ভাঙচুর
খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে মাল্যদান, রাতে আগুন
খুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্যদান ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন বিকেলের দিকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ে তারা জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
এদিকে, আ.লীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রবিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র খুলনার ওই কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেন। এছাড়া কার্যালয়ের কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আ.লীগের এক কর্মী বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রবিবার বিকেল ৪টার দিকে আমরা কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছবিতে পুষ্পমালা দেওয়া হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা দিয়েছি। কার্যালয় তালা মারা ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমালা দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র ওই কার্যালয়ে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিকেলের ওই ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র কার্যালয়ে এসে আগ্নিসংযোগ করে। টাঙানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরে দুই উপজেলাবাসীর সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে দুই উপজেলার সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান মাতু্ব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে আজ (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগিসংযোগ করে সংঘর্ষকারীরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।
২ দিন আগে
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জুর ওপর হামলার চেষ্টা, গাড়ি ভাঙচুর
ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর ওপর হামলার চেষ্টা করেছে বিএনপি কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লেমুয়া ইউনিয়নের মজুমদার হাটে শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) মঞ্জু ঐ কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান ও শহিদের নেতৃত্বে একদল বিএনপি কর্মী বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তারা মঞ্জুর দিকে তেড়ে আসেন। ঈগল মার্কার উপস্থিত সমর্থকরা মঞ্জুকে ঘিরে ধরে হামলা থেকে রক্ষা করেন। এ সময় তালহা নামের একজন ঈগল সমর্থককে বেদম মারধর করা হয়। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তারা আরও জানান, এছাড়া ধর্মপুরের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রে মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট আনম আব্দুর রহিমের ওপর হামলা করলে তিনি আহত হন। এ ছাড়াও তার গাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিএনপি কর্মী জামাই কামরুলের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।
এ ঘটনায় পাচগাছিয়া ইউনিয়িনের এলাহিগঞ্জে ঈগল মার্কার বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। পাশাপাশি শর্শদী ইউনিয়নের ঘাগরা এবং ফরহাদনগরের কালিদাস উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
নাটোরে এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর, ২ কর্মী আহত
নাটোরের সিংড়ায় এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর ও ২ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে এনসিপি প্রার্থী জার্জিস কাদিরের নির্বাচনি ক্যাম্পে খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলির মেম্বারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরাও জলির মেম্বারের সঙ্গে যোগ দিয়ে এনসিপির কর্মীদের পিটিয়ে তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙচুর করে।
এনসিপি কর্মী আশিক রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, এনসিপি কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহাদ ও সুলতান নামে আহত ২ এনসিপি কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তদন্তের পর সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা যাবে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
১৪ দিন আগে
হাদি হত্যা ও সংবাদমাধ্যমে হামলার বিচার দাবি ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং রাজধানীতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার’র কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পাশাপাশি নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা এ সব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশবিরোধী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী উগ্রগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয় এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে। এ ছাড়া নিউ এইজ-এর সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, অতীতের মতো বর্তমান সময়েও এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, হাদিকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খুনিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিচালনা ও সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মানুষ, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
৫৮ দিন আগে
ফরিদপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষ অংশগ্রহণে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শুরু হয়ে বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার এলাকার তিনটি স্থানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে; লুটপাট করা হয়েছে গবাদি পশুসহ অন্যান্য মালামাল।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সম্প্রতি এই বিরোধের জেরে উভয় নেতার সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, জাহিদ ও নুরু মাতুব্বর বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
৭৯ দিন আগে
উত্তাল ভাঙ্গা: থানাসহ চারটি সরকারি দপ্তরে হামলা-ভাঙচুর, আহত অনেকে
সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা। বিক্ষোভ রুপ নিয়েছে সহিংসতায়। থানা, উপজেলা পরিষদ, হাইওয়ে থানা, পৌরসভায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। আগুন দেওয়া হয়েছে মোটরসাইকেলে। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
সোমবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টা থেকে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। পরে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙ্গা গোলচত্বরে অবস্থান নেন।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গোলচত্বরের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন তারা। এ সময় সেখানে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে পুলিশকে বিক্ষুব্ধদের কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোকারীদের সঙ্গে দুপুর ১ টার দিকে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার জনতা লাঠিশোটা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল নিয়ে যোগ দেন। পরক্ষণেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ সময় ১০ থেকে ১২ জন আর্মড পুলিশের সদস্য দৌড়ে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়াতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। পরে কিছু সময় ঘিরে রাখেন উত্তেজিত জনতা। একপর্যায়ে মাদ্রাসা ও মসজিদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করেন।
আরও পড়ুন: আসন পুনর্বিন্যাস: ফরিদপুরে টানা পঞ্চম দিনের মতো অবরোধ, সমন্বয়ক আটক
এরপর সেখান থেকে বিক্ষুব্ধরা থানার দিকে চলে যান। থানায় থাকা গাড়ি ও থানা ভাংচুর করেন। ভেতরে আটকা পড়েন পুলিশ সদস্যরা। পরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন সেখানে থাকা মোটরসাইকেলে। পরে হাইওয়ে অফিস ও পৌরসভা কার্যালয়ে ভাংচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মাইটিভির ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি সরোয়ার হোসেন।
এদিন সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিলে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। পরে বেলা সাড়ে ১১ টায় হঠাৎ করেই সেখানে জড়ো হোন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, ‘আমরা বিক্ষুব্ধদের শান্ত করার চেষ্টা করছি এবং নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের বলা হয়েছে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে। আমরা দ্রুত প্রতিবেদন দিলে আশা করি দুয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হবে।’
ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করার পর থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুটি মহাসড়কসহ (ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল) এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে তিনদিনের আল্টিমেটাম দেন বিক্ষুব্ধরা।
কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনদিন সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ করা হয়। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ। এরপর শনিবার তিন দিনের সকাল সন্ধ্যা অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরে ঘোষণাকারী সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম.ম. সিদ্দিক মিয়াকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপরাধে গতকাল রোববার রাতে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে পুলিশ।
১৫৪ দিন আগে
কাকরাইলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর-আগুন
ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের একদল লোক হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায়,জাতীয় পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল কাকরাইলের জাতীয় পার্টির অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পড়ুন: নুরের জ্ঞান ফিরেছে, উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন
গণঅধিকার পরিষদ দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
নুর এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
১৬৯ দিন আগে
ফরিদগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার কেরোয়া এলাকায় অবস্থিত ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক ও জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত (বৃহস্পতিবার) রাতে ফরিদগঞ্জের কেরোয়া গ্রামের ইসহাক মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৬৫) অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই কোহিনুর বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের কিছু কর্মচারী স্বজনদের সঙ্গে স্বজনদের গায়ে হাত তোলে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজিত স্বজনরা ও স্থানীয় কিছু লোক মিলে হাসপাতাল ভাঙচুর করেন।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ, সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার সময় হাসপাতালের ভেতরে প্রায় দুই শতাধিক রোগী ও স্বজন আটকা পড়েন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: বরিশালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
মৃত রোগীর বাবা বিল্লাল হোসেনও আক্রমনকারীদেরকে নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন বলে জানান।
মৃত কোহিনুর বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে অনুমতি দেয়নি। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক ও সিনিয়র চিকিৎসক ডা. সাদিক হাসপাতালে আসেননি। চিকিৎসকের এসব অবহেলায় আমাদের রোগী মারা গেছেন।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন কবীর ইউএনবিকে বলেন, ‘আমি কয়েকবার রোগীকে দেখেছি। আমাদের কোনো অবহেলা ছিল না। উপজেলা পর্যায়ে যতটুকু সম্ভব আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। শুক্রবার সকালে এই রোগীকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল কিন্তু তিনি সকালেই মারা যান।’
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রাজিব চক্রবর্তী ইউএনবিকে বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে আমাদের পুলিশ সদস্যরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।’
১৭৭ দিন আগে
গতদিনের ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় দুই বিভাগে আটক ৪৫
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রতিবাদে হঠাৎ বিক্ষোভ মিছিল থেকে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৪৫ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে সিলেট ও খুলনা বিভাগের পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সিলেট ও খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সিলেট
সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল থেকে বাটা, কেএফসিসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সকাল ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, লুট করা জুতা বিক্রির জন্য ফেসবুকে দেয়া হচ্ছে বিজ্ঞাপন। বিষয়টি নজরে আসলে ক্রেতা সেজে ওই পোস্টদাতাকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। আটক মামুনুল হক নগরীর সাদিপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
৩১৪ দিন আগে