ট্রাইব্যুনাল
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য চিফ প্রসিকিউটরের
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সব মামলার তদন্ত ও বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের আগস্ট থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনাল বিচারকাজ পরিচালনা করছে। তদন্ত সংস্থায় ২৩ জন এবং প্রসিকিউশন টিমে ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের মামলায় তদন্ত ও বিচার দুই প্রক্রিয়াই সময়সাপেক্ষ। এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। প্রতিটি মামলার বিচার শুরুর আগে দীর্ঘ সময় তদন্ত হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্কসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, দেড় বছরের মধ্যে ছয়টি মামলার বিচার শেষ করা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভব হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, চলতি মাসেই আরও তিনটি মামলার রায় হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। মাহবুবুল আলম হানিফের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে তাইম ভূঁইয়া হত্যা মামলার যুক্তিতর্কও শিগগির শুরু হবে। আরও কয়েকটি মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যাতে অন্তত জুলাইয়ের সমস্ত বিচার আমরা শেষ করতে পারি, সেই বিষয়ে আমরা একটা কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেলেও গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও সমানভাবে এগিয়ে চলছে। কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা এবং শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে।
ছয়টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পলাতক। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে যেসব মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ডের আদেশ রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অর্থ দেওয়ার নজির না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তদন্তে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বা বাছাই করে আসামি করার অভিযোগ নাকচ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করেন। প্রসিকিউশন তদন্তে হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্ত নিয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগ এলে তা পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজন হলে তদন্ত প্রতিবেদন ফেরত পাঠানো বা নতুন করে অভিযোগ গঠনও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির আপিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে ‘অটোমেটিক আপিল’ বলে কিছু নেই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আপিল ‘অ্যাজ অব রাইট’ হলেও পলাতক অবস্থায় সেই সুবিধা কার্যকর হয় না।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় দেখা যাচ্ছে না। পরিকল্পিত ও ব্যাপক আকারে সংঘটিত গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে, আর বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা নতুন আইনের আওতায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিচার হবে।
তিনি আরও জানান, একই ধরনের ঘটনার পৃথক তদন্তের পরিবর্তে একাধিক ঘটনাকে একত্র করে তদন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তদন্ত ও বিচার—উভয় প্রক্রিয়াই আরও কার্যকর ও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
১২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন ২৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। এরপর যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
এর আগে, ২৬ জুলাই সাক্ষ্য দেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ণনা দেন তিনি।
যদিও এ মামলায় প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের পর শেষ হয় ২৭ এপ্রিল। ওই সময় যুক্তিতর্কের জন্য দিনও ধার্য করা হয়। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুনরায় জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।
১৪ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে এইচআরডব্লিউর পর্যবেক্ষণ আমলে নেওয়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ খতিয়ে দেখতে আমলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিচালনায় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনাদের জায়গা থেকে উনারা যদি এটা পর্যবেক্ষণ দেন, আমাদের দায়িত্ব হলো সে অবজারভেশনটাকে কগনিজেন্সে (আমলে) নিয়ে বিষয়টা খতিয়ে দেখা। আমাদের যেটুকু খতিয়ে দেখার দরকার আমরা দেখব। এটাকে আমরা ইগনোর (উপেক্ষা) করছি না, এটাকে আমরা বলছি না যে উনারা ঠিক করছেন বা বলছেন না।’
তিনি বলেন, তারা (এইচআরডব্লিউ) যদি কোনো অভিযোগ করে থাকে, যে-ই অভিযোগ করুক, সে অভিযোগটা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আমলে নিচ্ছি।
১৭ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
২১ দিন আগে
মাদকের ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন, পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব
দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৫২ দিন আগে
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী ৭ জুন (রবিবার) রায়ের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই দিন ধার্য করেন। এর আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
এদিন সকাল ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলা হয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল রহমান দুলু আদালতে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। একই সময়ে ভুক্তভোগী রামিসার পরিবারের পক্ষেও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে, গতকাল বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এছাড়া সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।’
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত আগামী রবিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) এ মামলার গ্রহণ শেষ হয়। ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। একই আদালত সোমবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।
মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
৭৩ দিন আগে
মেনন-কামরুলের বিচার শুরু, নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) মেনন ও কামরুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন শুরুতেই আসামিপক্ষের অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক। এরপর কাঠগড়ায় থাকা কামরুল ও মেননকে অভিযোগ স্বীকার করবেন কি না জিজ্ঞেস করা হয়।
এ সময় মেনন দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি নির্দোষ; ন্যায়বিচার চাই। অপরদিকে, এ অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন কামরুল। একইসঙ্গে তিনিও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
পরে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর এ মামলায় সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। ফলে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জন নিহত হন।
১০৮ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আজ (রবিবার) সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত আলী।
পলাতকরা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
এদিন আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর মধ্যে আবুল হাসানসহ প্রথম আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, কমান্ড রেসপনসেবলিটিসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়। ৮-১০ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আনা হয় দুটি অভিযোগ। আর শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়। অর্থাৎ তিনি মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে জুলাই আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়।
অভিযোগ পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা আবুল হাসান ও শাহাদাত আলীকে দোষ স্বীকার করবেন কিনা জিজ্ঞেস করেন বিচারক শাহরিয়ার কবির। এ সময় আসামিরা দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান। এছাড়া পলাতক ৯ জনের পক্ষে ছিলেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার।
এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় হাবিব-সুদীপসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতের ওপরও গুলি চালায় পুলিশ। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উস্কানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
১৭৫ দিন আগে
দ্বিতীয় আরেকটি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য সরকার দ্বিতীয় আরেকটি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন কাজ চলছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে বিচার কার্যক্রম আরও তরান্বিত হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, চারটি মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মামলাগুলো হলো- আশুলিয়া লাশ পোড়ানোর ঘটনা, চানখারপুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, রামপুরা কার্নিশে ঝুলে থাকা কিশোরকে গুলির ঘটনা ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এসব মামলায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আরও পড়ুন: গুমের তদন্তকারীদের হত্যার জন্য বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর
এক সময় ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিফ প্রসিকিউটরসহ মোট ১৭ জন প্রসিকিউটর রয়েছেন এ ট্রাইব্যুনালে। আর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোট তদন্তকারী কর্মকর্তার সংখ্যা বর্তমানে ২৪ জন।
গত ১০ এপ্রিলের প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ মোট ৩ শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। যেখানে ৩৯টির তদন্ত কার্যক্রম (কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার অনুসারে) চলমান। তদন্তের প্রাথমিক সত্যতার আলোকে মিস কেস হয়েছে ২২টি। এইসব মিস কেসে সর্বমোট অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৪১ জন। যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ৫৪ জন আর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ৮৭ জন।
৪৮০ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতায় নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের কাছে তা জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ও মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তারা চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে ট্রাইব্যুনালের অন্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দুপক্ষের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
আরও পড়ুন: ক্রসফায়ার ও গুম-খুনের অভিযোগ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিএনপি
ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া কেমন এগোচ্ছে? কোনো সমস্যা আমাদের আছে কি না? তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা বা সমন্বয় দরকার কি না?—এইসব বিষয় তারা জানতে চেয়েছেন। এছাড়া বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার ব্যপারে আমরা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি, কী কী কাজ করছি, এসব ব্যপারে কোনো সহযোগিতার দরকার আছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচনা শেষে তাদের কাছে আমরা অনুরোধ করেছি, আমাদের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থাকে প্রশিক্ষিত করতে সহযোগিতার জন্য। তারা যদি এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটা আমাদের জন্য সহায়ক হবে।
বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করার জন্য জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তারাও অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ে আমাদের একটা ট্রেনিং সেশন হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা আরও ট্রেনিংয়ের আয়োজন করবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে, সে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: ডা. ফয়েজ হত্যা : হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
‘তারা আমাদের জানিয়েছেন যে, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিচারের ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষা আছে। যে অপরাধ এখানে হয়েছে বা যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের বিচারপ্রাপ্তির অধিকার আছে। ফলে বিচারটা যাতে ভালোভাবে হয় সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব জাতিসংঘ সমর্থন জানাবে।’
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত এখনও কোনো জবাব দেয়নি। না দিলেও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বিচারপ্রক্রিয়া তার নিজস্ব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চলবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হচ্ছে।
৫৭৪ দিন আগে