সাভার
সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প
শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।
ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।
৭ দিন আগে
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর: শ্রদ্ধা নিবেদন, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাভারে শ্রমিক সমাবেশ
সাভারে বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্বজন, আহত শ্রমিক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধসে পড়া রানা প্লাজার জমিতে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিবেদিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিককর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সাভারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এখনও শেষ হয়নি, যা নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের জন্য গভীর হতাশার বিষয়।
সংগঠনের সাভার থানা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বেপারীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে ভবন মালিক সোহেল রানার ফাঁসি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজার জমি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, এক জীবনের আয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। একইসঙ্গে দেশের সকল কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এই দিনটি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এক গভীর বেদনার স্মারক। তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার, গ্রামীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক।
১২ দিন আগে
শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না সাভারের যেসব এলাকায়
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের জরুরি পাইপলাইন স্থানান্তর কাজের জন্য আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা হতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা আশুলিয়া টিবিএস হতে বাইপাইল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের এলাকা, ঢাকা ইপিজেড, মালঞ্চ পাওয়ার প্ল্যান্ট, বেক্সিমকো ডিআরএস (বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স), কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ, হাজী মার্কেট, শ্রীপুর, চন্দ্রা, নবীনগর, সাভার টাউন এলাকা, ব্যাংক কলোনী, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, উলাইল, ব্যাংক টাউন, সাভার রেডিও কলোনী, কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান, চারাবাগ, বড় আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ি, কাঠগড়া, জিরাবো, গাজীরচট, নয়াপাড়া, দেওয়ান ইদ্রিস সড়কের উভয় পাশের এলাকা, নয়ারহাট, বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুত, ডেন্ডাবর, ভাদাইল ও লতিফপুর-সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
১৫ দিন আগে
সাভারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট, নির্দেশনা না মানার অভিযোগ
সাভারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা না মানারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগিরা।
রবিবার (৮ মার্চ) সাভারের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আনন্দপুর এলাকায় এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনকে ১০০ টাকা সমমূল্যের অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। অপরদিকে, সাভারের পাকিজার মোড় এলাকার আফজাল ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন বিক্রি করছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এর বেশি কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।
এছাড়া সাভারের রেড়িও কলোনি এলাকায় সাহারা পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ হওয়ার পর গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) তা পুনরায় চালু করেছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ সময় সাভারের হেমায়েতপুর, যাদুর চর ও বাইপাইলে অবস্থিত ৫টি পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির একই চিত্র দেখা যায়।
এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে অকটেন কিনতে আসেন এমারত আলী তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে একবার ২ লিটার অকটেন নিতে পারব, কিন্তু এই পেট্রোল পাম্প ১০০ টাকার বেশি অকটেন বিক্রি করছে না। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা না মেনে তাদের ইচ্ছেমতো অকটেন বিক্রি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা খারাপ ব্যবহার করছে। এত অল্প তেল দিয়ে তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পৌর এলাকার পাকিজার নিকট আফজাল পেট্রোল পাম্পে অকটেন কিনতে এসে নেয়ামত উল্লাহ জানান, পেট্রোল পাম্পের লোকজনের কাছে আমরা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছি। তারা সরকারি নির্দেশনা না মেনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো তেল বিক্রি করছে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই পাম্পে বাইকের জন্য অকটেন নিতে এসেছি। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ২০০ টাকার বেশি অকটেন দিচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫৯ দিন আগে
সাভারে হানিফ পরিবহনের বাসে আগুন
সাভারে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী পার্কিং করা বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এটি অগ্নিসংযোগ নাকি কেবলই অগ্নিকাণ্ড, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকায় কফিল পেট্রোল পাম্পের সামনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট আধা ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে, এ ঘটনায় আর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকার কফিল পেট্রোল পাম্পের সামনে আরিচাগামী লেনে হানিফ পরিবহনের একটি বাস পার্কিং করা ছিল। হঠাৎ ওই বাসে পথচারীরা আগুন দেখতে পান। পরে সাভার ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
সাভার ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার ফাইটার আবু হানিফ বলেন, খবর পেয়ে আমাদের দুই ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা জানা যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গাড়ির যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে। তবে, এটি নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হানিফ পরিবহনের মালিক কফিলউদ্দিন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা।
৭৯ দিন আগে
নির্বাচন উপলক্ষে মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাসে চড়ে ভোট দিতে গন্তব্যে যাওয়া মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। যাত্রীরা জানান, সাধারণত ঈদের সময় ব্যতীত এমন ভিড় মহাসড়কে দেখা যায় না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাকিজা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব সুলতান মিয়া তার দুই মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের উদ্দেশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
আলাপকালে তিনি জানান, তার মেয়েরা সাভারে পোশাক কারখানায় কর্মরত। ভোট দিতে তারা ঘোড়াঘাট উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) গ্রাম থেকে তিনি মেয়েদের নিতে এসেছিলেন। দুই ঘণ্টা ধরে তারা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ব্যাগ-ব্যাগেজ একটু বেশি হওয়ায় কোনো বাস তাদের নিতে চাচ্ছে না। এই বৃদ্ধের অভিযোগ, বাস কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি দুই শত টাকা বাড়তি ভাড়া চাচ্ছে।
একই স্থানে কথা হয় আরেক যুবক তানজিল ও তার স্ত্রী কুলসুম আকতারের সঙ্গে। তারা দুজনেই সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন একটি ডায়িং কারখানায় কর্মরত। তানজিল জানান, তারা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা। ভোট দিতে তারা গ্রামে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস সংকটের কারণে এক ঘণ্টার বেশি তারা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন।
রংপুরগামী একটি বাসচালক আয়নাল হক জানান, দূরপাল্লার বাস মালিক ও চালকরা নির্বাচন উপলক্ষে এত ভিড় হবে তা আগে থেকে বুঝতে পারেননি।
সাভার বাসস্ট্যান্ডের হানিফ কাউন্টারের মালিক রমিজ উদ্দিন জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনই যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। সাভার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর, বাইপাইল, ডিইপিজেড, শ্রীপুর, জিরানিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় থেমে থেমে চলছে যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, সাভারে প্রায় ১৫টি বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার সকাল থেকে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানান, সড়কে সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যানবাহনের অত্যন্ত চাপ ছিল, যা সাধারণত রোজার ঈদ বা কুরবানির ঈদে দেখা যায়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে যানবাহন সুন্দরভাবে চলাচলের জন্য কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
৮৫ দিন আগে
সাভারে সরঞ্জামসহ ৩ জুয়াড়ি আটক
সাভারের হেমায়েতপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অবৈধভাবে জুয়া পরিচালনা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্পের নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— অলিয়ার, সাজু মিয়া ও খলিল মিয়া।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সময় আটকদের কাছ থেকে ভুয়া পুরস্কারের বিভিন্ন সামগ্রী, জুয়ার টিকিট, জুয়ার লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্র, নগদ অর্থ, একাধিক মোবাইল ফোন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনে ব্যবহৃত ধারালো ও লোহার তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় তাদের সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
১০৫ দিন আগে
‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সাভারে ইট পোড়ানো থামাবে কে?
বায়ুদূষণ চরম মাত্রায় পৌঁছানোয় রাজধানী ঢাকায় প্রবেশের প্রধান পথগুলোর অন্যতম সাভার উপজেলাকে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছিল সরকার। ওই ঘোষণার ফলে উপজেলাটিতে সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই আদেশ গ্রাহ্য করার কোনো লক্ষণ নেই উপজেলার ইটভাটাগুলোর।
সরকারি আদেশকে কেবল ‘কাগুজে ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ইটভাটার মালিকরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অনেকে আবার সরকারি অভিযান ঠেকাতে আদালতের অনুমতি নিয়েছেন বলে ভাটার সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গেল বছরের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি ইট ভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হলেও আবার তা গড়ে নিয়ে চলছে ইট তৈরির কর্মযজ্ঞ।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাভার উপজেলায় মোট ৮৬টি ইটভাটা ছিল। এর মধ্যে বৈধ ইটভাটা ছিল ৫৯টি আর অবৈধ ইটভাটা ২৭টি। শুষ্ক মৌসুমে এসব ইটভাটার দূষিত বায়ু ঢাকা শহরে ঢুকে শহরের বায়ুদূষণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। দূষিত বায়ু ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ কারণে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর ক্ষমতাবলে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট সরকার সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে। পরিপত্র অনুযায়ী, ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা।
তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের নির্দেশনা মানার কোনো বালাই নেই ইটভাটাগুলোর। সাভারের আশুলিয়া বাজারের অদূরে তুরাগতীরে আশুলিয়া ব্রিকস ও এমসিবি ব্রিকসে ইট পোড়াতে দেখা যায়। ভাটাদুটিতে এবারের মৌসুমের শুরু থেকে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
১১২ দিন আগে
জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের পক্ষে বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সূর্যাস্তের আগে তারেক রহমান স্মৃতিসৌধে পৌঁছাতে না পারায় শহিদদের বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্মৃতিসৌধ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা সূর্যাস্তের আগেই শেষ হওয়ায় বিকাল ৫টা ৬ মিনিটে তারেক রহমানের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও লুৎফুজ্জামান বাবর।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ডা. দেওয়ানা মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
১৩১ দিন আগে
চার স্তরের নিরাপত্তায় শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির ৫৪তম বার্ষিকী। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতির শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
ইতোমধ্যে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রঙ-তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। স্মৃতিসৌধ এলাকায় গ্রহণ করা হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। এরই মধ্যে ১১ ডিসেম্বর থেকে সব দর্শনার্থীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, জেলা পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় কর্তাব্যক্তিরা একাধিকবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
রাজধানী ঢাকা থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ১৩টি সেক্টরের মাধ্যমে ৪ হাজার পুলিশের ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাদা পোশাকে এবং ইউনিফর্মে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে।
এ বিষয়ে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জনগণ যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে নাম না জানা লাখো শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ খুলে দেওয়া হবে। পরে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সেখানে শ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
ঢাকা জেলা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পোশাকে এবং সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা জনগণের জানমাল রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
এদিকে, তথ্য অধিদপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো যাবে না। ওইদিন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের আকর্ষণীয় ফুলের বাগানের কোনোরকম ক্ষতি না করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৪৩ দিন আগে