কমলা চাষ
চায়না কমলা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন চাঁপাইয়ের সায়েম আলী
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চায়না কমলা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন সায়েম আলী (৪১) নামের এক কৃষি উদ্যোক্তা। এখন তার বাগানে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কমলা। এই সাফল্যের খবরে অনেকেই দেখতে আসছেন তার কমলার বাগান।
কৃষি উদ্যোক্তা সায়েম আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তিনি আম চাষ করতেন, তবে লাভের মুখ তেমন দেখতেন না। একদিন বাজারে চায়না কমলা লেবু বিক্রি হতে দেখে এই কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০২২ সালে সদর উপজেলার বহরম এলাকায় ৩ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন চায়না কমলার বাগান। বাগান তৈরিতে তার খরচ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছর তার বাগানে ঝুলছে বিপুল পরিমাণ কমলা। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফল যেন তার পরিশ্রমের ফসল।
সায়েম আলী বলেন, ২০২৪ সালে প্রথম ফল আসে আমার বাগানে। সেই ফল বিক্রি করে খরচ তুলেও কিছু লাভবান হয়েছি। এবার তো গাছে গাছে অনেক কমলা ধরেছে। ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। সব খরচ বাদে আশা করছি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লাভ হবে।
কমলা বাগানের কৃষি শ্রমিক আনরুল ইসলাম বলেন, আমি এই বাগানের শুরু থেকেই পরিচর্যার কাজ করছি। এবার ফলন ভালো হয়েছে। এই কমলা খেতেও খুব সুস্বাদু। বাজারে চাহিদা ভালো আছে। এই ফল বিক্রির জন্য চিন্তা করতে হয় না। ব্যাপারিরা বাগানে এসে কমলা কিনে নিয়ে যায়।
২৮ দিন আগে
কমলা চাষে পরিশ্রম-খরচ দুটোই কম: নওগাঁর উদ্যোক্তা শফিকুল
নওগাঁর মহাদেবপুরে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম রানা নামে একজন যুব কৃষি উদ্যোক্তা।
পাঁচ বছর আগে মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নে ঈশ্বর লক্ষীপুর গ্রামে ১০ কাঠা জমিতে ৪৫টি কমলা গাছের চারা রোপণ করেন। বাংলাদেশের সাধারণত সবুজ রঙের কমলা চাষ হলেও রানার বাগানের কমলাগুলো কমলা রঙের।
রানা চুয়াডাঙ্গা থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। চারার মূল্য, পরিচর্যা, জমির তৈরি ইত্যাদি বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
এ উদ্যোক্তা জানান, গত বছর গাছগুলোতে প্রথমবার ফল ধরে। সেবার তেমন ভারো ফলন হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে গাছে গাছে পর্যাপ্ত ফল এসেছে। জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে গাছে মুকুল এসেছে। গড়ে চার মাস পর নভেম্বর মাসে কমলাগুলো পেড়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়।
রানা বলেন, বর্তমানে প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ২০ কেজি করে কমলা রয়েছে। সেই হিসেবে ৪৫টি গাছ থেকে এবছর কমপক্ষে ৯০০ কেজি কমলা পাওয়া যাবে।
এরই মধ্যে এই বাগানের কমলা স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব বাজারে তারা ২০০ টাকা কেজি দরে কমলাগুলো বিক্রি করছেন। স্থানীয় গ্রামীণ বাজার ছাড়াও ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকেও কমলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী বাগান মালিক।
কমলার বাগান পরিচর্যার কাজে সার্বক্ষণিক কাজ করেন রানার বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম।
তিনি জানান, কমলা চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। সামান্য কিছু জৈব সার এবং সামান্য সেচ দিতে হয়।
প্রতিবেশী ইউনুস ও ফরহাদ জানান, রানার বাগানের কমলাগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু। বিদেশি যেসব কমলা বাজারে পাওয়া যায়, রানার বাগানের কমলা সেগুলো থেকে স্বাদে কোনোভাবেই কম না। তারা নিয়মিত বাগানে আসেন এবং কমলার স্বাদ গ্রহণ করেন।
শফিকুল ইসলাম রানার এই কমলা চাষের সফলতা স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাকে আকৃষ্ট করেছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহাদেবপুরের মাটি বরেন্দ্র অঞ্চল ভুক্ত। এই জমিতে কমলা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কমলা চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। একবার গাছ লাগালে অনেকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এক্ষেত্রে সামান্য জৈব সার সেচ এবং নিড়ানি দিতে হয়। তারপরেও এটি লাভজনক। কমলা চাষে যদি কেউ এগিয়ে আসেন কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের পরামর্শ এবং সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
৪০২ দিন আগে