বিদ্যুৎস্পৃষ্ট
চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর ও দামুড়হুদা উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে, স্বামী-স্ত্রী বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় এবং অপর একজন বৈদ্যুতিক মোটর চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ায় নিজ বাড়িতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় ইজিবাইকচালক।
নিহতের প্রতিবেশী নয়ন জানান, অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর নাসিরকে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আল বেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন জানান, নাসিরকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, দুপুর ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্ত্রী লিপা খাতুনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাদের শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে একটি বাড়ির বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে বরু (৪৮) নামের আরেক ব্যক্তি নিহত হন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় লোকনাথপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুল দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটর চুরির উদ্দেশ্যে কেরামত আলীর বাড়িতে প্রবেশ করেন শফিকুল। একপর্যায়ে বাড়ির কলপাড়ে থাকা মোটরের বৈদ্যুতিক সংযোগ কাটার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তার শরীরের কয়েকটি অংশ পুড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলেই শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভোরে বাড়ির এক নারী তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
৭ দিন আগে
শৈলকুপায় ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটা মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধ দম্পতি নিহত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্রনাথ ভৌমিক (৭০) এবং তার স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)।
প্রতিবেশী মুকুল হোসেন জানান, আজ (বুধবার) সকালে অমরেন্দ্রনাথ তার বাড়ির গোয়ালঘরে গবাদিপশুর খাবার প্রস্তুত করার জন্য বৈদ্যুতিক মেশিনে ঘাস কাটতে যান। কাজের একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে স্ত্রী মিনা রানী এগিয়ে যান। কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন।
প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জোহা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মূলত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে দ্রুত তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় মাধবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৩ দিন আগে
হাজারীবাগে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চালক নিহত
রাজধানীর হাজারীবাগে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আব্দুর রহমান নামে (৫৫) বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই অটোরিকশার চালক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২০) আগস্ট দুপুর সোয়া ২ টার দিকে দিকে হাজারীবাগ থানাধীন মনেশ্বর রোডের একটি অটোরিকশার গ্যারেজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গ্যারেজের মালিক মো. আরিফ মিয়া জানান, আব্দুর রহমান দুপুরের দিকে গ্যারেজে এসে অটোরিকশা চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তার বাবার নাম আব্দুর রকিব। বর্তমানে তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার মনেশ্বর রোডে থাকতেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ১
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেন ডিলারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জামাল উদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জামাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই মো. মুজিবের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে বিষয়টি দেখতে সেখানে যান জামাল উদ্দিন। পরে নিজের ঘরের আইপিএসের বৈদ্যুতিক লাইন বন্ধ করতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩০ দিন আগে
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় ২ জন নিহত
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় এক যুবক ও এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে লোহাগড়া উপজেলায় রহমত শেখ (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
আজ (সোমবার) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর-মল্লিকপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রহমত শেখ চর-মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, রহমত শেখের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। রবিবার রাতে তিনি খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। আজ সকালে তাকে ডাকাডাকি করলেও তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের দরজা ভেঙে জানালায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রহমতের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের কোনো এক সময় তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নড়াইলে কালিয়া পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ তানভীর (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়েছে।
আজ সকাল ৮টার দিকে কালিয়া পৌর এলাকার বেন্দা গ্রামে একটি চায়ের দোকানে চা বানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানভীর বেন্দা গ্রামের মো. আজগার শেখের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা গেছে, তানভীর তার বাবার চায়ের দোকানে বাবাকে সহায়তা করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক কেতলিতে চা বানাতে যায়। এ সময় কেতলিতে সমস্যা দেখা দিলে তানভীর নিজেই তা সারার চেষ্টা করে। এ সময় সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩৫ দিন আগে
তিন জেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৬ জন নিহত
গাইবান্ধা, নওগাঁ ও ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দাড়াপাড়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার।
নিহতরা হলেন: হরিরামপুর পাথারেপাড়া গ্রামের আইবুদ্দির ছেলে মওলা (৩৫) এবং দাড়াপাড়া গ্রামের বছির উদ্দীনের ছেলে আজিমুদ্দীন (৬০)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে দাড়াপাড়া এলাকায় একটি নারকেল গাছ কাটার সময় সেটি বিদ্যুতের সঞ্চালণ লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। পরে গাছটি সরানোর চেষ্টাকালে মওলা ও আজিমুদ্দীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই মওলা নিহত হন। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় আজিমুদ্দীনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এদিকে, আজ দুপুরে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কাতকইল গ্রামের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: কাতকইল (বিলপাড়া) গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে মাহাবুর হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ।
নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী বড় ভাই তোফায়েল আহমেদ জানান, সকালে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। এরপর পানি শুকিয়ে সকাল ১০টার দিকে মাছ ধরে তারা বাড়িতে ফেরেন। পরে দুপুর ১টার দিকে আবারও তারা বিলে মাছ ধরার জন্য যান। সেখানে তারা আগে থেকে বৈদ্যুতিক মোটর চালু করে রেখে এসেছিলেন। এরমধ্যে কোনো একসময় মোটরের তারে লিকেজ হয়ে বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী সময়ে পানিতে নামতেই প্রথমে মাহাবুর হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যান। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল আজিজও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আজ দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তাড়াইল এলাকার রতন মিয়ার ছেলে জিসান (১৮) এবং ত্রিশাল উপজেলার বিরামপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২২)।
ঘটনাস্থলে কর্মরত ঠিকাদার হাসান জানান, ‘একটি চারতলা ভবনের ছাদে রডের কাজ শেষ হওয়ার পর কিছু রড নিচে নামানোর প্রয়োজন হয়। শ্রমিকরা সিঁড়ি ব্যবহার না করে ছাদের পাশ দিয়ে রড নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় লম্বা একটি রড ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে চলে আসে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদে থাকা দুই শ্রমিক নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। মরদেহ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের কাছে জানতে পারি, ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তারা নিচে পড়ে যান।’
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
৪০ দিন আগে
শনিআখড়ায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত
রাজধানীর শনিআখড়া এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রেজাউল করিম (৬২) নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কদমতলী থানার শনিআখড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি কদমতলীর শনিআখড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত কাজিমুদ্দিন বিশ্বাস। তিনি পরিবার নিয়ে শনিআখড়ার নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আত্মীয় মো. বাকি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির নিচে জমে থাকা পানি দেখতে গিয়েছিলেন রেজাউল করিম। এ সময় তিনি নিজ বাড়ির নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটারে পানি পড়েছে কিনা পরীক্ষা করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৫৭ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বলদিপাড়া গ্রামের আবু সাইয়েদ (৬৮) ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে নিজেদের বাড়িতে আবু সাইয়েদ বৈদ্যুতিক বোর্ডের একটি সুইচে অসাবধানতাবশত হাত দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে দ্রুত এগিয়ে যান স্ত্রী রাবেয়া বেগম। কিন্তু কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সরাসরি স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। ফলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রথমে আবু সাইয়েদ ও এর কিছুক্ষণ পর রাবেয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের খবর দেয় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বলদিপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসচেতনতার কারণেই দুটি প্রাণ ঝরে গেল। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
৬২ দিন আগে
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ব্যক্তির
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় আলোকসজ্জার তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের মৃত সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নকুল মল্লিকের ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের বাড়িতে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছিল। রাত ৮টার দিকে বরযাত্রী এসে পৌঁছালে গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য যান নকুল মল্লিক। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
৮০ দিন আগে
মিরপুরে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষক ও ২ ছাত্র দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালমান (২৬), শিক্ষার্থী মো. মারুফ (১২) ও খাইরুল ইসলাম (১৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে মারুফ শরীরে ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সালমান শরীরে ২ শতাংশ দগ্ধ এবং খাইরুল ইসলাম শরীরে ৩ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাদের মধ্যে আমরা ২ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যক্ষেণে রেখেছি। মো. মারুফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত মারুফের বড় ভাই মান্নান জানান, সকালে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক দুই ছাত্র ও একজন শিক্ষককে সাইনবোর্ড টাঙানোর দায়িত্ব দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তারা তিনজনই দগ্ধ হন।
পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।
৮৬ দিন আগে