এনসিপি
নাহিদ ইসলামকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তার মধ্যে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র ও সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা—এ এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য কেবল নির্বাচনি পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে অম্লান। আপনার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল সেই আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। আপনার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান জাতির হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে কিছুদিন উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আমার জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে আপনার কর্মদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীরতা, নীতিগত দৃঢ়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে, নতুন ধারণা স্থান পায় এবং প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। আপনার দলের এই অল্প সময়ের সাফল্য প্রমাণ করে—বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষত তরুণ সমাজ, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত। এই আস্থা রক্ষা করা এখন আপনাদের বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই অর্জন আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। সংগ্রামের পথ থেকে রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ—এই রূপান্তর যেন আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
৭ দিন আগে
নির্বাচনে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ আখতার হোসেনের
নির্বাচনে নিজ আসনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুললেন রংপুর-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন। তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ভোটের ফল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যদি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মায়ের সঙ্গে রংপুরের ভায়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন আখতার হোসেন। সেই কেন্দ্রে তার মা ভোট দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আখতার হোসেন। তবে তার ভোট ঢাকায় থাকায় নিজ আসনে ভোট দিতে পারেননি তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। এ সময় তিনি প্রশাসনকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
জয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শাপলা কলির পক্ষে জোয়ার উঠেছে। রংপুর-৪ আসনের ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে শাপলা কলিকেই বেছে নিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, বিশাল ব্যবধানে জয়ী হব।’
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কপি প্রতীকে ১১ দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান, বাসদ-মার্কসবাদীর প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেস’র উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাহিদ হোসেন ও স্বতন্ত্র শাহ আলম বাশার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য রংপুর জেলার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্যাম্যমাণ দল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বডি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে ১১ দলীয় জোট: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি নীরব ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিলাম। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে আসুন। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দিন।
এ সময় তিনি সেনাবাহিনী, প্রশাসন, অন্য বাহিনী ও গণমাধ্যমের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্যই আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা মনে করছি, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, তবে আমরা বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসব।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, ‘দেশের মানুষ নির্বাচন সুষ্ঠু বললে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক তা মেনে নেব।’
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, গত রাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে ব্যালটে জনগণের আশা প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেব।
ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একাধিক প্রার্থী। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত হয়েছেন ড. এম এ কাইয়ুম এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের আরও প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
৯ দিন আগে
জীবনের প্রথম ভোট, প্রার্থীও হয়েছি: হাসনাত
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) সংসদীয় আসনে নিজ কেন্দ্রে গোপালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোট দেন তিনি।
ভোট দেওয়ার পর হাসনাত বলেন, ‘নতুন ভোটাররা উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে আসছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেমন থাকে, তা-ই দেখার বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘এটা আমার জীবনের প্রথম ভোট। আগে কখনও ভোট দিইনি। এবার প্রথম ভোট দিলাম এবং প্রথম প্রার্থীও হয়েছি।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে আহ্বান থাকবে, আপনারা সবাই সবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। সকল শ্রমজীবী-পেশাজীবী যারা ফ্যাসিবাদি শাসন থেকে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকে যে অধিকার আপনারা অর্জন করেছেন, সেই ভোটাধিকার আপনারা সবাই প্রয়োগ করুন।’
এ সময় দেবীদ্বারবাসীকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
৯ দিন আগে
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে নাহিদের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট করেছেন ঢাকা ১১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সমর্থিত প্রার্থী শামীম আহমেদ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এ রিট করা হয়। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নেন। রিটটি গতকাল (রবিবার) দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শামীম আহমেদের আইনজীবী মোহাম্মদ মজনু মোল্যা।
তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।
আইনজীবী মজনু মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি কমনওয়েলথ অব ডমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনি হলফনামায় তিনি তা গোপন করেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তাই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
গুলশান এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কোহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
১২ দিন আগে
এনসিপির আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আখতার।
জিডিতে আখতার উল্লেখ করেছেন, আমি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০২৬ উপলক্ষ্যে সংসদীয় আসন নম্বর ২২, রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) থেকে ১১ দল সমর্থিত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী। শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পীরগাছা থানাধীন ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে আমার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ফোন করে প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে কল কেটে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় ওই অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বরের ব্যক্তির দ্বারা আমার যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বিধায় বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা প্রয়োজন।
জিডিতে বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করতে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে এক ভিডিওবার্তায় হুমকির বিষয়টি জানিয়েছেন আখতার হোসেন। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভয় দেখিয়ে জয়যাত্রা থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
পীরগাছা থানার ওসি খন্দকার মহিবুল্লাহ বলেন, হুমকির ঘটনায় আখতারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৩ দিন আগে
কেউ ভোট চুরির চেষ্টা করলে পরিণতি হবে ফ্যাসিস্টদের মতো: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কেউ ভোট চুরি করার চেষ্টা কিংবা জালিয়াতি করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে ফ্যাসিস্টদের মতো। আসন্ন নির্বাচন হবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন, ঋন-খেলাপীদের বিরুদ্ধে জনগণের রায়ের নির্বাচন। মা-বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রায়ের নির্বাচন। দেশকে আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসীবাদী মুক্ত করার নির্বাচন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাভারের শাহীবাগে মাতৃবাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী দিলশানা পারুলের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ আমাদের মা-বোনদের ভয় পাচ্ছে। তাই তারা মা-বোনদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। তারা ভয় পেয়ে শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে হত্যা করেছে। যারা হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায় তাদের রাজনীতি রুখে দিতে হবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনও ধরতে পারেনি সরকার। বিচার দাবিতে তার পরিবার যমুনার সামনে অবস্থান করেছে। হত্যাকারীদের ধরতে না পারা অন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবীতে এখনও দেশবাসী ও তার পরিবার রাজপথে রয়েছে। হাদির নীতি, আদর্শ ও জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শে নির্বাচনে রায় আসবে।
তিনি বলেন, আমরা আজাদী ও আধিপাত্যবাদ বিষয়ে এক বিন্দুও ছাড় দেব না। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও আসবেন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। গোলামির বিরুদ্ধে রায় দিতে ভোট কেন্দ্রে যাবেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আপনারা দেশের মানুষ দাবি প্রতিষ্ঠায় জালেমের বিরুদ্ধে রায় দিবেন। বর্তমান সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। আসন্ন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আধিপত্য দূর করতে পারব। দিল্লীর তাবেদারি দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাইনা। একটি দলের নেতা বিদেশ থেকে এসে বলেছেন, আমার একটি প্লান আছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। সম্প্রীতির রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। তাই বলেছিলাম শেয়ার করেন। কিন্তু এখন দেখছি তিনি দেশের কোথায় চিনি কল আছে, কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয় তা কিছুই তিনি জানেন না। তিনি দেশ ও জনগণ সম্পর্কে জানেন না। তিনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। এমন কোনো প্লান আমরা কাউকে বাস্তবায়ন করতে দেব না যাতে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে; দুর্নীতির রাজনীতি আবার ফিরে আসবে। দেশ পিছিয়ে যাবে এমন প্লান বাস্তবায়ন হতে দেব না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের রাজনীতিতে ফেরত না আসে। এ দেশের মানুষ আর কোনো বেইমান-প্রতারকের হাতে ক্ষমতা দিতে চায় না। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দক্ষ লোকের অভাব হবে না। দেশের ও বিদেশের অভিজ্ঞ লোকদের সংযুক্ত করা হবে।
সাভার উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেত্রী দিলশানা পারুল, জায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম, সাভার জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারী হাসান মাহবুব মাস্টারসহ স্থানীয় নেতারা।
১৫ দিন আগে
নাটোরে এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর, ২ কর্মী আহত
নাটোরের সিংড়ায় এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর ও ২ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে এনসিপি প্রার্থী জার্জিস কাদিরের নির্বাচনি ক্যাম্পে খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলির মেম্বারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরাও জলির মেম্বারের সঙ্গে যোগ দিয়ে এনসিপির কর্মীদের পিটিয়ে তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙচুর করে।
এনসিপি কর্মী আশিক রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, এনসিপি কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহাদ ও সুলতান নামে আহত ২ এনসিপি কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তদন্তের পর সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা যাবে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
১৯ দিন আগে
রাজশাহীতে জাপা প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা এনসিপি নেতার
রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আফজাল হোসেনের অংশগ্রহণের সময় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
প্রতীক বরাদ্দের সময় আফজাল হোসেনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাতে উঁচু করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু।
এ সময় মাইক নিয়ে নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ কীভাবে খুনি ও দোষীদের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা ডিসি অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেব। জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতীক বরাদ্দ দিলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ করব।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার তার অভিযোগ গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে, আইন মেনে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতীক গ্রহণ করেন। এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সভাকক্ষে কিছু সময়ের জন্য হৈচৈ সৃষ্টি হয়।
পরে নাহিদুল ইসলাম সাজু সাংবাদিকদের জানান, তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা প্রতিহত করার কর্মসূচি নেবেন।
৩১ দিন আগে
ছাত্রদলে যোগ দিলেন এনসিপির শতাধিক নেতা-কর্মী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।
এর আগে, আব্দুর রহমান বাবু ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে তার অনুসারীদের জড়ো করেন। এরপর সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাপ রসুল মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
সদ্য ছাত্রদলে যোগ দেওয়া আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। গত ১৬ মাস ধরে ফুলগাজী উপজেলায় ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে এনসিপি আমাকে ফেনী জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তারা আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছিল যে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কাজ করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তারা সেই কমিটমেন্ট রাখতে পারেনি। কিন্তু যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করি। বিএনপির রাজনীতি আমার কাছে ভালো লাগে। তাই আমি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু জানান, বাবু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। আমি তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানাই। বাবু মনে করেছেন, তিনি যাদের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই তিনি প্রথমে পদত্যাগ করেছেন, এরপর শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
৩৮ দিন আগে