নিখোঁজ
নাইজেরিয়ায় স্কুলে জঙ্গি হামলা, ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ
নাইজেরিয়ায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্কুলে জঙ্গি হামলা ও অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার জিহাদি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক এসব জঙ্গি হামলা স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একাধিক স্কুলে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ৮০ জনের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ সময় আসকিরা উবা ও চিবক এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুল থেকে ৪২ শিশুকে অপহরণ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বোর্নো রাজ্যের সাম্বিসা বনাঞ্চল-সংলগ্ন মুসা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়ায় সাম্বিসা বন জঙ্গি অধ্যুসিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই বনে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপির শক্ত ঘাটি রয়েছে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী।
অ্যামনেস্টির নাইজেরিয়া শাখা জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এর আগে অপহরণের ঘটনা সচরাচর দেখা যায়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপহরণের আতঙ্কে অনেক শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক পরিবার হামলা থেকে বাঁচাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়েতে বাধ্য করছে তাদের পরিবার।
এদিকে, মুসা গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা পিটার ওয়াব্বা জানান, ওয়ো রাজ্যে অপহৃত শিশুদের সংখ্যা ৪৮ জন।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, তারা অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’
অপরদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ প্রায়ই জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা আর বাস্তবায়ন করে না। সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ মে) ওয়ো রাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র আয়ানলাদে ওলায়িঙ্কা জানান, ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুলে হামলার ঘটনায় তিনজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। হামলাটি করা হয়েছিল ওরিইরে এলাকায়। ওরিইরে লাগোস শহর থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওলায়িঙ্কা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
নাইজেরিয়ায়, বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্কুল থেকে শিশু অপহরণ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে গত বছরও স্কুলে দুটি বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ৩ শতাধিক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো স্কুলকে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, স্কুলে হামলা চালালে দ্রুত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাওয়া যায়।
১২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি বেঁচে নেই, জানালেন ভাই
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর বেঁচে নেই বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তবে নাহিদার মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত তার বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউএসএফ শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবেইহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হিলসবরো কাউন্টির প্রধান ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিলের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে প্রাথমিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, মৃত্যুর খবর না দেওয়া, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আজ (শনিবার) সকালে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাউরার বলেন, ‘আমরা নাহিদাকে খুঁজতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’ এ বিষয়ে তিনি জনসাধারণকে যেকোনো কার্যকর তথ্য শেয়ার করার আহ্বান জানান।
শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইন প্রয়োগকারী ডুবুরি দল ইতোমধ্যে সেতুর কাছাকাছি উপসাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে।
শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা যা আমাদের নাড়া দিয়েছে। জামিল লিমনের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমি জনসাধারণকে জানাতে চাই যে আমাদের গোয়েন্দারা এই বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য অক্লান্ত ও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
লিমনের এক আত্মীয় জানান, লিমন ও বৃষ্টি দুজনেরই বয়স ২৭। সম্প্রতি বিয়ের কথা ভাবছিলেন তারা। ১৬ এপ্রিল লিমনকে শেষবারের মত দেখা যায় তার অফ-ক্যাম্পাস অ্যাপার্টমেন্টে, যেখানে তিনি আবুঘারবেইহের সঙ্গে থাকতেন। একই দিনে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসবাসকারী বৃষ্টিকে এক ঘণ্টা পর একটি বিজ্ঞান ভবনে শেষবারের মতো দেখা যায়।
ইউএসএফ পুলিশ জানায়, দুজনের কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু শুক্রবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তদন্তকারীরা বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আবুঘারবেইহের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি জন্মসূত্রে একজন মার্কিন নাগরিক। তবে প্রাথমিক কিছু কথা বলার পর তিনি আর কথা বলতে চাচ্ছিলেন না। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারের পর আবুঘারবেইহ আবারও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মাউরার জানান, আবুগারবেইহে ছাড়া তদন্তে এই মুহূর্তে অন্য কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি নেই।
তিনি আরও জানান, লিমনের মৃত্যুর ধরন ও কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, এবং এর ফলাফল শনিবার সকালে পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আবুঘারবেইহ আগে ইউএসএফ-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালে পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন এবং ব্যবস্থাপনায় বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নাহিদা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
চাঁদপুরে নদীতে গোসলে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার
চাঁদপুর সদর উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শাহাদাত (৫) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাহমুদ (৭) নামের আরেক শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মমিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু শাহাদাত মমিনপুর গ্রামের মো. আলী হাওলাদারের ছেলে। নিখোঁজ মাহমুদ একই গ্রামের মো. মাইনুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে তারা কয়েকজন শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। কিছুক্ষণ পর শাহাদাত ও মাহমুদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর চাঁদপুর সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বিকেলে শাহাদাতকে উদ্ধার করে দ্রুত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, নিখোঁজ মাহমুদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল যৌথভাবে অভিযান চালায়। পরে সন্ধ্যার আগে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করে তারা।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (উত্তর) স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আগামীকালও এ উদ্ধার অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।
৪০ দিন আগে
নিখোঁজের ৪ দিন পর লোকটিকে পাওয়া গেল শিকলবন্দি অবস্থায়
চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর আলমডাঙ্গার এক ব্যক্তিকে দর্শনা থেকে হাত–পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. বিপুল (৪৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও আব্দুল সাত্তার মন্ডলের ছেলে।
তার পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর পোস্ট অফিস এলাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার হঠাৎপাড়া এলাকার পাকা রাস্তার পাশে হাত-পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে দূর থেকে দেখে তারা ভেবেছিলেন কোনো ভবঘুরে পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে হতবাক হয়ে যান তারা।
স্থানীয়রা বলেন, রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে একজন মানুষ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি হাত-পায়ে লোহার শিকল বাঁধা। তখনই আমরা পুলিশে খবর দেই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দর্শনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দর্শনা হঠাৎপাড়া এলাকা থেকে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানায় তার নিখোঁজ-সংক্রান্ত একটি জিডি ছিল। বিষয়টি জানার পর তাকে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ৪ দিন আগে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। আমরা দর্শনা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
৯৪ দিন আগে
খালে ভাসছিল নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় শিমুল (৪০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কালা গ্রামের একটি খালে স্থানীয়রা কচুরিপানার ভেতরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি দ্রুত জীবননগর থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিমুল মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১ সপ্তাহ পর খালে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, শিমুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালে ফেলে রাখা হয়েছে।
জীবননগর থানা পুলিশের ওসি সোলায়মান শেখ জানান, নিখোঁজ থাকার পর অর্ধগলিত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০৫ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় ৫ দিন পর ভেসে উঠল নিখোঁজ রেজাউলের মরদেহ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভেসে উঠেছে রেজাউল শিকদারের মরদেহ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌপুলিশ। আজ (সোমবার) সকালে নৌপুলিশ ও নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতের ভাই মোস্তফা শিকদার বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাদের বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর জানায় ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। প্রথম দেখেই মরদেহটি চিনে ফেলি। এরপর মরদেহের পরণে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমারা রেজাউলের মরদেহ শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, মরদেহ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওনা হয়েছি।
সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানান। খবর পেয়ে তাদের মরদেহটি আটকানোর কথা বলে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
এই নৌপুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটি গতকাল বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি।
তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল সেদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার সেদিন দাবি করেছিলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
আজ দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের ৫ দিন পর গতকাল (রবিবার) রাতে পদ্মায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে সেটিকে রেজাউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
১১০ দিন আগে
নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ঝালকাঠি পৌরসভার নতুন চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম নিলুফা বেগম (৬২)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে সুগন্ধা নদীর পাড়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাত ১০টার দিকে নিলুফা বেগম নতুন চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে। তার স্বর্ণের নাকফুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা, কারণ তার নাক রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।
ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান আছে বলে জানান তিনি।
১৩০ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ আরও ১৩০
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
১৮২ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচদিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার, আটক ১
কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচদিন পর পাটখেত থেকে রৌজা মনি (৬) নামের এক শিশুর বিকৃত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চর মারিয়া গ্রামের বৈরাগীডুবি বিলে তার বিকৃত লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশু রৌজামনি সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চর মারিয়া গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার বিকাল ৫টার দিকে রৌজা মনি বাড়ির সামনে খেলা করছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় রৌজা মনি। এরপরে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রৌজা মনির মামা দেওয়ান আলী কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন রাসেল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৩২২ দিন আগে
টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে ৮২, দশ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন শিবির ক্যাম্প মিস্টিক থেকে আরও ১০ কিশোরীসহ এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকারী দলের বরাতে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, কেরি কাউন্টিতে গুয়াদালুপে নদী দিয়ে নেমে আসা পানির দেয়াল যাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্যার কাউন্টির শেরিফ ল্যারি লাইথা বলেন, কেরি কাউন্টিতে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮টি শিশু রয়েছে।
শুক্রবারের (৪ জুলাই) আকস্মিক বন্যায় নিহত প্রতিটি মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত অনুসন্ধান চলবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। রবিবার (৬ জুলাই) টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা নতুন করে প্রাণঘাতী বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি ৪৫ মিনিটের মধ্যে ২৬ ফুট বেড়ে গিয়ে মৃত্যু ও বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তারা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বহু ঘরবাড়ি, গাড়ি ভেসে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউ) কেরি কাউন্টির বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, গুয়াদালুপে নদীর তীরে ক্যাম্প মিস্টিক নামের খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ৭৫০টির বেশি শিশু অবস্থান করছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের জানিয়েছে, বন্যার প্রবল ঢলে ভেসে যাওয়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৮৫০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৫টি শিশুর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
টেক্সাস রাজ্যের জরুরি বিভাগের প্রধান নিম কিড বলেন, ‘প্রতিটি নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের তৎপরতা চলছে।’
এদিকে, টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেন, ‘নিখোঁজদের কেউ কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। আমরা তাদের জীবিত উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছি।’
নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার, কয়েকশত উদ্ধারকারী দল ও দেশটির সেনাসদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারগুলো নিখোঁজ স্বজনদের ছবি দিয়ে সাহায্য চাচ্ছেন।
এদিকে, এত ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন আবহাওয়া বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থায় বাজেট ও কর্মী সংখ্যা ব্যাপক কমিয়েছে।
অনেকের অভিযোগ, এর কারণেই পূর্বাভাস ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে সঠিক সময়ে মানুষের কাছে সকর্তবার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে, স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করে জানান, তারা এমন ভয়াবহ বন্যার পূর্বাভাস পাননি।
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা অ্যাভেরি তোমাসকো দাবি করেন, ‘বিপর্যয়ের ১২ ঘণ্টা আগেই কেরি কাউন্টিতে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।’
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউ) বলছে, শুক্রবার রাতেই অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে, স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপের দিকে যাবে, সেটি অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি।
উদ্ধার অভিযান চলতে থাকলেও নিখোঁজ শিশুদের ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পরিবারগুলোর। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি। বন্যাদুর্গতদের পরিবারের প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও সমবেদনা রইল।’
টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের অর্থনীতিতে নদী পর্যটনের বড় ভূমিকা রয়েছে। শতবর্ষ পুরনো গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু ও পর্যটক বেড়াতে আসেন।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে অর্ধশত, ২৭ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
৩২৭ দিন আগে