স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাতক্ষীরায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই চিকিৎসকসহ তিনজন বরখাস্ত
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুজন চিকিৎসকসহ তিনজনকে শাস্তি দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ডা. তন্নি নামের এক চিকিৎসককে এবং চুরির ঘটনায় এক নাইট গার্ডকে বরখাস্ত করেন তিনি।
পরে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় এক মাসের বেশি সময় ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামের আরেক চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম। গত ১৭ বছরে স্বৈরশাসন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়নি; কোনো দিকে খেয়াল করেনি; যে কারণে এ সমস্যা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ১০১ শয্যার ফিজিওথেরাপি ও আধুনিক প্যাথলজি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালগুলোতেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারকে পিপিপির আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুতই ই-হেলথ কার্ড দেওয়া শুরু করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন।’
১৮ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরই প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সঠিক রোগ নির্ণয় ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চলতি বছরে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন করার ঘোঘণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্রাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই বছরের মধ্যেই প্রতিটি হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছি। ল্যাব স্থাপনের চলতি মাসেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে। শুধু তাই নয়, দেশের মানুষকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) ও কেয়ার গিভাররা বিশেষ স্ক্রিনিং মেশিন নিয়ে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।
পরিবার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মায়েদের সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়ে গিয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এই হারকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী জোরদার জন্মনিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করবে। গ্রামীণ পর্যায়ে এক সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর যে সহজলভ্যতা ছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনা হবে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের ধারাবাহিক উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তৎকালীন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিটি উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের অভিভাবক হিসেবে সেই ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করেন। তারই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রেয়ার কর্নার, আধুনিক প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনসহ নানামুখী সেবা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবি করে পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। সরকার পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৬টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তাই ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং কর্তৃপক্ষ সেগুলো সংস্কারের কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরিদর্শনের আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। পরিদর্শনে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেনেছি। তবে এ ঘটনায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালত ও আইন অনুযায়ী হবে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনও হাসপাতালটিকে কোনো চূড়ান্ত ছাড় দেয়নি। পুনরায় পরিদর্শনের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৩ দিন আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বন্যাকবলিত দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এসব জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি পাওয়া যাবে, সেখানেই চাকরিচ্যুত করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘ট্রান্সফার বা বদলিতে আমি বিশ্বাস করি না। কাজ করতে হবে সততার সঙ্গে। দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এটাকে আমরা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেব না।’
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নরসিংদীর শিশু অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। ফ্যামিলি প্লানিং সেন্টারগুলোকে উন্নত করা হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এই বছরেই একটা বিপ্লবের সূচনা করতে চাচ্ছি আমরা। প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি যাতে জনগণের উন্নয়ন করা যায়, বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো যায়। আমাদের এবারের বাজেট কোনো টাকার বাজেট না, এটা আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শকে দুর্নীতি মুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নরসিংদী মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। নরসিংদী নার্সিং ইন্সটিটিউটে হবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস। আর নরসিংদী নার্সিং ইন্সটিটিউটের ক্লাস হবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনে। মেডিকেল কলেজের জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে, খুব শিগগিরই জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চায়নার সহযোগিতায় যে অত্যাধুনিক ১৮টি হাসপাতাল বাংলাদেশে হবে, এর একটি হবে নরসিংদীতে। তবে চেষ্টা করব শহরের আশপাশে করতে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথিরাসহ নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
২২ দিন আগে
‘সবকিছু দলের সঙ্গে একীভূত করেন কেন’, আদ্-দ্বীন প্রসঙ্গে জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীর সমালোচনার কড়া জবাব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয়টা শিশু যখন হাত-পা বাইরে বের করে বাঁচার জন্য কাঁদছিল, সেই হাইপারক্যাপনিয়ায় কর্তৃপক্ষ এসি বন্ধ করে দিয়েছে; ঘরে জানালা নেই, কোনো অক্সিজেন নেই। ১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদছেন, ছোটাছুটি করছেন; একজন চিকিৎসকও আসেননি। সেই বাচ্চাগুলো ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালে ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত; ওগুলো ছিল দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ সেখানে যাননি। আজকে সংসদে কথা বলেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু তিনি নিজে পরের দিনই সেখানে গিয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তার কাছে অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজকে অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করান। সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবশ্যই আমার দেশের দিকে দেখব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আমি অবশ্যই আমার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ভালো দেখব। বাচ্চাগুলো মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়, আমি ডাক্তারের কথা শুনেছি, আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।’
হাসপাতালের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ছয়তলার মধ্যে একটা বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা অভিভাবক বাঁচতে পারবেন না। মালিকের অবহেলার কারণে, তার একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকার বসে থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে দেখতে হবে।’
২৮ দিন আগে
২০২৮ সালের মধ্যে সবাইকে ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের সকল নাগরিককে ২০২৮ সালের মধ্যে ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান ।
বুধবার (১০ জুন ) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার (সংরক্ষিত নারী আসন-৩৭) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে কারণে সরকার ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ই-হেলথ কার্ড প্রদান করবে। পাশাপাশি, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
এ ছাড়াও নতুন হাসপাতাল স্থাপন, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুর জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ওষুধ ও টিকার সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সমন্বিত ও আধুনিক পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তামাক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ডিজিটাল হেলথ আইডি চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডেটাবেইস তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগের ফলে একই ওষুধ বারবার ব্যবহারের প্রবণতা রোধ করা যাবে, চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে, অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে এবং আরও দক্ষ, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এছাড়া বর্তমান সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, জনবল সংকট মোকাবিলায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।
সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, স্যানিটেশন ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট চালু করা, স্বাস্থ্য খাতের জন্য জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন এবং চিকিৎসা শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা।
৪৬ দিন আগে
আদ্ দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদ্ দ্বীন হাসপাতালের কারণ দর্শানোর জবাব অতিরঞ্জিত বলে সন্তুষ্ট নয় সরকার।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আদ্ দ্বীন হাসপাতালের লিখিত জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের বাহিরে অনেক গল্প লিখেছে, যার বেশিরভাগ তথ্য ছিল অপ্রয়োজনীয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তী বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকার আদ্ দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে আগের অবস্থানেই আছে বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে গত ২৭ মে ভোরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পর্যবেক্ষণে থাকা ৬ নবজাতকের মৃত্যু হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
পরবর্তীতে, ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি।
৪৬ দিন আগে
ডেঙ্গুর টিকাদান কর্মসূচি নিলে স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রবিবার (৭ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ড. মিলন হলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক একটি জাতীয় ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কার্যক্রমের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন। তিনি বলেন, যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেটের প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেঙ্গুর বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। গ্যারেজে গাড়ি ধোয়ার পর জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত ক্যান, ছোট গর্ত কিংবা বড় ড্রেন ও খালে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি সবখানেই লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
৪৯ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এ অভিযানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
তারা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। জমে থাকা এই স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আজ (শনিবার) থেকেই দেশজুড়ে মাইকিংসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করছে। আমরা সবার কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি অবহেলা দেখা যায়, তবে আমরা কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগামীকাল (রবিবার) থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী দুই মাস আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমণ্ডি সোসাইটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন।
৫০ দিন আগে