চট্টগ্রাম
ইংরেজি মাধ্যমসহ সব প্রাথমিক বিদ্যালয় মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে: ববি হাজ্জাজ
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। নতুন নীতিমালায় এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২৫টি উপজেলার বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতার (এফএলএন) হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্যের গরমিল দূর করে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর শিক্ষা প্রশাসনকে পরিচালনা করতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় শূন্যপদে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি জানান, আগামী বছর দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে যা টেলিভিশন শো হিসেবেও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিখন, উপস্থিতি, পুষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুর ওপর সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়কে কার্যকর ও নিয়মিত পরিচালিত হতে হবে, শিক্ষকের উপস্থিতি হতে হবে বাস্তব ও নিশ্চিত, শিক্ষার্থীর সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে এবং তারা কী শিখছে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সব ধরনের সুবিধা প্রকৃত শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখা এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নন-নেগোশিয়েবল’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শিশুর প্রায় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়ার কথা, সেটিই মূলত প্রাথমিক শিক্ষা। সেই শিক্ষা সরকারি, বেসরকারি কিংবা ইংরেজি মাধ্যম যেখানেই দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের আয়তন, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ, পাঠ্যবই ও কারিকুলাম অনুসরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো অপর্যাপ্ত বা অনিরাপদ স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আছে কি না, তা মনিটরিং কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে অনুমোদিত কারিকুলাম ও মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি পরিষ্কার অঙ্গীকার অপ্রশিক্ষিত কোনো শিক্ষককে আমরা শ্রেণিকক্ষে দেখতে চাই না। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের মান, প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা ভবিষ্যৎ মনিটরিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
উল্লেখ্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিজেই বিভাগে বিভাগে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রস্তুত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাসহ বিভাগের শিক্ষা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
এক মাসের ব্যবধানে ফের পানিতে ডুবেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা
চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে ফের জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। নিচতলার বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আজ (সোমবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। সমুদ্রে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত আরও দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে জলবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। কোথাও হাঁটুসমান বা কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও অলিগলি।
গতকাল (রবিবার) রাত ১০টার পর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে আজ সকালে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, দক্ষিণ হালিশহর, পাঠানটুলী ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মূল সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় অনেক বাসাবাড়ির নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়েছে।
আজ সকালে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পথচারীদের সেই পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচলও ছিল প্রায় বন্ধ।
আগ্রাবাদের মুহুরিপাড়া এলাকার চিত্রও ছিল একই। সড়কে কোমরসমান পানি জমে থাকায় আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নগরীর বাসিন্দাদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। গণপরিবহন ও রিকশা না পেয়ে অনেককে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কোথাও রিকশা পাওয়া গেলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া।
আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার চাকরিজীবী তৌহিদুল সালাম জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই এলাকার অনেক সড়কে পানি জমে যায়। তবে গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সড়কে যানবাহন না থাকায় এবং কিছু রিকশাচালক তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পানির ভেতর দিয়ে হেঁটে অফিসে গেছেন।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। মহানগরের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও আশপাশের সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। পরিবহনসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আজ স্কুলে যেতে পারেনি। কোথাও কোথাও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগরে লঘু চাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও সামান্য সময়ের ব্যবধানে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।
তাদের প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় এবং একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন বৃষ্টিতে বারবার একই এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে?
নগরবাসীর দাবি, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা, খাল-নালা ও ড্রেনের সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে। না হলে বড় প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
৫ দিন আগে
দুই বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এবার মোট ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর পাস করেছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। ইংরেজি ও গণিত—দুই বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এ বছর পাসের হার কমেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও পাসের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ বছর পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। এ বিভাগে এবার পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর মানবিক বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কক্সবাজার জেলায় শিক্ষার্থীর পাশের হার ৫৭.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এই তিন জেলায় পাশের হাট যথাক্রমে ৪১.১৭, ৩৪.৯৯ ও ৪৭.৮৮ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্র ও ১৯ হাজার ৫৪৬ জন ছাত্রী। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ হাজার ৭৩১ জন ছাত্র ও ৩০ হাজার ২২৭ জন ছাত্রী। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেয় ২৭ হাজার ১৬০ জন ছাত্র ও ২৪ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী।
১২ দিন আগে
চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ১
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেন ডিলারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জামাল উদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জামাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই মো. মুজিবের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে বিষয়টি দেখতে সেখানে যান জামাল উদ্দিন। পরে নিজের ঘরের আইপিএসের বৈদ্যুতিক লাইন বন্ধ করতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৩ দিন আগে
দেশে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না এবং এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, তার জন্য বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-কারখানা স্থাপন করতে হবে। আর তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপনার এলাকায় বা বাজারে যখন কোনো গণ্ডগোল হয়, কোনো সমস্যা হয়, তখন কি দোকানপাট খোলা থাকে না বন্ধ থাকে? বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হয়ে যায়? কারণ এই যে ছোট দোকানদার বা যেই ব্যবসায়ী হোক, তারা এইজন্য বন্ধ করে দেয় যাতে ওই গণ্ডগোলে তার ব্যবসার যাতে ক্ষতি না হয়। একইভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন পরিবেশ চান, যেখানে তাদের উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দর দিয়ে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সঠিকভাবে আনা যাবে।
তারেক রহমান বলেন, যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তার কথায়, ‘যদি দেশের সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়—এইসব ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, একইভাবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যারা বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায়, তারা যাতে কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারীরা নিজেদের মতো করে বিভ্রান্ত করে চলে যাবে, তারা জনগণের সঙ্গে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থাকা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা।
তিনি বলেন, এই যে বর্তমান সরকার, এই সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কাজেই এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা।
সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের কল্যাণে কয়েকটি মৌলিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিষয়টিও ছিল।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয় এবং তা শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। বাঁশখালীসহ এ অঞ্চলে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। আগামী চার বছর ধরে এ কার্যক্রম চলবে এবং আরও অনেক মা-বোনকে এর আওতায় আনা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরাই নয়, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণচাষিদের স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে সচ্ছল করতে আলোচনার মাধ্যমে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
মাতারবাড়ী সফরের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেছেন।
চীনের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সরকারপ্রধান বলেন, চীন সফরকালে তিনি দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চট্টগ্রামে কয়েক শত মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেসব কারখানায় সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সেই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাঁশখালীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ দেশের সব উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে এ খাতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কিছু সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা এরই ভেতরে তার কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছর আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে—সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’
এ পরিকল্পনার মাধ্যমে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।’
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এখন দেশের জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময় বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হলেও কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশকেও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
‘কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, একই সঙ্গে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
১৩ দিন আগে
রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী
চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড দেখালেও অন্যদিকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপিডিবি) দাবি, চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তবে উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছে।
দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ছোট শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্যেও চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন, এত বিদ্যুৎ যাচ্ছে কোথায়?
বিপিডিবির স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগে বেলা ১১টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬১ দশমিক ২ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯২ মেগাওয়াটে। এটিই ছিল দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে দুপুরে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২ হাজার ৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদা ছিল দুপুরে ১ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ৩২৮ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। ফলে সরকারি হিসাবে দুপুরে ১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ৫৯ দশমিক ১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে এ ঘাটতি প্রায় ৬৩ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে।
সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এসএস পাওয়ার বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসএস পাওয়ার বাঁশখালী দুপুরে ১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। মাতারবাড়ী কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে দুপুরে ২১৩ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২ কেন্দ্র দুটি সারা দিন বন্ধ ছিল। কেইপিজেড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। টেকনাফ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুপুরে ১০ দশমিক ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
মহানগরীর মেহেদীবাগ, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমের মাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিদ্যুতের সমস্যা।
মেহেদীবাগ আমিরবাগ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ কাজল বলেন, ‘সবসময় দেখি চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি। প্লান্টও তো কম নয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় দিনে তিন-চারবার বিদ্যুৎ যায়। গরমে যে কষ্ট পাচ্ছি, তা আর সহ্য হচ্ছে না।’
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার চিকিৎসক রুহুল কবির বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না, পড়াশোনা—সবই ব্যাহত হয়। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যায়, বলার মতো না।’
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক দোকানে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি কমে যাচ্ছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অফিসপ্রধান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অফিস স্থানান্তরের কারণে এখন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে না পারায় সময়মতো নিউজ ফুটেজ পাঠানো যাচ্ছে না। এমনকি লাইভ প্রগ্রাম সম্প্রচারেও বিঘ্ন ঘটছে।
বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবির সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে উৎপাদন বেশি হলেও এর বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। কোথাও কোথাও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পানির স্তর ছিল ১০১ দশমিক ৭৩ ফুট, যা সন্ধ্যায় সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৮ ফুটে দাঁড়ায়। রুল কার্ভ অনুযায়ী নির্ধারিত মান ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ ফুট। অর্থাৎ বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।
১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে পিকআপের চাপায় ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে পিকআপের চাপায় মোটরসাইকেল-আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তারা একই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন ছিলেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার পুরাতন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জয়নাল আবেদিন (৩৫) এবং চরশরৎ এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে জহির উদ্দিন (৫২)। জয়নাল আবেদিন উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ওলামা দলের সভাপতি এবং ওই এলাকার দরগাহপাড়া কালা পীরশাহ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। জহির উদ্দিন একই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে জরুরি একটি কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ইমাম ও মুয়াজ্জিন। পথে চৌধুরীহাট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাফায়াত হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
মীরসরাই জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০ দিন আগে
চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনসহ চার আসামি ১০ দিনের রিমান্ডে
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ফটিকছড়িতে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করে পুলিশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই মামলায় ওই আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের রিমান্ড শুনানীকে ঘিরে আদালত এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোরের কোতোয়ালী থেকে গ্রেপ্তার ইমনসহ ৪ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা।
রিমান্ডে নেওয়া ডেভিড ইমন ছাড়াও এই মামলার অপর আসামিরা হলেন— তার সহযোগী মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন এবং আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামি ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের কাছ থেকে অপরাধ জগতের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
২০ দিন আগে
অন্তর্বাসের মধ্যে ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণ, শাহ আমানতে ভারতীয় যাত্রী আটক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণসহ এক ভারতীয় যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
সিআইআইডি জানায়, আজ সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান থামিম আনসারি নামের এক ভারতীয় নাগরিক। তিনি বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার পর সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল তাকে শনাক্ত করে। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার অন্তর্বাসের (আন্ডারওয়্যার) ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণজাত পদার্থ উদ্ধার করা হয়।
২১ দিন আগে
তিন মামলায় ডেভিড ইমন ও সহযোগীরা কারাগারে
ভারতের পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্তে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার ৩ সহযোগীকে ফটিকছড়ি থানার তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের এবং একটি হত্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডেভিড। একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়েছিল এবং অপরটি আজ বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর মামলাটি একটি হত্যা মামলা। ওই মামলার অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ কারণে তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার কাছ থেকে ভারতের আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোরে যশোরে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২৩ দিন আগে