এসএসসি পরীক্ষা
ঠাকুরগাঁওয়ে শতভাগ ফেল ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঠাকুরগাঁও জেলায়।
এমন ফল বিপর্যয়ের পর তদন্ত সাপেক্ষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।
শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো— সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোর যথাক্রমে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল: ৪ জন, ৭ জন, ৫ জন, ৫ জন ও ৩ জন।
এই ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার শূন্য।
তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দারিদ্র্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, বাল্যবিবাহসহ জোর করে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াকে দায়ী করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকি জানান, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্তির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা যেমন অমনোযোগী, ঠিক তেমনি শিক্ষকদেরও গাফিলতি রয়েছে বলে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষক সময়মত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না। এ ছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার মতো নয়, তারাও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়ায় এমন ফল হয়েছে।
মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, আমাদের এখানে এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমাদের এখানকার শিক্ষার্থীরা একটু বড় হতে না হতেই তাদের পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ফলে ভালো শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণেই অভিভাবকরা এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এ ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ভালো ভবন নেই; বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ল্যাব নেই বলেও জানান তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার জানান, গতবার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ রেজাল্ট করেছিল, তাদের আমরা সঠিক পরামর্শ দিয়েছি এবং তা কাজে লেগেছে। এবারও আমরা তাই করব। প্রয়োজনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ দিন আগে
রাজশাহী বোর্ডের এসএসসির ফলে বড় অবনতি
রাজশাহীকে বলা হয় শিক্ষানগরী, কিন্তু বিগত বছরগুলো থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়ের কারণে বড় ধরনের অবনতির কবলে পড়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এর ফলে শিক্ষানগরীর সুনাম ক্ষুণ্ন হতে চলেছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাকরা।
রাজশাহী বোর্ডের বিগত বছরগুলোর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সাত বছর থেকে পাসের হার কমতে শুরু করেছে যা এ বছর সবচেয়ে কম। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফরাত জেরিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯০৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯২ হাজার ৭৭৩ জন এবং ছাত্রী ৮৩ হাজার ২৭১ জন।
ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। ছেলেদের পাশের এই নিদারুণ অবনতির প্রভাব পড়েছে এই শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে।
এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ৮ হাজার ৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭ হাজার ৬২২ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চলতি বছর তা আরও কমে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
ফল প্রকাশকে ঘিরে নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের মতো বড় ধরনের জটলা বা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে নিজের বাড়িতে অনলাইনে ফলাফল দেখতে পাওয়া। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল কেমন হবে তা আগে থেকেই অবগত হওয়া।
অভিভাবকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় কম পরিশ্রম করলেও ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সেই পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখনও বের হতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ শিক্ষকদের প্রতি অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রতি পাঠদানে আরও যত্নশীল হতে হবে। প্রাইভেট-কোচিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিমুখ করে ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
৪ দিন আগে
দুই বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এবার মোট ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর পাস করেছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। ইংরেজি ও গণিত—দুই বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এ বছর পাসের হার কমেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও পাসের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ বছর পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। এ বিভাগে এবার পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর মানবিক বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কক্সবাজার জেলায় শিক্ষার্থীর পাশের হার ৫৭.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এই তিন জেলায় পাশের হাট যথাক্রমে ৪১.১৭, ৩৪.৯৯ ও ৪৭.৮৮ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্র ও ১৯ হাজার ৫৪৬ জন ছাত্রী। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ হাজার ৭৩১ জন ছাত্র ও ৩০ হাজার ২২৭ জন ছাত্রী। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেয় ২৭ হাজার ১৬০ জন ছাত্র ও ২৪ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী।
৪ দিন আগে
সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দিনাজপুর বোর্ডে
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলে বড় পতন হয়েছে। চলতি বছর এ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
শুধু পাসের হার নয়, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
গত বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ জন। সে হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ২২১ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করলে এবারের পতনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ২০২১ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে হয় ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে।
অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন।
২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে অবশ্য এবারও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৫২ জন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এখনও দুই মাসও পূর্ণ করিনি। আমি শুধু ফলাফল প্রকাশ করেছি। ফলাফল কেন কমেছে, এর কারণ জানতে হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা না করে এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা আগে ফলাফল পর্যালোচনা করব। মোটামুটি এবার সব শিক্ষা বোর্ডেই ফলাফল কিছুটা কমেছে।’
৪ দিন আগে
যশোরের শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করবে বোর্ড
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
তিনি বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারা দেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে এসব কথা বলেন সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বোর্ড থেকে ১১ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৮৫ জন ছাত্র এবং ৭১ হাজার ৯৭৯ জন ছাত্রী। ফলাফলে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা তুলনামূলক ভালো করেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশও বিজ্ঞান বিভাগের।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে মানবিক বিভাগের ফলাফল তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাডেমিক দুর্বলতা বা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে সচিব বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ বৈষম্য উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি ফলাফলের এই বৈষম্য কমানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এবারও ফলাফলে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো করেছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। শুধু পরীক্ষায় পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।
ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে টেলিটক মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে এ আবেদন করতে পারবে।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সেই হিসাবে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানান বোর্ডের সচিব।
৪ দিন আগে
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাস করেনি ৪ প্রতিষ্ঠানের কেউ, শতভাগ পাস করেছে ১০ প্রতিষ্ঠান
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী।
এ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। তবে এ বোর্ডে চার প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ জ ম রেজাউল করিম খান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬০ হাজার ২৭৪ জন।
এই শিক্ষা বোর্ডে গত ৫ বছরের মধ্যে এবারের পাসের হার সবচেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৭৮ জন। আর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৩ হাজার ১৭৮জন।
এদিকে, এ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। এ তালিকায় আরও আছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা কলেজ (স্কুলশাখা)। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ জন অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এ স্কুল থেকে অংশ নেয় ৩ জন শিক্ষার্থী।
শতভাগ পাস করা ময়মনসিংহ বোর্ডের দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, আইডিয়াল মডেল অ্যাকাডেমি, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান মডেল অ্যাকাডেমি।
শতভাগ পাসের তালিকায় জামালপুর জেলায়ও রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—ইসলামপুর উপজেলার উত্তরা গোয়ালের চর আইডিয়াল স্কুল ও সরিষাবাড়ি উপজেলার চিলড্রেনস হোম পাবলকি স্কুল। শতভাগ পাস করা নেত্রকোনা জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পাসের হার সবচেয়ে কম। তবে অভিভাবকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে কম পড়াশোনা করেও ভালো ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থা দেখে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ২০২৬ সালের ফলাফলে।
৪ দিন আগে
বরিশালে এসএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের এই পরিসংখ্যান ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০ হাজার ৪৫৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৫৪৫ জন এবং ছাত্রী ৪২ হাজার ৯১৩ জন।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯৫৫ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৬০০ জন। অর্থাৎ এবারও ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর জেলা।
গত বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।
৪ দিন আগে
কুমিল্লা বোর্ডে শীর্ষে ফেনী, পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান দখল করেছে ফেনী জেলা। প্রকাশিত ফলাফলে ফেনী জেলা এবার সবেচেয়ে ভালো করেছে। সেখানে পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ শতাংশ, আর কুমিল্লা বোর্ডে পাসের সার্বিক পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২।
ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফেনী জেলা পর্যায়ে শীর্ষ স্থানে থাকা শতভাগ পাসের এ প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডে সেরার তালিকায় এবারও স্থান করে নিয়েছে।
কুমিল্লার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফেনীর ১৮৯টি কলেজ থেকে ২১টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪ হাজার ৯০০ জন অংশ নেয়। তার মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন কৃতকার্য এবং ৪ হাজার ৭৯ জন অকৃতকার্য হয়। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ ভাগ।
এদিকে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৬টি জেলায় পাসের হারে প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ পেয়ে বোর্ড পর্যায়ে শীর্ষে রয়েছে ফেনী। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০, কুমিল্লা জেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৭৮, লক্ষীপুর জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৯১, চাঁদপুর জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৩। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালীতে ৫৯ দশমিক ৯৮ ভাগ।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এস এম ফয়সল পিএসসি জানান, চমৎকার এই ফলাফলের পেছনে সেনাসদরের সঠিক নির্দেশনা, কলেজ প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ, অনুষদ সদস্যদের আন্তরিক পাঠদান ও প্রেরণা এবং ক্যাডেটদের অবিরাম অধ্যবসায় প্রধান কারণ।
অধ্যক্ষ আরও জানান, ক্যাডেট কলেজে অনুসরণকৃত শৃঙ্খলা, কঠোর অনুশাসন ও যুগোপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতির ফলেই ক্যাডেটরা প্রতি বছর একাডেমিকে দৃষ্টান্তমূলক ফল করে আসছে। নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যবসায় থাকলে অল্প সময়ের পাঠপরিক্রমাতেও বড় অর্জন সম্ভব, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেটিই প্রমাণ করে আসছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, কুমিল্লা বোর্ডে ফেনীর শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। বিষয়টি অবশ্যই ফেনীবাসীর জন্য সুখবর এবং আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই এসব শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত জীবনেও ফেনীবাসীর জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করছি।
৪ দিন আগে
সিলেটে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৩৬ জন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার আরও কমেছে। গেল বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
তবে পাসের হার কমলেও এবার বেড়েছে জিপিএ-৫। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। যা গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ২২২ জন।
এ বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে ও ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে।
৪ দিন আগে
ময়মনসিংহ বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫,৭০০
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ জ ম রেজাউল করিম খান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬০ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩২ হাজার ৬৭৭ জন, মানবিক বিভাগে ২৫ হাজার ৩৫০ জন এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফলের দিক দিয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৭২ জন আর মেয়ে শিক্ষার্থী পাস করেছে ৩১ হাজার ৯০২ জন।
তিনি আরও জানান, এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র ২ হাজার ৬২১ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।
এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নেত্রকোনা জেলায় ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, জামালপুর জেলায় ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং শেরপুর জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।
গত ৫ বছরের মধ্যে এ শিক্ষা বোর্ডে এবারের পাসের হার সবচেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৭৮ জন।
৪ দিন আগে