সিলেট
দেশে ফেরার পথে সৌদির সড়কে প্রাণ গেল সিলেটের ২ প্রবাসীর
সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফ শহরের আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়ির চালকসহ চারজনই প্রাণ হারান।
সিলেটের নিহত দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তাদের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে।
স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন নিয়ে তারা লাগেজ গুছিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের শেষযাত্রা।
এদিকে দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে তাদের নিজ এলাকায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কান্নায়। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাওয়ার পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান। এ ঘটনায় পরিবার দুটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে আবারও সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে উপজেলাজুড়ে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
৪ ঘণ্টা আগে
আগস্ট মাসে সিলেটের সড়কে ঝরেছে ৪৭ প্রাণ
সিলেট বিভাগে আগস্ট মাসে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১২২ জন। চলতি বছরে এক মাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ৫১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশে ১০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। কম দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায়।
প্রতিবেদনে আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে বেপরোয়া ওভারটেকিং করা, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চালানো, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও সড়কে নির্মাণ ত্রুটিকে উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আগস্ট মাসে সিলেট জেলায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন এবং হবিগঞ্জ জেলায় নয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।
নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলার সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচা সিলেটের শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে নিসচা বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন সিএনজি ও টমটম চালক ও আরোহী, ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন চালক এবং সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন পথচারী নিহত হয়েছেন।
এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে সাতটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে আঘাতে একটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আগস্ট মাসে নিহত ৪৭ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসে সিলেট বিভাগে ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫৭
সিলেটে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট সদর এবং অন্যজন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। দুজনেরই চিকিৎসা হয়েছিল সিলেট নগরের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৯ জন রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে হামের উপসর্গে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৯৬টি শিশু। এর মধ্যে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে বিপুলসংখ্যক মানুষের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশকালে নারী-শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি আটক
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ আট বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতুর কাছ থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মিলন খান (৩০) ও তার স্ত্রী শীমা খানম (২৩), যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাসুয়ালী গ্রামের আহাদ শেখ (৩১) ও তার স্ত্রী রেশমা পারভীন (৩৪), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পোড়লী গ্রামের রিনা খাতুন (৩৮), আমরিল ভাঙ্গা গ্রামের চুমকি খাতুন (৩০) ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ (১২) এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর কালনা গ্রামের মিনা খাতুন (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতু এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
৬ দিন আগে
সীমান্তে অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনীও উপভোগ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিজিবিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এতে করে সীমান্তে চারাচালানসহ সব অপরাধ কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের দুর্গম ও যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন, সেই এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট ভিশন ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর প্রান্তের গতিবিধি শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার মোকাবিলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
ড্রোন প্রযুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে দেশে ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা একসময় প্রতিরক্ষা শিল্পে রূপ নিতে পারে।
এছাড়া মব সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মবের অপসংস্কৃতি রোধে সরকার সজাগ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকাংশে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় নয়, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত আধুনিক ড্রোন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ধীরে ধীরে এখানে সংযোজন করা হবে এবং আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর।
৭ দিন আগে
রাজধানী থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সিলেট, বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন থানায় পল্লবের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে পল্লবের বিরুদ্ধে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশ আয়োজন এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
৯ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫১
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ছয়জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স পাঁচ মাস এবং অপরজনের বয়স ১১ মাস। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে নয় মাস বয়সী আরও এক শিশু।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৯ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নয়জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত ৩৫৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪০ জন এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে ১৪১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
১১ দিন আগে
সিলেটে ট্যাংক লরির চাপায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ নিহত ৪
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্যাংক লরি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ওসমানীনগর উপজেলার মোহাম্মদপুর দরকা গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে ও অটোরিকশাচালক লালন মিয়া (২৫), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরমসী গ্রামের নিয়ামত আলী (৩৫), তার স্ত্রী অযুফা বেগম (৩০) ও তাদের মেয়ে মারিয়া (৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া পদ্মা অয়েল কোম্পানির একটি তেলবাহী ট্যাংক লরি ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে চালক ও শিশুসহ সাতজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহত নিয়ামত আলীর মামা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমার ভাগনা মারা গেছে। ভাগনার বউ ও মেয়েসহ তিনজন মারা গেছে। একই পরিবারের পাঁচজন ওই গাড়িতে ছিল। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছে।’
তিনি জানান, নিহতদের মা-বাবা, ভাইসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি হতাহতদের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে প্রথমে একজন নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, গত ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একই মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
পরে ১৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ফাইজা আক্তার নামে এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সপ্তম রায় প্রীতমসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
১৭ দিন আগে
সিলেটে তিনজনকে গলাকেটে হত্যা: ৪ দিনের রিমান্ডে আটক বাবুল
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপলু চৌধুরী।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন।
তবে, পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার। তাদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেছেন তারা।
মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা বলেন, একজনের পক্ষে একসঙ্গে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তার অভিযোগ, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। গৃহকর্মী তাহমিনার পিতাও একই দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ঘটনার পর ১৩ আগস্ট সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করেছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে বেসিনে হাত ও ছুরি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করেছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাহমিনার খারাপ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। প্রথমে তাহমিনার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বাধা দিতে আসলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও শেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ওই বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিস বা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
২৩ দিন আগে
স্থায়ীভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে দুই বছর লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যাগুলো মিটিয়ে নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন, পাইপলাইন বসানোসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় দরকার।’
তিনি বলেন, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বড় জাহাজে করে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা এবং পরে ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের মাধ্যমে তা গ্যাসে রূপান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোনাসের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় এই মুহূর্তে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে কাজ করছেন।
শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিগুলো সাফার করছে (ভুগছে), বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে—এর প্রত্যেকটি কথাই সঠিক। এখানে কোনো ভুল নেই। তবে যে পরিস্থিতি আমরা পেয়েছি, সেটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি—এ বিষয়টিও সবাইকে বুঝতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুমভেদে বাড়ে-কমে। বর্তমানে গরমের সময় হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি। শীতকালে একই চাহিদা অনেকটাই কমে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সংকট আরও তীব্র হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের একটিতে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়নি এবং অন্যটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত পাঁচ থেকে দশ দিনে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে একটি ইউনিটে আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফল আপনারা এখন পাচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, আরও উন্নতি হবে।’
অন্য ইউনিটের একটি বয়লারও ঠিক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে। সেটিও ঠিক হয়ে গেলে দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া সম্ভব হবে। তখন প্রায় এক মাস আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া যাবে এবং শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চলমান সংকটও অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কূপ খনন হলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে। সেক্ষেত্রে দুই বছর সময় দরকার। বর্তমানে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের চেয়ে দ্বিগুণ। পাশাপাশি বছরের এই সময়ে চাহিদা অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় বেশি থাকে। সেজন্য সংকট দৃশ্যমান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
২৪ দিন আগে