বাংলা একাডেমি
২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু একুশে বইমেলা
অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে প্রকাশকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের বইমেলা ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
সভায় আরও জানানো হয়, যেসব প্রকাশক এখনও স্টল বরাদ্দ নেননি, তারা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। সেই ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যা ৬টায় তাদের লটারির ভিত্তিতে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আগে যারা আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করা লাগবে না বলেও জানিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং প্রকাশক প্রতিনিধিরা। এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বইমেলা সম্পর্কিত সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান।
২ দিন আগে
বয়কটের হুমকির মধ্যেও বইমেলা আয়োজনে এগোচ্ছে বাংলা একাডেমি
বাংলাদেশের প্রধান সাহিত্য উৎসব অমর একুশে বইমেলা চলতি মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাচ্ছে। তবে রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজন করলে প্রকাশনা খাতে বড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রকাশকরা এর বিরোধিতা করছেন।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে। এদিকে বইমেলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা না করলে মেলা বর্জনের হুমকি দিয়েছেন তিন শতাধিক প্রকাশক।
অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা জানান, মেলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে বেশ এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের লটারি সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন প্রকাশকরা তাদের নির্ধারিত জায়গা সাজানোর কাজ শুরু করতে পারবেন।’
স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আগেই বরাদ্দের অর্থ পরিশোধের সময়সীমা ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি করেছিল বাংলা একাডেমি।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১৩৩টি বেশি। এর মধ্যে ২৪টি নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। অপরদিকে, মেলায় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ২৩টি। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠিত এবং ১২টি নতুন প্রকাশনা সংস্থার জন্য।
বয়কটের হুমকি
২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ দিনব্যাপী রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে প্রকাশকরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশকদের একটি অংশ জানায়, ৩২১টি প্রকাশনা সংস্থা রমজানের পর মেলা আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। মেলার এ সময়সূচি পরিবর্তন করা না হলে তারা মেলায় অংশ নেবে না।
অনেক প্রকাশক জানান, তারা আগেই এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজানে সাধারণত কর্মঘণ্টা কম থাকে এবং দিনের বেলা ক্রেতারা খুব বেশি খরচও করেন না—যা বই বিক্রিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নিলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা
মেলার বিষয়ে তাদের দাবি আদায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও খোলা চিঠি পাঠিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’। তারা মেলার আয়োজন বন্ধের ব্যাপারে দেশের সম্ভাব্য এ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের মতে রমজানে মেলায় অংশ নেওয়া ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল হবে। ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি মূলধারার প্রকাশক মেলায় অংশ নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন।
প্রকাশকরা উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এছাড়া কাগজের আকাশচুম্বী দাম ও আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকরা এমনিতেই দিশেহারা। এমন বাস্তবতায় বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনে অনড়, যা রমজান মাসে পড়বে।
‘রোজার কারণে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রকাশকরা শঙ্কিত। ফলে মেলা পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ অবস্থায় বারবার পুনর্বিবেচনার আবেদন সত্ত্বেও কেন বাংলা একাডেমি মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রকাশকরা।
মেলা পেছানোর আহ্বান
প্রকাশকরা জানান, আমরা মেলা বর্জন করতে চাই না। আমরা চাই, সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা। রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা ঈদের পর মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে চিঠিতে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। তা হলো— ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত ‘নামমাত্র’ বইমেলা স্থগিত করার নির্দেশনা এবং ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে ও সব প্রকাশকের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
তারা আশা প্রকাশ করেন, ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে প্রকাশনা শিল্প বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্যও সংরক্ষিত থাকবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলায় আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা চান মেলার ঐতিহ্য রক্ষা করে ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলার আয়োজন করতে। অপরদিকে প্রকাশকরা চান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে মেলার আয়োজন পিছিয়ে নিতে।
৬ দিন আগে
অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ১৭ ডিসেম্বর
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এবার আয়োজন হতে যাচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও এবার ডিসেম্বরের মধ্যভাগে এই মেলা শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা একাডেমি বলেছে, আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর তারিখ নির্ধারণসংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, একাডেমির সচিব ও পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এ মেলায় প্রকাশিত হয় বিপুলসংখ্যক নতুন বই। মাঝখানে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে একাধিকবার মেলা মার্চ-এপ্রিল মাসেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১৫৬ দিন আগে
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কবিতা’ সংকলন প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলা একাডেমি ঘেরাও
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কবিতা’ শীর্ষক সংকলন প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাংলা একাডেমি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বাংলা একাডেমির মূল গেটের সামনে সংগঠনটির প্রায় ২০ জন সদস্য জড়ো হন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কবিতা’ নামক যে সংকলনটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে প্রায় সাতাশটি কবিতা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
এই কারণে বাংলা একাডেমিকে এখনো ফ্যাসিস্টদের অভয়ারণ্য বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তারা সংকলনের দুই সম্পাদককে তাদের দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতা, ব্যর্থতা এবং ফেসবুকে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার এবং এই সংকলন প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এছাড়াও জুলাই চেতনা ধারণকারী কবিদের নিয়ে অবিলম্বে একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করে নতুন করে লেখা আহ্বানের মাধ্যমে একটি সার্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য সংকলন প্রকাশ করার দাবিও জানান তারা।
পাশাপাশি একাডেমিতে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আগামী সাত দিনের মধ্যে এই দাবি না মানলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: ১৯ সদস্য বিশিষ্ট বাংলা একাডেমি সংস্কার কমিটি গঠিত
সংগঠনটির সভাপতি শাহীন রেজা বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আমাদের মননের প্রতীক, এর ঐতিহ্য ও গাম্ভীর্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দেশের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ কবিদের বাদ দিয়ে এমন দুজন কবিকে সংকলনের সম্পাদনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে যারা কবি, কবিতা ও সম্পাদনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। এটি শুধু জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী নয় বরং বাংলা একাডেমির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা।’
সংকলনের প্রধান সম্পাদক বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন কবি রওশন আরা মুক্তা এবং হাসান রোবায়েত।
কর্মসূচি শেষে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের নিকট এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সদস্য শাহীন রিজভী।
২০৯ দিন আগে
অমর একুশে বইমেলা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের স্মৃতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৫। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’ এ বারের বইমেলা পরিবেশবান্ধব করতে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আগামী শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অমর একুশে বইমেলা ডিরেক্টরি কমিটির সভাপতি ও একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. সেলিম রেজা ও অমর একুশে বইমেলা কমিটির সচিব ড. সরকার আমিন।
এবারের বইমেলায় মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৭০৮টি, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৬০৯টি; মোট ইউনিট ১০৮৪টি (গত বছর প্রতিষ্ঠান ছিল ৬৪২টি এবং ইউনিট ছিল ৯৪৬টি)। এবার মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩৭টি, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি (গত বছর প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ছিল ৩৭টি)।
লিটল ম্যাগাজিন চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় হবে। সেখানে প্রায় ১৩০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৭৪টি এবং ইউনিট ১২০টি (গত বছর প্রতিষ্ঠান ছিল ৬৮টি এবং ইউনিট ১০৯টি)।
এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন-এর অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির-পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট ৪টি প্রবেশ ও বাহির-পথ থাকবে।
শিশু চত্বর মন্দির-গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে—যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে। মেলায় এবার খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা-ঘেঁষে বিশেষভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।
মেলায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও নামাজের স্থানসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে, ধুলোবালি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সকলের সুবিধার্থে এবারই প্রথম মেলার ইতিহাসে সব মিলিয়ে ৩০টি ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রেস কনফারেন্সে আয়োজকেরা জানান।
বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ৪৩টি ও পুনর্মুদ্রিত ৪১টি বই। বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভিলিয়ন এবং শিশুকিশোর উপযোগী প্রকাশনার বিপণনের জন্য ১টি স্টল থাকবে।
প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।
৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।
বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধুলা নিবারণের জন্য পানি ছিটানো এবং প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৪ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৪ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত (ফেব্রুয়ারি ৮ ও ফেব্রুয়ারি ১৫ ব্যতিত)। ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
এবারের অমর একুশে বইমেলার আয়োজনকে পরিবেশ সুরক্ষা সচেতন এবং জিরো ওয়েস্ট বইমেলায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে আয়োজনস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থাপিত সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুতে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার শতভাগ পরিহার করে পুনঃব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ, যেমন: পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।
৩৮৭ দিন আগে
বাংলা একাডেমির পুরস্কার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গোলমাল ছিল: সংস্কৃতি উপদেষ্টা
বাংলা একাডেমির পুরস্কার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গোলমাল ছিল বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, পুরো বাংলা একাডেমিকে ঢেলে সাজানো হবে।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, বাংলা একাডেমিকে বিশেষ মত ও গ্রুপের লোকের আখড়া বানানো হয়েছিল, নতুন চিন্তা প্রবেশের জায়গায় রাখা হয়নি।
এদিকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, সম্প্রতি পুরস্কার ঘোষণা করা হলে নানা মহল থেকে আলোচনা হয়। এরপর বিষয়টি আমরা আমলে নিয়ে তালিকাটি সাময়িক স্থগিত করেছি। তালিকাটি আমরা রিভিউ করব, যদি কারও বিরুদ্ধে গণঅভ্যুথানে হত্যাকান্ড বা ইন্ধনের অভিযোগ প্রমানিত হয় বা গণবিরোধী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে বা অপরাধমূলক কোনো কর্মকান্ডে জড়িত থাকে; তাহলে তার নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে।
মহাপরিচালক বলেন, ‘বাংলা একাডেমির জন্য ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি খুব ব্যস্ত সময়। আমরা একটি বাংলা একাডেমি সংস্কার কমিটি করতে চাই। যে কমিটিতে বিজ্ঞজনরা সংস্কারের নানা বিষয় নিয়ে পরামর্শ দিবেন।
নাম প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই নিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা কোন প্রক্রিয়ায় ভুল করতে চাইনি। কিন্তু আসলে আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি মেইনটেইন করতে চেষ্টা করেছি। এ কারণেই আমরা ৩ কার্যদিবসের জন্য এগুলো সাময়িক স্থগিত করেছি।’
আরও পড়ুন: দেশব্যাপী প্রতিভা অনুসন্ধান করা হবে: সংস্কৃতি উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আমরা রিভিউ কমিটিতে উঠিয়েছি। কমিটি সেটা বিবেচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নিবেন।
যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনি ভিত্তি পায়—এই দুইয়ের সমন্বয়ে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এর আগে গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) মোহাম্মদ আজমের সই করা এক নোটিশে তালিকা স্থগিত করা হয়।
৩৯১ দিন আগে
চলতি বছরের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর বিভিন্ন সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন ১০ জন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন প্রবন্ধ/গদ্য ক্যাটাগরিতে সলিমুল্লাহ খান, কবিতায় মাসুদ খান, কথাসাহিত্যে সেলিম মোরশেদ, নাটক ও নাট্যসাহিত্যে শুভাশিস সিনহা, শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজ ও অনুবাদে জি এইচ হাবীব।
এছাড়া গবেষণায় মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া, বিজ্ঞানে রেজাউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মোহাম্মদ হাননান ও ফোকলোরে সৈয়দ জামিল আহমেদ পুরস্কার পেয়েছেন।
বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন।
৩৯৪ দিন আগে
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক হারুন-উর রশিদ মারা গেছেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানান ছেলে হুমায়ুন রশিদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
রাতে এশার নামাজের পর রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া-সংলগ্ন বাবা হুজুর মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ ১৯৩৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভারতের আসাম প্রদেশের তিনসুকিয়া জেলায় এক বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার পরিবার চট্টগ্রামে চলে আসে।
১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (ফিটসউইলিয়াম কলেজ) থেকে ১৯৬৬ সালে ফের স্নাতক এবং ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
১৯৯১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলা একাডেমিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি ইংরেজি থেকে বাংলা অভিধান বের করেন।
বাংলা একাডেমিতে চার বছর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের পর তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান এবং সেখানেই ১৯৯৮ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যান।
অবসর গ্রহণের পর ১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন অধ্যাপক রশিদ। ইংরেজি ভাষার জাতীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ঢাকা কুরিয়ারের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনের ছোট্ট এই পাঠটি চুকিয়ে তিনি ফের শিক্ষতায় প্রবেশ করেন। এবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আট বছর সেখানেই শিক্ষকতা করেন।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ঢাকা শাখাতেও শিক্ষকতা করেন এবং ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
বিভিন্ন জাতীয় সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন গুণী। ১৯৯৮ সালে দুই বছর মেয়াদে তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ফের দুই বছর মেয়াদে বাংলা একাডেমির প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। এছাড়া ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াইল্ড টিমের (ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
একজন শিক্ষাবিদ, প্রশাসক ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মুখপাত্র হিসেবে অধ্যাপক হারুন-উর রশিদের বিস্তৃত কর্মজীবন দেশের শিক্ষা খাত ও সমাজে তার বৈচিত্র্যময় অবদানকে তুলে ধরে।
আরও পড়ুন: মেধাস্বত্ত্ব চুরির অভিযোগে নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের বাংলা একাডেমি পুরস্কার বাতিলের দাবি
৪৫২ দিন আগে
বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্দোলনকারীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সরকার, বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দ্রুত বাতিল
এছাড়া বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর এবং ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বাতিল করা হয়েছে।
জনস্বার্থে শিগগিরই এ আদেশ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঁচজন সচিবকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের নিয়োগ বাতিল
বাতিল হলো ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি
৫৫৩ দিন আগে
বইমেলার সমাপ্তি: ৩১ দিনে ৬০ কোটি টাকার বিক্রি
২০২৪ সাল ‘লিপ ইয়ার’ হওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাস ছিল ২৯ দিনে। পাশাপাশি বইমেলা ২ দিন বাড়ানো হয়েছিল। ফলে ৩১ দিনের দীর্ঘ বইমেলা ছিল এবারেরটি। গতকাল শনিবার ছিল মেলার শেষ দিন। এই মেলায় মোট ৩ হাজার ৭৫১টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ দর্শনার্থী এসেছিলেন।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির প্রশাসন উপ-বিভাগের উপ-পরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ এবারের মেলার বিক্রির পরিসংখ্যান ও সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন।
বইমেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের মেলায় বিক্রি ৬০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪৭ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালে ছিল ৫২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ এর সময় বাড়ল ২ দিন
মেলায় মোট ৩ হাজার ৭৫১টি বইয়ের মধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ২৬২টি, ছড়ার বই ১০৬টি, গবেষণা ৭৬টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৬৯টি, ইতিহাসের ৬৪টি, শিশুতোষ উপন্যাস ৭১টি, ভ্রমণবিষয়ক ৬৪টি বই, ৬১টি অনুবাদ, ৪৪টি বিজ্ঞানের বই, ৩৬টি সায়েন্স ফিকশন, ২৯টি রচনা, ধর্ম ক্যাটাগরির ৩৩টি, কমিকস ক্যাটাগরির ৩১টি, নাটক ৩৪টি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২৭টি, রাজনীতি বিষয়ক ২৯টি বই, স্বাস্থ্য বিষয়ক ২৯টি বই এবং অভিধান সম্পর্কিত ১৯টি বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ২২২টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
অথচ বাংলা একাডেমি নিজেই ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ীর বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি আটটি প্রকাশনা সংস্থাকে চারটি বিভাগে পুরস্কার বিতরণ করে যেখানে বিষয় ও মানের দিক থেকে সর্বাধিক সংখ্যক মানসম্পন্ন বই প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করে।
এছাড়া শিল্প ও মানের দিক থেকে সেরা বই প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশ, জার্নিম্যান বুকস ও ঐতিহ্য প্রকাশনীকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়।
ময়ূরপঙ্খী পাবলিকেশন শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক মানসম্পন্ন বই প্রকাশের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয় এবং অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী, নিমফিয়া পাবলিকেশন এবং বেঙ্গল বুকস শ্রেষ্ঠ অভ্যন্তরীণ ডিজাইনের জন্য কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পায়।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে প্রাণবন্ত বইমেলার শিশুচত্বর
৭২০ দিন আগে