অর্থপাচার
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থ দেশ ও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, ইনশাআল্লাহ জনগণের টাকা ফিরিয়ে আনতে এই সরকার যে পথ বা পদক্ষেপই কার্যকর হোক না কেন, সেটিই গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া টাকা জনগণের সম্পদ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এ সরকারের দায়িত্ব রয়েছে দেশ ও জনগণের প্রতি। তাই জনগণের টাকা উদ্ধার করে তা পুনরায় জনগণের স্বার্থে এবং দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে এবং বিভিন্ন খাতের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে করদাতার অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৈরি করা শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এই অর্থ একাধিক দেশে পাচার করা হয়েছে, তাই তথ্য আদান-প্রদান, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সই এবং অনুরোধ বিনিময়ের প্রক্রিয়া সহজতর করতে কাজ করছে।
প্রাথমিকভাবে পাচারকৃত অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং (চীন)। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আদালত দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করেছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুতসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা—জামায়াতের সদস্য মুজিবুর রহমানের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের তালিকার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে; তারা এটি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিরা তাদের ইচ্ছা ও আগ্রহের কারণে আইনকানুন, নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যেভাবে পেরেছে, উঠিয়ে নিয়ে গেছে; যার কাছ থেকে যেরকম দরকার মনে হয়েছে, জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায় যাতে কোনো মানুষ ন্যায্য আইন থেকে বঞ্চিত হতে না পারে। এজন্য আইনগতভাবে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। যারা এ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, প্রচলিত আইনে নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি।
৫ দিন আগে
ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা: পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনল সিআইডি
ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘মেটাভার্স ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ (এমটিএফই)–এর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউএসডিটি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এমটিএফইর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় এক ভুক্তভোগী প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন। তবে সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল ডলার দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
প্রথম দিকে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।
আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্সে সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে এ অর্থের সঙ্গে প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়। পরে ওকেএক্সের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় সিআইডি।
আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।
সিআইডি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সহায়তার ফলে স্বল্প সময়ে এ অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
অর্থপাচার মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন ৫ এপ্রিল। একইসঙ্গে পলাতক জাবেদসহ ২৮ আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা করা হয়েছে। এই মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৮ জন। ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নিয়ে ২৫ কোটি টাকা লোপাট এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক গত বছরের ২৪ জুলাই মামলাটি করে।
সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু হলো বলে জানান পিপি মো. মোকাররম হোসাইন ।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম ও প্রধান কার্যালয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয়। মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই শাখার জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা মো. আকরামউল্লাহ এবং তৎকালীন শাখা প্রধান ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাবটি অনুমোদন দেন।
পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর কেনার কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। মিথ্যা স্টক, অভিজ্ঞতা ও গুদাম-সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
ইউসিবির কর্পোরেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের যৌথ কমিটি ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণসহ ঋণ প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করে। এসব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করেই ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঋণ বিতরণের পর অর্থের গতিপথ আড়াল করতে ২০২০ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ যথাক্রমে ১০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকা প্রথমে ব্যাংকের জেনারেল লেজার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান—আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পাঠানো হয়।
দুদক জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও সহযোগী। পরবর্তীতে এই অর্থ আরামিট সিমেন্ট পিএলসি ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করে প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা পূর্ব দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মচারী ৯ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা নগদ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রূকমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
২৬ দিন আগে
অর্থপাচারে সাবেক ভূমিমন্ত্রীকে সহায়তা, তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করার সহায়তাকারী তিন জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৭ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রামের উৎপল পাল, আবদুল আজিজ ও সৈয়দ কামরুজ্জামান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পড়ুন: সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বাড়িতে যেতেই কর্ণফুলী টানেল করা হয়েছে: প্রেস সচিব
আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করে তাদের সহায়তায় বিদেশে পাচার পাচার করেছেন—যা গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যায়। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে এবং মামলার সম্ভাব্য আসামি হবেন বলে ধারণা করা হয়।
তাই এসব ব্যক্তিরা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। তারা দেশত্যাগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হবে।
২৯৩ দিন আগে
যুক্তরাজ্যে সম্পদ জব্দের উদ্যোগকে সাধুবাদ, অন্য দেশেও পদক্ষেপ চায় টিআইবি
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রথম আইনি পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি আশা করছে, প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা) মূল্যের বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ করার এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ আইনি সহায়তার পথ সুগম হবে এবং তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত অগ্রসর হয়ে পাচারকৃত অর্থ-সম্পদের পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে অনুসরণ করে অর্থপাচারের গন্তব্য অন্যান্য দেশেও যেন বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অবৈধ সম্পদ চিহ্নিত, জব্দ ও ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়—এ আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
আরও পড়ুন: কালো টাকা সাদা করার সব সুযোগ বাতিলের আহ্বান টিআইবির
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ প্রথমবারের মতো জব্দের ঘটনায় আমরা আশাবাদী হতে চাই। তবে এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এই জব্দ হওয়া অর্থ-সম্পদ হিমশৈলের চূড়ামাত্র। পতিত কর্তৃত্ববাদী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট আরও বহু ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ পাচার করেছেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘যৌথ আইনি সহায়তার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অর্থপাচারকারীদের অবৈধ সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করে তা দেশে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘শুধু যুক্তরাজ্য নয়, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাই) বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আমরা এসব দেশের প্রতিও আহ্বান জানাই— তারা যেন যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ অনুসরণ করে নিজেদের আইনি কাঠামো ও যৌথ আইনি সহায়তার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এসব দেশকে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সহায়তা কার্যকর করে পাচারকৃত সম্পদ ফেরত পাঠাতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি মামলার আসামিকে দুদকে পদায়ন গ্রহণযোগ্য নয়: টিআইবি
একই সঙ্গে, নিজ নিজ আইনি কাঠামোর আওতায় চুরি যাওয়া সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করে তা দ্রুত ফেরতের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থপাচারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
৩১৬ দিন আগে
অর্থপাচারের আরেক মামলায় এনু-রূপনের ৭ বছরের কারাদণ্ড
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত দুই নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াকে অর্থপাচারের মামলায় সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫২ কোটি ৮৮ হাজার ৭৮৮ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত- ৮ এর বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঁঞা এ রায় দেন।
আরও পড়ুন: নাশকতার মামলায় যুবদলনেতা জাহাঙ্গীরসহ ৭৫ জনের কারাদণ্ড
অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- শহীদুল হক, মো. রশিদুল হক ভূঁইয়া, মো. মেরাজুল হক শিপলু, জয় গোপাল সরকার, পাভেল রহমান ও ভুলু চন্দ্র দেব।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, এ দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করেন। আর যারা মানি লন্ডারিং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তারা শুধু আমাদের সম্পদ চুরি করছে না, তারা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত চুরি করছে। তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।
এর আগে গত বছরের ২২ এপ্রিল মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আরেক মামলায় এনামুল ও রুপনের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসাসহ ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে তাদের দুই সহযোগী আবুল কালাম ও হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব।
এরপর ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা হয়।
২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট বংশাল থানায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক মো. মেহেদী মাকসুদ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলার বিচারকালে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে শিশু বলাৎকার: যুবককে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড
যুবদলনেতা ইসহাক সরকারসহ ১২ জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড
৮৬০ দিন আগে
অর্থপাচার মামলায় জি কে শামীমে ১০ বছরের কারাদণ্ড
রাজধানীর গুলশান থানার অর্থপাচার আইনের মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া মামলার সাত আসামিকে চারবছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন -মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মোরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আনিছুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: মাদক মামলায় হাইকোর্টে জি কে শামীমের জামিন আবেদন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান এ তথ্য জানান।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, অস্ত্রবাজ, টেন্ডারবাজ ও অর্থপাচারকারীদে কোনো আদর্শ নেই। তারা কোনো আদর্শকে লালন করে না। তবে আদর্শকে ব্যবহার করে রাতারাতিভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। দেশের চলমান উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থে তাদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।
গত ২৫ জুন মামলাটি অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ে জন্য ধার্য ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেননি।
এদিকে রায়ও প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তারিখ পিছিয়ে ১৭ জুলাই ঠিক করেন।
আরও পড়ুন: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: জি কে শামীম ও তার মায়ের বিচার শুরু
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এ তারিখ ধার্য করেন।
এরপর, গত ২৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে। ৬ মার্চ শেষ করে।
এর আগে ১৭ জানুয়ারি আত্মপক্ষ শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
গত ২১ ডিসেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে অভিযোগপত্রভুক্ত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিকেতনের নিজ বাসা থেকে শামীমকে আটক করা হয়।
এসময় জিকে শামীমের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার এফডিআর চেকসহ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি টাকা জব্দ করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অস্ত্রও পাওয়া যায়।
এ ঘটনার পর র্যাব-১ এর নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান ২১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট আদালতে জি কে শামীম ও তার সাত দেহ রক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আরও পড়ুন: জি কে শামীমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার রায় ২৫ সেপ্টেম্বর
২০২০ সালের ১০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
৯৯৪ দিন আগে
প্রস্তাবিত বাজেটে নেই দুর্নীতি ও অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সুশাসন-ন্যায্যতা বিষয়ক কোনো দিকনির্দেশনা: টিআইবির উদ্বেগ
চলমান অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার মূল কারণ লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মতো মরণব্যাধিকে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী একেবারেই স্বীকার করেননি। একইভাবে সুশাসন ও ন্যায্যতার ভাবনাকেও নির্বাসনে পাঠিয়েছেন বলে মন্তব্য করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলছে, কোভিড সংকট ও ইউক্রেন যুদ্ধপ্রসূত বৈশ্বিক সংকটের ফলে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সন্দেহ নেই; কিন্তু দেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে মূল অন্তরায় যে অবারিত দুর্নীতি ও গগণচুম্বি অর্থপাচার, তা নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রকার দিকনির্দেশনাহীন উচ্চাভিলাষী বাজেট কীভাবে অর্থবহ বাস্তবায়িত হবে তা যেমন পরিস্কার নয়, তেমনিভাবে ক্ষমতার বলয়ের বাইরে দেশের আপামর জনগণের জন্য এই বাজেট কোনো ভূমিকা রাখবে, এমন আশা একেবারেই অমূলক।
শুক্রবার টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে ডলার সংকট মোকাবিলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য আমদানিতে কঠোরতা, ঋণপত্রে নজরদারি অব্যাহত রাখা এবং একাধিক মুদ্রা বিনিময় হার থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনীতির অন্তর্নিহিত মরণব্যাধি দুর্নীতি ও অব্যাহত মুদ্রাপাচারের বিষয়টিকে নির্বিকার এড়িয়ে গেলেন। অথচ সরকারের অজানা নয় যে, বাংলাদেশে যদি মধ্যম মাত্রায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো তাহলে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি কমপক্ষে ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি হতো ও জনগণের জন্য অর্থবহ হতো; অন্যদিকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রাক্কলন অনুযায়ী বছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে কমপক্ষে ১২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিশাল দুষ্টচক্রকে নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশনাহীন বাজেট যে আরো দুর্নীতি ও অর্থপাচার সহায়ক হবে তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।’
পাচার করা অর্থ বিনা প্রশ্নে ফেরত আনতে বিগত বাজেটে দেওয়া অনৈতিক সুবিধার মেয়াদ আর না বাড়ানোর চিন্তাকে দেরিতে হলেও সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে, প্লট ও ফ্ল্যাটে বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত না রাখার আহবান জানাচ্ছে টিআইবি। প্লট ও ফ্ল্যাটে বিনিয়োগসহ অন্য যে কোনোভাবে কালো টাকা সাদা করার অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক সুযোগ যেন নতুন করে আয়কর আইনে স্থান না পায় এমন আহবান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, বার বার সুযোগ দিয়েও দেশের অর্থনীতিতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দিয়ে কোনো সরকারই কাঙিক্ষত মাত্রায় রাজস্ব আদায় করতে পারেনি। বরং এর মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কালো টাকার মালিকদেরই শুধু সুরক্ষা দেওয়া গেছে এবং বাস্তবে দুর্নীতির গভীরতার বিস্তারে অবদান রেখেছে; সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের নৈতিক ভিত্তি দুর্বলতর হয়েছে। তাই এই সুযোগটি যেন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চাপে আবারো না দেওয়া হয় সে ব্যাপারে সরকার দৃঢ়তা দেখাবে এমনটাই প্রত্যাশা।’
আরও পড়ুন: আদানি গ্রুপের সঙ্গে ঢাকার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নজিরবিহীন বৈষম্যমূলক: টিআইবি
মূলত দুর্নীতির বৈষম্যমূলক প্রভাবে দেশে ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্যের প্রেক্ষিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভর্তুকি বরাদ্দের ব্যয় ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও প্রস্তাবিত বাজেট ন্যায্যতা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে টিআইবি বলছে, আয়হীন ও নিম্নআয়ের মানুষ যতোটা চাপে রয়েছে, সে তুলনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বা সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়েনি। ভাতার পরিমাণও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামমাত্র বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও বাস্তবে তা কোনোভাবেই অর্থবহ হবে না। আবার সরকার বাজেটে সাড়ে চুরাশি হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি ও প্রণোদনা ব্যয়ের যে প্রস্তাবনা রেখেছে সেখানে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকাই রাখা হয়েছে জনপ্রশাসনের জন্য। সামাজিক নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনা মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা। টিআইবি প্রত্যাশা করে বাজেট পাসের আগেই এসব ক্ষেত্রে সরকার ন্যায্যতা বিধান করবে এবং বিশেষ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিনির্ভর সুশাসন, এবং দুর্নীতি ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পথরেখা বাজেটের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করবে।
আরও পড়ুন: ওয়াসা চেয়ারম্যানকে অপসারণের নিন্দা টিআইবি’র
১০৩৯ দিন আগে
বাংলাদেশে প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে আসে: বাজুস
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণ অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে আসছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া স্বর্ণ চোরাচালান ও অর্থপাচার বন্ধে একসঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাজুস।
বিএফআইইউ'র প্রধান কর্মকর্তা মো. মাসুদ বিশ্বাস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। এ ছাড়া সভায় বিএফআইইউ'র উপপ্রধান ও ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: স্বর্ণ চোরাচালানে বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে: বাজুস
বাজুস নেতারা বৈঠকে জানান, বাজুস প্রতিনিধি দলের তথ্য ও প্রস্তাবের জবাবে মাসুদ বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের হাত থেকে রক্ষা এবং দেশে স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার আশ্বাস দেন।
তারা আরও জানান, আকাশ, সড়ক ও নৌপথকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালান করা হয়, এর ফলে বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকার চোরাচালানকৃত স্বর্ণ বাংলাদেশে আসে এবং এর বেশিরভাগই দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়। সোনা চোরাচালান বন্ধে বাজুস নেতারা সাতটি সুপারিশ পেশ করেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ই-অরেঞ্জের অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে বিএফআইইউ
১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে বিএফআইইউকে তিন মাসের সময় হাইকোর্টের
১২২৮ দিন আগে
সুইস ব্যাংকে অর্থপাচার: বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে হাইকোর্টে তলব
সুইস রাষ্ট্রদূতের এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দাখিল করা এফিডেভিট ইন কমপ্লাইয়েন্সের সঙ্গে যুক্ত করা এক পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে কারও কোন নাম, ঠিকানা ও পদবি না থাকায় বাংলাদেশ ফাইন্যানসিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই তলব আদেশ দেন। বুধবার সকাল ১১ টায় আদালতে হাজির হয়ে মাসুদ বিশ্বাসকে এবিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আদেশ প্রদানকালে আদালত বলেন, ‘নাম পদবি ছাড়া এভাবে প্রতিবেদন দেয়াটা যেন ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’র মত একটা বিষয়। এত ভয় কেন? নাম পদবি দিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে।’
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএফআইইউ’র পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে সেটি প্রোপার ওয়েতে দাখিল করা হয়নি। কমপ্লায়েন্সের মধ্যে কারও কোন স্বাক্ষর নেই, কে দাখিল করেছে তা উল্লেখ নেই। এ কারণে আদালত অত্যন্ত মনোক্ষুন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্য জানতে চেয়েছিল। আমি বলেছি এটি বিএফআইইউ’র উদাসীনতা। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে বিএফআইইউ’র প্রধানকে তলব করেছেন।’
আদালতে আজ দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
আরও পড়ুন: অবৈধ স্থাপনা: কক্সবাজারের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব
এর আগে গত ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড বলেছেন, সুইস ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তথ্য চায়নি। সুইস ব্যাংকের ত্রুটি সংশোধনে সুইজারল্যান্ড কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তবে আমি আপনাদের জানাতে চাই সুইজারল্যান্ডে কালো টাকা রাখার কোনো নিরাপদ ক্ষেত্র নয়।
এরপর ১১ আগস্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সুই ব্যাংকের কাছে পাচারকারীদেও তথ্য চাওয়া হয়েছিল কিনা সে ব্যাপাওে দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের কাছে পদক্ষেপ জানতে চান। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট বিএফআইইউকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন এফিডেভিট আকারে দাখিল করতে বলা হয়।
সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গত রবিবার সকালে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার (বিএফআইইউ) প্রতিবেদন এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে দাখিল করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সময়ে দেশটির আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এফআইইউয়ের কাছে চাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৭ জুন এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা।
অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসীকাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ, অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য বিএফআইইউ অন্যান্য দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। তবে বিশ্বব্যাপী এসব তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো এগমন্ড সিকিউর ওয়েব (ইএসডব্লিউ)।
২০১৩ সালের জুলাইতে ইএসডব্লিউ’র সদস্য হওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৬৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চায় বাংলাদেশ। ইএসডব্লিউ’র মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে এ তথ্য দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু একজন ছাড়া অন্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানায় সুইজারল্যান্ড। আর ওই একজনের তথ্য দুদককে দিয়েছে বিএফআইইউ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংক চলতি বছরের ১৬ জুন বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরদিন ইএসডব্লিউ’র মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যাংক ও ব্যক্তির জমানো অর্থের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে অনুরোধ জানানো হয়। এ পর্যন্ত মোট ১৩ বার তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।
শুনানিকালে দেখা যায় এফিডেভিটের ভেতরে একটি প্রতিবেদনে কারও নাম, স্বাক্ষর, ঠিকানা কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি মামলার আসামিদের অব্যাহতি, দুদকের আইওকে হাইকোর্টে তলব
সন্তানদের জবানবন্দি রেকর্ড: বাবুলের ভাই ও মাগুরার সমাজসেবা কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের তলব
১৩১৫ দিন আগে