সিলেট
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
হঠাৎ করেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সিলেট। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এর মধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের মধ্যে দিনব্যাপী ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট জেলায় পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ।
যদিও পিডিবির এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মেলেনি। সেই হিসাবে লোডশেডিং হয়েছে কম হলেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু পিডিবির হিসাব বলছে ২৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের কথা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারা দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে আনা হয় পরিবর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে। এতকিছুর পরেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পরপর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন আশার বাণী শুনাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে গরমে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই আলোকে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে লোডশেডিং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
সিলেটের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছেনা উৎপাদন।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে রাত-দিন সমানতালে চলে লোডশেডিং।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলো পিডিবির অধীনে থাকায় অনেকটা রুটিন করে লোডশেডিং করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। গত রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের লোকজন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাকারিয়া তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে, এক ঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি বিপণি বিতানের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকালে খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারা দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
১ দিন আগে
ইলিয়াস আলীর জন্য সিলেট জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন ত্যাগী, সাহসী ও গণতন্ত্রকামী নেতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সবসময় জনগণের অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন ইলিয়াস। দেশের জন্য কথা না বললে হয়তো তিনি গুম হতেন না। তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দলের বহু নেতা-কর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে হয়তো আমরা ফিরে পাব না, কিন্তু তার পরিবারসহ পুরো সিলেটবাসী এখনও প্রতীক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন এবং জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম উদ্বোধনের লক্ষ্যে তারেক রহমান শিগগিরই সিলেট সফর করবেন।
সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এম ইলিয়াস আলী দলের ক্রান্তিলগ্নে সিলেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
‘১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গভীর বেদনা ও উদ্বেগের। আমরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাই।’
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া ছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের এক কলঙ্কজনক কালো অধ্যায়।’
দোয়া মাহফিলে ইলিয়াস আলীর প্রত্যাবর্তন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম-সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আনোয়ার হোসেন মানিক, কোহিনুর আহমদ, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আবুল কাশেম, শাকিল মোর্শেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম জয় এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
২ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হাম-রুবেলার সংক্রমণে উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটে। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটি মারা যায়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে হুজাইফা (১০ মাস) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদুন এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে। অপর শিশু মো. আব্দুল্লাহর (১০ মাস) গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পলভাগে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজাইফের মৃত্যু হয়। সে হৃদ্যন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল এবং হামের সন্দেহও ছিল। অন্যদিকে, একই দিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। তাকে গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শক, হৃদ্যন্ত্র বিকলতা, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া এবং হামজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শহিদ সামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, বাকিরা শিশু। এ নিয়ে হাসপাতালে ৬৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট-সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৮ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়াদের ছররা বন্দুকের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ভারতের প্রায় ১ কিলোমিটার ভেতরে একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালেহ আহমেদ কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার-সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালেহ আহমেদ ও তার আরও দুই সহযোগী মিলে মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে সালেহর সঙ্গে থাকা নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং কারবালার টুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ (২০) তার মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ওই তিনজনই এর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
৯ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে আটক ৯ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর বিএসএফের
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার দুপুরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
আটকরা হলেন— বাগেরহাট জেলার কালিকা বাড়ি গ্রামের হাসান গাজি ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন, ছোট বাদুরা গ্রামের শুকুর আলী, হাসিনা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলার ভেইয়ার কোন গ্রামের রোজিনা আক্তার, মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকুল গ্রামের পারুল রাজবংশী, সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ডিবির হাওর গ্রামের নাহিদ আহমেদ নাঈম, হেলাল আহমেদ ও শিশু আবীর গাজি (১৫ মাস)।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে বিএসএফের ৪ ব্যাটালিয়নের মুক্তারপুর ক্যাম্পের টহলদল। পরদিন ৫ এপ্রিল দুপুরে তামাবিল সীমান্তের ১২৭৫ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের মুক্তারপুর ক্যাম্প ও বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যদের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও এক শিশুকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
এ ঘটনায় তামাবিল বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা করেছেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন বলেন, ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ আটক ৯ জনকে বিএসএফ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে রবিবার বিকেলে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আজ (সোমবার) সকালে সিলেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে জনজীবন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। এই অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দ, পিচ-পাথর উঠে যাওয়া এবং ছোট-বড় গর্তে ভরা এসব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে যাতায়াতে সময়ও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা সড়কের কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যাতায়াতে সময় আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাগছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বিয়ানীবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, চারখাই থেকে বারইগ্রাম এবং শেওলা থেকে সূতারকান্দি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৯ কিলোমিটার সড়ক সওজের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার সংস্কারকাজে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, যেসব স্থানে পানি জমে বেশি ক্ষতি হয়, সেখানে কংক্রিট ব্যবহার করা হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। এছাড়া পাকা ও ইটের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগই জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন। গত এক বছরে সীমিত আয় ও বরাদ্দ দিয়ে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কাজ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পৌরবাসীর প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙা সড়ক। পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারে তাদের অধীনে ৩৪৭টি সড়ক রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৬২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৭২ কিলোমিটার মাটির, ১০৫ কিলোমিটার পাকা এবং ১৮২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, এখানকার ১৬৫টি সড়কের প্রায় ২০২ কিলোমিটার অংশ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন।
এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ছোট সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এসব কাজ মূলত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চাহিদার ভিত্তিতে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ভাঙা সড়কগুলোর সংস্কারকাজ ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। আশা করি, ভবিষ্যতে সড়ক নিয়ে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
১২ দিন আগে
সিলেটে চোরাচালানকারীদের ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা মনিজুল গ্রেপ্তার
সিলেটে চোরাচালানকারীদের ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে মহানগর যুবদল নেতা মনিজুল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনিজুল আহমদ সিলেট মহানগর যুবদলের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানায় চোরাচালান-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, শনিবার মধ্যরাতে আম্বরখানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। এ সময় পরোয়ানাভুক্ত আসামি মনিজুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ জুলাই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য নিয়ে একটি ট্রাক নগরীর চৌকিদেখি এলাকা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ট্রাকটি আটকাতে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় চোরাকারবারীরা পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে ট্রাক নিয়ে মজুমদারি এলাকার একটি গলিতে ঢুকে পড়ে। সেখানে তারা ট্রাকটি রেখে পালিয়ে যায়।
ওই সময় মনিজুল আহমদ তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। তারা জব্দ করা ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকটি পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত তারা ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যান।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে মনিজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহতের চার দিন পরও ফেরেনি যুবকের মরদেহ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতের রাজনটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দামসহ চারজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি আনতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় গুলিতে সাদ্দাম নিহত হওয়ার পাশাপাশি ফরহাদ মিয়া নামে আরেকজন আহত হন। পরে অন্য সঙ্গীরা ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। আহত ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আবু বক্কর (৩০) ও জফির মিয়া (২৮)।
নিহতের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার মরদেহ দেশে আনতে পারিনি।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগৎ জ্যোতি দাস বলেন, ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম বলেন, বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
১৪ দিন আগে
১৭ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত ও উদ্ধারকাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
নোয়াপাড়া স্টেশন মাস্টার মো. মনির হোসেন জানান, ‘বেলা সোয়া ৩টার দিকে মেরামত ও উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর থেকেই ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।’
গতকাল (বুধবার) রাতের এ দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়।
দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস মাধবপুর উপজেলার হরষপুর স্টেশনে অবস্থান নেয়। একই সময়ের কাছাকাছি সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে এবং সকাল সাড়ে ১০টার পাহাড়িকা এক্সপ্রেস শমসেরনগরে আটকা পড়ে বলে জানান শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন মাস্টার লিটন দাস।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মাধবপুর উপজেলার মনতলা স্টেশন পার হয়ে সাহাপুর এলাকায় সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হয়। প্রতিটি ওয়াগনে প্রায় ৪০ হাজার লিটার করে জ্বালানি তেল থাকায় মোট প্রায় ২ লাখ লিটার তেল পরিবহন করা হচ্ছিল বলে জানান ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান।
দুর্ঘটনার ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো ছেড়ে দেওয়া শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে