চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনসহ চার আসামি ১০ দিনের রিমান্ডে
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ফটিকছড়িতে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করে পুলিশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই মামলায় ওই আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের রিমান্ড শুনানীকে ঘিরে আদালত এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোরের কোতোয়ালী থেকে গ্রেপ্তার ইমনসহ ৪ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা।
রিমান্ডে নেওয়া ডেভিড ইমন ছাড়াও এই মামলার অপর আসামিরা হলেন— তার সহযোগী মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন এবং আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামি ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের কাছ থেকে অপরাধ জগতের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বাসের মধ্যে ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণ, শাহ আমানতে ভারতীয় যাত্রী আটক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণসহ এক ভারতীয় যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
সিআইআইডি জানায়, আজ সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান থামিম আনসারি নামের এক ভারতীয় নাগরিক। তিনি বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার পর সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল তাকে শনাক্ত করে। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার অন্তর্বাসের (আন্ডারওয়্যার) ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণজাত পদার্থ উদ্ধার করা হয়।
১ দিন আগে
তিন মামলায় ডেভিড ইমন ও সহযোগীরা কারাগারে
ভারতের পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্তে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার ৩ সহযোগীকে ফটিকছড়ি থানার তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের এবং একটি হত্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডেভিড। একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়েছিল এবং অপরটি আজ বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর মামলাটি একটি হত্যা মামলা। ওই মামলার অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ কারণে তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার কাছ থেকে ভারতের আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোরে যশোরে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পিছিয়েছে
আগামী আগস্টে চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বন্যা পরিস্থিতি এবং এইচএসসি পরীক্ষার কারণে তা এক মাস পেছানো হয়েছে। আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর এই ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনের উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে গেলে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আয়োজনের নির্দেশ দেন। তারই আলোকে আমরা চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, দেশের ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়া অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
৩ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় যশোর থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৪
ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ৯টি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড (২৫) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানা এলাকার ৭ নম্বর কাঞ্চনগর ইউনিয়নের কাঞ্চনগর গুরামিয়া হাজী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন: আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), তিনি ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তাগোলা এলাকার জুরাইনের পরি মোল্লারবাগের বাসিন্দা; মো. শামিম (২৮), তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল থানার আর কে মিশন রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৮), তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সাহারপাড় এলাকার বাসিন্দা, তবে বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়াটারের পেছনে বসবাস করেন।
তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ডেভিড ইমন তার সহযোগীদের নিয়ে যশোর হয়ে ভরতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়।
যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের চট্টগ্রামে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। পুলিশের দাবি, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ডেভিড ইমনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত যশোরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হন।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ‘চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগে এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত এই প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদান নিশ্চিতে সরকার খুব শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনি খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনে চায়নিজ অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনোয়ারার এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল এক কোদাল মাটিই তুলছি না, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা করছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি এবং যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এই জি-টু-জি প্রকল্পটির মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো।
প্রকল্পটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলেই ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে—যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করবে।
ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা টেকসই শিল্পায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিইআইজেড-এর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একই সাথে বেজা-এর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)’-এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করে একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষ করে আনোয়ার ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার স্থায়ী অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের এক টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগুই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তৃতা দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিসিএলের চেয়ারম্যান ওয়ানং পেইন-ছিয়েন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা-বাবা খুন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তার বাবা-মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই বাড়ির স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্তা (৫৫)। আটক হওয়া তাদের ছেলের নাম রিমন দাশগুপ্ত (৪২)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কল্পনা দাশগুপ্তার ছোটো জা তিথি দাশগুপ্তা বলেন, ‘ছেলেটি দীর্ঘদিন মাদকে আসক্ত ছিল। কয়েকবার মাদক নিরাময়কেন্দ্রেও ছিল। আজ সকালে তারা মা-বাবা-ছেলে বাইরে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি আসে। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলেটা কাঁচি দিয়ে তার মাকে আঘাত করতে থাকে। সে সময় তাকে বাঁচাতে তার স্বামী এগিয়ে গেলে ছেলেটা তাকেও আঘাত করে।’
তিনি বলেন, ‘এ সময় আমরা দৌড়ে আশপাশের মানুষ ডাকতে যাই। এসে দেখি, তার মা ঘটনাস্থলে মরে পড়ে আছে আর বাবাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে শুনি, সে-ও মারা গেছে।’
আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আমার তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণের সময় তার মৃত্য হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ছেলেটিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, হাসপাতালেও আরেকটি মরদেহের খবর পাওয়া গেছে। মরদেহগুলোকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
১৩ দিন আগে
বন্যাদুর্গত কৃষকদের সহায়তায় বীজ-ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: কৃষিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই দুঃসময় আসে। সেই সময়ে সরকার ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে যেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া না হয় এবং সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের মতো কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদেরও পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারির যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা অনুধাবন করেই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সব সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এবং কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করতে হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে সিকিউরিটি গার্ডকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ৭ আসামি গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিংয়ে গ্যারেজে ঢুকে এক নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— শেখ আহমেদ রুবেল (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৭), মনিরুজ্জামান মামুন (২৮), মো. জামাল উদ্দিন মিজান (৪৫), মো. গোলাম রব্বানী (৫৫), মো. আবুল বাশার (৩৯) ও পেয়ার আহাম্মদ (৫৫)।
নিহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আবু সিদ্দিক। গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে ডবলমুরিং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ফয়সাল আহম্মেদ জানান, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে গ্যারেজে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মী আবু সিদ্দিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তাকে কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন গ্যারেজে থাকা রিকশার চাকার লোহার রিং দিয়ে সিদ্দিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করেন। হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে গ্যারেজের ভেতরে থাকা একটি মিনি পিকআপে মরদেহ রেখে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে মামলার বাদী মো. আসলাম (৩৪) এজাহারে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় আজ সকালে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করা হয়।
মামলা করার পর ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিংয়ে গ্যারেজে ঢুকে এক নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— শেখ আহমেদ রুবেল (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৭), মনিরুজ্জামান মামুন (২৮), মো. জামাল উদ্দিন মিজান (৪৫), মো. গোলাম রব্বানী (৫৫), মো. আবুল বাশার (৩৯) ও পেয়ার আহাম্মদ (৫৫)।
নিহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আবু সিদ্দিক। গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে ডবলমুরিং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ফয়সাল আহম্মেদ জানান, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে গ্যারেজে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মী আবু সিদ্দিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তাকে কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন গ্যারেজে থাকা রিকশার চাকার লোহার রিং দিয়ে সিদ্দিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করেন। হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে গ্যারেজের ভেতরে থাকা একটি মিনি পিকআপে মরদেহ রেখে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে মামলার বাদী মো. আসলাম (৩৪) এজাহারে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় আজ সকালে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করা হয়।
মামলা করার পর ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
১৫ দিন আগে