চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ৫ দিন পর রেল চলাচল স্বাভাবিক, এখনও ডুবে আছে অসংখ্য গ্রাম
বন্যার পানিতে গত পাঁচ দিন রেল লাইন ডুবে থাকার কারণে বন্ধ থাকা কক্সবাজার রুটে রেল চলাচল ফের শুরু হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের উদ্দেশে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে পর্যটক এক্সপ্রেস।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন দুর্গত মানুষ।
তবে আগের দিনের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১২ জন আর আহত হয়েছেন ৫০ জন।
সরকারের পক্ষ থেকে এমপি, মন্ত্রীরা জেলা ও মহানগরীতে ত্রাণ বিতরণ করছেন। নগরীতে ত্রাণ বিতরণকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি হারানো লোকজনকে বিকল্প জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করবে সরকার।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল ১০ টার পর আগের চেয়ে বৃষ্টির দাপটও কমেছে।
প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানায়, বৃষ্টি কমার কারণে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীও।
প্রশাসন সত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক রাস্তা–ঘাট এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানির তোড়ে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে থেকে পানি সরে যাওয়ায় দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম–বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া সত্যপীরের মাজার এলাকায় এখনো সড়কের ওপর পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে পানি কমতে শুরু করলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বহু মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তারা।
এদিকে, আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, সাঈদ আল নোমান এমপি।
এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার সমিন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বন্যাদূর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য। আমরা দুর্গতদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করব।
২২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা মোকাবিলায় সমন্বয়-তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী অমিত
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার কাজ সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (১০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে এ দায়িত্ব দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মজুত ত্রাণসামগ্রীর অবস্থা এবং উদ্ধার কার্যক্রম মূল্যায়ন করবেন। একই সঙ্গে এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে পরামর্শ দেবেন।
এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, ত্রাণসামগ্রীর পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও তদারকি এবং বন্যা পরিস্থিতি ও গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত সরকারকে জানানোর দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা দিবে।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আরও দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ২ শিশু নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে ডুবে ৪ শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, আজ (শুক্রবার) বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায় দুই শিশু মোহাম্মদ আশিক (৮) ও মো. মিরাজ (৬)।
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুছ জানান, বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের আশিককে উদ্ধার করে বাঁশখালীর গুনাগরী বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একইদিনে ওই ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মিরাজ নিখোঁজ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে পানি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত মিরাজ প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে, গত দুই দিনে হাটহাজারী, আনোয়ারা ও সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক যুবদলকর্মীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনিকেত দাস (২) ও মো. ইশতিয়াক (৬) নামে দুই শিশুও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলার সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদীর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন আবদুল আলম (৩৫) নামে এক যুবদলকর্মী। পরে শুক্রবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী পৌরসভার মোহাম্মদপুর এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু অনিকেত। সে স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ কুমার দাসের ছেলে।
একই দিন জেলার আনোয়ারা উপজেলায় বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশু ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা। সে বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায় , দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে ইশতিয়াক নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা একটি ডোবা-সংলগ্ন জমি থেকে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল জেলার আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
আগামীকাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
চট্টগ্রাম বোর্ডের জেলাগুলো হলো— চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
এর আগে, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন সব জেলার ৮ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি ও কক্সবাজারেও টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামে পৃথক স্থানে পাহাড় ধসে দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর মেয়র গলি ও জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পৃথক পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। আজ দুপুর ১টার দিকে নগরীর শোলক বহর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে একটি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল সালেহীন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কলোনিতে পাহাড়ের পাদদেশে ছয়টি ঘর ছিল। তার মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এ সময় ৩ নম্বর ঘরে থাকা সুমাইয়ার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, পাহাড় ধসের পরপরই চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ৮ নম্বর শুলক বহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদের টিম মিলে উদ্ধারকাজ চালায়। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় মেয়েটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ঘরের ওপর মাটি ধসে মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তানভীর ওই এলাকার বাগান বাড়ির বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে।
আজ সকাল ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের কিনারে থাকা ঘরটির ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ সময় শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়েছে ঘরটির ওপর। ঘরটি একেবারেই কাঁচা ছিল। এতে ওই ঘরে থাকা ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার নগরীর পাঁচলাইশে পাহাড় ধসে পড়ে সফিকুল ইসলাম নামে একজন নিহত হন।
৫ দিন আগে
৪২ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি
টানা ভারী বর্ষণে ফের ডুবে আছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছে নগরীবাসী। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে শুধু নগরী নয়, পুরো চট্টগ্রামে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সড়ক জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানি জমে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ বলেন, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মোহরা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার ও বন্দর এলাকার নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে আছে। অনেক স্থানে সড়ক ও ড্রেন একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে।
৫ দিন আগে
ডুবে আছে রেল সড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেনে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ অন্য যাত্রীরা।
বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী সেকশনে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ডুবে আছে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১১টায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ৮০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে বিকেল পৌনে ৩টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা ছিল পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশনের কাছে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আটকে পড়ে ট্রেনটি। অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ট্রেনটি আটকে পড়ে। ট্রেনটি প্রথমে মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদরাসার সামনে আটকে থাকলেও পরে সেখান থেকে সরিয়ে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, ‘রেললাইনের ওপর প্রায় ২০ ইঞ্চি পানি জমে আছে। পানি অন্তত ৬ ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো সম্ভব নয়।’
তবে বাতিল হওয়া এসব ট্রেনের যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই রেলপথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে।
নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রেললাইন ডুবে যাওয়ায় আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। এখনও রেললাইনে পানি জমে আছে। পানি সরে গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
৫ দিন আগে
টানা ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা, জনজীবন বিপর্যস্ত
তিন দিনের টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলজটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং কমে গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গন্তব্যস্থলে যেতে বাধ্য হওয়া চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অফিসগামী অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। পানিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের মাঝপথে আটকে পড়ে, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। এদিকে গণপরিবহন স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় বিভিন্ন বাসস্টপে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
দুদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর গতকাল রাত থেকে টানা ভারী বর্ষণ চলছে চট্টগ্রামে। তবে গত দুদিন দলবদ্ধতার সৃষ্টি না হলেও গতরাতে ভারী বর্ষণের কারণে আজ সকাল থেকে বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকা কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।
৬ দিন আগে
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় মঙ্গলবার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে, মাত্র ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে।
নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ইরা।
ঘটনার পর গত ৩ মার্চ কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।
তদন্তে জানা যায়, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।
সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলাকাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় শিশুটি। পরে তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করেন, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং শিশুটি বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখালে তিনি চাকু দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ইরা মনির মা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
৬ দিন আগে
হত্যা মামলায় হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
গতকাল (সোমবার) টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে দাবি করেন, মামলার কোনো আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই। পাশাপাশি তদন্তেও নানা ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে, সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। এর আগে, ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
গত ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।
এর আগে, গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন। এদিন, ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।
মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন— সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে গতকাল ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। তারও দুই দিন আগে ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন আদালতে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে দ্বিতীয় অভিযোগে।
এ ছাড়াও, মামলার তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার দায় উল্লেখ করা হয়েছে।
১২ দিন আগে