সাভার
আশুলিয়ার অগ্নিকাণ্ড তদন্তে কমিটি গঠন
সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় আগুনে আটজন নিহতের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এ কমিটি গঠন করে।
এর আগে গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি কম্পোজিট কারখানার সামনে অগ্নিকাণ্ড হয়। এতে আটজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন।
একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় চারটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, রবিবার রাতেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পড়লে পাশের একটি টেইলারিং দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।
পরদিন সোমবার নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে আহত ৩৫ জনের মধ্যে ২৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে এবং আরও পাঁচজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৩ দিন আগে
আশুলিয়ার পোশাক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৮
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জিরোবো ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন।
নিহত ব্যক্তি একজন সবজি বিক্রেতা, তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের ‘এফ অ্যান্ড এফ’ কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার খালাস করার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পার্শ্ববর্তী একটি পোশাক কারখানার লাইনম্যান ও প্রত্যক্ষদর্শী লিটন মিয়া জানান, বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরপরই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন জানান, আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় মারাত্মক যানজট ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৪ দিন আগে
এসআই আলতাফ পিটিয়ে হত্যা মামলার আরও ৮ আসামি গ্রেপ্তার
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তাদের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজনকে এবং র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
র্যাব জানায়, গ্যারেজে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আলতাফ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরকারীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
জীবন বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা এবং মাদক সরবরাহকারী। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
তিনি জানান, হামলার সময় আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফের মাথায় আঘাত করে। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল।
তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
১৮ দিন আগে
কলকাতায় নিহতদের একজন সাভারের বাবু, বাড়িতে চলছে শোকের মাতম
গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ৯ জন নিহতের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। সেই ৫ জনের একজন ঢাকা শহরের সাভারের আহম্মেদ বাবু।
ঢাকা শহরের উত্তর প্রবেশদ্বার সাভারের আমিন বাজার। আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড-সংলগ্ন বেগুনবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন আহম্মেদ বাবু (৩৮)। তিনি ছিলেন একজন প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তানের বাবা আহম্মেদ বাবু গত রবিবার বেড়াতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। আগামী শুক্রবার রাতেই তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। যাওয়ার সময় বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারকে বলে গিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ দিন তিনি কলকাতায় বেড়াবেন। কলকাতায় যাওয়ার সময় মাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চেয়েছেন যেন সুন্দরভাবে তিনি ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু এ যে তার শেষ যাত্রা ছিল তা কেউই জানতেন না। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ আহম্মেদ বাবুর সঙ্গে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের। এ সময় তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন এবং স্ত্রী সন্তান ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য কী কী আনবেন, সেসব নিয়ে তিনি ফোনকলে গল্প করেছেন।
আজ (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে খবর আসে আহম্মেদ বাবু কলকাতায় হোটেলে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ খবর শোনার পর থেকে তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
তার মা সাবেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলের মরদেহটি যেন সরকার দেশে এনে দেয়। ছেলের কথা বলতে বলতে কান্নায় তার গলার স্বর ভেঙে গেছে।
প্রতিবেশীরা এ সময় বাবুর স্ত্রী বুবলী ও সন্তানদের শান্তনা দিচ্ছিলেন। তারা জানান, আহম্মেদ বাবুর স্ত্রী বুবলী স্বামীর এমন মৃত্যু খবরে কাঁদতে কাঁদতে বেশ কয়েকবার মুর্ছা গেছেন। ৫ বছরের ছেলে সোয়াদ যেন কিছুই জানে না। সে বাসার বিভিন্ন কক্ষে ছুটাছুটি করছিল।
বড় ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, বাবু ছিলেন পরিবারের সবার ছোট। অনেক আদরের ছিলেন। ফুটবল খেলা খুব পছন্দ করতেন। ছিলেন আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক। তাদের বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন, কিন্তু ভাইয়ের সব আবদার তারা পূরণ করেছেন। এমন অসময়ে তিনি চলে যাবেন, তা ছিল কল্পনার বাহিরে।
গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহম্মেদ বাবুসহ ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন-সংলগ্ন হওয়ায় ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে প্রাণ যায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের।
৩৬ দিন আগে
সাভারে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি ‘প্রেসার কুকার বোমা’, নিষ্ক্রিয় করল বোম ডিসপোজাল ইউনিট
সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় স্কচটেপে মোড়ানো উদ্ধার হওয়া বস্তুটি একটি ‘প্রেসার কুকার বোমা’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরীফ এবং একটি প্রেসার কুকার দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্দেহজনক বস্তুটি ড্রাম থেকে বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলা অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে চলে যান। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসাইন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল এটি একটি প্রেসার কুকার বোমা। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। ইউনিটের সদস্যরা ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আজ (বুধবার) বিকেলে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে একটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেবারও ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
এদিকে, গতকাল রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আরিফ হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমাসদৃশ বস্তু, জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বেশ কিছু লিফলেট এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
সিটিটিসির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ভবনে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিল ও তার মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তিসহ দুইজন আমাদের ভবনের একটি বাসা ভাড়া নেন। এ সময় তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনার হেমায়েতপুরে এবং তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন।
পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন বলেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তারা বাসার ভেতরে বোমা ও বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল না বলেও জানান তারা।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ এবং সিটিটিসি সূত্র।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘শ্যামপুর এলাকা থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটিটিসি বিস্ফোরক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে পরপর দুটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার এবং একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
৪৩ দিন আগে
সাভারে ‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যা: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। গত শনিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা নিখোঁজ ওই কিশোরীকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।
নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় সাভারে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার ৯ সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানের সময় সেখানে সাভার থানা-পুলিশও ছিল।
পুলিশ জানায় যায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। সে সময় তারা মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন বলেন, কিশোরীটির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর গেল শনিবার সকালে মনোয়ারুলের স্বজনেরা তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৪৫ দিন আগে
সাভারে কেমিক্যাল গুদামে আগুন, আহত ৬
সাভারের হেমায়েতপুরে একটি কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার শহিদুল্লা হাউজিংয়ের একটি ছয়তলা ভবনে থাকা ওই গুদামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর আজ (সোমবার) সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কারখানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস অফিস সূত্র জানায়, কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগার পর স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তারা আরও জানায়, আগুন নেভানোর সময় গুদামে কেমিক্যালভর্তি ড্রামে ঘন ঘন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্য ও ২ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলে— ফায়ার ফাইটার মো. শামীম, মো. উজ্জ্বল, মো. ওমর ফারুক, টিম লিডার মনোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান ও জনি। গুরুতর আহত মশিউর রহমানকে (৪০) সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
সাভার ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মনোয়ার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। রাত ১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত একটানা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, কেমিক্যাল গুদামে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের সময় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার ফায়ার ফাইটার আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
৬১ দিন আগে
সাভারে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী
সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। ঘরে জমে থাকা গ্যাসে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পৌনে রাত তিনটার দিকে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধরা হলেন— কায়সার (২৮) ও তার স্ত্রী রুবি বেগম (২৪)।
দগ্ধ কায়সারের বাবা মো. সীমান শেখ জানান, সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় নূর মোহাম্মদের দুইতলা ভবনের নিচতলায় তার ছেলে কায়সার ও পুত্রবধূ রুবি বেগম ভাড়া থাকতেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টার দিকে তারা ঘরে মশার কয়েল জ্বালাতে দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়লে তারা দুজনই গুরুতর দগ্ধ হন। পরে খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার রিয়াজউদ্দিন মাতোপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তারা সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড়ে মসজিদবাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। কায়সার ও তার স্ত্রী দুজনেই গার্মেন্টসকর্মী।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত রাতে সাভার এলাকা থেকে দগ্ধ এক দম্পতিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে কায়সারের শরীরের ১০০ শতাংশ ও তার স্ত্রী রুবির শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তারা দুজনই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৬২ দিন আগে
সাভারবাসীর জন্য বিভীষিকাময় দিন আজ
আজ ২১ জুলাই। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এই দিনটি ছিল সাভারবাসীর জন্য এক বিভীষিকাময় দিন। সেদিন কারফিউ অমান্য করে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিতে (কম্পিপ্লিট শাটডাউন) অংশগ্রহণ করে। দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার এবং রাতে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চব্বিশের ২১ জুলাই সকাল থেকেই ঢাকা জেলার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) (বর্তমানে কারাবন্দি) আবদুল্লাহিল কাফির নেতৃত্বে মহাসড়ক থেকে ছাত্র-জনতার ওপর দফায় দফায় গুলি চালানো হয়। সড়ক-মহাসড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মারমুখী ভঙ্গিতে যৌথভাবে শক্তি প্রদর্শন এবং সশস্ত্র মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।
সেদিন সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এপিসি, জলকামানসহ ৩০ থেকে ৩৫টি যানবাহনের বহর নিয়ে মহাসড়কজুড়ে টহল দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল মহড়াও চলতে দেখা যায়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুলিতে এদিন ছয়জন নিহত হন। দুপুরের পর থেকে রাতভর সাভার পৌর এলাকায় প্রায় অর্ধশত বিএনপি নেতা ও সাংবাদিকদের বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়। আন্দোলনকারী ও নিরীহ পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে সেদিন আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী।
তার আগের দিন ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলিতে মুরগি ব্যবসায়ী কুরবান শেখ ও ফারুক হোসেন নিহত হন, আহত হন প্রায় অর্ধশত মানুষ। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আরও তিন ব্যক্তি পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হন।
২১ জুলাই সকাল থেকে বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তবে শত শত ছাত্র-জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। থানা বাসস্ট্যান্ড, পাকিজা মোড়, সাভার বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, রেডিও কলোনি, বিশমাইল, পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, বাইপাইল ও জামগড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ শটগান ও ছররা গুলি ছোড়ে।
সংঘর্ষের পর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী, ভিন্নমতের ব্যক্তিদের বাড়ি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
৬৬ দিন আগে
টাকার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা দাবি করে স্ত্রীকে মারধর এবং পরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তিনি কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিউলি রানী রায় (৩২) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন শিউলি। এ সময় তার শয্যার পাশে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিউলির ভাষ্য, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করলেও শুরু থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নানা ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সম্প্রতি স্বামীর বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়।
তার অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামী বারবার তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১২ জুলাই রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত রুটি বেলার বেলন দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া ডান চোখেও আঘাত লাগে বলে জানান শিউলি।
তিনি আরও জানান, মারধরের পর বাপের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তার স্বামী। তবে আশুলিয়ার নবীনগর গলফ ক্লাব এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে সড়কের ওপর ফেলে রেখে চলে যান বিদ্যুৎ কুমার দত্ত। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর ভাই শুভ রায় বলেন, ‘আমার বোনকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছেন তার স্বামী। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে মামলার প্রস্তুতিও চলছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬৮ দিন আগে