এনসিপি
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলার ১১ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আব্দুল মান্নানের আদালতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে শুনানি শেষ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা বন্ডে মেডিকেল প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলায় কোনো ঘটনার তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল হাই ও সি এস আই আবু তালেব বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য খণ্ডন করার মতো কোনো উপাদান মামলার এজাহারে নেই।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন জুয়েলসহ বিএনপিপন্থি অসংখ্য ব্যক্তি শুনানিতে অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও। এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। জেলা যুব শক্তির আহ্ববায়ক তন্ময় তাহের মামলাটি করেন।
১ দিন আগে
শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখলেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে পা রাখা মাত্রই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওইখানে বসে বসে রাজনীতি করে ধমক দেয়— আমি কিন্তু আসব। আসেন না, কই আসবেন?’
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কোম্পানীগঞ্জে এলে জনগণ কী করবে?’ এ সময় জনতার সমর্থন পেয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি ইঞ্চি মাটিতে শেখ হাসিনা যখনই নামবে, তখনই ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।’
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আন্দোলনে গুলিতে আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধসহ ৪০০ জনের মৃত্যুর জন্য তৎকালীন সরকার দায়ী। দুই বছরের মাথায় অনেকেই আবু সাঈদকে ভুলে যেতে পারেন। আবু সাঈদের সেই রক্ত ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু আমরা যতদিন বাংলাদেশে জীবিত আছি ততদিন ভুলব না।’
সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে বিএনপির পতন ঘটবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট বিদ্যমান। একইসঙ্গে কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশামতো চালু না হওয়া এবং চীন সফর থেকে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না আসাও সরকারের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দলের তিনটি প্রধান দাবি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিলে বিএনপি জনসমর্থন হারাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, সারাদেশে দখলবাজি, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি করছে বিএনপির কিছু লোক। এসব অপকর্মের সঙ্গে বিএনপির ৫ শতাংশ লোক জড়িত থাকলেও দায় নিতে হচ্ছে সবার। বিএনপির হাইকমান্ড কেন এই দুষ্টু লোকদের থামাতে পারছে না? তার মানে কি এই দুষ্টু লোকদের অপকর্মের উপার্জন হাইকমান্ড পর্যন্ত পৌঁছায়? যদি তা না হয়, তাহলে এদের অপকর্ম বন্ধ করুন।
৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ছাত্রদলের
হবিগঞ্জে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রোকন।
এর আগে, গত বুধবার জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেকের দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মমলার এজাহারে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা সদরে এক সমাবেশ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন সারজিস আলম ও মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় হামলায় এনসিপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা সদরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনসিপি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে ফিরে যান।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৩ দিন আগে
বাধা পেয়ে কানাইঘাটে না গিয়ে সার্কিট হাউজে উঠেছেন এনসিপির নেতারা
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এনসিপির গাড়িবহরে একাধিক জায়গায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর কানাইঘাট উপজেলার পদযাত্রা কর্মসূচিতে না গিয়ে সরাসরি সিলেট সার্কিট হাউজে চলে গিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তারা সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছান।
তবে কানাইঘাট উপজেলায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে তারা যাবেন কি না, সে ব্যাপারে এনসিপির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, কানাইঘাট উপজেলায় বিকেল ৩টা থেকেই পদযাত্রা কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান এনসিপির কানাইঘাট উপজেলার দায়িত্বশীল বোরহান উদ্দিন ইউসুফ।
তিনি বলেন, গোলাপগঞ্জে হামলা হয়েছে শুনেছি। আমাদের অনুষ্ঠান এখনও স্থগিত করা হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন কি না, এ ব্যাপারেও জানানো হয়নি। আমরা জানি, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন।
এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করলেই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয়রা। একইভাবে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময়ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা গেইটস্থ নূর ম্যানশনের সামনে এনসিপির গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর আবার এনসিপির গাড়িবহর হেতিমগঞ্জের পাঁচ মাইল এলাকায় পৌঁছালে সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে এ সময় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এনসিপির দাবি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
তবে যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন তাদের মধ্য থেকে কাউকে কোনো দলের স্লোগান দিতে শোনা যায়নি।
৪ দিন আগে
এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে: রাশেদ খান
এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে ও মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জামায়াতকে একটি ‘চালাক ও ধুরন্ধর দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এনসিপিকে গঠনমূলক রাজনীতি করার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়ে গেছে এবং তা দিল্লিতে দাফন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি না যে, আওয়ামী লীগ আর কখনও দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে।
এ সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমপি ও মন্ত্রীদের গালিগালাজ করছেন। রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, এনসিপির নেতারা যদি রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে তার ‘উত্তম জবাব’ এবং জামায়াত-এনসিপির সব ষড়যন্ত্রের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দেশটা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে গড়ার কথা বলছেন।
এর আগে, রাশেদ খান জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুধীজনরা। সভায় রাশেদ খান জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।
৪ দিন আগে
সিলেটে দুই দফায় সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জে এবং পরে ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচ মাইল বাজারে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা ‘বিএনপির সন্ত্রাসী’ বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ফটকের নূর ম্যানশনের সামনে পৌঁছালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
সে সময় এনসিপির গাড়িবহর ঘিরে একদল যুবক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দিয়েছেন। তারাও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সারজিস আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তারা গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এর ১৫ মিনিট পরে গাড়িবহরটি পাঁচ মাইল বাজারে পৌঁছালে সেখানে আরেকদফা হামলার কবলে পড়ে। এ বিষয়ে পরে আরেকটি স্ট্যাটাসে সারজিস লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আলম। তিনি জানান, নির্ধারিত এক বাসায় দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে হামলার মুখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতনিবিনিময় করতে গতকাল (বুধবার) দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তার আগেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এরপর এনসিপি নেতারা গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে শহিদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভা অডিটরিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সারজিস আলমদের গাড়ি ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় গাড়ির দিকে কয়েকজন তেড়ে গিয়ে একটি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করে।
তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী। তিনি বলেন, এনসিপি নেতারা নিরাপদে গোলাপগঞ্জ ছেড়ে গেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। এর প্রতিবাদে গতকাল (বুধবার) হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জে একই স্থানে এনসিপি ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করে এনসিপি। অপরদিকে, জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশাসন আজ বুধবার সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেয়।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, এমপি আখতার হোসেন, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ও এমপি ড. আতিক মোজাহিদ হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন। এ ঘটনার পর জেলার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীপূর্বঘোষিত জুলাই গণজাগরণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিকেলে শহরের টাউন হলের সামনে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদের সামনে তারা হামলার শিকার হন। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জন্য সারজিস আলম ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের একজন সহকর্মীর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অপর একজনের মুখ গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীহবিগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্কিট হাউসের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, উশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘এনসিপি নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের সামান্য ঠেলাধাক্কা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, বাহুবল উপজেলার সংগঠক নবীর হোসেন হৃদয়সহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা আমার ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
৫ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে লালকার্ড দেখানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত জুলাই জাগরণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করেছে এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কার্যকর অবস্থান নেয়নি।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বিএনপি শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এ কারণে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণকে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক, হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল আহমেদ প্রমূখ।
৬ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারলে দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলুন: সরকারকে নাহিদ
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপির নাম থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর বিভাগীয় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের প্রতি আমাদের আহ্বান, যদি দেশ পরিচালনা সঠিকভাবে করতে হয়, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সীমান্তে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারেন, তাহলে নিজেদের দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলে দেন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা করবেন, নিজেদের দেশপ্রেমিক দেখাবেন, অথচ সীমান্ত হত্যা, পুশইন রোধ করতে পারবেন না, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেন্ট দেবে না।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, চীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শূন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোনো কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন নিয়ে কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাবে না। অলরেডি আইএমএফ তাদের (সরকারকে) বলে দিয়েছে যে আর কোনো ঋণ দেবে না। পৃথিবীর কোনো দেশই তাদের সহযোগিতা করবে না। গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করলে কেউই সহযোগিতা করবে না।
তিনি আরও বলেন, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল; গণঅভ্যুত্থানের সিপাহ সালার ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, নির্বাচনের পরে বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কী হয়েছিল? বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, এখন সেই গণভোটের সঙ্গেই তারা প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
নাহিদ আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারও বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বাজেটে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা রাখা হয়নি। ব্যাংকগুলো কীভাবে ঠিক হবে, দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা কীভাবে ফেরত আসবে—কোনো ধরনের সুপরিকল্পনা এই সরকারের নেই। ফলে আমরা বলব, আপনি (তারেক রহমান) এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। দেশ চালাতে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছে। আমরা ফাঁসির দঁড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন, ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলতেই হবে। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর বাংলাদেশে কখনও ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল, ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল; কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার এত অসম্মানজনকভাবে, কাপুরুষোচিত ভাবে এই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে যে তিনি আর এই দেশে আসার সৎসাহস কখনও রাখবেন না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। এই সরকার থেকে দিল্লিকে মেসেজ (বার্তা) দিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেইসব তথ্য প্রচার করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।
এ সময় সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি বাস্তবায়নে অচিরেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক আসবে বলে জানান তিনি। সেই আন্দোলনে সফল হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, বক্তব্যের শুরুতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এবারের নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের প্রথম বাজেটে রংপুর বিভাগের প্রতি সুদৃষ্টি, সুনজর দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, এবারের বাজেটেও রংপুর বিভাগের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ আসন বিরোধী দলের হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়নি। বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। কিন্তু যারা প্রকৃত বৈষম্যের শিকার, সেই রংপুরবাসী কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পান, বিরোধী দলের এমপিরা সেই বরাদ্দের তিনভাগের একভাগও পাচ্ছেন না।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
২৩ দিন আগে
সাভারে এনসিপির জনসভায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন
সাভারে এনসিপির জনসভায় হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, সাভারে এনসিপির জনসভায় ন্যাক্কারজনক হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশের রাজনীতির জন্য একটি কালো অধ্যায়। তার ভাষায়, এ ধরনের সহিংসতা রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আর রাজনীতি ধ্বংস হলে দেশ ও জাতি চরম সংকটের মুখে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বকেও বিপন্ন করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না। যারা ফ্যাসিস্ট, যারা খুনি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিক্রি করেও ক্ষমতায় থেকেছে এবং যারা জনগণের সমর্থনের পরিবর্তে বিদেশি প্রভুদের দয়ায় রাজনীতি করেছে, আমি মনে করি এই ঘটনায় কেবল তারাই লাভবান হবে।’
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ওই অপশক্তির থেকে যাওয়া উচ্ছিষ্ট অংশ এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের দ্রুত নিষ্ক্রিয় (নিউট্রালাইজ) করা বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে জরুরি। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তির দাবি জানান।
২৭ দিন আগে