চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলীতে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যার ঘটনায় অন্যতম হোতা মো. আইয়ুবকে (৪৫) রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
শনিবার (২০ জুন) ভোরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আইয়ুব রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদলপুর সমশের পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানান, একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে নিয়ে গেছে র্যারের টিম ।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭-এর মিডিয়া সেল জানায়, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার জনসাধারণ বিক্ষোভে নামেন। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর থেকে সন্ত্রাসীরা গাঁ ঢাকা দেয়।
তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা আইয়ুব রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে তার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রবিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন র্যাব সদস্যরা।
মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গত ১৫ জুন রাত ১২টার দিকে নিহতের বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল ইসলাম চৌধুরী স্বপনের ছোট ভাই এবং বেতাগী এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে অপহৃত সেই শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫
চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণ হওয়া শিশু জায়ানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহজনক পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্ব পাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। গ্রেপ্তারদের বসতঘরের পেছনে ময়লার ভাগাড় থেকে জায়ানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনার বিচার দাবি করে দুপুরের দিকে পটিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় ৫ বছরের শিশু জায়ান। পরে শিশুটির শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ্ করা হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরের দিকে পটিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে নিহত শিশুর স্বজনসহ স্থানীয়রা।
এ ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
৪ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলার রায়, আসামি মনিরের যাবজ্জীবন
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে (৩২) অপরাধের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) ট্রায়াল গঠনের ৭ম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা জুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মনির হোসেন বাকলিয়া এলাকার একটি ডেকোরেটর দোকানের কর্মী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। আদালত তাকে একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৩ দিনে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বিচার শেষ হলো, যা বিচারিক কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত। গত ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন আসামি মনির।
রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে সকালে পুলিশ প্রহরায় আসামি মনির হোসেনকে হাজির করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে।
ট্রায়াল গঠনের ৭ম কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামির ফাঁসি না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুব-উল আলম চৌধুরী বলেন, মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার মাত্র ১৪ দিনের মাথায়, গত ৪ জুন পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আজ রায়ে একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন জানান, রায়ে আমরা আসামির ফাঁসি দাবি করেছিলাম কিন্তু তার যাবজ্জীবন রায় হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
এ ঘটনায় ৪ জুন আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় পুলিশ। মামলায় মোট ১৮ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ (বুধবার) আদালত রায় দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আসামি মনিরকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষোব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া বৌদ্ধবিহার মন্দির-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটির নাম পিয়াস বড়ুয়া (৫)।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং এক শিশু আহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়রাা জানান, পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম শহরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।
প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়ে তারা দেখতে পান, ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ।
স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। আহত পিয়াসকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। তার ধারণা, ওই লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলা করে থাকতে পারে।
সুজন বড়ুয়া বলেন, আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র নাম উল্লেখ করেছিলেন।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর: দুই পুলিশ প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ১
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত এসআই মো. সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।
এ ঘটনায় রাতেই খুলশী থানায় মামলা করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।
মামলার আসামিরা হলেন— এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরেন। তিনি এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজ বাসায় ফেরার পথে নগরীর লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে টহল পুলিশ নিজেদের ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে তার গাড়ি থামিয়ে তাকে জিম্মি করে আপহরণের চেষ্টা ও মারধর করে। এ সময় নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড় পরিচয় দিলেও পুলিশ তাকে নাজেহাল করে, এমনকি গায়ে হাতও তোলে। পরে পুলিশ তাকে রাত ২টার দিকে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যায়। সেখানেও নাঈম নিজের জাতীয় দলের খেলোয়াড় পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় খবর পেয়ে শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হলে রাত ৩টার দিকে নাঈমকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।
নাঈম হাসানের দাবি, থানায় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং অযৌক্তিকভাবে গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে রাতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সকালে ওসি আরিফুর রহমান জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন। বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না। পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামি (সোর্স) সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় আজ (শনিবার) সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেলকে বরখাস্ত করেছে সিএমপির জনসংযোগ বিভাগ।
৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কা, দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রেল যোগাযোগ
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে বালুভর্তি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কোনো হতাহত না হলেও ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে রেল লাইনের ওপর আটকা পড়েছে। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) সকালে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মীরসরাইয়ের বড়তাকিয়া সোনাপাহাড় এলাকা অতিক্রমকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি বড়তাকিয়া এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের ওপর থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ইঞ্জিনের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনটি ঘটনাস্থলে আটকা পড়ে এবং সাময়িকভাবে রেল চলাচল ব্যাহত হয়।
সংঘর্ষে ট্রেনের ইঞ্জিনে সামান্য ক্ষতি হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দ্রুত ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনার কারণে সকাল ৯ টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
১৫ দিন আগে
গভীর রাতে চট্টগ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, আহত অন্তত ১২
চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ হাউসিং সোসাইটি এলাকায় একটি প্লটের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফয়’স লেক-সংলগ্ন জাকির হোসেন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ফলে প্রায় ৩০ মিনিট সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জালালাবাদ হাউসিং সোসাইটির পাশের লেকভিউ আবাসিক এলাকায় এক ব্যবসায়ীর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা গ্রুপের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ ফাঁকা গুলি ছুড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ফয়’স লেক গেট ও চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্র এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
এ ঘটনায় একে খান মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
খবর পেয়ে খুলশী ও আকবরশাহ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
১৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী বাবা-ছেলে নিহত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর নতুন ব্রিজ এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের প্রথম সিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বাকের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিধান মল্লিক (৪৭) এবং তার বাবা দুর্গাপদ মল্লিক (৭৫)। তাদের গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্রিজ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিধান মল্লিক এবং তার বাবা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নতুন ব্রিজের প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুর্গাপদ মল্লিক নিহত হন। পরে বিধান মল্লিককে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এদিকে, দুঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হলেও ঘটনার পরপরই পিকআপচালক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০ দিন আগে
চট্টগ্রামের হালিশহরে বস্তিতে আগুন, পুড়ল ৪ সেমিপাকা ঘর
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর আই-ব্লকের একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি সেমিপাকা ঘর পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক কক্ষবিশিষ্ট চারটি সেমিপাকা ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। আগুনের উৎপত্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তারা। দমকলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’
আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
২০ দিন আগে
সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে সমস্ত সন্ত্রাসী দেখিয়েছে, তাদের যথাযথভাবে দমন করা হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলাকারী ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সর্বশেষ আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরসহ পার্শ্ববর্তী সমগ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেজন্য এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিকল্পিত সরকারি স্থাপনা ও অ্যাকাডেমি নির্মাণের লক্ষ্যে আজ সব বিভাগীয় প্রধানদের সাথে ম্যাপ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের বর্তমান কারাগারটি বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের পাশের ওই এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারা অধিদপ্তর প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবে যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য কোন স্থানে কী স্থাপনা করা হবে, তাও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
২২ দিন আগে