রুহুল কবির রিজভী
রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মিলিতভাবে ন্যূনতম প্রধান বিষয়ে একটা ন্যূনতম বোঝাপড়ার মধ্যে থাকতে হবে। এই বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই রাজনীতিক বলেন, এই জুলাই, ১৮ জুলাই, সেই বেদনাবিধুর স্মৃতি আমরা এখনও ভুলে যাইনি।
তিনি বলেন, সেই মুগ্ধ যে শহিদ হয়েছেন, আমরা তার কথা তো ভুলতে পারি না। একজন ভয়ঙ্কর দানব রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে ছিলেন জোর করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে। নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান; গণতন্ত্র যেখান থেকে শক্তিশালী হয়, সেই বিচারব্যবস্থা, ইলেকশন কমিশন, মিডিয়া— সবকিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি যা বলবেন মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হবে—এমন অবস্থা ছিল। মুগ্ধদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই দানবকে দমন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ধরনের একটি ভয়ঙ্কর দানবীয় রাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মধ্যে। একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের তো কমপক্ষে ব্যবস্থা হয়েছে। কমপক্ষে কেউ যদি সরকারের জোরালো সমালোচনা করেন, সে গুম হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কথা বলা, সমালোচনা করা, এটা তো একটা গণতান্ত্রিক সমাজের একটা অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, সেটি তখন ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে। তাই জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর এবং তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের বাকি আছে সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে আরও যদি কিছু সেখানে কথা বলার থাকে, কিছু সংযোজন করার থাকে, সেটা করতে অসুবিধা কোথায়? সেটা করে যেগুলো আইনিকরণ করা দরকার সংসদে, যেগুলো সংবিধানে সংশোধন করা দরকার, সেগুলো করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য একটা টেবিলে বসতে হবে, বসে কথা বলে ঠিক করে এটিকে আইনিকরণ করা সম্পন্ন করতে হবে।
৪ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে করবে না করবে, তা আদালত ও ইসির বিষয়: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কে অংশ নিতে পারবে, আর কে পারবে না—সেটি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিষয়। এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বিবেচ্য নয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ চেয়েছে, এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী—জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমাদের প্রার্থিতা কীভাবে বাছাই হবে, সেটা আমাদের দলের বিষয়। এবার যেহেতু দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে কে নির্বাচন করবে, কে করবে না—এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তারা প্রচলিত আইন এবং নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দল কী বলল, না বলল—সেটা বিষয় নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বা পারবেন না, সেটি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। আমরা বিষয়টি তাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।
বিএনপির প্রার্থিতা কীভাবে বাছাই করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দল এবং আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ডিসেম্বরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব বলেছেন, চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, কাউন্সিল হবেই। তবে কোন মাসে, কবে হবে—সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, খুব দ্রুতই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি। তারিখ ও সময় নির্ধারণ হলে তা আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে, দুপুর ১২টার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন।
বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পঞ্জিকাবর্ষে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।
সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুঃস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পর পর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।
৫ দিন আগে
লুটপাটের উদ্দেশ্যে আ.লীগ আমলের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা না করে লুটপাট ও টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিত উন্নয়ন করেছে। এর ফলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ, নদী-নালা ও খাল-বিলের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে। কিন্তু গত সরকার এসব বিষয়কে উপেক্ষা করেছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা দিলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেমন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’
রিজভীর দাবি, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং বন্যায় ইতোমধ্যে ৫২ থেকে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে। হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের পেছনেও দলীয় লোকদের ঠিকাদারি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
এই রাজনীতিক বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় শুধু বিরোধী দল নয়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছিলেন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হবে। কিন্তু সরকার একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার জন্য সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারের সমালোচনা করলে গুম, কারাবরণ কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এখন মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও স্বাধীনভাবে কথা বলছেন।
বর্তমানে টানা অতিবৃষ্টিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সব সচ্ছল মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
১১ দিন আগে
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। তাই, এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, অনেক রক্ত, আত্মত্যাগ ও ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আছে। পরাজিত শক্তিরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। সেটা যাতে করতে না পারে, সেই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। তাদের বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মের ভাইবোনদের সঙ্গে তারা যেন একযোগে দুর্গাপূজায় প্রহরীর কাজ করেন। শুধু এবারেই নয়, আমরা গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজাসহ সমস্ত পূজাতে একইভাবে দলের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশ দিয়েছিলাম। প্রত্যেকেই বিভিন্ন পূজা মন্ডপে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সেখানে বক্তব্য দিয়েছি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের পূজাপার্বণে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের পাশে থাকার, তাদের নিরাপত্তাবিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা এবং উল্টো রথের এই আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে তাদের পাশে থাকবে।
তবে এটি নিয়ে কেউ যাতে আবার কোনো রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য যে সমস্ত নৃগোষ্ঠীরা আছেন, সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন-বিভক্তি কারা করত, এটা তারা বুঝে গেছেন। গত নির্বাচনে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।
দেশের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। বর্ষায় পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও মৎস্যচাষের সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খননের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ অগ্রযাত্রায় কোনো অপশক্তি বা এজেন্ট যেন উস্কানি দিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য জনগণ এবং বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়ে যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য না দেন, তাহলে সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তারা যেন কোনো প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেন, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিকে একটি মহৎ ও মানবিক উদ্যোগ উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, প্রায় ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তবে যেসব এলাকায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, সেসব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যান্য নেতারা।
১৫ দিন আগে
বিরোধীদল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে: রিজভী
বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা গঠনমূলক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে শনিবার (৯ মে) হতে যাওয়া বিএনপির মতবিনিময় সভার প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আজ (শুক্রবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি এবং এর তিনটি অঙ্গসংগঠন— যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
রুহুল কবির রিজভী জানান, সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া দলের মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেবেন। তারা সাংগঠনিক এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই-তিন মাসে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ অনেক ভালো কর্মসূচি রয়েছে।’
সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমালোচনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। কত জীবন চলে গেছে— শিশু, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকের। গণতন্ত্র মানেই সরকার তার কাজ করবে, আর বিরোধীদল তার সমালোচনা করবে। এটাই মূল এবং এটাই হওয়া উচিত।
‘বিরোধীদল বিভিন্ন সমালোচনা করতেই পারে। তবে সমালোচনাটা যেন গঠনমূলক হয়। সরকারের ভুল থাকলে সেই ভুলগুলো দেখিয়ে দিলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, রাষ্ট্র আরও কার্যকর ও কর্মক্ষম হয়।’
বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিই এবং মিথ্যা কথা বলে যাই, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরেও অনেক মিথ্যা কথা বলেছেন। যদি সেই ধরনের রাজনীতি হয়, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্রের মধ্যেই পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধীদল গঠনমূলক থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। জনগণ যদি মনে করে বিরোধীদলের কথা ইতিবাচক, তাহলে জনগণই সেটার মূল্যায়ন করবে। জনগণই হচ্ছে চূড়ান্ত বিচারক। সামনের নির্বাচনে জনগণই বিবেচনা করবে সরকার সঠিক কাজ করেছে কি না।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
৭৭ দিন আগে
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান রিজভীর
দেশে ক্রমবর্ধমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক র্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। র্যালিটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার এবং স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই রোগের বিস্তার রোধে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যৌথভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এই বিএনপি নেতা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিজ্ঞানেরই ফল। মানুষ প্রত্যাশা করে, যেকোনো মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো টিকাবিরোধী প্রচারণা ও ভুল ধারণা। উন্নত বিশ্বেও ‘টিকাবিরোধী’ একটি গোষ্ঠী সক্রিয়। এর ফলে সমাজে এখনও অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে।
বিগত ১৫ বছরের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তারা সক্রিয়, তবে জনস্বাস্থ্যের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত দেড় দশকে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও স্বাস্থ্যখাত পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিজভী জানান, গত ১২–১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৮ জনের জীবন গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যভিত্তিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের চিকিৎসার পথ দেখায়। আজ মানুষ মহাকাশের বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারছে। অথচ হাম এমন একটি রোগ যা বহু আগে থেকেই শিশুদের আক্রমণ করে আসছে। এত দিনেও কেন এই রোগ নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। মাত্র ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে অর্থবহ গবেষণা সম্ভব নয়। এছাড়া জার্নাল রিভিউয়ের ওপর ২৩ শতাংশ ভ্যাটের কারণে গবেষণার খরচ আরও বেড়ে যায়। তিনি বিজ্ঞান ও গবেষণায় উচ্চতর বরাদ্দের ওপর জোর দেন।
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা হাম ও এই জাতীয় জনস্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১০৮ দিন আগে
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা কাল, শেষ নির্বাচনি জনসভা রবিবার
জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় শেষ নির্বাচনি জনসভা করবে বিএনপি। ওই দিন দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় হোটেলে সোনারগাঁওয়ে এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুর ২টায় বিএনপির শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেষ নির্বাচনি জনসভা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের প্রার্থীরা জনসভা উপস্থিত থাকবেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, সেটিই প্রত্যাশা।
বিএনপি সবসময় মানুষের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতো নিপীড়নও বিএনপিকে দমন করতে পারেনি, দেশের মানুষ ধানের শীষকে শুধু প্রতীক নয়, আবেগ মনে করে। তা ধারণ করেই মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেবে।
বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, নিজে একটি কাজ করেও নানাভাবে ঢাকার চেষ্টার কারণে এই প্রবাদ; যা কিছু দেখছি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার নামান্তর।
১৬৯ দিন আগে
মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নেবেন তারেক রহমান: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তারেক রহমান। তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব। ধরে রাখতে পারব দেশের পতাকা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতত্বে এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যে আদর্শ, যে নৈতিকতা, যে অঙ্গীকার জনগণের কাছে দিয়েছিলেন, তার যে রেখে যাওয়া আদর্শ, সেই আদর্শ এত উঁচু মাত্রার নৈতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে…আমরা সেই পথ ধরে, তার দেখানো পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে, সকল অঙ্গ সংগঠন এবং এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব, আমরা দেশের পতাকাকে ধরে রাখতে পারব, স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে পারব, সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখতে পারব। সুতরাং তিনি যে প্রেরণা, যে যন্ত্রণা সহ্য করে, অত্যাচার সহ্য করে তিনি তার পতাকাকে উড্ডীন রেখেছিলেন, সেই দৃষ্টান্তই আমরা অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যাব।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পতাকা হাতে নিয়েছেন, তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নতুন দিগন্তের দিকে। আমরা সেই দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাব, যার জন্য প্রায় ৪৫/৪৬ বছর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।’
আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসামূলক ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিপীড়ন-নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া, ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার অশুভ চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তার যে অটুট মনোবল, তার যে ধৈর্য, আত্মসংগ্রাম, তার যে সাহস, তার যে দৃঢ় প্রত্যয়, যেকোনো হুমকির মুখে তাকে তার মাটি থেকে সরানো যায় না। তার জলন্ত এক প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কত কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, কত ধরনের নোংরা কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার আত্মসংযমের মধ্যে তার সজ্জন এবং সুরুচিপূর্ণ কথার মধ্যে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, যারা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা জনগণ থেকে ধিকৃত হয়, আর যারা সৌজন্য বোধপ্রিয়, যারা হাজার আক্রমণের মুখেও, হাজার বাজে কথা বলার পরেও যিনি একটি মাত্র খারাপ শব্দ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করেন না, তাকেই আল্লাহ মহিমান্বিত করেন।’
বুধবার খালেদা জিয়ার জানায় জনসমুদ্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে দেখুন, পরশুদিন থেকে জনতার ঢাল নেমেছে এই কবর প্রাঙ্গণে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আসছে, দোয়া করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।’
২০২ দিন আগে
রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পূর্বনির্ধারিত দুটি কর্মসূচি স্থগিত করেছে।
একই সঙ্গে দলটি আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলের মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।’
শায়রুল কবির জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেবেন এবং তিনিই এতে সভাপতিত্ব করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিকেল ৩টায় সংসদ ভবন এলাকার সেচ ভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যে কর্মসূচি ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কর্মসূচিটিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার মৃত্যুর ঘটনা এবং পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই দুটি কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক বিষয়াদি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
২১৭ দিন আগে
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া ও প্রার্থনা সভা শুক্রবার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শুক্রবার দেশের সব মসজিদে দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
রিজভী বলেন, ‘মহান দেশপ্রেমিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় আগামীকাল শুক্রবার প্রতিটি মসজিদে দোয়া মাহফিল, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা হবে। প্রতিটি মসজিদে মসজিদে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত হবে।’
তিনি বলেন, অসংখ্য নির্যাতনের মধ্যেও যার অটল মনোভাবকে দমানো যায়নি, তার নাম খালেদা জিয়া। তাকে নির্যাতন করে অসুস্থ করা হয়েছে। দেশবাসী দোয়া করছেন, তিনি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।
এ সময় তিনি আরও জানান, বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা কর্মসূচি ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে এবং এতে ভার্চু্য়ালি যুক্ত হবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, যখন ফিরে আসার, সেই সময়েই তিনি ফিরে আসবেন। তার মায়ের চিকিৎসা নিয়ে তিনি (তারেক রহমান) অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সেই চিকিৎসা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, অনেক বিষয় রয়েছে। তিনি পরিবারেরও জ্যেষ্ঠ সন্তান। দেশ, মানুষ, রাজনীতি—সবকিছু চিন্তা করেই উপযুক্ত সময়ে তিনি (দেশে ফেরার) সিদ্ধান্ত নেবেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, তার অবস্থা আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
২৩২ দিন আগে