নিখোঁজ
খালে ভাসছিল নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় শিমুল (৪০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কালা গ্রামের একটি খালে স্থানীয়রা কচুরিপানার ভেতরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি দ্রুত জীবননগর থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিমুল মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১ সপ্তাহ পর খালে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, শিমুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালে ফেলে রাখা হয়েছে।
জীবননগর থানা পুলিশের ওসি সোলায়মান শেখ জানান, নিখোঁজ থাকার পর অর্ধগলিত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় ৫ দিন পর ভেসে উঠল নিখোঁজ রেজাউলের মরদেহ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভেসে উঠেছে রেজাউল শিকদারের মরদেহ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌপুলিশ। আজ (সোমবার) সকালে নৌপুলিশ ও নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতের ভাই মোস্তফা শিকদার বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাদের বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর জানায় ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। প্রথম দেখেই মরদেহটি চিনে ফেলি। এরপর মরদেহের পরণে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমারা রেজাউলের মরদেহ শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, মরদেহ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওনা হয়েছি।
সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানান। খবর পেয়ে তাদের মরদেহটি আটকানোর কথা বলে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
এই নৌপুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটি গতকাল বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি।
তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল সেদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার সেদিন দাবি করেছিলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
আজ দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের ৫ দিন পর গতকাল (রবিবার) রাতে পদ্মায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে সেটিকে রেজাউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
৭ দিন আগে
নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ঝালকাঠি পৌরসভার নতুন চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম নিলুফা বেগম (৬২)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে সুগন্ধা নদীর পাড়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাত ১০টার দিকে নিলুফা বেগম নতুন চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে। তার স্বর্ণের নাকফুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা, কারণ তার নাক রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।
ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান আছে বলে জানান তিনি।
২৭ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ আরও ১৩০
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
৭৯ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচদিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার, আটক ১
কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচদিন পর পাটখেত থেকে রৌজা মনি (৬) নামের এক শিশুর বিকৃত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চর মারিয়া গ্রামের বৈরাগীডুবি বিলে তার বিকৃত লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশু রৌজামনি সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চর মারিয়া গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার বিকাল ৫টার দিকে রৌজা মনি বাড়ির সামনে খেলা করছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় রৌজা মনি। এরপরে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রৌজা মনির মামা দেওয়ান আলী কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন রাসেল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২২০ দিন আগে
টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে ৮২, দশ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন শিবির ক্যাম্প মিস্টিক থেকে আরও ১০ কিশোরীসহ এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকারী দলের বরাতে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, কেরি কাউন্টিতে গুয়াদালুপে নদী দিয়ে নেমে আসা পানির দেয়াল যাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্যার কাউন্টির শেরিফ ল্যারি লাইথা বলেন, কেরি কাউন্টিতে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮টি শিশু রয়েছে।
শুক্রবারের (৪ জুলাই) আকস্মিক বন্যায় নিহত প্রতিটি মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত অনুসন্ধান চলবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। রবিবার (৬ জুলাই) টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা নতুন করে প্রাণঘাতী বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি ৪৫ মিনিটের মধ্যে ২৬ ফুট বেড়ে গিয়ে মৃত্যু ও বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তারা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বহু ঘরবাড়ি, গাড়ি ভেসে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউ) কেরি কাউন্টির বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, গুয়াদালুপে নদীর তীরে ক্যাম্প মিস্টিক নামের খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ৭৫০টির বেশি শিশু অবস্থান করছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের জানিয়েছে, বন্যার প্রবল ঢলে ভেসে যাওয়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৮৫০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৫টি শিশুর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
টেক্সাস রাজ্যের জরুরি বিভাগের প্রধান নিম কিড বলেন, ‘প্রতিটি নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের তৎপরতা চলছে।’
এদিকে, টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেন, ‘নিখোঁজদের কেউ কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। আমরা তাদের জীবিত উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছি।’
নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার, কয়েকশত উদ্ধারকারী দল ও দেশটির সেনাসদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারগুলো নিখোঁজ স্বজনদের ছবি দিয়ে সাহায্য চাচ্ছেন।
এদিকে, এত ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন আবহাওয়া বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থায় বাজেট ও কর্মী সংখ্যা ব্যাপক কমিয়েছে।
অনেকের অভিযোগ, এর কারণেই পূর্বাভাস ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে সঠিক সময়ে মানুষের কাছে সকর্তবার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে, স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করে জানান, তারা এমন ভয়াবহ বন্যার পূর্বাভাস পাননি।
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা অ্যাভেরি তোমাসকো দাবি করেন, ‘বিপর্যয়ের ১২ ঘণ্টা আগেই কেরি কাউন্টিতে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।’
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউ) বলছে, শুক্রবার রাতেই অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে, স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপের দিকে যাবে, সেটি অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি।
উদ্ধার অভিযান চলতে থাকলেও নিখোঁজ শিশুদের ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পরিবারগুলোর। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি। বন্যাদুর্গতদের পরিবারের প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও সমবেদনা রইল।’
টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের অর্থনীতিতে নদী পর্যটনের বড় ভূমিকা রয়েছে। শতবর্ষ পুরনো গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু ও পর্যটক বেড়াতে আসেন।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে অর্ধশত, ২৭ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
২২৪ দিন আগে
হাতিয়ায় ৩৯ যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবি: নিহত ১, এখনো নিখোঁজ ৮
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে ঝড়ো হাওয়া ও ঢেউয়ের তোড়ে যাত্রীবাহী একটি ট্রলারডুবিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আটজন। আর ৩১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) বিকাল ৩টার দিকে মেঘনা নদীর করিম বাজার সংলগ্ন ডুবারচরের এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটি হাতিয়ার ভাসানচর থেকে ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে একই উপজেলার আলীবাজার ঘাটের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপারেশনস) মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, রাত ৯টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভাসানচর থানায় কর্মরত জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ (২৮) এখন ও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩১ জনকে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক মৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলে ও পুলিশের পাশাপাশি উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে কোস্টগার্ড।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও ট্রলারডুবিতে নিহত ১২, নিখোঁজ ৫ শতাধিক জেলে
ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কুতুব উদ্দিন বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে জানান, আনুমানিক ২টার দিকে হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর ঘাট থেকে ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার হাতিয়ার আলীবাজার ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করে। ট্রলারটি ছেড়ে আসার পরে প্রায় ৮ কিলোমিটার চলার পর করিমবাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর ডুবারচর এলে ঝড়ো হাওয়া এবং ঢেউ এর তোড়ে পড়ে অল্প সময় এর মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় যাত্রীরা প্রাণ রক্ষায় চিৎকার করতে থাকে এবং পানিতে লাফিয়ে পড়ে।
তিনি জানান, ট্রলারটিতে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন রোগীকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ পুলিশ সদস্য নিয়ে যাচ্ছিল এছাড়া ভাসানচরে কর্মরত উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কয়েকজন কর্মী এবং আনসার সদস্য ও স্থানীয় যাত্রী ছিল।
ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী হাতিয়ার জনতা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শহীদ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফাঁড়ি থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে স্থানীয় জেলেদের নিয়ে নিমজ্জিত ট্রলারের যাত্রীদের উদ্ধার কাজ শুরু করে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ১ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩
২৬০ দিন আগে
নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর যুবকের বস্তাবন্দি হাড়গোড় উদ্ধার
রাজশাহীর তানোরে নিখোঁজের ২০ দিন পর শিব নদ থেকে এক যুবকের বস্তাবন্দি হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ মে) উপজেলার হাবিবনগর এলাকায় কচুরিপানার ভেতর লাশের বস্তাটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে।
নিহতের নাম চিত্তরঞ্জন পাল (২৬)। তিনি হাবিবনগর পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে তারা লাশ শনাক্ত করেন। তার পরিবারের দাবি, একই গ্রামের কলেজছাত্রী কামনা পালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
চিত্তরঞ্জনের বাবা মনোরঞ্জন পাল বলেন, কামনার পরিবারের সদস্যরা এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি কামনা পাল একটি চিঠিতে চিত্তরঞ্জনকে আগেই হত্যার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের ৮ দিনের মাথায় স্বামীকে খুন, স্ত্রী আটক
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে এটি প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। লাশের হাড়গোড় সম্বলিত বস্তাটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
২৭৫ দিন আগে
নিখোঁজের ২ দিন পর ভুট্টাখেতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত লাশ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আদমকুড়ি মাঠের একটি ভুট্টাখেত থেকে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত শামসুল মণ্ডলের ছেলে।
আরও পড়ুন: ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে উঠল নিখোঁজ দুই ভাইয়ের লাশ
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে ভুট্টাখেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর দিলে আলমগীরের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
২৭৯ দিন আগে
দালালের খপ্পরে সৌদি গিয়ে নিখোঁজ দুই ভাই, মামলা
রাজবাড়ীর জালদিয়া গ্রামের দুই ভাই সোহেল মোল্লা ও ইকবল মোল্লা দালালের মাধ্যমে এক বছর আগে ১০ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি গিয়ে কাজ না পেয়ে উল্টো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিন মাস ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছে পরিবার। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
ভুক্তভোগীরা হলেন— উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের জালদিয়া গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে সোহেল মোল্লা ও মৃত ইয়াছিন মোল্লার ছেলে ইকবাল মোল্লা। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।
কামাল মোল্লা বলেন, ‘গ্রামের প্রতিবেশী মনিরদ্দিন মোল্লা ও তার শ্যালক মামুন মোল্লা ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথম দফায় গত বছরের ৫ মার্চ নগদ ছয় লাখ ও ২৬ মে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও চার লাখসহ মোট ১০ লাখ টাকা নিয়ে ছেলে সোহেল ও ভাতিজা ইকবলকে সৌদি আরব পাঠান। সেখানে কাজ না পেয়ে উল্টো তারা দালাল চক্রের নির্যাতনের শিকার হন।’
‘কাজ দেওয়ার আশ্বাসে চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি মনিরদ্দিন ও মামুন তাদের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টাকা নেন। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সোহেল ও ইকবলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিন মাস ধরে তাদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবার দুটির।’
এমতাবস্থায় ২৭ এপ্রিল রাজবাড়ীর মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দুই দালালের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন সোহেল মোল্লার স্ত্রী রিনা আক্তার।
রিনা আক্তার বলেন, ‘তিন মাস ধরে স্বামী ও দেবরের খোঁজ নেই। মনিরউদ্দিন ও মামুন আবার আমাদের কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করছেন। টাকা দিলে স্বামী ও দেবরকে এনে দেবেন। আমরা তাদের মোট ১২ লাখ টাকা দিয়েছি। নতুন করে ১০ লাখ টাকা কোথায় পাব।’
ইকবাল মোল্লার স্ত্রী সেলিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী ও ভাসুর বেঁচে আছে নাকি মারা গেছেন জানি না। তিন মাস ধরে যোগাযোগ নেই। আমার দুই মেয়ে ও ভাসুরের ছোট এক মেয়ে রয়েছে।’
‘বাচ্চারা সবসময় কান্নাকাটি করে, তাদের বাবাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমরা অনেক খুব কষ্টে দিন পার করছি। সরকারের কাছে দাবি, আমার স্বামী ও ভাসুরকে দেশে ফেরত এনে দিক।’
সোহেলের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমরা ছেলে দুটিকে ফেরত চাই। আর দালালদের কঠিন শাস্তি চাই। যাতে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে আমাদের মতো অন্য কোনো পরিবার সর্বশান্ত না হয়।’
আরও পড়ুন: বগুড়ায় অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
অভিযুক্ত মামুন মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোহেল ও ইকবলকে যে কোম্পানিতে কাজ দিয়েছিলাম তারা সেখানে কাজ না করে পাসপোর্ট ফেরত চায়। এজেন্সির মাধ্যমে কোম্পানির কাছ থেকে তাদের পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছি। এখন আর তাদের বিষয়ে আমার কোনো দায়ভার নেই।’
মামলার ব্যাপারে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আদালত এ সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কাগজ হাতে পায়নি। পাওয়া মাত্র অফিসার নিয়োগ দিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় তদন্ত করে প্রকৃত সত্যকে সামনে আনা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করে থাকি। তবে কর্মসংস্থানের জন্য যারা বিদেশে যাবেন, তাদের দালালদের মাধ্যমে না গিয়ে জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরো ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রচলিত নিয়ম মেনে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেব।’
২৮৮ দিন আগে