অধ্যাপক ইউনূস
শ্রম আইন সংস্কার করে বিশ্বমানের করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে শ্রম আইন সংস্কার করে বিশ্বমানের করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
আগামী ১০ থেকে ২০ মার্চ জেনেভায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৩তম অধিবেশনকে সামনে রেখে বুধবার (৫ মার্চ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশনা দেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ইতিবাচক সবকিছু করতে হবে এবং কাজগুলো করতে হবে। আমরা এখানে কোনো অজুহাত তৈরি করতে আসিনি।’
বাংলাদেশের শ্রম খাতের শ্রমিকদের জন্য বীমা কভারেজ এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: রমজান উপলক্ষে জীবনের সর্বস্তরে সংযমের বার্তা প্রধান উপদেষ্টার
জেনেভায় আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে অনলাইনে বৈঠকে যোগ দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শ্রম খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ‘কিছু ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনুভূতি হচ্ছে, আমরা এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি।’
উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন, সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের এবং আইএলওর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ টুমো পৌটিয়ানেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
২৩ দিন আগে
পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নেই: অধ্যাপক ইউনূস
বাংলাদেশের রূপান্তর সফলভাবে কার্যকর করতে সকল শক্তি নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের রূপান্তর পর্বে প্রবেশ করার অধিকার অর্জন করেছি।
তিনি বলেন, ‘পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের লক্ষ্য হবে সকল ধরনের বৈষম্য অবসানের রাজনৈতিক আয়োজন নিশ্চিত করা। এদেশে গণতান্ত্রিক ও নাগরিক সমতা ভিত্তিক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর খামার বাড়ি কৃষি ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘ঐক্য সংস্কার নির্বাচন, জাতীয় সংলাপ ২০২৪’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণ ছাড়া জুলাইয়ের শহীদদের আত্মদান অর্থবহ হতে পারে না। ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশকে আদর্শভিত্তিক সকল রকমের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে গভীর অন্ধকারের দিকে আমাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার প্রিয় বাংলাদেশকে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পথে ফেরাবার লক্ষ্যে কাজ করছি। ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের পক্ষ থেকে আপনাদের এই জাতীয় সংলাপ আমাদেরকে আমাদের নতুন কক্ষপথ রচনা এবং তার যথাযথ স্থাপনে বিশেষভাবে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, “আমি ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা এই সংলাপে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন: ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’। সংস্কার বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই তিন লক্ষ্যের কোনোটিকে ছাড়া কোনোটি সফল হতে পারবে না। ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না। পাশাপাশি আমরা ভুলতে পারি না যে, আমাদের ছাত্রজনতা অটুট সাহসে শিশুহত্যাকারী ও পৈশাচিক ঘাতকদের মোকাবিলা করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যার বিচারের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আপনারা আপনাদের সংলাপের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এতে আমি আশ্বস্ত হয়েছি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল বাংলাদেশকে মুক্তই করেনি, আমাদের স্বপ্নকেও তুমুল সাহসী করে তুলেছে। বাকহীন বাংলাদেশ জোরালো কন্ঠে আবার কথা বলার শক্তি ফিরে পেয়েছে। এই দৃঢ় কন্ঠ আবার ঐক্য গঠনে সোচ্চার হয়েছে। ঐক্য আমাদের মূল শক্তি। জুলাই অভ্যুত্থান আমাদেরকে ঐতিহাসিক মাত্রায় বলিয়ান করেছে। গত পাঁচ মাসে এই ঐক্য আরও শক্তিশালী হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি আমাদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করার ক্রমাগত প্রয়াস চালাতে থাকায় আমাদের ঐক্য আরও মজবুত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঐক্যের জোরেই এখন আমরা অসাধ্য সাধন করতে পারি। এখনই আমাদের সর্বোচ্চ সুযোগ। এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে যেটা সকল নাগরিকের জন্য সম্পদের ও সুযোগের বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যত নিম্ন আয়ের পরিবারেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন- প্রতিটি নাগরিকের, তিনি নারী হোক, আর পুরুষই হোক তিনি যেন বিনা বাধায় তো বটেই বরং রাষ্ট্রের আয়োজনে তার সৃজনশীলতা প্রকাশ করে যেকোনো পর্যায়ের উদ্যোক্তা হতে পারেন। অথবা তিনি যে ধরনের কর্মজীবন চান তাই বেছে নিতে পারবেন।
এমন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ থাকবে যেখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু এই পরিচিতি অবান্তর হয়ে পড়বে। সবার একটিই পরিচয়- আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্র আমাকে আমার সকল অধিকার দিতে বাধ্য। রাষ্ট্রের কাছে এবং অন্য নাগরিকের কাছে আমার অন্য কোনো পরিচয় দেবার প্রয়োজন হবে না। যেখানে ব্যক্তি বন্দনার কোনো সুযোগ থাকবে না। দেশের ভেতরে বা বাইরে প্রভু-ভৃত্যের কোনো সম্পর্কের সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হবার সুবাদে হবো বিশ্ব নাগরিক। দেশের মঙ্গল সাধন করা যেমন হবে আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি বিশ্বের মঙ্গল সাধন করাও আমাদের কর্তব্য, এ দায়িত্বও আমরা সমানভাবে পালন করব। আমাদের তরুণ-তরুণীরা দ্রুত এই দুই দায়িত্ব সমানভাবে পালন করার জন্য প্রস্তুতি নেবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বাধীনতার পর অর্ধশতাব্দী অতিক্রম করে আমরা এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের বিনিময়ে এক অপূর্ব সুযোগের মুহূর্ত সৃষ্টি করেছি। এই সুযোগ যদি আমরা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হই, কিংবা অপারগ হই, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কোনো প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, আজকের ‘সংলাপের’ মূল লক্ষ্য হলো সবার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কন্ঠে ঘোষণা দেওয়া যে, আমরা এই সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া হতে দেব না। আমরা একতাবদ্ধভাবে এই সুযোগের প্রতিটি মুহুর্ত সর্বোত্তম কাজে লাগাবো।
ড. ইউনূস বলেন, সংস্কারের যে মহান দায়িত্ব ঐতিহাসিক কারণে আমাদের কাছে এসে গেছে এই দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেককে, প্রতিটি নাগরিককে, রাজনৈতিক দলকে, প্রতিটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককে দৃঢ়তার সঙ্গে সংস্কারের এই মহাযজ্ঞে আনন্দের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আজকে আপনাদের সংলাপে ঘোষণা দিন- কে কীভাবে এই মহা গৌরবের দায়িত্ব পালন করবেন।
সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলতে থাকবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ মূলত নির্বাচন কমিশনের। নাগরিকদের নির্বাচনের তারিখ না-পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় সময় দিতে হয় না। কিন্তু সংস্কারের কাজে সকল নাগরিককে অংশগ্রহণ করতে হবে। ভোটারদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যারা ভোটার হবেন তারাও সর্বাত্মকভাবে সংস্কারের কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করুন।
তিনি বলেন, সংস্কারের কাজটা নাগরিকদের জন্য সহজ করতে আমরা ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করে দিয়েছিলাম। তাদের প্রতিবেদন আমরা জানুয়ারি মাসে পেয়ে যাব।
প্রত্যেক সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রধান বিকল্পগুলো চিহ্নিত করে তার মধ্য থেকে একটি বিকল্পকে জাতির জন্য সুপারিশ করা। যার যার ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কীভাবে রচিত হবে তা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশমালা তৈরি করে দেওয়া, নাগরিকদের পক্ষে মতামত স্থির করা সহজ করে দেয়া।
তবে কমিশনের প্রতিবেদনে সুপারিশ করলেই আমাকে-আপনাকে তা মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এজন্য সর্বশেষ পর্যায়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা তাকে এই শক্তি যোগায়। তরুণরা সংখ্যায়ও বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মতামত নেবার জন্য আমি মনে করি ভোটার হবার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত। নির্বাচন সংস্কার কমিশন কী সুপারিশ করবেন তা আমার জানা নেই। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মানুষ যদি কমিশনের সুপারিশ করা বয়স পছন্দ করে, ঐকমত্যে পৌঁছার জন্য আমি তা মেনে নেব।
তিনি বলেন, সব ক’টা কমিশন মিলে আমাদের সামনে বহু সুপারিশ তুলে ধরবে। আমরা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি যে যার যাই মতামত হোক না কেন আমরা দ্রুত একটা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করে সংস্কারের কাজগুলো করে ফেলতে চাই। নির্বাচনের পথে যেন এগিয়ে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে চাই।
সংলাপ জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য এমন একটি প্রক্রিয়া তুলে ধরে তার দায়িত্বকে সহজ এবং গতিময় করে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বক্তব্যের শুরুতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্দে লড়াইয়ে সকল শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সংলাপের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
৯১ দিন আগে
প্রযুক্তিকে কাজে লাগান, কার্যকর পদক্ষেপ নিন: ডি-৮ সদস্যদের অধ্যাপক ইউনূস
কীভাবে 'কাজের ক্ষেত্র' বিকশিত হচ্ছে তা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং 'শিক্ষা' পুনঃউদ্ভাবনসহ কর্মমুখী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি তরুণদের দক্ষতা ও শিক্ষার পুনর্গঠন এবং আরও বিকাশের মাধ্যমে সক্রিয় উদ্যোক্তা হিসাবে আত্মপ্রকাশের জন্য উৎসাহিত করেন।
কায়রো থেকে দেশে ফেরার পথে অধ্যাপক ইউনূস সম্মেলনের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবসমাজের জন্য বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডি-৮ দেশগুলোর তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করেন তিনি।
ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মিশর, ইরান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রীও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ওইসব দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে আগামী দিনগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৯ ডিসেম্বর কায়রোতে অনুষ্ঠিত ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের আহ্বান জানান।
শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ডি-৮ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন এবং ঢাকায় ডি-৮ ইয়ুথ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তসহ মাইলফলক অর্জনসহ তিন বছরেরও কম সময় ধরে সফল মেয়াদে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির কাছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা ডি-৮ অর্গানাইজেশনের সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন।
সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় অধ্যাপক ইউনূস ডি-৮ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
তিনি কোভিড-১৯ মহামারি এবং বিশ্বকে আক্রান্ত করা বহুমুখী সংকটসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ডি-৮ সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ইউনূস ডি-৮ এর সহযোগিতামূলক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে মিশরকে সমর্থন দিতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়ে কায়রো ঘোষণাপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত হয়।
আরও পড়ুন:সম্পর্কোন্নয়নে একাত্তরের সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের প্রতি ড. ইউনূসের আহ্বান
সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ তুগগার এবং মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জামব্রি আবদুল কাদির অংশ নেন।
১৯ ডিসেম্বর শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শেষে মিশর সরকার এবং ডি-৮ সচিবালয় আয়োজিত 'গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ অধিবেশনে' প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য দেন।
তিনি বিশ্ব নেতাদেরকে মানবিক সহায়তার বাইরেও গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননের পুনর্গঠনের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ইউনূস ফিলিস্তিনিদের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
তিনি যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা এবং ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও কার্যকর ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসাবে আল-কুদস আল-শরিফকে নিয়ে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের উপলব্ধির উপর জোর দিয়ে সংকট মোকাবিলায় চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ইউনূস গাজা ও লেবাননের পুনর্গঠনে আনুমানিক খরচের বরাদ্দ দেওয়া এবং সম্পদ আহরণের জন্য আন্তর্জাতিক কৌশল প্রণয়নের জন্য ডি-৮ এর নেতৃত্বে প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব করেন।
বিশেষ অধিবেশন শেষে ডি-৮ নেতারা ফিলিস্তিন ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে একটি যৌথ ইশতেহার গ্রহণ করেন।
ডি-৮ নেতারা ছাড়াও বিশেষ অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি, আজারবাইজানের প্রধানমন্ত্রী আলী আসাদোভ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব হিসেইন ব্রাহিম তাহা এবং আরব রাষ্ট্র লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ করতে দৃষ্টিভঙ্গি-নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান ড. ইউনূসের
৯৮ দিন আগে
ব্যাপক শ্রম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ: অধ্যাপক ইউনূস
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে আরও বেশি বিদেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ব্যাপক শ্রম সংস্কার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় শ্রমিক ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদল সোমবার (২৫ নভেম্বর) তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে শ্রম ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রতিনিধি দলকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, 'আমরা আমাদের শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাই। এটা আমার অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, দেশের শ্রম আইন সংস্কার এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন শ্রম বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি থিয়া মেই লি এবং আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কেলি ফে রদ্রিগেজ।
আরও পড়ুন: ‘ট্রাম্পের সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন অধ্যাপক ইউনূস’
যুক্তরাষ্ট্র, বৈশ্বিক শ্রম অধিকার গ্রুপ এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও জুতা কেনা শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে শ্রম আইন সংস্কার ও শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলে জানান ওই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সরকার ও স্থানীয় ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সই করা ১৮ দফা চুক্তির কথা উল্লেখ করে কেলি ফে রদ্রিগেজ বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত সাড়ে তিন মাসে শ্রম খাতের জন্য যা করেছে তার ‘এগুলো সবই চমৎকার প্রমাণ’।
লাখ লাখ পোশাক ও জুতা শ্রমিকদের রক্ষা ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে কারখানাগুলোতে ইউনিয়ন অধিকার এবং প্রতি বছর মজুরি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
পোশাক কারখানাগুলোতে ন্যায্য ন্যূনতম মজুরির সুফল সম্পর্কে থিয়া মে লি বলেন, 'এটি ব্যবসার জন্য যেমন ভালো, তেমনি অর্থনীতির জন্যও ভালো।‘ তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ইউনিয়ন গণতন্ত্রের প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র।’
পিভিএইচ, কেলভিন ক্লেইন এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেড নামের তিনটি শীর্ষ মার্কিন ব্র্যান্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পিভিএইচ করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ব্রাইড বলেন, তারা বাংলাদেশে শ্রম সংস্কারকে সমর্থন করেন। একইভাবে তারা কম্বোডিয়ায় অনুরূপ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন।
আরও পড়ুন: সেনাকুঞ্জে ইউনূস-খালেদার শুভেচ্ছা বিনিময়
অধ্যাপক ইউনূস ব্র্যান্ডগুলোকে প্রতি জানুয়ারিতে তাদের অর্ডারের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে বাংলাদেশের উৎপাদনকারীরা সেই অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারে।
বৈঠকে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মেগান বোলডিন উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অধ্যাপক ইউনূসের ব্যাপক শ্রম সংস্কার উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন দেয়।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা আপনাদের অংশীদার হতে চাই।’
১২৩ দিন আগে
‘ট্রাম্পের সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন অধ্যাপক ইউনূস’
টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস 'আত্মবিশ্বাসী' যে, বিশ্বের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও তিনি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে 'অভিন্ন ভিত্তি' খুঁজে পাবেন।
ইউনূস বলেছেন, ‘ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী, আমরা ব্যবসা করছি।’
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কিছু সংকট থেকে উত্তরণে আমরা সাহায্য করার জন্য বিনামূল্যে অর্থ চাইছি না, একজন ব্যবসায়িক অংশীদার চাই।’
টাইম ম্যাগাজিন আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উর্বর রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে এখনও সংস্কারের গতি ধীর হওয়ায় সন্দেহ কিছুটা বেড়েছে।
৩১ অক্টোবর ট্রাম্প এক্স পোস্টে 'হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত সহিংসতার নিন্দা জানান, যারা বাংলাদেশে উত্তেজিত জনতার দ্বারা আক্রান্ত ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে, যা এখনও পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে।’
আরও পড়ুন: ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আকস্মিক নেতিবাচক কিছু নেই: অধ্যাপক ইউনূস
২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, 'ট্রাম্পের বিজয় আমাদের এতটাই আঘাত করেছে যে আজ সকালে আমি কথা বলতে পারছি না। আমি সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।’
বিক্ষোভকারীরা যখন ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন ঘেরাও করছে, তখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতে থেকে তিনি এবং তার উপদেষ্টারা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।
অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, প্রসিকিউটররা সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তিনি শেখ হাসিনার হস্তান্তর চাইবেন। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাতে সাড়রা দেবেন বলে খুব কম লোকই বিশ্বাস করেন।
ইউনূস বলেছেন, ‘শুধু ভারতে আশ্রয়ই নয়, সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে তিনি কথা বলছেন, যা আমাদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করছে। সেই কণ্ঠস্বর শুনলে মানুষ খুব অখুশি হয়। সুতরাং, এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের সমাধান করতে হবে।’
টাইমকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণদের মন স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ। ‘তারা গ্রাফিতে তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলোকে তুলে ধরেছিল এবং এটি এমন কিছু যা বাংলাদেশ কখনও দেখেনি।’
আরও পড়ুন: দেশে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ড. ইউনূসের
১২৬ দিন আগে
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আকস্মিক নেতিবাচক কিছু নেই: অধ্যাপক ইউনূস
ডোনাল্ড ট্রাম্প (নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় হঠাৎ করে কোনো নেতিবাচক বিষয়ের উত্থান দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সমস্যা নেই।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এমন কিছু নয়, কে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, যা তার ওপর নির্ভর করে ‘
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রিপাবলিকান পার্টি বা ডেমোক্রেটিক পার্টি এমনকি ট্রাম্পের বিষয়েও তার কোনো সমস্যা নেই।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অতীতে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং উভয় দলেই তার বন্ধু রয়েছে।
অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ জানালেন ড. ইউনূস
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পা রাখবেন। তার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শীর্ষ পদে বহাল থাকবেন।
এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প 'হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত সহিংসতার' নিন্দা জানান, যারা বাংলাদেশে বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা আক্রান্ত ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে।’
এক টুইটে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমার নজরদারিতে এটা কখনই ঘটত না। কমলা এবং জো বিশ্বজুড়ে এবং আমেরিকায় হিন্দুদের উপেক্ষা করেছেন। তারা ইসরায়েল থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত একটি বিপর্যয় হয়েছে, তবে আমরা আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করব এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনব!’
এ বিষয়ে আল জাজিরার এক সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এটা মূলত অপপ্রচার- সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার। ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক।’
আরও পড়ুন: সীমাবদ্ধতা সত্বেও একটি মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব: ড. ইউনূস
তিনি বলেন, বেশিরভাগ অপপ্রচারের উৎপত্তি ভারত থেকে। যে কারণেই হোক না কেন- সম্ভবত অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার জন্য।
'কিন্তু বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই' উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সহিংসতা শুরু হয়েছিল বিপ্লবের সময় হিন্দু বা অন্য ধর্মের কারণে নয়, বরং বেশিরভাগই তারা আওয়ামী লীগার ছিল বলে। হিন্দুদের অধিকাংশই ছিল আওয়ামী লীগার।’
রবিবার(১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংখ্যালঘুরা কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়, তবে তা 'সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত'।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন বাংলাদেশ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত একটি দেশ। সে সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মূলত রাজনৈতিক কারণে অল্প কিছু সহিংসতার ঘটনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব: অধ্যাপক ইউনূস
১৩০ দিন আগে
পোপ ফ্রান্সিস-অধ্যাপক ইউনূসের নামে যৌথ উদ্যোগ চালু করল ভ্যাটিকান
মানবতার জন্য একটি রূপান্তরমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের প্রয়াসে যৌথভাবে রোমে ‘পোপ ফ্রান্সিস-ইউনূস থ্রি জিরো ক্লাব’ চালু করেছেন ক্যাথলিক চার্চের আধ্যাত্মিক নেতা পোপ ফ্রান্সিস এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
‘থ্রি জিরো ক্লাব’ রোমের প্রান্তিক সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য আশার বাতিঘর হিসেবে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভাবনী ধারণাগুলোর বিকাশ এবং দৃঢ় এবং টেকসই সমাধান তৈরির জন্য এটি একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস সকলকে সম্মিলিতভাবে এই রূপান্তরিত যাত্রা শুরু করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে এমন একটি সভ্যতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, ‘যা প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদাকে সম্মানিত করবে এবং আমাদের (পৃথিবী) গ্রহের পবিত্রতা রক্ষা করবে।’
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অন্তত ৪ হাজার ৬০০টি থ্রি জিরো ক্লাব রয়েছে, যার সবগুলোই অধ্যাপক ইউনূসের নতুন সভ্যতার স্বপ্নের দ্বারা অনুপ্রাণিত। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, এসব ক্লাবের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে উঠেছে।
রোমের ভিকার জেনারেল কার্ডিনাল বাল্ডো রেইনাকে লেখা এক চিঠিতে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, এই পদক্ষেপে তিনি 'গভীরভাবে সম্মানিত' বোধ করছেন।
আরও পড়ুন: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ-জটিলতা মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার আহ্বান ইউনূসের
এই উপলক্ষে তিনি কার্ডিনাল রেইনাকে 'আন্তরিক অভিনন্দন' জানান।
শান্তিতে ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি বিজয়ী শনিবার বলেছিলেন, ‘এই অসাধারণ উদ্যোগটি পোপ ফ্রান্সিসের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি রূপান্তরমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য আমার নিজের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।’
প্রধান উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ অর্জন করা নয়, বরং একটি নতুন সভ্যতার উত্থানকে উৎসাহিত করাও - যা সহানুভূতি, সমতা এবং স্থায়িত্বের ভিত্তিতে ভিত্তি তৈরি করে।’
তিনি বলেন, ‘এমন একটি সভ্যতা যেখানে কেবল কাউকে পিছনে ফেলে রাখা উচিত নয়, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি তাদের ভাগ্যের চালকও হতে পারে, একটি মানব পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য গর্বিত হতে পারে, যেমনটি পবিত্র পিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোর দিয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকল ভাই-বোনেরা আসুন আমরা স্বপ্ন দেখি, একটি একক মানব পরিবার হিসেবে, একই মাংসের অংশীদার সহযাত্রী হিসেবে, একই পৃথিবীর শিশুদের মতো, যা আমাদের সাধারণ বাড়ি, আমাদের প্রত্যেকে তার বিশ্বাস এবং বিশ্বাসের সমৃদ্ধি নিয়ে আসে, আমাদের প্রত্যেকে তার নিজস্ব সমর্থন দিয়ে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি পোপ ফ্রান্সিসের অবিচল অঙ্গীকার এবং সামাজিক ব্যবসার শক্তিতে আমার বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হয়ে, থ্রি জিরো ক্লাব তরুণদের অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনতে প্রকল্পগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করে।’
তিনি বলেন, ‘তারা সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা চেতনা লালন করে, আমরা এই তরুণ নেতাদের আরও ন্যায়সঙ্গত ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজের স্থপতি হতে ক্ষমতায়ন করি।’
আরও পড়ুন: নতুন সভ্যতার জন্য 'বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক, যুব শক্তিকে' একত্রিত করার আহ্বান ইউনূসের
১৩২ দিন আগে
জি-২০ সামাজিক সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূস
সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রিও ডি জেনিরোতে জি-২০ সামাজিক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কোনো দেশই পারস্পরিক দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা পালন করা থেকে বিরত থাকতে পারে না।
আরও পড়ুন: শাহজালালে যাত্রীদের ওয়েটিং লাউঞ্জের উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
তিনি ক্ষয়িষ্ণু কাঠামোর প্রতি বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং টেকসই সমাধানের দিকে বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক এবং যুব শক্তিকে একত্রিত করতে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং নেট কার্বন নিঃসরণ মুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদেরর প্রতি 'তিন শূন্যের বিশ্ব' গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ ভার্চুয়াল বার্তার পর ব্রাজিলের ফার্স্ট লেডি জানজা লুলার উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জি-২০ সামাজিক সম্মেলনের অধিবেশন শুরু হয়।
ব্রাজিলের পাশাপাশি গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অ্যাবাউট পোভার্টি অ্যান্ড হাঙ্গারে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে যোগ দেওয়ায় এই অধিবেশন একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
অধ্যাপক ইউনূসের দূরদর্শী ভাষণ 'একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব এবং একটি টেকসই পৃথিবী নির্মাণ' শীর্ষক এই উচ্চ-পর্যায়ের ইভেন্টে একটি অনুপ্রেরণামূলক সুর তুলেছে। তিনি একটি ন্যায্য, আরও স্থিতিশীল বিশ্বের ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় নতুন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে জি-২০ বৈশ্বিক জোট প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে অভিনন্দন জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস এই যুগান্তকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
ব্রাজিলের জি-২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে একত্রিত করা।
নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে এ বছরের জি-২০ আলোচনার তিনটি মূল বিষয়ে অবদান রাখতে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এই রূপান্তরমূলক পদ্ধতির পক্ষে ওকালতি করে, তিনি খরচ কমানোর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি নতুন মানসিকতা এবং জীবনধারা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। যা ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’র দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য অপরিহার্য।
অধ্যাপক ইউনূস দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে রূপান্তরমুখী সমাধানে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট লুলাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ অ্যালায়েন্সের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সমন্বিত মাতৃত্ব ও প্রাক-শৈশবকালীন স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন ।
ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অদ্যাবধি গ্লোবাল অ্যালায়েন্স জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ ৩০টি উন্নীত হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ ৩০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী জি-২০ সামাজিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।
আরও পড়ুন: কপ২৯: আজারবাইজান পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস
১৩২ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত, নেপাল ও ভুটানকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিড তৈরির চিন্তা করা উচিত: অধ্যাপক ইউনূস
নেপাল ও ভুটানের উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ ভাগাভাগির জন্য দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিড গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘নেপাল মাত্র ৪০ মাইল দূরে হওয়ায় বাংলাদেশ সহজেই জলবিদ্যুৎ আনতে পারে। নেপালের জলবিদ্যুৎও সস্তা হবে,’ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিড তৈরির কথা ভাবতে হবে।
বাকুতে জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে সোশ্যাল বিজনেস গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিডের অভাবে হিমালয়ের দেশগুলোর জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার বেশিরভাগই অব্যবহৃত রয়ে গেছে।
নেপালের কর্মকর্তারা বলেছেন, তার দেশের ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারত ও বাংলাদেশের মতো বড় দেশগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
আজারবাইজানের রাজধানীতে কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বন্যা প্রতিরোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পানির সর্বোত্তম ব্যবহারে বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘পানি আমাদের প্রধান পরিবেশগত সমস্যা। আমাদের পানি ব্যবস্থাপনা এমনভাবে করতে হবে যাতে তা প্রকৃতিকে সহায়ক হয় ‘
সামাজিক ব্যবসা সভায় তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুব উন্নয়ন ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সরকার আগামী জানুয়ারিতে তরুণদের জন্য একটি উৎসবের আয়োজন করবে। এই আয়োজনে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক টি-টোয়েন্টি বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: কপ২৯: বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ
১৩৫ দিন আগে
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অধ্যাপক ইউনূসকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস এরদোয়ানের
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে ব্যাপক সংস্কার ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অভিযাত্রায় বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
অধ্যাপক ইউনূস মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) কপ-২৯ ভেন্যুতে বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস তাদেরকেও শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
আরও পড়ুন: কপ২৯: আজারবাইজান পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ-২৯ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস একটি ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ও ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বিশ্বের কয়েকটি দেশের অন্তত ২০ জন নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করার জন্য কারাবন্দী ৫৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানে তরুণদের আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দেন ড. ইউনূস
অধ্যাপক ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, এবং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের জন্য শীর্ষ প্লাটফর্ম হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, সার্কের পুনরুজ্জীবন হবে তার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।
তিনি অন্যদের মধ্যে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী, ঘানার প্রেসিডেন্ট, বসনিয়া হার্জেগোভিনার প্রধানমন্ত্রী, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট, আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মন্টেনিগ্রোর প্রেসিডেন্ট, বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী, ব্রাজিল ও ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ফিফার প্রেসিডেন্ট এবং আইওএম মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের অভিনন্দন
১৩৬ দিন আগে