বিদ্যুৎস্পৃষ্ট
তিন জেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৬ জন নিহত
গাইবান্ধা, নওগাঁ ও ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দাড়াপাড়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার।
নিহতরা হলেন: হরিরামপুর পাথারেপাড়া গ্রামের আইবুদ্দির ছেলে মওলা (৩৫) এবং দাড়াপাড়া গ্রামের বছির উদ্দীনের ছেলে আজিমুদ্দীন (৬০)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে দাড়াপাড়া এলাকায় একটি নারকেল গাছ কাটার সময় সেটি বিদ্যুতের সঞ্চালণ লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। পরে গাছটি সরানোর চেষ্টাকালে মওলা ও আজিমুদ্দীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই মওলা নিহত হন। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় আজিমুদ্দীনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এদিকে, আজ দুপুরে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কাতকইল গ্রামের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: কাতকইল (বিলপাড়া) গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে মাহাবুর হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ।
নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী বড় ভাই তোফায়েল আহমেদ জানান, সকালে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। এরপর পানি শুকিয়ে সকাল ১০টার দিকে মাছ ধরে তারা বাড়িতে ফেরেন। পরে দুপুর ১টার দিকে আবারও তারা বিলে মাছ ধরার জন্য যান। সেখানে তারা আগে থেকে বৈদ্যুতিক মোটর চালু করে রেখে এসেছিলেন। এরমধ্যে কোনো একসময় মোটরের তারে লিকেজ হয়ে বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী সময়ে পানিতে নামতেই প্রথমে মাহাবুর হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যান। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল আজিজও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আজ দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তাড়াইল এলাকার রতন মিয়ার ছেলে জিসান (১৮) এবং ত্রিশাল উপজেলার বিরামপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২২)।
ঘটনাস্থলে কর্মরত ঠিকাদার হাসান জানান, ‘একটি চারতলা ভবনের ছাদে রডের কাজ শেষ হওয়ার পর কিছু রড নিচে নামানোর প্রয়োজন হয়। শ্রমিকরা সিঁড়ি ব্যবহার না করে ছাদের পাশ দিয়ে রড নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় লম্বা একটি রড ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে চলে আসে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদে থাকা দুই শ্রমিক নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। মরদেহ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের কাছে জানতে পারি, ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তারা নিচে পড়ে যান।’
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
১১ ঘণ্টা আগে
শনিআখড়ায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত
রাজধানীর শনিআখড়া এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রেজাউল করিম (৬২) নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কদমতলী থানার শনিআখড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি কদমতলীর শনিআখড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত কাজিমুদ্দিন বিশ্বাস। তিনি পরিবার নিয়ে শনিআখড়ার নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আত্মীয় মো. বাকি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির নিচে জমে থাকা পানি দেখতে গিয়েছিলেন রেজাউল করিম। এ সময় তিনি নিজ বাড়ির নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটারে পানি পড়েছে কিনা পরীক্ষা করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বলদিপাড়া গ্রামের আবু সাইয়েদ (৬৮) ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে নিজেদের বাড়িতে আবু সাইয়েদ বৈদ্যুতিক বোর্ডের একটি সুইচে অসাবধানতাবশত হাত দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে দ্রুত এগিয়ে যান স্ত্রী রাবেয়া বেগম। কিন্তু কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সরাসরি স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। ফলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রথমে আবু সাইয়েদ ও এর কিছুক্ষণ পর রাবেয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের খবর দেয় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বলদিপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসচেতনতার কারণেই দুটি প্রাণ ঝরে গেল। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
২১ দিন আগে
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ব্যক্তির
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় আলোকসজ্জার তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের মৃত সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নকুল মল্লিকের ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের বাড়িতে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছিল। রাত ৮টার দিকে বরযাত্রী এসে পৌঁছালে গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য যান নকুল মল্লিক। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
মিরপুরে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষক ও ২ ছাত্র দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালমান (২৬), শিক্ষার্থী মো. মারুফ (১২) ও খাইরুল ইসলাম (১৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে মারুফ শরীরে ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সালমান শরীরে ২ শতাংশ দগ্ধ এবং খাইরুল ইসলাম শরীরে ৩ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাদের মধ্যে আমরা ২ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যক্ষেণে রেখেছি। মো. মারুফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত মারুফের বড় ভাই মান্নান জানান, সকালে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক দুই ছাত্র ও একজন শিক্ষককে সাইনবোর্ড টাঙানোর দায়িত্ব দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তারা তিনজনই দগ্ধ হন।
পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।
৪৫ দিন আগে
বান্দরবান হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ নির্মাণ শ্রমিক নিহত
বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন—মো.সাকিব (২০) ও কামরুল হাসান (৩৫)। তারা ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন সাকিব ও কামরুল হাসান। কাজ করার একপর্যায়ে ভবনের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের তারের সঙ্গে একটি লোহার অ্যাঙ্গেলের সংস্পর্শ হলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং বিষয়টি পরিদর্শন করছি।
৪৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সকাল ও দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ফকিরটারী বাগডাঙ্গা গ্রামের শাহিনুর আলমের ছেলে মাহবুবুল হাসান মুহিত এবং বামনাঙ্গা ইউনিয়নের কুটি বামনডাঙ্গা এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে সাবু মিয়া।
নিহতদের স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহিত বাড়িতে আইপিএসে ব্যাটারির সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে বামনডাঙ্গা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। অনুষ্ঠানের সাউন্ড বক্সের সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে আহত হন সাবু মিয়া। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিনে পৃথক দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান বলেন, দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫৮ দিন আগে
ভাটারায় গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কর্মচারী নিহত
রাজধানীর ভাটারার বারিধারা এলাকায় একটি গাড়ির গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রিয়াজ (২৮) নামে এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গ্যারেজের মালিক জাকির হোসেন জানান, সকালে গ্যারেজ খোলার পর লাইট জ্বালাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে রিয়াজ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
৭০ দিন আগে
ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষক দম্পতির মৃত্যু
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন মজিবর খাঁ (৬০) ও মোমেনা খাতুন (৫৫) নামে এক দম্পতি।
সোমবার (১৮ মে) সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্না গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রতিবেশী খায়রুল ইসলাম জানান, ভোরে মজিবর খাঁ নিজ বাড়ির আঙিনায় বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু করে ধান ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফ্যানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরপরই তার পুরো শরীর বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং তিনি বৈদ্যুতিক তারে আটকে যান। চোখের সামনে স্বামীকে ছটফট করতে দেখে এক মুহূর্তও ভাবেননি স্ত্রী মোমেনা খাতুন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচানোর আকুলতা নিয়ে তিনি দ্রুত মজিবরকে টেনে ছাড়াতে যান। কিন্তু কোনো সেফটি বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই দম্পতি।
খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। ধানের ওপরেই পড়ে ছিল এই দম্পতির মরদেহ।
গ্রামীণ জনপদে ধান কাটার এই মৌসুমে যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে গাগান্না গ্রামে এখন শুধুই কান্নার রোল। প্রতিবেশীরা এই ভালোবাসার করুণ পরিণতি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক ফ্যানের ছেঁড়া তার থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।
৭২ দিন আগে
মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচ দিন লড়াই করে হার মানলেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ মনিরা
রাজবাড়ীতে ছুটি শেষে কার্যালয়ের পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া অফিস সহায়ক সেই মনিরা খাতুন (২৮) মারা গেছেন।
টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার (১৫ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মনিরা খাতুন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী এবং একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার স্বামী মেহেদী হাসানও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেহেদী হাসান জানান, মনিরা খাতুনের শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের সংসারে মাত্র ১০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মা ছাড়া এই শিশু নিয়ে তিনি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
জানা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন রাজবাড়ী শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর পশু হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় অবস্থিত। গত রবিবার (১০ মে) বিকেলে ছুটি শেষে কার্যালয়ে উত্তোলনকৃত জাতীয় পতাকা নামাতে যান মনিরা। কার্যালয়ে একপাশে স্থাপিত পাইপ থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে গেলে অসাবধানতাবশত পতাকাবাহী ইস্পাতের পাইপটি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের হাইভোল্টেজ তারের ওপর পড়ে। এই অবস্থায় পাইপটি বিদ্যুতায়িত হলে মনিরার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সে সময় অফিসে কেউ না থাকায় তাকে উদ্ধার করতে দেরি হয় এবং আগুন ছড়িয়ে শরীরে বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়। পথচারীরা টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মনিরাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মনিরা খাতুনের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাকে সদর হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিবারের লোকজন ফরিদপুর না নিয়ে ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
রাজবাড়ী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মনিরা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন জরুরি মিটিংয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত এসে তিনি শোনেন মনিরাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
গতকাল (শুক্রবার) রাতে গ্রামের বাড়িতে মনিরার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বামী মেহেদী হাসান। তার অকাল মৃত্যুতে কর্মস্থলসহ গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৭৪ দিন আগে