নিখোঁজ
সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবি, দুইজন নিখোঁজ
রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় একটি লঞ্চের ধাক্কায় কুমিল্লাগামী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
১০ দিন আগে
চীনে ভূমিধসে অন্তত ৮ জন নিহত, নিখোঁজ ৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ওই অঞ্চলে এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, তার মধ্যেই উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টির উপকণ্ঠে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি ধসে পড়ে। এতে ১০টির বেশি আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, খাড়া পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরেকটি ভবনের পাশে একটি গাড়ি অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছে। ধসে পড়া একটি পাথরের আকার ছিল বহুতল ভবনের চেয়েও বড়।
পেংশুই কাউন্টির পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পাথরের আয়তন প্রায় তিন হাজার ঘনমিটার।
১১ দিন আগে
মুক্তিপণ দাবির দুই দিন পর ফরিদপুরে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রোকমান খারডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটখেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইউসুফ ফকির (৪৫) ওই গ্রামের সেকেন ফকিরের ছেলে। দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ইউসুফ পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে ইউসুফ ফকির স্ত্রীকে জানান, তিনি মমিনখার হাট বাজারে গিয়ে একটি ডিসপেনসারিতে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন। এ কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। বাজারের কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে করে বাড়ির সামনে নামলেও এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতের শ্বশুর আজিজ খান বলেন, যে ইজিবাইকে তিনি বাজার থেকে ফিরেছিলেন, তার চালক জানিয়েছেন যে তিনি ইউসুফকে বাড়ির সামনেই নামিয়ে দেন। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা কেটে দেন। রাত ৯টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সাইফুল ফকির বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজিজ খান বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রথমে ইউসুফের মোবাইল নম্বর থেকেই তার মেয়ের ফোনে কল করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিলে ইউসুফকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে একটি আইপি নম্বর থেকে আরও দুইবার একই দাবি জানানো হয়। তারা ঠিকানা জানতে চাইলে ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, আজ সকাল ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি পাট কাটতে গিয়ে ইউসুফের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরের একটি পাটখেতে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার মুখ দিয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত ফেনা বের হচ্ছিল। মরদেহের পাশেই একটি কীটনাশকের বোতল পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নানান বিষয় মাথায় রেখে আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। যারা এ ঘটনার পেছনে আছে বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সেই বিষয়টি খুব দ্রুতই আপনাদের জানাতে পারব।’
১১ দিন আগে
শীতলক্ষ্যায় স্পিডবোট থেকে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নিখোঁজ
নারায়ণগঞ্জে নিজেদের পন্টুনের সামনের কচুরিপানা পরিষ্কার করার সময় স্পিডবোট থেকে পড়ে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের এক সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের ফায়ার ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।
নিখোঁজ সাদিক (২৬) নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারই ছিল তার কাজ।
গত মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের লেকে গোসলে নেমে নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কাজেও ছিলেন সাদিক। তার বাড়ি রাজবাড়ি জেলার গোয়ালনন্দ বাজারের কুমরাকান্দি গ্রামে। ঐ গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে সাদিক গত বছর সেরা ডুবুরি হিসেবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।
আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে কচুরিপানা জমে থাকে। এসব কচুরিপানা পরিষ্কারে কাজ করছিলেন নিখোঁজ সদস্যসহ তিনজন। স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
তার সঙ্গে থাকা অপর দুই সদস্যের বর্ণনা অনুযায়ী, সামনের দিকে থাকা সাদিক পড়ার সময় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে ধারণা করছি। কেননা, তিনি প্রশিক্ষিত ডুবুরি, কোনো আঘাত না পেলে তিনি এভাবে নিখোঁজ হতেন না। নিখোঁজ সহকর্মীকে খুঁজতে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীকে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
তবে বিকেল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাদিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে সাদিকের পরিবারের সদস্যরা শীতলক্ষ্যা নদীর ডালপট্টি ফায়ার ঘাটে এসেছেন।
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ কামাল। তাকে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
১৩ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির দুই দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলের অদূরে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে ১১ জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ৬ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) গভীর রাতে সাগর-বিধৌত উপজেলা রাঙ্গাবালীর মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— বায়েজিদ (৩০), ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজিব (২৫)।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন— পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খাঁ (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) ও গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি গত শনিবার রাতে ১১ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে রওনা হয়।
পরের দিন রবিবার গভীর রাতে সাগরে প্রবল স্রোত ও বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। এ সময় জেলেরা ট্রলারের বিভিন্ন অংশ ও একটি বয়া ধরে সাগরের বুকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন।
পরে রাত ৩টার দিকে একই এলাকার ইমাম সিকদারের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে মৌডুবী এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনা শুনেছি। ফিরে আসা জেলেদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি। বিষয়টি গলাচিপা থানার এখতিয়ারভুক্ত বলে জানান তিনি।
২২ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আলীনগর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই কিশোর হলেন— সদর উপজেলার সুন্দরপুর এলাকার আলমাসের ছেলে রাসেল (১৫) এবং একই এলাকার জেমের ছেলে রিফাত (১৬)। তারা দুজনই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে রাসেল ও রিফাত নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।
২৯ দিন আগে
কাতারের গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ইরানের হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলাকালে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) রাতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। এ বিস্ফোরণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার রপ্তানি টার্মিনাল পুনরায় চালুর কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।
বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বেশি হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে।
বারজান প্ল্যান্টের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় এই গ্যাস ব্যবহার করত।
প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের, তবে এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত মার্চে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণে তার আগেই সেখানে উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
৩৭ দিন আগে
মেঘনা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিক্ষার্থী নিখোঁজ, দুই দিনেও মেলেনি সন্ধান
ভোলার মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসা শিক্ষার্থী মো. হাসিবের দুই দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মাছঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
১১ বছর বয়সী হাসিব ওই এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. হাফিজুল্লাহর একমাত্র ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা আশপাশের ১০-১১ জন শিশুর সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায় হাসিব। এ সময় বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীর মাঝের একটি চরে সাঁতরে যাওয়ার পর তীরে ফেরার পথে তীব্র স্রোতে পড়ে নিখোঁজ হয় হাসিব। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড।
নিখোঁজ শিশুটির বাবা মো. হাফিজুল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে অন্য শিশুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সবাই তীরে ফিরলেও হাসিব আর ফিরতে পারেনি। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। একজন বাবা হিসেবে আমি আমার ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অন্তত আমার ছেলের মরদেহটি যেন খুঁজে দেয়।’
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে তাদের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসিবের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদরের ইলিশা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে নদীতে যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় হাসিবের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
৫৫ দিন আগে
বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ
বরিশাল, ২ জুন (ইউএনবি)— বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কালাবদর নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে মো. রানা (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। বাবা-মায়ের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিল ছেলেটি। সেখান থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুই দিন আগে রানার পরিবার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কামরুল মোল্লার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে আজ (মঙ্গলবার) সকালে তারা লঞ্চে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত রানা পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় মুহূর্তেই তিনি স্রোতের টানে তলিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা জাল ও নৌকা নিয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু দ্রুত স্রোতের কারণে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল বলেন, ‘নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় লঞ্চটির চলাচলের সময়সূচি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিক আব্দুস সালাম মোল্লার কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির এমএল লিমা এক্সপ্রেস ৪ লঞ্চটি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লেঙ্গুটিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ভোলাইবাড়ির সামনে লঞ্চের ছাদে অবস্থানরত এক যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে যাত্রী বহন করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
৫৭ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় স্কুলে জঙ্গি হামলা, ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ
নাইজেরিয়ায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্কুলে জঙ্গি হামলা ও অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার জিহাদি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক এসব জঙ্গি হামলা স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একাধিক স্কুলে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ৮০ জনের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ সময় আসকিরা উবা ও চিবক এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুল থেকে ৪২ শিশুকে অপহরণ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বোর্নো রাজ্যের সাম্বিসা বনাঞ্চল-সংলগ্ন মুসা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়ায় সাম্বিসা বন জঙ্গি অধ্যুসিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই বনে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপির শক্ত ঘাটি রয়েছে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী।
অ্যামনেস্টির নাইজেরিয়া শাখা জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এর আগে অপহরণের ঘটনা সচরাচর দেখা যায়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপহরণের আতঙ্কে অনেক শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক পরিবার হামলা থেকে বাঁচাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়েতে বাধ্য করছে তাদের পরিবার।
এদিকে, মুসা গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা পিটার ওয়াব্বা জানান, ওয়ো রাজ্যে অপহৃত শিশুদের সংখ্যা ৪৮ জন।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, তারা অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’
অপরদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ প্রায়ই জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা আর বাস্তবায়ন করে না। সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ মে) ওয়ো রাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র আয়ানলাদে ওলায়িঙ্কা জানান, ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুলে হামলার ঘটনায় তিনজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। হামলাটি করা হয়েছিল ওরিইরে এলাকায়। ওরিইরে লাগোস শহর থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওলায়িঙ্কা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
নাইজেরিয়ায়, বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্কুল থেকে শিশু অপহরণ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে গত বছরও স্কুলে দুটি বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ৩ শতাধিক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো স্কুলকে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, স্কুলে হামলা চালালে দ্রুত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাওয়া যায়।
৭২ দিন আগে