স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। তাদের অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসির সঙ্গে অক্সিজেন সাপোর্টের একটি সংযোগ ছিল। সেখানে তারা এসি বন্ধ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেটি চালু করা হয়নি। এদিকে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ছয়টি শিশু মারা গেছে।’
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) সেখানে গেছেন। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
‘যতটুকু শাস্তির প্রয়োজন, আমরা তা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি এ ঘটনার মাধ্যমে অন্যদের জন্যও একটি বার্তা দেওয়া হবে,’ বলেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক ছাড়া নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হয়েছে।’
এ সময় হাম সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও তারা বেসরকারি উৎস থেকে হাম ও অন্যান্য টিকা কিনেছে।’
মন্ত্রী দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা হয়নি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
৪ ঘণ্টা আগে
হামের টিকা ইস্যুতে তদন্ত কমিটি তথ্য উপদেষ্টার হাতে, এখন শিশুদের জীবন রক্ষাই অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের টিকা না দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিশুদের জীবন রক্ষা এবং টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি রেড ক্রিসেন্ট ও রেডক্রসের দেওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসংক্রান্ত মেডিকেল যন্ত্রপাতি গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান হামের টিকা না দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানোর পর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য উপদেষ্টা তদন্ত কমিটি করলে বিষয়টি তার হাতে, আমি এর মধ্যে নেই।’
তিনি বলেন, ‘পশ্চাৎ নিয়ে আমি খুব একটা কথা বলি না। কোন সময় এটা আমার নেচারে নেই। সমালোচনা আমি খুব করতে চাই না, তবে খুব ভদ্র শালীনতার সঙ্গে আপনাদেরকে বলেছি বিগত সরকারের ব্যর্থতা আমাদেরকে ঘাটতির মুখে ফেলে দিয়েছিল টিকার ব্যাপারে। তারা নেয়নি, রিট হয়েছে এটাও জানেন। তারা প্রাইভেট থেকে কিনতে চেয়েছিল এটাও আপনারা জানেন। যাই হোক এগুলো অতীত কথা। আমরা নিয়েছি, এটিই হলো বর্তমান কথা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচার করার চাইতে আমাদের বুকের বাচ্চাদেরকে বাঁচানোর জন্য এখন সবাই চেষ্টা করছে। এটাতে থাকি, আগে এটা মিট আপ করি, তারপরে আমরা বলব।’
টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকা দেওয়া। তবে ২০ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৯ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান পৃথিবীর সব দেশে কিছু ভুল হয়। এটা একটা চলমান চেষ্টা আমাদের। টিকাদান কর্মসূচি চলবে।’
তদন্ত কমিটি গঠন সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি মোটেও মনে করি না সমন্বয়হীনতা। তথ্য উপদেষ্টা আর এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আই অ্যাম নট পার্ট অব দ্যাট।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ক্রাইসিস মিট আপ করা। আর তথ্য উপদেষ্টা যদি ওইটা ইনকোয়ারি কমিটি করে, এটা উনার হাতে। আমি ওইটার অংশ না।’
৪ দিন আগে
অপুষ্টির কারণে হামে আক্রান্ত শিশুদের অনেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অপুষ্টিজনিত জটিলতায় হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি ও পর্যাপ্ত ব্রেস্ট ফিডিং না হওয়ায় (বুকের দুধ না খাওয়ানো) তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
রবিবার (১৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম ও বৈজ্ঞানিক’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
হামে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি এই হামকে সামনে নিয়ে অনেকগুলো হাসপাতাল ঘুরেছি, মিজেলসে আক্রান্ত বাচ্চাদের দেখতে গিয়েছি। ইমিউনিটির (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) কথা বলেছেন ডা. আতিয়ার রহমান। ছয় মাস থেকে নয় মাস পর্যন্ত মায়ের ব্রেস্ট ফিডিং থেকে যে ইমিউনিটি পায়, সেটা দিয়ে চলার কথা। তাহলে এখন ছয় মাস থেকে নয় মাস বয়সী এত বাচ্চা কেন হাম হচ্ছে? আমার অভিজ্ঞতা ও আলোচনায় যেটা পেয়েছি, সেটা হলো নিউট্রিশনের (পুষ্টি) অভাব। পুষ্টির অভাবে হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী নিউমোনিয়ায় চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার পর যদি সে মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি না পায়, তাহলে নানা ধরনের রোগ আসবে। আমরা যদি এখন থেকেই সজাগ না হই, তাহলে একের পর এক রোগ আমাদের জর্জরিত করবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মায়েদের পুষ্টির ব্যাপারে, বাচ্চাদের ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যাপারে সমাজকে সচেতন করতে হবে। সমন্বিত প্রচার হলে দেশের মানুষ সজাগ হবে। আইসোলেশন বাড়বে, মায়েরা বাচ্চাদের প্রোটিন দেবে। তাহলে আমরা এই রোগের আক্রমণ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারব।
সেমিনারে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে শুধু হামের টিকাই নয়, শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর নিয়মিত ক্যাম্পেইনও হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বছর দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন করার কথা। গত বছরের প্রথমার্ধে একটি ক্যাম্পেইন হয়েছিল। এরপর আর কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও নেই। সামান্য কিছু ভিটামিন ‘এ’ আমাদের কাছে আছে, যেটা কিছু কিছু করে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ একেবারেই অপ্রতুল।’
তিনি জানান, সরকার অর্থ ছাড় করেছে এবং আগামী ১০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে আমরা এক কোটির বেশি ভিটামিন ‘এ’ পেতে যাচ্ছি। তখন পুরোদমে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো শুরু করা হবে।
দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষমতার অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, আজ বিদেশিরা ভ্যাকসিন না দিলে আমরা দিতে পারব না। আমাদের সেই সক্ষমতা এখনও হয়নি।
তবে মুন্সীগঞ্জে ভ্যাকসিন উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক বছরের মধ্যেই দেশে সব ধরনের ভ্যাকসিন উৎপাদন সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু মশক নির্মূলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সংসদ সদস্য আবদুস সালাম, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য দেন।
১০ দিন আগে
চার সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হাম প্রতিরোধে যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর দেশে হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চার বছর পরপর হামের টিকা দেওয়ার কথা ছিল। ২০২০ সালের পর এর ধারাবাহিকতা না থাকায় হাম বর্তমান পরিস্থিতি ধারণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের হাতে হামের কোনো ভ্যাকসিন ছিল না। অল্প সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা কমেছে।’
আজ (সোমবার) হঠাৎ করে বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সকাল ১০টায় বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রথমেই তিনি টিকিট কাউন্টারে যান। সেখানে এক কর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন তিনি। পরে তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
১৬ দিন আগে
ইউনিসেফের সহায়তায় দেশে আসছে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালী করতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে ১০ ধরনের সাড়ে ৯ কোটি (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।
বুধবার (৫ মে) দুপুর পৌনে বারোটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্যাকসিন গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সফল এই কর্মসূচির স্বীকৃতি হিসেবে গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, কারণ এটি সরাসরি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেটি বাতিল করা হয়েছিল। তবে আমরা সরকার গঠনের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সরকার দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ প্রদানের পর ইউনিসেফ ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। এছাড়া ৬ মে ইউনিসেফ আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি ভ্যাকসিন (৯০ হাজার ভায়াল) সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মে এর মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে জানান মন্ত্রী। ইউনিসেফ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইপিআই কার্যক্রমের জন্য স্বল্প সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা এই সরকারের একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ।
যেহেতু ভ্যাকসিন ক্রয় একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদনকারী থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫টি শিশু টিকা পেয়েছে। আমরা ৯৩ শতাংশ ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করেছি। বাংলাদেশ এখন ১০০ শতাংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সকল অভিভাবক, কমিউনিটির নেতা, শিক্ষক এবং ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা শিশুদের এক ডোজ এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মারাত্মক ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারি।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্যাভি, ইউনিসেফ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (এডিবি) সকল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রতিটি শিশু হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
২১ দিন আগে
ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের টিকা নেওয়ার উপযোগী ৮১ শতাংশের বেশি শিশুর টিকাদান ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগিরই কভার করে ফেলব। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুহারও কমেছে। পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং সারা দেশে টিকার সরবরাহও ঠিক আছে।’
এদিকে, দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬১টি শিশু।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একটি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৪৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ২৯৪টি শিশু মারা গেছে।
২৪ দিন আগে
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট সক্ষম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে প্রাপ্ত যক্ষ্মা পরীক্ষার কীট এবং শিশুদের জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ৬ লাখ ‘জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ’ এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মার (টিবি) ওষুধ হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লখ করে বলেন, নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এর ফলে কিছু কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ভ্যাকসিনসহ মানবসম্পদে কোনো কিছুরই সংকট নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। কাজেই শিগগিরই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন জোরদারে কাজ করছে।
তিনি ভবিষ্যতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে কিছু পদক্ষেপের কথা জানান। সেগুলো হচ্ছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ডিজিটাল এক্স-রে প্রবর্তন, নতুন প্রজন্মের জিন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার ও শিশুবান্ধব ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আশ্বাস দেন, বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে হামের জটিলতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং মায়ের দুধ নিশ্চিত করা জরুরি।
মায়ের দুধের পুষ্টিগুণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, শুধু ভিটামিন বা সম্পূরক খাদ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের ভূমিকা অনন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ভিটামিন বা একটি ফাইল ওষুধ খেয়ে জীবন চলে না। মায়ের দুধ এমন একটি প্রাকৃতিক পুষ্টি, যা শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
তিনি জানান, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অনেক মা বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক। গ্রামীণ নারীরা এখনো দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, কিন্তু শহুরে ও শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এই প্রবণতা কমছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া উচিত। পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবকিছু ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পুষ্টি মানেই শুধু শরীর নয়, এটি মেধা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিরও শক্তি।
দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং মায়ের দুধ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, শুধু সেমিনার বা কাগজে-কলমে নয়, পুষ্টি বার্তাগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পুষ্টিকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। ফাস্টফুড নির্ভরতা কমিয়ে শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ সুষম খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
৩৪ দিন আগে
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০ হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিকাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর মাঝেমধ্যেই আঘাত আসে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫০০ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়োগ হবে। আগামী কিছুদিনের ভেতরেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের টিকা মজুত আছে। পরবর্তী ৬ মাস এটি দিতে কোনো সমস্যা হবে না। যক্ষ্মাসহ কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। লোকবল সংকট নিরসনে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আজ (বুধবার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। আমরা জানি, চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিকাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশদুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের জটিল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পরিচালক অধ্যাপক লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু
হাম-রুবেলার সংক্রমণ রোধে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কের লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান করা।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলার ১২ লাখেরও বেশি শিশুকে (৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী) সুরক্ষা দিতে সরকার ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং গ্যাভির সহায়তায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সকল বাবা-মা এবং অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতা করতে সংস্থাটি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
৩৭ দিন আগে