জুলাই যোদ্ধা
যশোরে এবার জুলাই যোদ্ধা এনাম সিদ্দিকিকে ছুরিকাঘাত
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়া যশোরের এনাম সিদ্দিকিকে এবার ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনামের নিজ গ্রাম এনায়েতপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এনামের স্বজনেরা জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এনাম সিদ্দিকি হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, পরে ডান বুকে, বাঁ হাতের বাহু ও কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনামের শরীরের কয়েকটি স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর শুনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১০ দিন আগে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ঢাবি শিক্ষক ডিবি হেফাজতে
সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ (কার্জন) বেশ কয়েকজনকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মুক্তিযোদ্ধাদের প্ল্যাটফর্ম ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ব্যাপক উত্তেজনার পর তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সাবেক আমলারা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার নেতৃত্বে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ প্ল্যাটফর্মটি আত্মপ্রকাশ করে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা ও ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম কর্মসূচি ছিল আজকের (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের।
আলোচনায় প্রথম বক্তা হিসেবে ঢাবি অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধান ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা চলছে। এর পেছনে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জড়িত। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য চলাকালে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে একদল ব্যক্তি ডিআরইউ’র শফিকুল কবির অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জুলাইয়ে যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
পড়ুন: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ উদ্ধার
একপর্যায়ে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তারা পুলিশের কাছে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জনসহ বেশ কয়েকজনকে তুলে দেয়।
লতিফ সিদ্দিকী ১৯৭০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ছয়বার টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৪ সালের শেষের দিকে এক বিরূপ মন্তব্যের জন্য নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন ও মন্ত্রিত্ব হারান। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
সবশেষ ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সালে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন।
১৩৯ দিন আগে
তিন শ্রেণির আরও ১৭৫৭ জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ
তিন ক্যাটাগরির আহত আরও এক হাজার ৭৫৭ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকার গেজেট প্রকাশ করা হয়।
‘ক’ শ্রেণির (অতি গুরুতর আহত) ১০৯ জন, ‘খ’ শ্রেণির (গুরুতর আহত) ২১০ জন ও আট বিভাগে ‘গ’ শ্রেণির (আহত) এক হাজার ৪৩৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
‘গ’ শ্রেণির মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৬ জন, রংপুর বিভাগে ৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১১ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৬ জন, সিলেট বিভাগে ৮৮ জন, খুলনা বিভাগে ১৬৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩৬ জন এবং ঢাকা বিভাগের ৪০৬ জন জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন।
'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫' এর ৭ (খ) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এর ক্রমিক নং ২৩-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দেওয়া ক্ষমতাবলে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করা হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এ নিয়ে মোট জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়ালো ‘ক’ শ্রেণিতে ৬০২ জন, ‘খ’ শ্রেণিতে এক হাজার ১১৮ জন ও ‘গ’ শ্রেণিতে ১২ হাজার ৩৮ জন।
এই সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘ক’ শ্রেণির আহতরা এককালীন ৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাকি ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এরা প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
‘খ’ শ্রেণির আহতরা এককালীন ৩ লাখ টাকা পাবেন। গত অর্থবছরে তাদের এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ লাখ টাকা চলতি অর্থবছরে দেওয়া হবে। তারা মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
‘গ’ শ্রেণির আহতরা এককালীনে এক লাখ টাকা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তারা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
১৭০ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, জুলাই যোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশ আজীবন তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, ‘এ দেশের সরকার ও জনগণ তাদের ত্যাগের মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
শনিবার(২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, চট্টগ্রাম’ আয়োজিত জুলাই বর্ষপূর্তি উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতোমধ্যে আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০ম তলায় এই অধিদপ্তরের জন্য ২০ জন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অধিদপ্তর থেকে জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাসিক ভাতার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘আহত যোদ্ধারা’ আজীবন সরকারি মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে বিনা খরচে চিকিৎসা পাবেন।
ফারুক-ই-আজম বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ক্যাটাগরি অনুযায়ী এককালীন ও মাসিক ভাতা পাবেন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আহত জুলাই যোদ্ধারা ‘এ’ ‘বি’ এবং ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে মাসিক ভাতা পাবেন। ক্যাটাগরি ‘এ’ মাসে ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরি মাসে ১৫ হাজার এবং সি ক্যাটাগরি মাসে ১০ হাজার- টাকা করে ভাতা পাবেন। সে অনুযায়ী সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম। বক্তব্য দেন- শহীদ ইসমামের ভাই মো. মুহিব, আহত জুলাই যোদ্ধা ও সংগঠনের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী এবং জুলাই আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭২ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০
চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজারে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তিকে থানায় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ওই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ শিবিরকর্মীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফাহিম নামের এক শিবিরকর্মীকে মারধরের ঘটনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, রাতে নগরীর চকবাজার থানার গুলজার মোড় ঘিরে অবস্থান করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। আর চকবাজারের কাঁচাবাজার মোড়ে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশাহর নেতৃত্বে বিএনপির কর্মীরা অবস্থান নেন।
আরও পড়ুন: নাটোরে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ১৭ ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মী কারাগারে
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দাবি করেছে, মহসিন কলেজের ছাত্রলীগের এক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ছাত্রদলের নেতাদের ওপর হামলা করেছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রশিবির এক বার্তায় জানিয়েছে, এক জুলাই যোদ্ধাকে থানায় দিয়েছিল ছাত্রদল। এর প্রতিবাদ করলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা মিলে শিবির, শিক্ষার্থী ও পুলিশের ওপর হামলা করেছেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল কবির বলেন, ‘ছাত্রদল এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ বলে মারধর করে থানায় সোপর্দ করে। শিবির ওই ছাত্রকে তাদের কর্মী দাবি করে থানায় যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছি এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
১৭৭ দিন আগে
রংপুরে ‘অর্জন’ ভাস্কর্যে শেখ মুজিবের ছবি মুছে দিলেন জুলাই যোদ্ধারা
সম্প্রতি গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রংপুরেও। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে ফেলছেন জুলাই যোদ্ধারা। তাদের দাবি, ফ্যাসিস্টের কোনো চিহ্নই রাখতে চান না তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর শহরের মডার্ন মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ভাস্কর্য হিসেবে পরিচিত ‘অর্জন’ চত্বরে জুলাই যোদ্ধারা জড়ো হন। এ সময় তারা ভাস্কর্যে থাকা শেখ মুজিবের ছবিতে কালি লেপে দেন।
এ সময় তারা ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘জনে জনে খবর দে, আওয়ামী লীগের কবর দে’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা।ে
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় ও গ্রামে গিয়ে কর্মসূচি করবো: নাহিদ ইসলাম
এর আগে, গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ-বিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে রংপুরের অর্জন ভাস্কর্যে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এ ছাড়াও রংপুর জেলা পরিষদ ও সদর উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উপজেলায় থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলা হয়।
জুলাই যোদ্ধা ইমরান আহমেদ বলেন, রংপুরের কোথাও ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো চিহ্ন থাকবে না। যেখানে ফ্যাসিস্ট থাকবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
১৮১ দিন আগে
মাথায় গুলি নিয়েই জুলাই যোদ্ধা হৃদয় মারা গেলেন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত মো. আশিকুর র রহমান হৃদয় (১৭) মারা গেছেন।
শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হৃদয় উপজেলার পশ্চিম যৌতা গ্রামের রিশকাচালক আনসার হাওলাদারের ছেলে।
হৃদয়ের পরিবার জানায়, হৃদয় ঢাকাতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। জুলাই বিপ্লবে ঢাকার রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেন ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। তার মাথায় তিনটি গুলিবিদ্ধ হন। সেসময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে চিকিৎসা নেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।
চিকিৎসকরা তার মাথা থেকে ২টি গুলি বের করতে পারলেও আশঙ্কাজনক হওয়ায় একটি গুলি বের করতে পারেনি। এতে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি হৃদয়। বিভিন্ন সময় অস্থির হয়ে পড়তেন। প্রচণ্ড জ্বর উঠত। গত বুধবার হৃদয় অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। বিকাল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। নিজের রিকশা ও একটা গরু বিক্রির টাকা দিয়ে যতটুক পেরেছি ততটুক চেষ্টা করেছি। মাথার তিনটা গুলির দুইটা বের করেছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। আরেকটা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে আমার ছেলে বেঁচে থাকতেন।
নিহত হৃদয়ের বড় ভাই মো. সোহাগ ইসলাম আনিস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল হৃদয়। ওর মাথার ভিতরে একটা গুলি ছিল। ওটা বের করতে পারেনি চিকিৎসকরা। এতে ওর প্রচুর ব্যাথা করতো, জ্বর উঠতো। কেউ আমার ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি। উন্নত চিকিৎসার অভাবেই আমার ভাই মারা গেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, বেলা ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। পরিবার যথা সময়ে বরিশাল নিয়ে যেতে পারেনি। এখানেই বিকাল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ব্যবসায়ীকে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত
২৮৫ দিন আগে