এক দলের: রিজভী
গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র থাকলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেখলাম, অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধু একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের।’
তিনি আরও বলেন, ওই কাঠামোর বাইরে মতপ্রকাশের চেষ্টা যারা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ‘ভয়াবহ ছিল সেই রূপ,’ বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মিডিয়াগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো হোস্ট যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
তবে ওই সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যারা মাঠপর্যায়ে ছিলেন, তারা কেবল ধিকি ধিকি করে জ্বলছিলেন। গণতন্ত্রের আলো কিছুটা তারা জ্বালিয়ে রেখেছেন, যারা এখানে অনেকেই বসে আছেন। তারা ওই পরিস্থিতির মধ্যেও চেষ্টা করেছেন।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যে সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবদমিত ছিল, কথা বলা ছিল পাপ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যায়—এমন কথা বলা ছিল ঘোরতর অন্যায়, সেই সময় আমরা যতটুকু পরিসর পেয়েছি, ডিআরইউ তা প্রচার ও প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করেনি।’
ওই সময়ে সাংবাদিকেরাও চাপের মুখে ছিলেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অনেক সাংবাদিককে দমনমূলক কালো আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় নিগৃহীত হতে হয়েছে। জেল-জুলুমও খাটতে হয়েছে।
তবে এখন দেশে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এখন সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
রিজভী বলেন, ‘যারা সরকারে আছেন, সরকারের বাইরে যারা আছেন এবং সরকারের বাইরে থাকা বিরোধী দল—তারা মুক্ত কণ্ঠে সমালোচনা করবেন। সরকারের কাজগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এইভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।’
এছাড়া গণতান্ত্রিক এই অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেন রিজভী।
৩৫ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে, জ্বালানির সংকট আছে। এই সংকট তো আন্তর্জাতিক সংকট। একক কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামে।’
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহনের বড় একটি পথ রয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাসবাহী কার্গো আসছে।
তিনি বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। ত্রুটি মেরামতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনে আরও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করছে। এ জন্য আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্ষা শেষে শরৎকালে সাধারণত খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, চাল-ডাল ও লবণের দাম বাড়লেও সরকারের বাজার হস্তক্ষেপের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা যেতে পারবেন।
‘একটি জাতির কর্মসংস্থান যদি সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে সেই জাতি চূড়ান্ত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়’ মন্তব্য করে এক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবককে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি বিএ ও বিএ (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা যদি ক্ষমতায়িত না হয়, নারীর ক্ষমতায়ন যদি না হয়, তাহলে সভ্যতা সম্পূর্ণ হয় না—এই দর্শনকে মাথায় রেখেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে এসেছে এবং তারা সামনের দিকে অগ্রসর হবে।
রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের অন্যতম শক্তিশালী নারী সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠনটি প্রতিবাদ করেছে এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের কারণে রাতে নারীদের গ্রেপ্তার করা হলে কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে ছুটে গেছেন। খাদিজা, মিতু, নুসরাত, রূপাসহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনটি রাজপথে প্রতিবাদ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যারা নারীদের ওপর হামলা চালায় এবং এ ঘটনায় উল্লাস করে, তারা ‘কাপুরুষ’ ও ‘বর্বর’।
তিনি বলেন, ‘যে মহিলা জুলাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন, তার ওপর আঘাত করা—এটা সবচেয়ে ঘৃণ্য, নিকৃষ্টতম কাপুরুষোচিত কাজ।’
ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, সংসদেও সব দল মিলে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে।
৩৬ দিন আগে
দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে: রিজভী
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
রিজভী জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে সেটি মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্যাসের রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে।
‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। বিদ্যুৎ থাকবে—তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার রাজনীতি করে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।
দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ (অস্পষ্ট) টার্ম।’
রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’
রিজভী আরও বলেন, সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এসব মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার কথায়, ‘সংকট আসবে। কিন্তু সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসে নেই। সব সংকট মোকাবিলা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
৪৪ দিন আগে