বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তারেক রহমান। তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব। ধরে রাখতে পারব দেশের পতাকা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতত্বে এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যে আদর্শ, যে নৈতিকতা, যে অঙ্গীকার জনগণের কাছে দিয়েছিলেন, তার যে রেখে যাওয়া আদর্শ, সেই আদর্শ এত উঁচু মাত্রার নৈতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে…আমরা সেই পথ ধরে, তার দেখানো পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে, সকল অঙ্গ সংগঠন এবং এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব, আমরা দেশের পতাকাকে ধরে রাখতে পারব, স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে পারব, সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখতে পারব। সুতরাং তিনি যে প্রেরণা, যে যন্ত্রণা সহ্য করে, অত্যাচার সহ্য করে তিনি তার পতাকাকে উড্ডীন রেখেছিলেন, সেই দৃষ্টান্তই আমরা অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যাব।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পতাকা হাতে নিয়েছেন, তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নতুন দিগন্তের দিকে। আমরা সেই দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাব, যার জন্য প্রায় ৪৫/৪৬ বছর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।’
আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসামূলক ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিপীড়ন-নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া, ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার অশুভ চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তার যে অটুট মনোবল, তার যে ধৈর্য, আত্মসংগ্রাম, তার যে সাহস, তার যে দৃঢ় প্রত্যয়, যেকোনো হুমকির মুখে তাকে তার মাটি থেকে সরানো যায় না। তার জলন্ত এক প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কত কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, কত ধরনের নোংরা কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার আত্মসংযমের মধ্যে তার সজ্জন এবং সুরুচিপূর্ণ কথার মধ্যে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, যারা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা জনগণ থেকে ধিকৃত হয়, আর যারা সৌজন্য বোধপ্রিয়, যারা হাজার আক্রমণের মুখেও, হাজার বাজে কথা বলার পরেও যিনি একটি মাত্র খারাপ শব্দ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করেন না, তাকেই আল্লাহ মহিমান্বিত করেন।’
বুধবার খালেদা জিয়ার জানায় জনসমুদ্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে দেখুন, পরশুদিন থেকে জনতার ঢাল নেমেছে এই কবর প্রাঙ্গণে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আসছে, দোয়া করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।’