এসএসএফ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না—এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে (এসএসএফ) আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় ভরসা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপর। তাই একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নিরাপত্তা বেষ্টনী যেন সরকারপ্রধানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক আগে এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরাপত্তা পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে; আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি এসএসএফ কর্মীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনীর সাহস, দক্ষতা, কৌশল বা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রশাসন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় বিধিমালা অনুযায়ী এসএসএফ সরকারপ্রধানকে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং ট্রাফিক চলাচল আরও সুগম করতে তিনি তার মোটর শোভাযাত্রার (মোটরকেড) আকার ছোট করেছেন, যার ফলে এসএসএফ-কে জনবল বাড়ানোর চেয়ে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি প্রায়শই ঢাকা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিই। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ।’
তিনি বলেন, এসএসএফ-কে সরকারপ্রধানের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতি তারা কতটুকু কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে, তার মাধ্যমেই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।
তারেক রহমান এসএসএফ-এর জন্য একটি নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জেরও উদ্বোধন করেন এবং একটি প্রদর্শনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সুবিধা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে এবং সদস্যদের তাদের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এই হালনাগাদ করা নির্দেশিকাটি কেবল পরিচালনগত দিকনির্দেশনাই প্রদান করে না, বরং বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী আইনি কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ সদস্যদের নির্দেশিকায় উল্লিখিত নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং একইসঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে।
তিনি পেশাদারিত্ব, সততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান আরও গুরুত্ব সহকারে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি এসএসএফ বাহিনীকে আশ্বাস দেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এর পেশাদার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়।’
তারেক রহমান এই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং অতি সম্প্রতি যখন তিনি জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি এসএসএফ-কে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর, কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি আবারও এসএসএফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এসএসএফ-এর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা এবং বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
১৭ দিন আগে
এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক ও তার স্ত্রীর ফ্ল্যাট-জমিসহ ৩৪ ব্যাংক হিসাব জব্দ
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মো. মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের ৩৪টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ টাকা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরে থাকা দুটি ফ্ল্যাট, একটি প্লটসহ ৬৯ দশমিক ৭৯ শতক জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘মজিবুর রহমানের ২৪টি ও তার স্ত্রীর ১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দ ও ফ্ল্যাট, প্লট, জমি অবরুদ্ধের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’ জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— মুজিবুরের নিজ নামে থাকা মিরপুরের মাটিকাটায় ৪ হাজার ৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে থাকা একটি প্লটসহ চার দলিলের খিলক্ষেত, মিরপুর, সাভার ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জমি। এছাড়া স্ত্রীর নামে থাকা ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের সাহারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, ক্যান্টনমেন্টের বাউনিয়া এলাকায় ৭ দলিলের জমি।
দুদকের পক্ষে কমিশনের উপপরিচালক মো. সিরাজুল হক সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম শুনানি করেন।
আরও পড়ুন: গুমের তদন্তকারীদের হত্যার জন্য বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর
পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, মুজিবুর রহমান সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রাখার অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। তিনি পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে নিজ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার দখলে রাখা ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা এবং উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদ অন্যত্র বিক্রয়, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন। এ কারণে তার নিজ, স্ত্রী ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদজব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
তাদের স্থাবর সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ করা না গেলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
৪৫৫ দিন আগে
বাংলাদেশ বাইরের কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের কাছে বাংলাদেশ নতি স্বীকার করবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারো হস্তক্ষেপে নতি স্বীকার করব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’
রবিবার প্রধানমন্ত্রী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ দরবারে (সমাবেশ) ভাষণ দিচ্ছিলেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন জাতি। আমরা একটি যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ অর্জন করেছি।’
বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয়’- নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকার প্রয়োজনীয় সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ বারবার বাধা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সফলভাবে এগুলো (বাধা) কাটিয়ে উঠেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি এখনও অনেক বাধা ও ষড়যন্ত্র চলছে। কারণ একটি দেশ যখন দ্রুত এগিয়ে যায়, তখন অনেকেই তা সহ্য করতে পারে না। তাই, তারা বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা শুরু করে।’
বিশ্ব মঞ্চে একটি স্বাধীন ও বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দেশের সকল মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজর দিতে বলেন।
আরও পড়ুন: জেনেভা থেকে বিমান বাংলাদেশের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, যাতে এই প্রযুক্তিগুলো আমাদের দেশের মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, যদি তারা এগুলো ব্যবহার করে।’
প্রযুক্তি অনেক শঙ্কা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ধরন পাল্টে যাচ্ছে।'
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য এসএসএফ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সঠিক নেতৃত্ব, সঠিক নির্দেশিকা এবং পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এসএসএফ দিনে দিনে উন্নতি করতে থাকবে।’
এসএসএফ প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা ব্যক্ত করেন যে বাহিনীটি শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও পেশাদার মানের দিক থেকে একটি আদর্শ নিরাপত্তা বাহিনীতে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।
এসএসএফ এবং এর কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান কর্তৃক সংকলিত ও সম্পাদিত বঙ্গবন্ধুর ৭৫টি উদ্ধৃতির বাছাইকৃত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর উক্তি’- বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
১৯৮৬ সালের ১৫ জুন-এ রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী (পিএসএফ) গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নামে নামকরণ করা হয়।
বাহিনীটি মূলত রাষ্ট্রপতি যেখানেই থাকুক না কেন এবং রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান বা সরকার কর্তৃক ভিআইপি হিসাবে ঘোষিত যেকোনো ব্যক্তি সহ ভিআইপি উভয়কেই 'শারীরিক নিরাপত্তা' প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল।
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পরে থেকে এই বাহিসীর মূলকাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ভিআইপিদের সুরক্ষা দেওয়া।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
১১১৩ দিন আগে
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বানচালের ষড়যন্ত্র নস্যাতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বানচালের লক্ষ্যে এর বিরোধীরা কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এত বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে যে কাজটা আমরা সম্পন্ন করেছি, যারা এর বিরোধিতা করেছিল, তাদের কিন্তু একটা উদ্দেশ্য আছে। কিছু কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি, যেমন এমন একটা ঘটনা ঘটানো হবে যাতে ২৫ তারিখে আমরা উদ্বোধন অনুষ্ঠান যেন করতে না পারি।’
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বর্ষাকালে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার বন্ধু হিলারি ক্লিনটনের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, তখন তার সরকার ঘোষণা করে যে তারা নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করবে।
‘সে সময়, অনেকে ভেবেছিল যে আমরা এটি করতে পারবো না। কিন্তু আমরা এটা করেছি,’ বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি দেশের বৃহত্তম বহুমুখী সড়ক-রেল সেতু উদ্বোধনের আগে নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে সতর্ক থাকতে এবং দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু: উদ্বোধনকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন, লঞ্চ ও ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সীতাকুণ্ডে যে আগুন সেটা কিন্তু..একটা জায়গায় আগুন ধরে। কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরে কি করে? আর রেলের আগুনটা, এটা কিন্তু আমি একটা ভিডিও পেয়েছি. নিচের দিকে রেলের চাকার কাছ থেকে আগুন জ্বলছে। এটা কি করে হয়? সমস্ত জিনিস রহস্যজনক। কাজেই সবাইকে বলব, একটু সতর্ক থাকতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে।’
‘সুতরাং, আমি সবাইকে সতর্ক থাকতে, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে মনোযোগ দিতে এবং এগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলছি,’ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু মর্যাদার প্রতীক, এর ওপর অনেকটাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে: জয়
১৪৮১ দিন আগে
এসএসএফের সদরপ্তরে মুজিব কর্নার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশপ্রেমের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের ইতিহাস ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদরদপ্তরে মুজিব কর্নার উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস এখনও জানে না নতুন প্রজন্মের অনেকেই। কেননা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধীরা ২১ বছর তা মুছে ফেলার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুন: সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, কিন্তু সত্যকে মুছে ফেলা যায় না এবং আজ তা আবার প্রমাণিত হয়েছে. . .। সেই দিন আবার ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্নারে (মুজিব কর্নার) অনেক ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং তাই যারা দায়িত্ব পালনে আসবেন তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে কেউ ফাউল করতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী
১৫৬১ দিন আগে
আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারি, আল জাজিরা বিষয়ে বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ প্রতিবেদন সম্প্রচারের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
১৯৭৮ দিন আগে
মৃত্যুর ভয়ে অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে পরাজয় মেনে নেব না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বলেছেন, মৃত্যুর আশঙ্কায় করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে তিনি পরাজয় মেনে নেবেন না।
২২১১ দিন আগে
এসএসএফকে দুটি ‘গোল্ডউইং’ মোটরসাইকেল দিল হোন্ডা
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কাছে দুটি ‘জিএল১৮০০’ মডেলের মোটরসাইকেল হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড।
২৩৩০ দিন আগে