বগুড়া
রিয়াদে নিহত বগুড়ার সাহেদের পরিবারে শোকের মাতম
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রবাসী বাংলাদেশি সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান।
নিহত সাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। তিনি স্ত্রী, ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ও মা-বাবাকে রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাহেদ তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় এক মাস ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা বলেন সাহেদ। সে সময় রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে জেদ্দায় গিয়ে আবার ফোন করবেন বলে জানান তিনি। তার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও তাইফুর রহমান জানান, গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হুতির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে বগুড়ার সাহেদ আহমেদও নিহত হন।
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি খরচে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাহেদের মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। মা শাহেরা বেগমও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে ছাড়া কাকলি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।
৬ দিন আগে
বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৪
কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া জেলা সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিনসহ চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিন (৫২), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন (৬০), শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু (২৯) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস হোসেন (২৬)।
এদের মধ্যে সাজেদুর রহমান সাহিনের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সাব্বির হোসেন নির্জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টির বেশি মামলা। আর ফেরদৌস হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার চারজনই দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে অভিযান চালানো হয়। গতকাল (সোমবার) রাত ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বগুড়ায় আনা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
১৯ দিন আগে
বগুড়ায় বিনিয়োগকারী রোডশো অনুষ্ঠিত
উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, আধুনিক অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরতে ‘বগুড়া বিনিয়োগকারী রোডশো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এ রোডশোতে বগুড়া অঞ্চলের প্রায় ৭৫ জন স্থানীয় বিনিয়োগকারী অংশ নেন। এছাড়া ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের পরিচালক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্যে দেশের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এ ধরনের আঞ্চলিক বিনিয়োগ রোডশোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরিফুল ইসলাম মূল বিনিয়োগ উপস্থাপনা করেন। তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও শিল্প স্থাপনের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা।
এছাড়া বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তাইয়ব জাকির ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল বক্তব্য দেন।
বক্তারা শিল্পায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
সমাপনী বক্তব্যে এ মতিন চৌধুরী রোডশোতে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অতিথি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোডশোর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা এবং সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড।
২২ দিন আগে
বগুড়ায় মাইক্রোবাসে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাসে ভুট্টাবাহী ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের ফারুক মন্ডলের ছেলে ও মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মন্ডল (২৫) এবং একই উপজেলার বারইল গ্রামের হাসের আলীর ছেলে জুবায়েদুল ইসলাম (৩০)।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশফেরত স্বজনকে নিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ফিরছিলেন সাতজন।
ভোর ৪টার দিকে মাইক্রোবাসটি নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সেটি ভুল করে মহাসড়কের বিপরীত লেনে চলে যায়। এ সময় ভুট্টাবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির ধাক্কা লাগে। এতে মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মন্ডল ও যাত্রী জুবায়েদুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এছাড়া আহত সাতজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, আহত ৬
বগুড়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
প্রথম দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতনামা একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। পরে ওই দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় আরও এক নারী নিহত হন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া সদরের ঠ্যাংগামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুজন হলেন: বগুড়ার কাহালু উপজেলার রামপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আরাফাত হোসেন (১৬)। আরাফাতের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি শফিকুলের স্বজন।
কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন জানান, সকালে পাঁচজনকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম ও আরাফাত নিহত ও তিনজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, প্রথম দুর্ঘটনায় নিহত শফিকুল ও আরাফাতের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বগুড়ার রানীরহাট এলাকায় অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মোছা. খাদিজা খাতুন (৫২) নিহত হন। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার বানদীঘী এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কুন্দার হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. সাগর আলী বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন শনাক্তে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।
২৭ দিন আগে
উচ্চ সুদের চাপ কমিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টা করছে সরকার: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, উচ্চ সুদের চাপ কমিয়ে উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে অর্থায়ন, বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করা এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় যুক্ত করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বগুড়া অঞ্চলের অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
গভর্নর বলেন, উচ্চ সুদের কারণে বর্তমানে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার বর্তমানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ অবস্থায় উচ্চ ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফল হওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যয় কমানো এবং ব্যবসাকে টেকসই করার সুযোগ তৈরি করা।
তিনি জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে উদ্বৃত্ত তহবিল নিয়ে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে তহবিল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। ৬ শতাংশ সুদের ভর্তুকি সরকার বহন করছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর ও টেকসই অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ একটি পাইলট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে, সেই শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮টি জেলায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর বাকি ৫৬ জেলায় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স) সালাউদ্দিন তফাদার এবং কৃষি ঋণ বিভাগের-২-এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক (প্রশাসন) সরদার আল ইমরান। সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার কার্যালয়ের পরিচালক (পরিদর্শন) সেলিম আহমেদ।
সভা শেষে অংশীজনরা বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গঠনমূলক মতামত ও সমন্বিত সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের প্রতিনিধি, বগুড়া অঞ্চলের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
২৯ দিন আগে
বগুড়ায় সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি, আটক ১
বগুড়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন এবং সনদ তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের খান্দার এলাকায় বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তি মো. সাইফুল ইসলাম‘পাসপোর্ট কর্নার’ নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং গত তিন বছর ধরে সেখানে কম্পিউটার ডট পি প্রসেসিংয়ের ব্যবসার আড়ালে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া মহানগরীর খান্দার এলাকার পাসপোর্ট কর্নারে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নানাবিধ সনদ তৈরির কাজ করা হতো।
সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে দেখা যায়, জেলা সিভিল সার্জন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সিটি প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে কম্পিউটারে হুবহু বসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল ভুয়া জন্মনিবন্ধন। কোনো কোনো নথিতে দেখা যায়, স্বাক্ষর একজনের হলেও সিল দেওয়া হয়েছে অন্য আরেক কর্মকর্তার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অপকর্মের কথা শুনলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাচ্ছিলাম না। সিভিল সার্জন এবং ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে জাল করা হয়েছে।
সাধারণ একটা ফাইলে কর্মকর্তাদের নাম-স্বাক্ষর বসিয়ে এসব সনদ প্রিন্ট করা হত। তিনি আরও জানান, জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত দোকানটির দুটি কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোকানমালিক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল জালিয়াতির সত্যতা স্বীকার করে কম্পিউটার পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও দুজনের নাম প্রকাশ করেছেন।
৩০ দিন আগে
বগুড়ায় বিকল ট্রাক মেরামত করার সময় প্রাণ গেল ২ জনের
বগুড়ায় বিকল হয়ে পড়া একটি কাঠবোঝাই ট্রাক মেরামত করার সময় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: বগুড়া সদর উপজেলার ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেন ও হানজালা।
জানা গেছে, গতকাল রাতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মহিপুর এলাকায় ঢাকাগামী কাঠবোঝাই একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় তিন ব্যক্তি সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ট্রাকটি মেরামতের কাজ করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যানবাহন তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের শেরপুর স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান।
ফায়ার সার্ভিসের শেরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বিকল ট্রাক মেরামত করার সময় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ধাক্কা দেওয়া যানটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
৪৬ দিন আগে
বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
বগুড়া সদরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উড়ালসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অন্য একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে পড়ে। চালক ও সহকারী ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী অন্য একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহত তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করলে পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে নিহত হন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। একটি ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আমরা আসার পর দুইজনের মরদেহ ভেতর থেকে উদ্ধার করেছি।’
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭০ দিন আগে
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত
বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিলে ৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর যাত্রীবাহী বাসটি উঠে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ জন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা তাজমুল (৪৫), বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে তাদের সংগ্রহ করেন। আজ (শুক্রবার) ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন।
পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও তিনজন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, বাসচাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সচল করার চেষ্টা করছে।
৭২ দিন আগে