সাভার
সাভারে কেমিক্যাল গুদামে আগুন, আহত ৬
সাভারের হেমায়েতপুরে একটি কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার শহিদুল্লা হাউজিংয়ের একটি ছয়তলা ভবনে থাকা ওই গুদামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর আজ (সোমবার) সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কারখানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস অফিস সূত্র জানায়, কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগার পর স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তারা আরও জানায়, আগুন নেভানোর সময় গুদামে কেমিক্যালভর্তি ড্রামে ঘন ঘন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্য ও ২ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলে— ফায়ার ফাইটার মো. শামীম, মো. উজ্জ্বল, মো. ওমর ফারুক, টিম লিডার মনোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান ও জনি। গুরুতর আহত মশিউর রহমানকে (৪০) সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
সাভার ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মনোয়ার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। রাত ১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত একটানা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, কেমিক্যাল গুদামে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের সময় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার ফায়ার ফাইটার আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
১০ ঘণ্টা আগে
সাভারে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী
সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। ঘরে জমে থাকা গ্যাসে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পৌনে রাত তিনটার দিকে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধরা হলেন— কায়সার (২৮) ও তার স্ত্রী রুবি বেগম (২৪)।
দগ্ধ কায়সারের বাবা মো. সীমান শেখ জানান, সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় নূর মোহাম্মদের দুইতলা ভবনের নিচতলায় তার ছেলে কায়সার ও পুত্রবধূ রুবি বেগম ভাড়া থাকতেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টার দিকে তারা ঘরে মশার কয়েল জ্বালাতে দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়লে তারা দুজনই গুরুতর দগ্ধ হন। পরে খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার রিয়াজউদ্দিন মাতোপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তারা সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড়ে মসজিদবাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। কায়সার ও তার স্ত্রী দুজনেই গার্মেন্টসকর্মী।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত রাতে সাভার এলাকা থেকে দগ্ধ এক দম্পতিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে কায়সারের শরীরের ১০০ শতাংশ ও তার স্ত্রী রুবির শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তারা দুজনই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২ দিন আগে
সাভারবাসীর জন্য বিভীষিকাময় দিন আজ
আজ ২১ জুলাই। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এই দিনটি ছিল সাভারবাসীর জন্য এক বিভীষিকাময় দিন। সেদিন কারফিউ অমান্য করে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিতে (কম্পিপ্লিট শাটডাউন) অংশগ্রহণ করে। দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার এবং রাতে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চব্বিশের ২১ জুলাই সকাল থেকেই ঢাকা জেলার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) (বর্তমানে কারাবন্দি) আবদুল্লাহিল কাফির নেতৃত্বে মহাসড়ক থেকে ছাত্র-জনতার ওপর দফায় দফায় গুলি চালানো হয়। সড়ক-মহাসড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মারমুখী ভঙ্গিতে যৌথভাবে শক্তি প্রদর্শন এবং সশস্ত্র মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।
সেদিন সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এপিসি, জলকামানসহ ৩০ থেকে ৩৫টি যানবাহনের বহর নিয়ে মহাসড়কজুড়ে টহল দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল মহড়াও চলতে দেখা যায়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুলিতে এদিন ছয়জন নিহত হন। দুপুরের পর থেকে রাতভর সাভার পৌর এলাকায় প্রায় অর্ধশত বিএনপি নেতা ও সাংবাদিকদের বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়। আন্দোলনকারী ও নিরীহ পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে সেদিন আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী।
তার আগের দিন ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলিতে মুরগি ব্যবসায়ী কুরবান শেখ ও ফারুক হোসেন নিহত হন, আহত হন প্রায় অর্ধশত মানুষ। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আরও তিন ব্যক্তি পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হন।
২১ জুলাই সকাল থেকে বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তবে শত শত ছাত্র-জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। থানা বাসস্ট্যান্ড, পাকিজা মোড়, সাভার বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, রেডিও কলোনি, বিশমাইল, পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, বাইপাইল ও জামগড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ শটগান ও ছররা গুলি ছোড়ে।
সংঘর্ষের পর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী, ভিন্নমতের ব্যক্তিদের বাড়ি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
৫ দিন আগে
টাকার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা দাবি করে স্ত্রীকে মারধর এবং পরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তিনি কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিউলি রানী রায় (৩২) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন শিউলি। এ সময় তার শয্যার পাশে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিউলির ভাষ্য, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করলেও শুরু থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নানা ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সম্প্রতি স্বামীর বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়।
তার অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামী বারবার তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১২ জুলাই রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত রুটি বেলার বেলন দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া ডান চোখেও আঘাত লাগে বলে জানান শিউলি।
তিনি আরও জানান, মারধরের পর বাপের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তার স্বামী। তবে আশুলিয়ার নবীনগর গলফ ক্লাব এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে সড়কের ওপর ফেলে রেখে চলে যান বিদ্যুৎ কুমার দত্ত। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর ভাই শুভ রায় বলেন, ‘আমার বোনকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছেন তার স্বামী। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে মামলার প্রস্তুতিও চলছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৮ দিন আগে
চিড়িয়াখানা থেকে সাভার বিএলআরআইতে গেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ খ্যাত জাতীয় চিড়িয়াখানার বিরল প্রজাতির সাদা মহিষটি সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চিড়িয়াখানায় থাকা সাদা মহিষটি সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাণীটির সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রজনন কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নামের কারণে সাদা মহিষটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাণীটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আলোচিত প্রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল।
এর আগে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে থাকা বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। মাথার সামনের অংশের বিশেষ ধরনের চুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলিয়ে মালিক এর নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
পরে কোরবানি না দিয়ে প্রাণীটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৭ মে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রদর্শনের পর এটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সাদা মহিষটিকে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) স্থানান্তর করা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
সাভারে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ
সাভার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম’ গ্রুপের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে আল-মুসলিম গ্রুপের ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানার সামনে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেন প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানায়, কারখানার মূল ফটকের সামনে শিল্প পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাভারে কর্মরত কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে অফিসে ডেকে নিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা উলাইল এলাকায় কারখানার সামনে এসে অবস্থান নেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেনে অবস্থান নেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই লেনে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক আলেয়া আক্তার, জোসনা বেগমসহ অন্যরা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই করেছে। আমাদের অনেকেরই ন্যায্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে হঠাৎ চাকরি হারিয়ে আমরা পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের হয় চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় আইনানুযায়ী সমস্ত বকেয়া পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে।
কারখানার অপারেটর সালমা আক্তার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এই কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ করেই কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদেরকে ছাঁটাই করেছে। বাসা ভাড়া, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ-সব মিলিয়ে হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, তিন মাসের টাকা দিয়ে ছাঁটাই করার কথা থাকলেও তারা আমাকে মাত্র এক মাসের টাকা দিয়েছে।
১৩ বছর ধরে এই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত আফানুর জানান, হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে ছাটাই করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে কাজে এলে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে দেয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭ বছর ধরে কর্মরত রোজিনা আক্তার, ২ বছর ৫ মাস ধরে কর্মরত মো. রকিবুল্লাহ এবং ট্রেনিং সেন্টার থেকে সদ্য লাইনে আসা আছিয়া আক্তার। তাদের অভিযোগ, তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।
বর্তমানে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়কের সার্ভিস লেন অবরোধ করার চেষ্টা করলে আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিই। শ্রমিকদের দাবি, তাদের পাওনাদি ঠিকমতো না দিয়েই ছাঁটাই করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং কারখানার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই বিষয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে।
তার দাবি, কারখানা পলিসি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কোনো শ্রমিকের যদি পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতা থাকে, তাহলে তারা যোগাযোগ করলে আমরা যাচাই করে তা পরিশোধ করে দেব।
প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম গ্রুপ’ তাদের তিনটি কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার পৌর এলাকার উলাইল এলাকার ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানা থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার ‘প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার’ কারখানার ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ায় অবস্থিত ‘আল-মুসলিম অ্যাপারেলস’ কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।
৫০ দিন আগে
সাভারের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিনোদনপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সাভারের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে এসব বিনোদনকেন্দ্র । বিশেষ করে থিম পার্কগুলোতে স্বল্পমূল্যের বিভিন্ন অফার প্যাকেজ থাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
রবিবার (৩১ মে) ঈদের চতুর্থ দিন সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় থিমপার্ক ফ্যান্টাসি কিংডমে গিয়ে চোখে পড়ে হাজারো দর্শনার্থীদের সমাগম। বিশ্বমানের আদলে গড়ে ওঠা বেশ কিছু রাইড নিয়ে সাজানো পার্কটি বিনোদনপ্রেমী সব বয়সী মানুষের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
পার্কটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ চড়ছেন রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টারে, কেউ ম্যাজিক কার্পেটে কিংবা উড়ন্ত দোলায়। বাচ্চারা চালাচ্ছে রেসিং কার। অনেকে আবার ট্রেনে চড়ে পার্ক ঘুরে দেখছে।
কিশোর মতরুণদের মূল আকর্ষণ ওয়াটার কিংডম। সেখানে তারা ডিজে গানের তালে নীল জলের কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে। কৃত্রিম পাহাড়ের ঝরনায় পানিতে নেমে আনন্দ উপভোগ করছে তরুণ-তরুণীরাও।
এ সময় প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি আর স্মৃতির মুহূর্তগুলো মুঠোফোনে ধারণ করতে দেখা যায় শত শত দর্শনার্থীকে।। এ সময় সবাই পরিবারের সদস্য প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে ব্যস্ত ছিলেন।
পার্কে ঘুরতে ঘুরতে ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার জন্য রয়েছে ছোট ছোট ফুড কোর্টসহ তিন তারকা মানের ক্যাফে আশুলিয়া, লিয়া রেস্তোরাঁ ও ওয়াটার ক্যাফে।
৫৬ দিন আগে
সাভারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানদার গ্রেপ্তার
সাভারে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগী শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রামের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রী টিফিনের সময় মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানদার শাহজাহান বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরেন।
ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা তার চাচাকে জানায়। ওই রাতেই সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করে শিশুটির পরিবার। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) ইমরান হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পাছ বনগ্রাম এলাকায় রাশিদা মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বলেন, ‘আমার ভাতিজি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে মুদি দোকানদার শাহজাহানের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। সেখানে তাকে দোকানের ভেতর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে শাহজাহান।
৬৫ দিন আগে
সাভারে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মামলা, পৌর কর্মকর্তাকে শোকজ
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদ-সংলগ্ন প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ২ একর ১৭ শতাংশ সরকারি জমি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি জায়গার সীমানা প্রাচীর ভাঙতে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টরকে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাভার মডেল থানায় বাগধনিয়া ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকারকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আর্জির সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে আটটি স্থিরচিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাভার মডেল থানার ছোট বলিমেহের মৌজায় সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত ২ একর ১৭ শতাংশ জমি টিনের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। গত সোমবার দুপুরে বিপুলসংখ্যক হকার সেখানে গিয়ে প্রায় ১০০ ফুট টিনের প্রাচীর ভেঙে ফেলেন এবং টিন নিয়ে যান।
এ ঘটনায় সরকারের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া টিনের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, হর্টিকালচার সেন্টার ও রাজালাখ ফার্ম এলাকায় সরকারি মালিকানাধীন জমিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে হকাররা ভাঙচুর চালান। এ সময় ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করেন এবং ভবিষ্যতে বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন।
স্থানীয়দের দাবি, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ভূমি প্রশাসন জানিয়েছে, ওই জমিতে ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও প্রস্তাবিত উপজেলা ভূমি কার্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, সরকারি জমি দখলে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগে কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মো. সেলিম আহম্মেদকে শোকজ করা হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সরকারি বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সোমবার তদন্ত কমিটি গঠন করে জবাব পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, সরকারি জমি দখলের চেষ্টায় জড়িতদের শনাক্ত এবং লুট হওয়া টিন উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
৭৪ দিন আগে
সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প
শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।
ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।
৮৮ দিন আগে