জুলাই যোদ্ধা
৩৮৭ জন জুলাই যোদ্ধা ‘ক’ ও ৪৭৪ জন ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত
৩৮৭ জন জুলাই যোদ্ধা ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছেন। এর আগে তারা ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিতে ছিলেন। এছাড়া ‘গ’ শ্রেণিতে থাকা আরও ৪৭৪ জনকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।
পুনর্নির্ধারিত এই শ্রেণির তালিকা গত ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি তালিকাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় বলে আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত ব্যক্তিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জুলাই যোদ্ধা’র মর্যাদা দিয়েছে। আহতদের অবস্থার ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। অতি গুরুতর আহতদের ‘ক’ শ্রেণি, গুরুতর আহতদের ‘খ’ শ্রেণি এবং সাধারণ আহতদের ‘গ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সরকার কয়েক দফায় এই তিন শ্রেণির জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করে। পরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হওয়া এবং একাধিকবার নাম আসায় ১২৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়।
আহতদের শ্রেণি অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। অতি গুরুতর আহত ‘ক’ শ্রেণির জুলাই যোদ্ধারা এককালীন ৫ লাখ টাকা পেয়েছেন এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। একটি অঙ্গহানি হয়েছে—এমন গুরুতর আহত ‘খ’ শ্রেণির জুলাই যোদ্ধারা এককালীন ৩ লাখ টাকা পেয়েছেন এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।
‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের এককালীন ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই যোদ্ধার গেজেট থেকে বাদ পড়লেন আরও ১২ জন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪–এ ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম বাতিল করেছে সরকার। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ১১(৪) ধারা এবং রুলস অফ বিজনেস ১৯৯৬–এর সিডিউল-১ অনুযায়ী দেওয়া ক্ষমতাবলে এ গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
কেন এই ১২ জনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছুই জানানো হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হওয়ায় জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা থেকে এদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা ‘জুলাই যোদ্ধা’ ক্যাটাগরি ‘গ’–এর আওতাভুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে রংপুর বিভাগে দিনাজপুর জেলার ৫ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে চাঁদপুর জেলার ৭ জন রয়েছেন।
দিনাজপুর জেলার যাদের গেজেট বাতিল হয়েছে তারা হলেন— তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর ও মোছা. সখিনা।
চাঁদপুর জেলার তালিকায় রয়েছেন— মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি ব্যক্তির গেজেট নম্বর, মেডিকেল কেস আইডি, পিতার নাম ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৯ অক্টোবর মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হওয়া ও দু-বার নাম থাকায় ১২৮ জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৫ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধাদের মামলায় জড়ানো যাবে না, দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো মামলা না করার বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এতে আরও বলা হয়, এ প্রতিরোধ কর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনত করা যাবে না।
কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদন করার পর আদালত এ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ যা কিছু থাকুক না কেন, যে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না। তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।
এক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
১০ দিন আগে
সরকারে গেলে গণভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে বিএনপি
বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদের পরিবারগুলোর দেখভাল করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বিভাগ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এর আগে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নামে একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করে, যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, এক কথায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দেখভাল করে থাকে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে জুলাই আন্দোলনের যারা শহিদ পরিবার বা যোদ্ধা আছেন, তাদের কষ্টগুলো যাতে আমরা কিছুটা হলেও কমাতে পারি, সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি বিভাগ তৈরি করব।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, তাকে রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। তাই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা একটি বিভাগ তৈরি করব, যাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা।
১৮ দিন আগে
যশোরে এবার জুলাই যোদ্ধা এনাম সিদ্দিকিকে ছুরিকাঘাত
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়া যশোরের এনাম সিদ্দিকিকে এবার ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনামের নিজ গ্রাম এনায়েতপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এনামের স্বজনেরা জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এনাম সিদ্দিকি হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, পরে ডান বুকে, বাঁ হাতের বাহু ও কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনামের শরীরের কয়েকটি স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর শুনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩১ দিন আগে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ঢাবি শিক্ষক ডিবি হেফাজতে
সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ (কার্জন) বেশ কয়েকজনকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মুক্তিযোদ্ধাদের প্ল্যাটফর্ম ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ব্যাপক উত্তেজনার পর তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সাবেক আমলারা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার নেতৃত্বে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ প্ল্যাটফর্মটি আত্মপ্রকাশ করে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা ও ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম কর্মসূচি ছিল আজকের (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের।
আলোচনায় প্রথম বক্তা হিসেবে ঢাবি অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধান ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা চলছে। এর পেছনে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জড়িত। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য চলাকালে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে একদল ব্যক্তি ডিআরইউ’র শফিকুল কবির অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জুলাইয়ে যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
পড়ুন: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ উদ্ধার
একপর্যায়ে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তারা পুলিশের কাছে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জনসহ বেশ কয়েকজনকে তুলে দেয়।
লতিফ সিদ্দিকী ১৯৭০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ছয়বার টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৪ সালের শেষের দিকে এক বিরূপ মন্তব্যের জন্য নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন ও মন্ত্রিত্ব হারান। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
সবশেষ ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সালে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন।
১৬০ দিন আগে
তিন শ্রেণির আরও ১৭৫৭ জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ
তিন ক্যাটাগরির আহত আরও এক হাজার ৭৫৭ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকার গেজেট প্রকাশ করা হয়।
‘ক’ শ্রেণির (অতি গুরুতর আহত) ১০৯ জন, ‘খ’ শ্রেণির (গুরুতর আহত) ২১০ জন ও আট বিভাগে ‘গ’ শ্রেণির (আহত) এক হাজার ৪৩৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
‘গ’ শ্রেণির মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৬ জন, রংপুর বিভাগে ৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১১ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৬ জন, সিলেট বিভাগে ৮৮ জন, খুলনা বিভাগে ১৬৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩৬ জন এবং ঢাকা বিভাগের ৪০৬ জন জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন।
'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫' এর ৭ (খ) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এর ক্রমিক নং ২৩-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দেওয়া ক্ষমতাবলে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করা হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এ নিয়ে মোট জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়ালো ‘ক’ শ্রেণিতে ৬০২ জন, ‘খ’ শ্রেণিতে এক হাজার ১১৮ জন ও ‘গ’ শ্রেণিতে ১২ হাজার ৩৮ জন।
এই সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘ক’ শ্রেণির আহতরা এককালীন ৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাকি ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এরা প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
‘খ’ শ্রেণির আহতরা এককালীন ৩ লাখ টাকা পাবেন। গত অর্থবছরে তাদের এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ লাখ টাকা চলতি অর্থবছরে দেওয়া হবে। তারা মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
‘গ’ শ্রেণির আহতরা এককালীনে এক লাখ টাকা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তারা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
১৯১ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, জুলাই যোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশ আজীবন তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, ‘এ দেশের সরকার ও জনগণ তাদের ত্যাগের মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
শনিবার(২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, চট্টগ্রাম’ আয়োজিত জুলাই বর্ষপূর্তি উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতোমধ্যে আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০ম তলায় এই অধিদপ্তরের জন্য ২০ জন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অধিদপ্তর থেকে জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাসিক ভাতার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘আহত যোদ্ধারা’ আজীবন সরকারি মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে বিনা খরচে চিকিৎসা পাবেন।
ফারুক-ই-আজম বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ক্যাটাগরি অনুযায়ী এককালীন ও মাসিক ভাতা পাবেন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আহত জুলাই যোদ্ধারা ‘এ’ ‘বি’ এবং ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে মাসিক ভাতা পাবেন। ক্যাটাগরি ‘এ’ মাসে ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরি মাসে ১৫ হাজার এবং সি ক্যাটাগরি মাসে ১০ হাজার- টাকা করে ভাতা পাবেন। সে অনুযায়ী সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম। বক্তব্য দেন- শহীদ ইসমামের ভাই মো. মুহিব, আহত জুলাই যোদ্ধা ও সংগঠনের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী এবং জুলাই আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০
চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজারে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তিকে থানায় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ওই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ শিবিরকর্মীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফাহিম নামের এক শিবিরকর্মীকে মারধরের ঘটনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, রাতে নগরীর চকবাজার থানার গুলজার মোড় ঘিরে অবস্থান করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। আর চকবাজারের কাঁচাবাজার মোড়ে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশাহর নেতৃত্বে বিএনপির কর্মীরা অবস্থান নেন।
আরও পড়ুন: নাটোরে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ১৭ ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মী কারাগারে
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দাবি করেছে, মহসিন কলেজের ছাত্রলীগের এক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ছাত্রদলের নেতাদের ওপর হামলা করেছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রশিবির এক বার্তায় জানিয়েছে, এক জুলাই যোদ্ধাকে থানায় দিয়েছিল ছাত্রদল। এর প্রতিবাদ করলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা মিলে শিবির, শিক্ষার্থী ও পুলিশের ওপর হামলা করেছেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল কবির বলেন, ‘ছাত্রদল এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ বলে মারধর করে থানায় সোপর্দ করে। শিবির ওই ছাত্রকে তাদের কর্মী দাবি করে থানায় যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছি এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
১৯৮ দিন আগে
রংপুরে ‘অর্জন’ ভাস্কর্যে শেখ মুজিবের ছবি মুছে দিলেন জুলাই যোদ্ধারা
সম্প্রতি গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রংপুরেও। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে ফেলছেন জুলাই যোদ্ধারা। তাদের দাবি, ফ্যাসিস্টের কোনো চিহ্নই রাখতে চান না তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর শহরের মডার্ন মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ভাস্কর্য হিসেবে পরিচিত ‘অর্জন’ চত্বরে জুলাই যোদ্ধারা জড়ো হন। এ সময় তারা ভাস্কর্যে থাকা শেখ মুজিবের ছবিতে কালি লেপে দেন।
এ সময় তারা ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘জনে জনে খবর দে, আওয়ামী লীগের কবর দে’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা।ে
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় ও গ্রামে গিয়ে কর্মসূচি করবো: নাহিদ ইসলাম
এর আগে, গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ-বিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে রংপুরের অর্জন ভাস্কর্যে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এ ছাড়াও রংপুর জেলা পরিষদ ও সদর উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উপজেলায় থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলা হয়।
জুলাই যোদ্ধা ইমরান আহমেদ বলেন, রংপুরের কোথাও ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো চিহ্ন থাকবে না। যেখানে ফ্যাসিস্ট থাকবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
২০২ দিন আগে