রুহুল কবির রিজভী
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান রিজভীর
দেশে ক্রমবর্ধমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক র্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। র্যালিটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার এবং স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই রোগের বিস্তার রোধে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যৌথভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এই বিএনপি নেতা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিজ্ঞানেরই ফল। মানুষ প্রত্যাশা করে, যেকোনো মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো টিকাবিরোধী প্রচারণা ও ভুল ধারণা। উন্নত বিশ্বেও ‘টিকাবিরোধী’ একটি গোষ্ঠী সক্রিয়। এর ফলে সমাজে এখনও অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে।
বিগত ১৫ বছরের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তারা সক্রিয়, তবে জনস্বাস্থ্যের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত দেড় দশকে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও স্বাস্থ্যখাত পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিজভী জানান, গত ১২–১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৮ জনের জীবন গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যভিত্তিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের চিকিৎসার পথ দেখায়। আজ মানুষ মহাকাশের বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারছে। অথচ হাম এমন একটি রোগ যা বহু আগে থেকেই শিশুদের আক্রমণ করে আসছে। এত দিনেও কেন এই রোগ নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। মাত্র ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে অর্থবহ গবেষণা সম্ভব নয়। এছাড়া জার্নাল রিভিউয়ের ওপর ২৩ শতাংশ ভ্যাটের কারণে গবেষণার খরচ আরও বেড়ে যায়। তিনি বিজ্ঞান ও গবেষণায় উচ্চতর বরাদ্দের ওপর জোর দেন।
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা হাম ও এই জাতীয় জনস্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৭ দিন আগে
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা কাল, শেষ নির্বাচনি জনসভা রবিবার
জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় শেষ নির্বাচনি জনসভা করবে বিএনপি। ওই দিন দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় হোটেলে সোনারগাঁওয়ে এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুর ২টায় বিএনপির শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেষ নির্বাচনি জনসভা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের প্রার্থীরা জনসভা উপস্থিত থাকবেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, সেটিই প্রত্যাশা।
বিএনপি সবসময় মানুষের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতো নিপীড়নও বিএনপিকে দমন করতে পারেনি, দেশের মানুষ ধানের শীষকে শুধু প্রতীক নয়, আবেগ মনে করে। তা ধারণ করেই মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেবে।
বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, নিজে একটি কাজ করেও নানাভাবে ঢাকার চেষ্টার কারণে এই প্রবাদ; যা কিছু দেখছি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার নামান্তর।
৬৮ দিন আগে
মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নেবেন তারেক রহমান: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তারেক রহমান। তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব। ধরে রাখতে পারব দেশের পতাকা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতত্বে এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যে আদর্শ, যে নৈতিকতা, যে অঙ্গীকার জনগণের কাছে দিয়েছিলেন, তার যে রেখে যাওয়া আদর্শ, সেই আদর্শ এত উঁচু মাত্রার নৈতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে…আমরা সেই পথ ধরে, তার দেখানো পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে, সকল অঙ্গ সংগঠন এবং এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব, আমরা দেশের পতাকাকে ধরে রাখতে পারব, স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে পারব, সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখতে পারব। সুতরাং তিনি যে প্রেরণা, যে যন্ত্রণা সহ্য করে, অত্যাচার সহ্য করে তিনি তার পতাকাকে উড্ডীন রেখেছিলেন, সেই দৃষ্টান্তই আমরা অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যাব।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পতাকা হাতে নিয়েছেন, তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নতুন দিগন্তের দিকে। আমরা সেই দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাব, যার জন্য প্রায় ৪৫/৪৬ বছর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।’
আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসামূলক ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিপীড়ন-নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া, ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার অশুভ চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তার যে অটুট মনোবল, তার যে ধৈর্য, আত্মসংগ্রাম, তার যে সাহস, তার যে দৃঢ় প্রত্যয়, যেকোনো হুমকির মুখে তাকে তার মাটি থেকে সরানো যায় না। তার জলন্ত এক প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কত কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, কত ধরনের নোংরা কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার আত্মসংযমের মধ্যে তার সজ্জন এবং সুরুচিপূর্ণ কথার মধ্যে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, যারা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা জনগণ থেকে ধিকৃত হয়, আর যারা সৌজন্য বোধপ্রিয়, যারা হাজার আক্রমণের মুখেও, হাজার বাজে কথা বলার পরেও যিনি একটি মাত্র খারাপ শব্দ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করেন না, তাকেই আল্লাহ মহিমান্বিত করেন।’
বুধবার খালেদা জিয়ার জানায় জনসমুদ্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে দেখুন, পরশুদিন থেকে জনতার ঢাল নেমেছে এই কবর প্রাঙ্গণে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আসছে, দোয়া করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।’
১০১ দিন আগে
রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পূর্বনির্ধারিত দুটি কর্মসূচি স্থগিত করেছে।
একই সঙ্গে দলটি আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলের মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।’
শায়রুল কবির জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেবেন এবং তিনিই এতে সভাপতিত্ব করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিকেল ৩টায় সংসদ ভবন এলাকার সেচ ভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যে কর্মসূচি ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কর্মসূচিটিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার মৃত্যুর ঘটনা এবং পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই দুটি কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক বিষয়াদি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
১১৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া ও প্রার্থনা সভা শুক্রবার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শুক্রবার দেশের সব মসজিদে দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
রিজভী বলেন, ‘মহান দেশপ্রেমিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় আগামীকাল শুক্রবার প্রতিটি মসজিদে দোয়া মাহফিল, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা হবে। প্রতিটি মসজিদে মসজিদে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত হবে।’
তিনি বলেন, অসংখ্য নির্যাতনের মধ্যেও যার অটল মনোভাবকে দমানো যায়নি, তার নাম খালেদা জিয়া। তাকে নির্যাতন করে অসুস্থ করা হয়েছে। দেশবাসী দোয়া করছেন, তিনি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।
এ সময় তিনি আরও জানান, বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা কর্মসূচি ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে এবং এতে ভার্চু্য়ালি যুক্ত হবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, যখন ফিরে আসার, সেই সময়েই তিনি ফিরে আসবেন। তার মায়ের চিকিৎসা নিয়ে তিনি (তারেক রহমান) অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সেই চিকিৎসা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, অনেক বিষয় রয়েছে। তিনি পরিবারেরও জ্যেষ্ঠ সন্তান। দেশ, মানুষ, রাজনীতি—সবকিছু চিন্তা করেই উপযুক্ত সময়ে তিনি (দেশে ফেরার) সিদ্ধান্ত নেবেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, তার অবস্থা আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
১৩১ দিন আগে
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশে গভীর চক্রান্ত চলছে: রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে দেশে গভীর এক চক্রান্ত চলছে, যা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, আমি সরকারকে বলতে চাই— আমার দৃঢ় অনুভূতি হচ্ছে, দেশে গভীর এক চক্রান্ত চলছে ।
তিনি এ চক্রান্তের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানান।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘পাকিস্তান আমলেও মাজার আক্রমণ করা বা লাশ পুড়িয়ে দেয়ার কথা শোনা যায়নি। এখন হঠাৎ করে এসব নৈরাজ্য কেন করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
রিজভী বলেন, সময় এগিয়েছে, আমাদেরও এগোনোর কথা ছিল। হঠাৎ এখন কেন এসব হচ্ছে? এ ধরনের কাজই শেখ হাসিনা করতেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলতেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে, বিএনপি পাকিস্তানপন্থি দল, বিএনপি ইসলামী জঙ্গিদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, এসব অপতথ্য এবং অপপ্রচার করতেন। এই অপতথ্য অপপ্রচার করার পরেও উনি এটা কোনোভাবেই প্রমাণ করতে পারেননি।
জামায়াতকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওই দল বিএনপিকে ভারতপন্থী দল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আপনারাই তো ৫ আগস্টের পর বললেন ভারতের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক আছে। অথচ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আপনারাই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, তিনি একসময় মদিনা সনদের ভিত্তিতে দেশ চালানোর অঙ্গীকার করেছিলেন।
তিনি বলেনন, কিন্তু বাস্তবে কী হলো? তার এক মন্ত্রীর লন্ডনে ১৪০টি বাড়ি, তার সন্তানদের নামে পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জমি, আবার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের পাশে সরকারি ৭২ বিঘা জমিতে ৩০টি বাংলো তৈরির পরিকল্পনা— অথচ সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে।
পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ডাকসুতে ছাত্রদল বিজয়ী হবে: রিজভী
কোভিডের সময় অক্সিজেনের অভাবে অসংখ্য মানুষ মারা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের ওপর বিপদ আসে, আমরা দেশেই থাকি, আমাদের নেত্রী দেশেই থাকেন, মিথ্যা মামলায় পাঁচ-ছয় বছর তিনি নির্যাতনে কারাবন্দি অবস্থায় থাকেন, আমরা কোনো পন্থি দল নই, বাংলাদেশপন্থি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।
প্রবক্তা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, আজ প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আমরা সমবেত হয়েছি মহান মানুষকে স্মরণ করতে, যিনি আল্লাহর বাণী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। যদি আমরা সামান্যতম অনুকরণ করতাম বা আমরা লালন করতাম তাহলে এই দেশ থেকে অন্যায়-অনাচার, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি রক্তারক্তি সব বন্ধ হয়ে যেত।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নবীর অনুসারী দাবি করলেও বাস্তবে তাকে আমরা কেউ অনুসরণ করি না। তাকে আমরা কেউ অনুকরণ করি না। এটাই হলো মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
রিজভী বলেন, মহানবী (সা.) বিভক্ত আরব সমাজকে একত্রিত করেছিলেন এবং সবার জন্য সমাধান দিয়েছিলেন। আজ আমরা মদিনা সনদের কথা বলি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই মানি না।
এই আনন্দ ও প্রার্থনার দিনে আসুন আমরা নবীর জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নেই, যিনি আল্লাহর বাণী এনেছিলেন। যদি আমরা তার উদাহরণ অনুসরণ করি, তাহলে সমাজ থেকে দুর্নীতি, লোভ, ঘৃণা দূর হবে। আমরা সৎভাবে বাঁচতে পারব এবং শান্তি ফিরে আসবে।
২২০ দিন আগে
সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিজভী
পতিত সরকারের ‘মিত্ররা’ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন— এমন অভিযোগ তুলে দেশে সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘এখনো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আসলে কতটা (একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন) করা সম্ভব। কতটা করা সম্ভব? আমরা তাদের (নির্বাচন কমিশন) জিজ্ঞাসা করেছি যে তাদের সেই ক্ষমতা আছে কিনা।’
রবিবার (৩১ আগস্ট) নগরীর নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি প্রতিনিধিদলটি বিশেষভাবে নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
রিজভী বলেন, তাদের প্রশ্নের জবাবে, ইসি তাদের (একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য) ইসির পূর্ণ প্রস্তুতির আশ্বাস দিয়েছে।
ইসিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী’ হিসেবে পরিচিতদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘এই সহযোগীরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত করতে এমনকি এটি অনুষ্ঠিত হতে বাধা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল এবং সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’ যদিও ইসি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা এবং একটি প্রশাসনও।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে 'আওয়ামী লীগের সহযোগীরা' এখানে কী ধরণের ভূমিকা পালন করছে এবং তারা কোনো ধরণের বাধা তৈরি করছে কিনা।’
রিজভী বলেন, জবাবে ইসি তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সঠিকভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে এটি তদারকি করছে— যাতে নির্বাচন কোনোভাবেই ব্যাহত ও কলঙ্কিত না হয়। নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে বিএনপির এই নেতা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বর্তমান ইসির আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি এই কমিশন সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। এখন পর্যন্ত, আমি তাদের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতার অভাব দেখিনি।’
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বিষয়ে রিজভী বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে, এটি এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। ‘আমাদের নেতারা ইসির কাছে এটি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে,’ বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিএনপি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। ইসি আমাদের জানিয়েছে যে তারা তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।’
আরও পড়ুন: রমজানের আগেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা রিজভীর
শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নূর একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছিলেন।এ কজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার উপর এ ধরনের আক্রমণ একটি গণতান্ত্রিক দেশে নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।
২২৬ দিন আগে
রমজানের আগেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা রিজভীর
আগামী রমজানের আগেই দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, এতে ষোলো বছর পর দেশের ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের মানুষ এখনো নানাভাবে অধিকারবঞ্চিত উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীদের দিক থেকে আমরা এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের মধ্যে বাস করছি। আমাদের আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি। তবে আমাদের বিশ্বাস খুবই দ্রুত রমজানের আগেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তাতে এ দেশের ভোটাররা ষোলো বছর ধরে যে ভোট দিতে পারেননি, এবার তারা সেই ভোট দিতে পারবেন।’
‘পাশাপাশি গণতন্ত্রের আরও বিভিন্ন শর্ত, যেমন: এ দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা— পূরণ করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘আদালত হতে হবে অসহায় মানুষের শেষ ভরসার স্থল। সেই ধরনের একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে মানুষের অনুপ্রেরণা হচ্ছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন মানবতা, প্রেম ও দ্রোহের কবি। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, স্বাধীনতার লড়াই, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং বছরখানেক আগে যে দুনিয়া কাঁপানো গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, প্রতিটি জাতীয় অর্জন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যার গান ও কবিতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছে, তার গান গাইতে গাইতে ও তার কবিতা আবৃত্তি করতে করতে আমরা রাজপথে নেমে আসতাম।’
আরও পড়ুন: জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান রিজভীর
রিজভী বলেন, ‘স্বৈরশাসনের তপ্ত বুলেটের সামনে নিঃশঙ্কচিত্তে দাঁড়াতেও দ্বিধা করিনি, কারণ আমাদের কণ্ঠে ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতা। যখনই এ দেশের মানুষ অধিকারহারা হয়, তখনই তাদের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করে অত্যাচারীর শৃঙ্খল ভাঙার প্রত্যয় জেগে ওঠে যার কবিতা ও গানে, তিনি কাজী নজরুল ইসলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে তিনি (নজরুল) তার শানিত কলম চালাতে দ্বিধা করেননি। তার লেখা কবিতা, গান ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যে চেতনা তিনি গোটা জাতিকে দিয়েছেন, তা ধারণ করেই আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংগ্রাম করেছি, জুলাই আন্দোলনে যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।’
২৩১ দিন আগে
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান রিজভীর
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যদি দেশের স্বার্থে সংবিধানের কোনো পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে সেটা নির্বাচিত সরকারই করবে।
রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জিয়া পরিষদ রিকশা ও ভ্যানগাড়ি চালকদের মধ্যে বৃষ্টির পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে’ তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ৫ আগস্টের মাধ্যমে আমরা যে অর্জন করেছি, সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। গত ১৬ বছর ধরে একটি দানবীয় সরকারের রোষানল ও নিষ্ঠুর নিপীড়নের মধ্যে এ দেশের মানুষ দিন কাটিয়েছেন। সেই সরকার যাতে আর ফিরে না আসে, সে জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সুযোগ যেন তৈরি না হয়।
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরে এই জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। তখন দেশে কোনো আইন-কানুন ছিল না, কোনো ন্যায়বিচার ছিল না। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তারা আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ একের পর এক রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে।’
‘দেশে এমন এক রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, শেখ হাসিনা, তার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া কেউ কথা বলতে পারতেন না। যা ছিল হিংসা ও রক্তপাতের রাজত্ব। আপনারা যদি সেটার পুনরাবৃত্তি না চান, তাহলে সবাইকে অন্তত ন্যূনতম একটা বোঝাপড়ার মধ্যে আসতে হবে।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এটা যদি না করতে পারেন, তাহলে আবারও ভয়ঙ্করভাবে ফ্যাসিবাদ উঁকি দিতে পারে। শেখ হাসিনা কতখানি প্রতারক হলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসে নিজেই সেটা বাতিল করে দিয়েছে। এই হচ্ছে শেখ হাসিনা, যার কোনো অঙ্গীকার নেই, যে রাজনীতিকে মনে করে প্রতারণা ও উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম। আমরা দেশে সেই রাজনীতি ফেরত আসতে দিতে পারি না।’
রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ। তাদের কাছে মানুষের অনেক দাবি-দাওয়া ও প্রত্যাশা রয়েছে। সেগুলো পূরণে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই, কিন্তু এখন মুদ্রাস্ফীতি অনেক কমে এসেছে, জিনিসপত্রের দাম না কমলেও অন্তত বাড়ছে না। কিন্তু কর্মসংস্থান তো হচ্ছে না। একের পর এক মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান না থাকলে দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হয়।
‘দুয়েকজন উপদেষ্টা হয়তো হাঁসের মাংস খেতে পারবেন যেকোনো জায়গায়। কিন্তু জনগণ তো আর হাঁসের মাংস খেতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়।’
আরও পড়ুন: পুলিশ-প্রশাসনে আ. লীগের অনুগতদের রেখে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: রিজভী
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্ট খাত থেকে এক লাখ লোকের চাকরি চলে গেছে। কারণ, ফ্যাসিবাদের পূজারীদের অনেকেই মিলমালিক। আমরা আগেও বলেছি, কলকারখানা যেন বন্ধ না হয়, মানুষের ক্ষুধা যেন না বাড়ে। মানুষের ক্ষুধার সঙ্গে রাজনীতি করা যাবে না। দরকার হলে সরকার এসব কারখানা নিলামে বিক্রি করে দেবে অথবা প্রশাসক দিয়ে চালাবে। কিন্তু কর্মসংস্থান যেন ঠিক থাকে, সরকারকে সেই চেষ্টা করতে হবে।
‘জুলাই সনদের জন্য আইন বা সংবিধান সংশোধন করতে হলে সেটা নির্বাচিত সংসদই করবে। একটি রাজনৈতিক দল বলছে আগেই গণভোট দিতে হবে—কেন? যদি মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন করতে হয়, মূলনীতি একটি অখণ্ড বিষয়। তারপরও সংবিধানের বিধান অনুসারে সংশোধন করা যায়। কিন্তু সেই সংশোধন করবে সংসদ,’ যোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা যেমন গায়ের জোরে চালিয়েছেন যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার মতের মিল হয়নি, তাই গোয়েন্দা সংস্থা পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। সেই ধরনের আলামত এখন কেন থাকবে? আমরা তো এমনটা করতে পারি না। কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার তৈরি করুন। তারপর গণতন্ত্রের স্বার্থে যদি সংবিধান পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তারা সেটা করবে। এটা তাদের দায়িত্ব।
২৩৩ দিন আগে
সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানোর কোনো বয়ান কাজে লাগবে না: রিজভী
সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানোর নানা বয়ান আমরা শুনতে পাচ্ছি, সেগুলো কোনো কাজে লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে উন্নয়নের যে ফিরিস্তি স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার দিয়েছে তা— এই পাহাড়ে না আসলে দেখতে পেতাম না।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ফুটবলার ঋতুপর্ণার অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার হেলাল, আমরা বিএনপির পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব মো. মিথুন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আমি নিজেই এখনো নির্বাচনের তারিখ জানি না: সিইসি
এ সময়, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী ঋতুপর্ণা চাকমার মা ভুজিপুতি চাকমাকে আশ্বস্ত করেন। বলেন, বিএনপি সব সময় ঋতুর মায়ের পাশে থাকবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পেয়ে ঋতুর মায়ের পাশে দাঁড়ানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই, এই প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুর্গম এই পথ পাড়ি দিয়ে আমরা তার বাড়িতে এসেছি। আমরা ঋতুর মায়ের সকল চিকিৎসার খরচ বহন করব।
এসময় রিজভী ঋতুপর্ণার মায়ের হাতে ২ লাখ টাকা হাতে তুলে দেন। এছাড়া প্রতি মাসে কেমোথেরাপির ৩০ হাজার টাকা করে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
পাহাড়ের গোল্ডেন গার্ল খ্যাত ঋতুপর্ণা চাকমার জোড়া গোলে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ঋতুপর্ণা চাকমার মা ভুজোপতি চাকমা ব্রেস্টক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। এরমধ্যে, তিনি তিনটি কেমোথেরাপি দিয়েছেন। প্রতি ২১ দিন পরপর তাকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে গিয়ে কেমোথেরাপি দিতে হয়।
২৭৯ দিন আগে