চট্টগ্রাম
হাটহাজারীতে আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আহত সেনা কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন এবং তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আহত সেনা কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাহস ও সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
গেল বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিকভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
১২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত কটেজ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৮
চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে মহামায়া লেক এলাকায় বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজ থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী মো. হেলাল উদ্দিন (৩৬) হাটহাজারী এলাকার বাসিন্দা এবং পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর রওশন বোর্ডিং সংলগ্ন একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হাশেম (৫২) ছাড়াও ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় আকরাম (৩৪), শান্ত মিয়া (৩২), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুককে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল হাশেম ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার। তিনি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা হেলাল বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আবুল হাশেম বেশ কিছুদিন ধরে হেলালকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে আবুল হাশেমসহ কয়েকজন শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেলাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকালে হেলালের মোবাইল নম্বর থেকে স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে ফোনে করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার ওই দিনই দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তদন্তে নামে। পরে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের সহায়তায় গতকাল (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আবুল হাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানার লতিফপুর এলাকা থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে হেলাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, হেলালকে জোরারগঞ্জের মহামায়া লেক এলাকায় রাখা হয়েছে। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ওই এলাকায় বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেপ্তার এবং হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হেলালকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আবুল হাশেম ও আকরাম মিলে শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে অপহরণে সম্পৃক্ত করেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
১ দিন আগে
হাটহাজারীতে অনুশীলন চলাকালে গোলাবর্ষণে ২ সেনাসদস্য নিহত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সেনাসদস্য নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামে মোটরসাইকেলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শাহারপাড়ের মুন্সিবাড়ির মো. মনির হোসেনের ছেলে ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ (২৩) ও একই এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মিজান পাটোয়ারীর ছেলে মুহাম্মদ মাহি পাটোয়ারী (২০)।
নিহতদের সঙ্গে থাকা সফরসঙ্গী মো. সোহান জানান, তারা মোটরসাইকেলে কক্সবাজার থেকে চাঁদপুরে যাচ্ছিলেন। পথে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী একটি পিকআপভ্যান তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনাস্থলেই তৌহিদ মারা যান।
আর গুরুতর আহত মাহি পাটোয়ারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক জানান, মাহি পাটোয়ারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
অন্যদিকে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর মাহির মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যানটি রেখে চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলটি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
১০ দিন আগে
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবের পথে আরও এগোবে চট্টগ্রাম: অর্থমন্ত্রী
ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রামকে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাবে পরিণত করার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক।’
রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রকল্প এলাকায় লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যৌথভাবে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে বিশ্বখ্যাত ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
১২ দিন আগে
নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই যুবকের নাম তালাত মাহমুদ শুভ (১৯) ও আব্দুল্লাহ আল ওমর (১৯)।
শুভ উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের পুত্র এবং আব্দুল্লাহ আল ওমর একই ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার প্রবাসী শেখ ফরিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় বারৈয়ারহাট বাজার থেকে নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে বড়তাকিয়া গেট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির লরির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে শুভ নিহত হয়। ওমরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।
শুভর ভাই ইমাম হোসেন ফরহাদ ও ওমরের মামা সাইদুল ইসলাম শাহীন জানান, ওরা দুইজন পরস্পরের বন্ধু ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় আবুতোরাব বাজারে একটি ল্যাবে চাকরি করত। বন্ধু ওমরকে নিয়ে শুভ নতুন মোটরসাইকেল কিনতে গিয়েছিল বারৈয়ারহাট। সেখান থেকে ফেরার পথে বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় একটি দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় দুজনই মারা গেছেন।
মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে বন্ধ জলিল টেক্সটাইলের জায়গায় হবে সেনাবাহিনী অস্ত্র কারখানা, চুক্তি স্বাক্ষর
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদার হাটে বন্ধ হয়ে যাওয়া জলিল টেক্সটাইল মিলের জায়গায় আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিকী মূল্য বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) জন্য সেনাবাহিনীর কাছে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জায়গা হস্তান্তর করা হয়েছে।
জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এ সময় তিনি জায়গাটি হস্তান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে এখানে তৈরি করা অস্ত্র রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এটাকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের চাহিদা আছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হলে অস্ত্র রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।
চট্টগ্রামের ফৌজদার হাটের এই পাহাড়ি এলাকাকে কেন সমরাস্ত্র কারখানা তৈরির জন্য বেছে নেওয়া হলো, তার কারণ উল্লেখ করে ওয়াকার উজ জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে আধুনিক ও শক্তিশালী সমরাস্ত্র তৈরি করে সক্ষমতা বাড়াবে সেনাবাহিনী। এ কারখানা দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার বৃদ্ধির অংশ যেখানে একটি বন্ধ কারখানা নবরুপে চালু হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এখন অনেক কম মূল্যে ড্রোনসহ নানা অস্ত্রের ভালো চাহিদা আছে। সরকার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ৫৫ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করেছিল সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময়ের প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান জলিল টেক্সটাইল। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শেষদিকে একের পর এক লোকসানে জর্জরিত হয়ে পড়ে। নানা সংকট ও প্রতিকূলতার কারণে ২০০৪ সালে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম। এরপর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর নানা প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে অবশেষে জলিল টেক্সটাইলের সেই ৫৫ একর জায়গা যাচ্ছে সেনাবাহিনীর হাতে। ফলে দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জায়গায় শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়।
জমি হস্তান্তর উপলক্ষে জলিল টেক্সটাইল প্রাঙ্গণে আজ (বৃহস্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি-বিএফওর মধ্যে চুক্তি সই হয়।
আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্যে এখানে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা জানান বিএফওর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল শাহিনুল হক ও সেনাবাহিনীর সামরিক উপদেষ্টা এ কে এম সামশুল ইসলাম।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে শিল্পমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পরিত্যক্ত কারখানাটি পরিদর্শন করেন এবং পরে তারা সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।
১৫ দিন আগে
ফ্লাইটে নারী যাত্রীর মৃত্যু, মাসকাটে বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণ
জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে ফ্লাইটটি ওমানের মাসকাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিল ইউএনবিকে জানান, ফ্লাইটে থাকা ছানোয়ারা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাসকাটে অবতরণ করে। পরে ওই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, মাসকাট বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর মরদেহ নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওমানের স্থানীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী, উড়োজাহাজ থেকে মরদেহ নামাতে রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন। এ কারণে কিছুটা আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
বিমান সূত্র জানায়, মরদেহ নামানোর অনুমতির জন্য রয়্যাল ওমান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহটি উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। এরপর ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি দীর্ঘ সময় মাসকাটে আটকে থাকায় অন্যান্য যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন।
বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি বুধবার বেলা ১১টায় সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
১৬ দিন আগে
শান্তি ও সম্প্রীতির পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পার্বত্যমন্ত্রীর
নতুন নিয়োগ পাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী সাচিং প্রু বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলকে (হিল ট্র্যাক্টস) শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি, সুষম বণ্টন ও বৈষম্যমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দায়িত্ব পাওয়ার পর রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সাচিং প্রু বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে যেহেতু আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে আমি সবাইকে নিয়ে, সব সেক্টরকে সঙ্গে নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে তার পাশে থেকে পার্বত্য অঞ্চলকে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি, সুষম বণ্টন ও বৈষম্যমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পরিস্থিতি গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের চিন্তা, চেতনা ও লেখনি শুধু বাংলাদেশের মানুষের ওপর নয়, বিশ্বের মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো বিষয় খুব যত্নসহকারে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।’
সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো পরিস্থিতি, যেকোনো ব্যাপারে আপনাদের আহ্বান জানাব, আপনারা বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন। তাহলে কী হবে, সারা বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বের মানুষ আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা ও ইতিবাচক মনোভাব থাকবে।
পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নে সবাইকে অভিন্ন লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এককভাবে কারও পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।
নিজের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকারে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, ১৯৮৬ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার পরিষদ ও জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করেন। সাত বছর ডেপুটি মিনিস্টার পদমর্যাদায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সৌভাগ্য, আমি ৭০০-৮০০ জনের চাকরি নিজ হাতে দিতে পেরেছি এবং আমার এখানে যতগুলো জাতিসত্তা আছে সবাইকে সুষম বণ্টন করে দিয়েছি। এসব রেকর্ডই তার প্রমাণ দেবে।’
১৯ দিন আগে
ইংরেজি মাধ্যমসহ সব প্রাথমিক বিদ্যালয় মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে: ববি হাজ্জাজ
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। নতুন নীতিমালায় এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২৫টি উপজেলার বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতার (এফএলএন) হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্যের গরমিল দূর করে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর শিক্ষা প্রশাসনকে পরিচালনা করতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় শূন্যপদে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি জানান, আগামী বছর দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে যা টেলিভিশন শো হিসেবেও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিখন, উপস্থিতি, পুষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুর ওপর সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়কে কার্যকর ও নিয়মিত পরিচালিত হতে হবে, শিক্ষকের উপস্থিতি হতে হবে বাস্তব ও নিশ্চিত, শিক্ষার্থীর সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে এবং তারা কী শিখছে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সব ধরনের সুবিধা প্রকৃত শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখা এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নন-নেগোশিয়েবল’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শিশুর প্রায় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়ার কথা, সেটিই মূলত প্রাথমিক শিক্ষা। সেই শিক্ষা সরকারি, বেসরকারি কিংবা ইংরেজি মাধ্যম যেখানেই দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের আয়তন, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ, পাঠ্যবই ও কারিকুলাম অনুসরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো অপর্যাপ্ত বা অনিরাপদ স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আছে কি না, তা মনিটরিং কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে অনুমোদিত কারিকুলাম ও মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি পরিষ্কার অঙ্গীকার অপ্রশিক্ষিত কোনো শিক্ষককে আমরা শ্রেণিকক্ষে দেখতে চাই না। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের মান, প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা ভবিষ্যৎ মনিটরিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
উল্লেখ্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিজেই বিভাগে বিভাগে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রস্তুত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাসহ বিভাগের শিক্ষা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে