জামিন
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন কারগারটির সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, এদিন সকালে বিদিশার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেলে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।
প্রতারণার এক মামলায় গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বিদিশাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন পান তিনি।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
২ ঘণ্টা আগে
আরও দুই মামলায় চিন্ময় দাসের হাইকোর্টে জামিন
ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা দুই মামলায় সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসোলিউট) ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৩ আগস্ট একই বেঞ্চ ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা দুই মামলায় চিন্ময় দাসকে জামিন দেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘রবিবার চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার দুইটা মামলায় জামিন হয়েছে। একটা হলো ভাঙচুরের মামলা, আরেকটা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলা।’
তিনি জানান, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ধামকেন্দ্রিক দুটি সিআর মামলায় তিনি আগে থেকেই জামিনে আছেন। সমসাময়িক সময়ে হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটিতে জামিন হয়েছে। চারটি মামলায় রুলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং একটি মামলা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন তৎকালীন নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।
ওই মামলায় পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে চিন্ময়ের জামিন আবেদন নাকচ হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
এ ছাড়াও হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২ দিন আগে
প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে হাইকোর্টের জামিন
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।
গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। সে সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
২ দিন আগে
ছাড়া পেলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদীসহ ৩ জন
হবিগঞ্জে প্রায় ২০ ঘণ্টা আটক থাকার পর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর দুজন হলেন মির্জা সুমন ও রাকিব। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয় পুলিশ।
এর আগে অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে তাদের আটক করে পুলিশ।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ‘সর্বস্তরের ছাত্র জনতার’ ব্যানারে তারা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। কিন্তু প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে তারা জড়ো হলে ঘটনাস্থল থেকে মাহদীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের নিরাপত্তাজনিত কারণে আটক করা হয়েছিল।
অপরদিকে, পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে মাহদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সাংবিধানিক অধিকার বলে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন করি। পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে আমাদের আটক করে। বাস্তবে আমাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের আটক করার কথা নয়। যাদের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, তাদের গেপ্তার করার কথা।
২১ দিন আগে
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা মামলায় তানজিন তিশার জামিন
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির হয়ে তিশা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, বাদীপক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার বলেন, গত ১২ জুলাই তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে সেদিন তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর একই আদালতে অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তানজিন তিশা বাংলাদেশের পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত। এর সুবাদে তিনি অ্যাপোনিয়ার অনলাইন পেজে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে একটি শাড়ি পছন্দ করেন, যার বাজারমূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। শাড়িটি তিশার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নানাপ্রকার ভয়েস ও ট্রেক্সট মেসেজ দিয়ে শাড়িটি পরে অ্যাপোনিয়ার পেজ প্রমোশনের জন্য নানাভাবে আশ্বস্ত করেন।
মামলায় আরও বলা হয়, তানজিন তিশাকে পেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে শাড়িটি পরে প্রমোশনের জন্য নানা উপায়ে অনুরোধ করেন। গত ১৮ জানুয়ারি তিনি শাড়িটি গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাড়িটি না পরে, পেজ প্রমোশন না করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত ৬ মাসের বেশি সময় কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথোপকথন থেকে বিরত রয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, তানজিন তিশা প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে আদালত অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
২৬ দিন আগে
বেনজীরের জামিন বাতিলের আবেদন করতে ল’ ফার্মকে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্যান্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেনজীরের ইস্যুতে আমি গতকালই কথা বলেছি, বিকেলের দিকে। আমি রাজশাহীতে ছিলাম, ওখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন। গতকাল আমি তার জামিনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আদালতে তাকে শর্তসাপেক্ষে বেইল (জামিন) দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি ইউএই ছাড়তে না পারেন, দেশ ত্যাগ করতে না পারেন এই শর্তে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর আমাদের নিয়োজিত যে ল’ ফার্ম আছে, তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। আর ইউএই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের সচিব মহোদয় কথা বলেছেন। কী কী শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে, ইউএই না ছাড়ার শর্ত তো একটি শুনেছি, অন্যান্য শর্ত কী আছে, সেটার সার্টিফায়েড (সত্যায়িত) কপি তোলার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আর আমাদের যে ল’ ফার্ম নিয়োজিত আছে, বেনজীরের প্রত্যাবাসনের জন্য যে কাগজপত্র আমরা পাঠাই, সেগুলো সেখানে আদালতে সাবমিট (জমা) করার জন্য সেই ল’ ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি, যেন তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করে, এ বিষয়ে তারা যেন আদালতের নির্দেশনা নেয়।’
সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তারপরও কেন জামিন দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের বিষয়ে, বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে আমি মন্তব্য দিতে চাই না। আমাদের ল’ ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি সার্টিফায়েড কপি তুলে কথা বলতে এবং আমরা এই দিকনির্দেশনা দিয়েছি যেন তার জামিন বাতিলের জন্য তারা আইনি আবেদন (পিটিশন) দেয়। কারণ তার কাছে অন্যান্য দেশেরও পাসপোর্ট থাকতে পারে, সেটা আমাদের সন্দেহ।’
এদিকে, রাজধানীর কমলাপুর ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা—এই দুটি আয়োজনকে নিরাপদ করার জন্য আমরা সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুব সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্টো রথযাত্রার দিন কমলাপুর, মতিঝিলের দিকে মেট্রোরেলের একটি পিলারের নিচে ছাতার মধ্যে বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। আমাদের আনসারের দুই সদস্য সেটি দেখে পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল কর্ডন করে (ঘিরে) রাখে, বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে সেটি সরায় এবং পরে তা বিস্ফোরণ করে।'
মন্ত্রী বলেন, ‘এতে খুব শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো পক্ষ হয়তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছিল। আমরা বিষয়টি সতর্কভাবে দেখছি এবং এর পেছনে কারা আছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত পরিচালনা করছি।’
আশুলিয়ার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আশুলিয়াতে আরেকটি বোমাসদৃশ জিনিস পাওয়া গিয়েছে, যা একজন দুষ্কৃতকারী একটি ব্যাগ রেখে গিয়েছে। পরে সেটি একই কায়দায় উদ্ধার করে আমরা বিস্ফোরণ করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কিনা, সেটিও আমরা তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগের সময়ের তুলনায় যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই, একই সময়ে এই বিষয়গুলো কী রকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটা কম। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি এবং আমাদের জাতীয় বিষয়গুলো যারা চিহ্নিত করে—উগ্রবাদী তৎপরতা বা এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে সমস্ত তৎপরতা—এগুলো যারা পর্যবেক্ষণ করে, আমাদের স্পেশাল টিম আছে, তারা এ ব্যাপারে সতর্ক আছে।’
৩৬ দিন আগে
বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে শুনেছি। এ বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। নিয়োগ করা ল’ ফার্ম এ বিষয়ে কাজ করছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
৩৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলার ১১ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আব্দুল মান্নানের আদালতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে শুনানি শেষ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা বন্ডে মেডিকেল প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলায় কোনো ঘটনার তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল হাই ও সি এস আই আবু তালেব বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য খণ্ডন করার মতো কোনো উপাদান মামলার এজাহারে নেই।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন জুয়েলসহ বিএনপিপন্থি অসংখ্য ব্যক্তি শুনানিতে অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও। এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। জেলা যুব শক্তির আহ্ববায়ক তন্ময় তাহের মামলাটি করেন।
৩৭ দিন আগে
দুই হত্যা ও এক হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ
দুই হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৯ জুন) মমতাজের করা আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী খায়রুন্নেসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার কোতোয়ালি থানার একটি হত্যা মামলা এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তিনি জামিন পেয়েছেন।
পৃথক তিনটি মামলায় এর আগে জারি করা রুল মঞ্জুর করে আদালত এ জামিনের আদেশ দেন।
আইনজীবী সাজু জানান, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার তিনটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
এর আগে আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে মমতাজকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন।
তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর চেম্বার আদালত আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। ফলে এসব মামলার কারণে সাবেক এই সংসদ সদস্য এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।
লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
৭১ দিন আগে
তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক এমপি মমতাজ বেগম
রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলাসহ তিন মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পৃথক আবেদন শুনানির পর সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।
এর আগে, এসব মামলায় মমতাজ বেগমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন মমতাজ বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এরপর গত বছরের ১৭ মে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
৮৫ দিন আগে