পরিবেশ
পদ্মাপাড়ে অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, হুমকিতে কৃষিজমি-পরিবেশ
পদ্মাপাড়ে দিনের বেলায় সুনসান নীরবতা। তারই মাঝে চোখে পড়ে সবুজ রঙের ত্রিপল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত জায়গা। তবে রাতের গভীর ওই ত্রিপলের আশপাশের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। তখন সেখানে উন্মুক্তভাবে ভাঙা হয় শত শত পুরাতন ব্যাটারি। তাতে আবার কয়লা ও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে বের করা হয় বিষাক্ত সিসা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পদ্মা নদীর পাড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর নৌকাঘাট-সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের ইটভাটা এলাকায় প্রতিদিন বিকেল ও মধ্যরাতে এই বিপরীত দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাবনার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি কারখানাটি পরিচালনা করছেন। প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিত ও অনিরাপদভাবে পরিচালিত কারখানাটিতে পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে সিসা বের করা হচ্ছে। এতে সিসাযুক্ত ধোঁয়া, দূষিত ধূলিকণা ও অ্যাসিডের মতো ভয়ানক রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে চারপাশ দূষিত করছে। প্রায় দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নদীপাড়ের শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, পাবনার মনির স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করছেন। এ জন্য তিনি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে; ফসল নষ্ট হচ্ছে। বারবার নিষেধ করার পরও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করার কথা স্বীকার করেছেন মনির হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই দেড় মাস ধরে কারখানা চলছে।’ তবে বাতাসের কারণে অধিকাংশ দিনই কারখানা বন্ধ রাখতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজ হয় না। রাত সাড়ে ১১টার পর ট্রাকে করে পুরাতন ব্যাটারি আনা হয়। রাত ১২টার দিকে জ্বালানো হয় আগুন।
তার অভিযোগ, চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান টিক্কা, বিএনপির কর্মী জালাল ও হযরতের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কারখানাটি চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান টিক্কা বলেন, ‘কারা কী করছে জানিনে। আমি এসবে নাই। আপনারা মনিরের সাথে মিলতাল করে নেন।’
অবৈধ ব্যাটারি কারখানার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম। তিনি বলেন, ‘দিন পনেরো আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কারখানার লোকদের দৌড়ানি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলে কি না, তা জানা নেই।’
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ) হাবিবুল বাসার বলেন, ব্যাটারির ভেতরে সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে। উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করার ফলে বাতাসে সিসা ও লেডের মাত্রা বেড়ে যায় যা পরিবেশ ও মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে দ্রুত অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।
৭ দিন আগে
পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী
কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
রবিবার (১৬ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি ও সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্মাণ খাতের বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে। তাই ইটভাটার মালিকদের দ্রুততম সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর হতে হবে।
আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি, সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ইটশিল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম সভায় সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো, কাঁচামাল কেনায় পরিশোধিত ভ্যাটের রেয়াত এবং শিল্পবর্জ্য ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়।
এসব বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ব্লকের মান নিশ্চিত করতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দপ্তরকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
দিনের দ্বিতীয় সভায় ইটশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
সভায় ইটশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, পরিবেশগত মান ও আইন পরিপালন, কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহার এবং অধিকতর পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রচলিত ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব কমানো, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ইট ও পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনের প্রসারে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
ইটশিল্পের প্রতিনিধিরা খাতটির সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
হাতির আবাসস্থল রক্ষা হলে মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ব্রিঙ্গিং দ্য ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস’ যার বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, হাতি রক্ষার সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা গেলে শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীই রক্ষা পাবে না, একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্যহাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্যহাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম
হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী জানান, হাতি সংরক্ষণে ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজাভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ইআরটি
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে।
এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না,’ বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে এর সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা কঠিন। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
বায়ু-শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, হর্ন নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহারের তাগিদ
বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ইটভাটার দূষণ রোধ এবং অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সারা দেশে, বিশেষ করে রাজধানীর পরিবেশগত পরিস্থিতির উন্নয়নে বায়ু ও শব্দদূষণ কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
তারেক রহমান ইটভাটা থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
৫২ দিন আগে
‘শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই’
জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের সংকট মোকাবিলায় শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান পরিবেশ মেলা প্রাঙ্গণে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশন (সিএজেএফ) আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জিয়াউল হক বলেন, একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, গাছপালা, নদী-খাল এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এস এম রায়হান (তনু) এবং গ্রীন সেভার্সের আহসান রনি। উপস্থিত ছিলেন সিএজেএফের সেক্রেটারি জেনারেল রাওমান স্মিতা, নির্বাহী সদস্য মোহসিনা শাওন, মুর্শিদা খাতুন, বোরহান উদ্দিন, মেহেদী হাসান খান তপু ও মহিউদ্দিন খান।
জিয়াউল হক বলেন, ‘আজ যারা অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন, তারা যদি নিজেদের সন্তানদের সামনে পরিবেশবান্ধব আচরণের উদাহরণ তৈরি করেন, তাহলে সেই শিক্ষাই শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হবে।’
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু গাছ লাগানো নয়; বরং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শব্দ দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অপ্রয়োজনে গাড়ির হর্ন বাজানো, কালো ধোঁয়া নির্গমন এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ সরাসরি জরিমানা করতে পারে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘আজকের ছোট ছোট সচেতনতাই আগামী দিনের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’ তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এর আগে, পরিবেশ মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সনদপত্র ও একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেরা ১৫ জন শিশুকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে গ্লোবাল ল থিংকার্স সোসাইটি ও জিয়া আর্ট গ্যালারি।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, ‘শিশুদের মাঝে পরিবেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরিবার থেকেই পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুরু করতে হবে।’
সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
৫৬ দিন আগে
যার যার অবস্থান থেকে আশপাশের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নিজেদের বাড়ি, পাড়া, খাল ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার।
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন স্মৃতিসৌধ-সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাশে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এই খালের দুই পাশে সাড়ে তিনশর মতো চারা রোপন করব। স্থানীয়দের সবার কাছে আমার আহ্বান থাকবে, এই যে চারাগুলো আমরা আজকে রোপন করব, এগুলো রোপনের পরই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না; এই গাছগুলোর যত্ন আমাদের নিতে হবে।
স্থানীয় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই যে খালটা বয়ে যাচ্ছে, এই গাছগুলো যখন বড় হবে, তখন খালটা দেখতে আরও সুন্দর হবে। খালের পাড়ে তখন বসতে আরও ভালো লাগবে। বেঞ্চে যখন আপনারা বসে থাকবেন, তখন নিশ্চয়ই বাতাসটা, বাতাসে আরামবোধ করবেন।
তারেক রহমান বলেন, সাগরদী খাল সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকে শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার কথায়, ‘এই খালটির যত্ন করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, খালের দুপাশে যত মানুষ আছে, সবাইকে আমাদের এই খালের যত্ন করতে হবে।’
৫৭ দিন আগে
সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার।
জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের এই জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণ করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমায় এবং পরিবেশকে নির্মল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
৬১ দিন আগে
পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যাই হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না। লুটপাট যাই হয়েছে এতে কাউকে না কাউকে দায়ী করা হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) ফেনী সার্কিট হাউজে ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলা ফেনী ও সংসদীয় আসনে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর।
এ সময় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ লেভেল পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ। যেভাবেই হোক আমাদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আগের কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দূষণ কমানো আমাদের জাতিগত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মাটি পোড়ানো ইটের জায়গায় পরিবেশবান্ধব ইটে রূপান্তর করা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়, এটি সময়সাপেক্ষ। তবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটে যেতেই হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করাই হবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ।
জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিরাট ব্যাপার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিণতির শিকার হতে হয়, তা থেকে আমরা আরেকটু উন্নত করার জন্য বনায়ন করা দরকার; সেটাই আমরা দ্রুত করব। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত কিছু জড়িত, যেমন: নদী ভাঙন ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপার আছে, এগুলো কিন্তু জলবায়ুর সঙ্গে জড়িত। আমাদের অগ্রাধিকার হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার হচ্ছে, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করা।
তিনি আরও বলেন, বনায়নের মাধ্যমে দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে সমস্যা হলো আমাদের দেশের কাঠামোর একটু অভাব আছে। যেমন: ডার্বেজ, ময়লা আবর্জনা—এগুলো সরানো পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের কাজ নয়, কিন্তু এটার ফলে যে দূষণ হয় সেটার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় দায়ী। তাই এখন দূষণের বিষয়টি একটি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। আমরা শুধু ঢাকা শহরকে এই কাঠামোর আওতায় রাখব, তা কিন্তু না; দেশের ছোট ছোট শহরগুলোতেও যেন এ সমস্যার সমাধান হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মো. রাজিব, ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ অন্যান্যরা।
১৮৪ দিন আগে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন: রিজওয়ানা হাসান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং বন ও নদী রক্ষায় কাজের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার আইনের সংশোধন ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন সংস্কার গ্রহণ করেছে। সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্প ও গৃহস্থালি দূষণ, লবণাক্ততা ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হ্রাস মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, ২০০২ সাল থেকে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এটি কার্যকর করা যায়নি। কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার হলেও সুপারশপে তা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা করা হয়েছে। এতে পুলিশকে জরিমানা ও শাস্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকার পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ ও ধলেশ্বরী এবং দেশের আট বিভাগের আটটি গুরুত্বপূর্ণ নদী নিয়ে পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব নদী থেকে বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কাজগুলো শুরু করে দিয়ে যেতে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)-এর আয়োজনে ৯ ও ১০ জানুয়ারি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফিরোজ আহমদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।
২৪২ দিন আগে
প্লাস্টিক দূষণে বছরে দেড় লাখ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিশ্ব এখন প্লাস্টিক দূষণের সংকটে রয়েছে, যা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনার বরাতে রোববার (৩ আগস্ট) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকটের কারণে জন্ম থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর ফলে প্রতি বছর অন্তত ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের সমপরিমাণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে প্লাস্টিক উৎপাদন ২০০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৬০ সালের মধ্যে এটি তিনগুণ বেড়ে বছরে এক বিলিয়ন টনে পৌঁছাবে। সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান-টাইম ইউস) প্লাস্টিকের ব্যবহার—যেমন পানির বোতল ও ফাস্টফুডের প্যাকেট।
বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্রে পর্যন্ত ৮০০ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ১০ শতাংশেরও কম।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্লাস্টিক শুধু ব্যবহারের সময়ই নয়, বরং এর কাঁচামাল (তেল, গ্যাস ও কয়লা) উত্তোলন, উৎপাদন, ব্যবহার ও বর্জনের প্রতিটি ধাপে মানবদেহ ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এতে বায়ুদূষণ, বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি প্লাস্টিকে জমে থাকা পানি মশার প্রজননস্থল হওয়ায় রোগবাহী মশার সংখ্যাও বাড়ছে।
পড়ুন: দেশীয় প্রযুক্তিতে পরিবেশবান্ধব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবনের দাবি বাকৃবি গবেষকদের
এই পর্যালোচনার প্রধান লেখক ও বস্টন কলেজের শিশু ও মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফিলিপ ল্যান্ডরিগান বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। এর বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক খরচ রয়েছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
প্লাস্টিকশিল্প ও পেট্রোস্টেট (জ্বালানিনির্ভর দেশ) গোষ্ঠীগুলোর দাবি, প্লাস্টিকের উৎপাদন নয় বরং পুনর্ব্যবহারই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাগজ, কাচ বা ধাতুর তুলনায় প্লাস্টিক সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। তাই কেবল রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ৯৮ শতাংশ প্লাস্টিক জীবাশ্ম জ্বালানি—তেল, গ্যাস ও কয়লা থেকে উৎপাদিত হয়। এতে বছরে ২ বিলিয়ন টনের সমপরিমাণ কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণ হয়। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে পুড়িয়ে ফেলা প্লাস্টিক থেকেও মারাত্মক বায়ুদূষণ ঘটে।
বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যে ১৬ হাজারেরও বেশি রাসায়নিক উপাদান থাকে—যার মধ্যে আছে রং, ফিলার, ফ্লেম রিটারডেন্ট ও স্ট্যাবিলাইজার।
দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত পর্যালোচনায় বলা হয়, এসব রাসায়নিকের অনেকগুলোই মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থায় এসব উপাদানের সংস্পর্শে গর্ভপাত, অপরিণত বা মৃত সন্তানের জন্ম, জন্মগত ত্রুটি, ফুসফুসের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, শৈশবের ক্যানসার এবং পরবর্তী জীবনে প্রজনন সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
পড়ুন: টেকসই বিনিয়োগে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা
প্লাস্টিক বর্জ্য ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা পানি, খাবার ও বাতাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কণা মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক, বুকের দুধ, গর্ভনালির প্লাসেন্টা, শুক্রাণু ও অস্থিমজ্জায় পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, এসব ক্ষুদ্র কণা স্ট্রোক ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি।
অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই ‘সস্তা’ উপাদান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিককে সাধারণত সস্তা উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু তিনটি রাসায়নিক—পিবিডিই, বিপিএ ও ডিইএইচপি—ব্যবহারজনিত কারণে ৩৮টি দেশে স্বাস্থ্যক্ষতির বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক সংকট মোকাবেলায় একটি বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তি নিয়ে শেষ ধাপের আলোচনা চলছে। যদিও ১০০টির বেশি দেশ প্লাস্টিক উৎপাদন সীমিত করার পক্ষে, তবে সৌদি আরবসহ কিছু তেলনির্ভর দেশ এতে বাধা দিচ্ছে।
পড়ুন: আমরা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছি: ক্ষুধার্ত গাজাবাসীর আর্তনাদ
এই বিষয়ে পর্যালোচনার সহলেখক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মার্গারেট স্প্রিং বলেন, ‘এই প্রতিবেদনগুলো বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের জন্য নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর উৎস হয়ে উঠবে, যা কার্যকর নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা করবে।’
৪০০ দিন আগে