ফ্লাইট
একই ফ্লাইটের ৭ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৩৯ লিটার বিদেশি মদ জব্দ
ভারতের মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসা সাত যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৩৯ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। জব্দ করা এসব মদের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এয়ারপোর্ট সার্কেলের সি-শিফটের কর্মকর্তারা মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২১৮৩ ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি জোরদার করেন। ফ্লাইটটি সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটের দিকে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ব্যাগেজ সংগ্রহের পর গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীদের আটক করে তাদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা আজমল হকের ব্যাগ থেকে ১০ লিটার, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়ার ব্যাগ থেকে ৭ লিটার, মো. ইমরানের ব্যাগ থেকে ৬ লিটার, বাবুল মিয়ার ব্যাগ থেকে ৬ লিটার, মো. নাফিজ সাবাতের ব্যাগ থেকে সাড়ে ৩ লিটার, আল আমিন শেখের ব্যাগ থেকে সাড়ে ৩ লিটার ও সাদ্দাম হোসেনের ব্যাগ থেকে ৩ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, মোট ৩৯ লিটার মদ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
একই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণকারী সাত যাত্রীর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দের ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রচলিত কাস্টমস আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি সংঘবদ্ধভাবে সংগঠিত কি না এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি বিশেষ তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
১৪ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭ বিমানবন্দর বন্ধ, ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিঘ্নিত
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসও শুরু করা হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা কমে এলেও এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ের টানা ২৫ ঘণ্টার অগ্ন্যুৎপাত গতকাল (রবিবার) শেষ হয়েছে। এতে লাভার ফোয়ারা সৃষ্টি হয় এবং ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল) দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে সোমবারও আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় ছিল। এদিন মাঝারি মাত্রায় থেমে থেমে অগ্ন্যুৎপাত, কালো ছাই নির্গমন ও স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানায় সংস্থাটি।
এয়ারনাভ ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষায় জাকার্তাসহ আরও কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে। তবে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের পাগার আলাম শহরের আতুং বুংসু বিমানবন্দর সোমবার সকালে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইনজার্নি এয়ারপোর্টসের ব্যবস্থাপনায় থাকা চারটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর—জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা ও হালিম পেরদানাকুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুং শহরের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা ও সুমাত্রার দক্ষিণ প্রান্তের লাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে এবং ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৭ দিন আগে
জানুয়ারি থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এ ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিমানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিদ্যমান ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে চুক্তি সই করে পরের বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো নতুন ফ্লাইট শুরু করেছি। ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক ও সিডনির ফ্লাইট চালু করতে চাই। পাশাপাশি যেসব গন্তব্যে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ আছে কিন্তু উড়োজাহাজের অভাবে ব্যবহার করতে পারছি না, সেসব রুটেও ফ্লাইট বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে প্রতিদিন কয়েকটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, এটি আইকাওর নির্ধারিত মান অর্জনের ওপর নির্ভর করছে। প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানবহর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। তবে তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা ও ফ্লাইট সম্প্রসারণের জন্য লিজে উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি এ বিষয়ে বসবেন বলেও জানান।
তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি মাসের ২৫ তারিখে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। এরপর বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে আশা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তি সই করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, চুক্তি সইয়ের পর হাতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সম্ভব হলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সময় আরও এক-দুই মাস বাড়ানো হতে পারে। আপাতত ১৬ ডিসেম্বরের সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্যেই তারা এগোচ্ছেন।
৩২ দিন আগে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–নারিতা রুটে পুনরায় ফ্লাইট শুরু
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড প্রায় এক বছরের বিরতির পর ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটে পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিটে ১৪৩ জন যাত্রী নিয়ে উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের নারিতার উদ্দেশে যাত্রা করে।
এই রুট পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এ উপলক্ষে প্রথম ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিসিইও সৈয়দ মইন উদ্দিন আহেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুট পুনরায় চালুর ফলে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব যাত্রীর জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুবিধাজনক বিমান যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।
এই রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজটি উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আরামদায়ক ভ্রমণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও বিশ্বমানের সেবা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানায় যে, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক আকাশপথের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
৫৯ দিন আগে
এমিরেটস এয়ারলাইন্সে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ, উদ্বেগ বাড়ছে
বিশ্বখ্যাত এমিরেটস এয়ারলাইন্সে এক বৃদ্ধা যাত্রীর হুইলচেয়ার সহায়তা না দেওয়াসহ যাত্রী হয়রানির অভিযোগ সামনে আসার পর এয়ারলাইনটির যাত্রীসেবা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ৭১ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লায়লা হুসেইন ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে এমিরেটসের দুটি ফ্লাইটে (টিকিট নম্বর ১৭৬৭২১৬৪২৩৮৬৫) ভ্রমণ করেন। ঢাকা থেকে দুবাইগামী ফ্লাইট ইকে৫৮৭ (সিট ১১এইচ) এবং দুবাই থেকে নিউইয়র্কগামী ইকে২০৫ (সিট ৪৭সি) ফ্লাইটে যাত্রা করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় প্রাথমিকভাবে হুইলচেয়ার সেবা পাওয়া গেলেও দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো হুইলচেয়ার দেওয়া হয়নি। বরং তাকে বলা হয় ‘একটু হেঁটে যাও, পরে হুইলচেয়ার দেওয়া হবে।’ অনেক দূর হেঁটেও কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তিনি ভোগান্তিতে পড়েন।
দুবাই থেকে মিলান হয়ে নিউইয়র্কগামী ফ্লাইট ইকে২০৫-এ মিলান বিমানবন্দরে ২ ঘণ্টার যাত্রাবিরতির সময় আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। হুইলচেয়ার বা অন্য কোনো সহায়তা না থাকায় তাকে টানা দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা তার স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
এ ঘটনায় অন্যান্য যাত্রীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। একজন বৃদ্ধা যাত্রীকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো ঘটনা এমিরেটসের মতো এয়ারলাইনের কাছ থেকে অনভিপ্রেত বলে তারা মন্তব্য করেন।
পড়ুন: সায়মা ওয়াজেদকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত অন্তর্বর্তী সরকারের
নিউইয়র্কের বাসিন্দা লায়লা হুসেইনের মেয়ে ইশরাত জাহান, দুবাইতে এমিরেটস কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও ‘অসংবেদনশীল’ জবাব পান বলে অভিযোগ করেন। এয়ারলাইনের এক কর্মকর্তা তাকে বলেন, ‘আপনার মা এখন মিলানে নেই, আমরা কিছু করতে পারব না। আর আপনি কেন এই টিকিট কিনেছেন, সেটা বলুন।’
ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাত লিখেন, ‘দামী টিকিট বিক্রি করে এরা আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করে! জীবনে সবচেয়ে খারাপ এয়ারলাইন্স অভিজ্ঞতা। যত জরুরি দরকারই হোক, আমি আর কখনো এমিরেটস ব্যবহার করব না।’
এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও এসেছে বলে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা জানান। কিন্তু অনেক সময়ই এসব অভিযোগ উপেক্ষিত থাকে। বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের স্বল্পতার কারণে এমিরেটসের যাত্রী সংখ্যা বেশি হলেও সেবার মান নিয়ে যাত্রীরা দিন দিন অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
এ ব্যাপারে এমিরেটসের এক মুখপাত্র জানান, ‘মিলান মালপেনসা বিমানবন্দরে হুইলচেয়ার সহায়তা সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি এবং আমাদের গ্রাউন্ড সার্ভিস অংশীদারদের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সংশ্লিষ্ট যাত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। আমরা আমাদের যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ সহানুভূতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
৪৩৯ দিন আগে
সীমান্তে আবারও ভারত-পাকিস্তানের গোলাগুলি, নিহত ৫
পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিবাগত রাতে দুদেশের সেনাদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়েছে। এতে অন্তত ৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রীত কাশ্মীরের স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আদিল আহমেদ বলেছেন, ‘কাশ্মীরকে বিভক্তকারী এলওসি লাইনের (লাইন অব কন্ট্রোল) নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে ভারতের হামলায় কমপক্ষে ১২ জন আহত ও অন্তত ৪ জন বেসমাররিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।’
সেখানকার চাকোতি সেক্টরের নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাকিল বলেন, ‘আমরা লাইন অব কন্টোলে গোলাগুলি শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু গতকাল রাতের পরিস্থিতি অন্য দিনের মতো ছিল না।’
জনজীবনে দুর্ভোগ
চলমান উত্তেজনার কারণে দুদেশের মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) এক ফটোগ্রাফারেরর তথ্যমতে, ভারতের দক্ষিণ ধর্মশালায় একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার আশঙ্কায় ম্যাচটি বাতিল করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ১০ হাজার দর্শককে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: এবার ভারতের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের
দুই দেশের এই উত্তেজনার কারণে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য- পাঞ্জাব, রাজস্থান ও ভারত নিয়ন্ত্রীত কাশ্মীরের স্কুলগুলোতে ইতোমধ্যেই ২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিমান চলাচলে বিঘ্ন
উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোর ২৪টি বিমানবন্ধরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তথ্য নিশ্চিত করে।
একই ধরনের সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তানের বিমান খাতও। দেশটির প্রধান চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী।
পাকিস্তানে বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (পিএএ) বৃহস্পতিবার সকালে করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ ও শিয়ালকোট বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম সাময়িক ভাবে স্থগিত করে। পরে এই স্থগিতাদেশ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যদিও নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশটির প্রধান চার বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম চালু হয়।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) জানিয়েছে, বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
এ বিষয়ে পিআইএর এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিমান ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে আমরা কিছু রুটে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করেছি। পাশাপাশি নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
এদিকে, পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশির মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সম্ভাব্য যুদ্ধ আমাদের চিন্তার বিষয় নয়।’
আরও পড়ুন: ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলায় শিশুসহ ৩১ পাকিস্তানি নিহত
ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমরা (আমেরিকা) ভারত-পকিস্তানকে উত্তেজনা কমাতে উৎসাহিত করতে পারি। কিন্তু এমন কোনো যুদ্ধে আমরা জড়াতে যাচ্ছি না, যা মূলত আমাদের কোনো ব্যাপার নয় এবং যেটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
৫০৩ দিন আগে
ভারতের নাগপুরে ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ ও ঘটনার বিষয়ে বিমানের ব্যাখ্যা
কারিগরি ত্রুটির কারণে ভারতের নাগপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট অবতরণের ব্যাখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গেল ১৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ওই বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটিতে ২ জন বৈমানিক, ১০ জন কেবিন ক্রু এবং ৩৯৬ জন যাত্রী ছিলেন।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলামের সই করা এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-দুবাই রুটের নির্ধারিত ফ্লাইট বিজি৩৪৭ ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৮টা বেজে ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।
যাত্রা পথে ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের নাগপুর শহর অতিক্রান্ত হওয়ার সময় ক্যাপ্টেন পেছনের কার্গো কোম্পার্টমেন্ট থেকে ককপিটে ফায়ার সতর্কীকরণ সংকেত পান। এসময় যাত্রীদের নৈশভোজ পরিবেশন করা হচ্ছিল। এই ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড আইসিএও/বোয়িং/সিএএবি’র নিয়মানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার দিক নির্দেশানুযায়ী নিকটবর্তী ভারতের নাগপুরের ‘ড. বাবা সাহেব আমবেদকা’ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সময় রাত ১১ বেজে ২৭ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করেন।
বৈমানিক নাগপুরে বিমান অবতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরই সব যাত্রীকে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নাগপুরে অবতরণের’ সিদ্ধান্তটি ইন-ফ্লাইট অ্যানাউন্সের মাধ্যমে অবহিত করেন। ফ্লাইটটি নাগপুরে অবতরণের পর সব যাত্রীর উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। ৩৯৬ জন যাত্রী এবং ১২ ক্রুসহ সর্বমোট ৪০৮ জনকে বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি বাসে করে উড়োজাহাজটি থেকে আনুমানিক অর্ধ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বেশি সময় ওই ৪০৮ জনকে বিমানবন্দর টার্মিনালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। এসময় পানি এবং টয়লেট সুবিধার জন্য যাত্রীরা বার বার অনুরোধ করা সত্যেও ভারতের নাগপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা অনুমতির আনুষ্ঠানিকতার প্রসঙ্গ তুলে তা প্রদান করা থেকে বিরত থাকে। এতে করে বিশেষভাবে বৃদ্ধ এবং নারী যাত্রীরা সবচাইতে বেশি দুর্ভোগে পতিত হন। পরবর্তী সময়ে রাত একটায় টার্মিনালে যাত্রীদের লাউঞ্জে নেওয়ার অনুমতি দেন।
ইতোমধ্যে ভারতের নাগপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ই-মেইলের মাধ্যমে যাত্রীদের সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং সেইসঙ্গে আশ্বস্ত করা হয় যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের সুবিধার্থে সব বিষয়ের যাবতীয় খরচাদি বহন করবে। নাগপুর কর্তৃপক্ষ অবহিত করে যে, এই বিপুল সংখ্যক খাবার প্রস্তুতের জন্য তাদের ৩-৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৭৭ এর মতো এত বৃহদাকার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ওই বিমানবন্দরে নিয়মিত চলাচল করে না। বিমানের যাত্রীদের হোটেলে পাঠানের জন্য অনুরোধ করা হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অস্থায়ী ল্যান্ডিং পারমিট প্রদানে অপরাগতা প্রকাশ করে। একারণে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের টার্মিনালেই থাকতে হয়।
যাত্রীদের দেখা-শোনা করার জন্য বিমানের দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজারকে বলা হলে তিনি সেখানে ইনডিগো এয়ারে করে ৯টা ১৫ মিনিটে নাগপুরে পৌঁছান। অনুমানিক ভোর ৩টার দিকে যাত্রীদেরকে পানি সরবরাহ করা হয়। সকাল ৭টার দিকে পানি ও চা দেওয়া হয় এবং সকাল সাড়ে ১০টায় নাস্তা পরিবেশন করা হয়। নাগপুর ক্যাটারিং-এর সীমিত সক্ষমতা থাকার কারণে নাস্তা দিতে সময় বেশি লেগেছে।
আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণ
বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম উড়োজাহাজের সব কার্গো ফায়ার এক্সটিংগুইসার ব্যবহৃত হওয়ায় ওই উড়োজাহাজে যাত্রীদের দুবাইতে পরিবহন করা সম্ভব নয় জানিয়ে মতামত প্রদান করে।
সেই মোতাবেক বিমান ঢাকা অপারেশন্স কন্ট্রোল উদ্ধারকারী ফ্লাইটের পরিকল্পনা হাতে নেয়, যা ঢাকা থেকে বিজি১২৬ (দোহা-চট্টগ্রাম-ঢাকা) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে নামার পর সকাল সাড়ে ৯টায় এ যাত্রার সময় পরিকল্পনা করা হয়।
ভারতের প্রয়োজনীয় অনুমতিপ্রাপ্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা বেজে ২৮ মিনিটে ঢাকা থেকে যাওয়া উদ্ধারকারী ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা বেজে ৪৯ মিনিটে নাগপুরে অবতরণ করে।
নাগপুর বিমানবন্দর রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অবগত হয়ে নাগপুরে অবতরণের পরপরই যাত্রীদের উদ্ধারের ফ্লাইটটির ক্যাপ্টেন অপেক্ষমান যাত্রীদের বিমানে আসন গ্রহণ এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাত্রীদের ব্যাগেজবহনকারী কন্টেনারগুলো উদ্ধারকারী ফ্লাইটে লোড করার নির্দেশনা দেন।
যাত্রীরা উড়োজাহাজে আসন গ্রহণ করলেও নাগপুর একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর হওয়ায় বৃহদকার উড়োজাহাজের ব্যাগেজ কন্টেনার লোড করার জন্য শুধু একটি যন্ত্র এবং অপর্যাপ্ত কন্টেনার ট্রলির কারণে কল্পনাতীত সময়ক্ষেপণের পর কন্টেনার লোডিং সমাপ্ত হয়। এরই মধ্যে রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়।
পুনরায় সিএএবি কর্তৃক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল ৫টা ৪২ মিনিটে উদ্ধারকারী ফ্লাইটটি নাগপুর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে এবং নিরাপদে দুবাইতে অবতরণ করে। নাগপুর বিমানবন্দরে অপেক্ষাকালীন সময়ে যাত্রীদের দুপুরের খাবার উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে পরিবেশন করা হয়। উড্ডয়নের পর যাত্রীদের জন্য রাতের খাবারও পরিবেশিত হয়।
যাত্রীদের দুর্ভোগের সম্ভাব্য কারণ
১. ভারতের নাগপুর একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরের ধারণ ক্ষমতা সীমিত।
২. ভারতের নাগপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা অনুমতির দীর্ঘসূত্রতার কারণে যাত্রীদের টার্মিনালে না নিয়ে বহু সময় বাসে অবস্থানের কারণে পানি এবং টয়লেটের ব্যবস্থা থেকে যাত্রীরা বঞ্চিত হন।
৩. ভারতের নাগপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানের যাত্রীদের অস্থায়ী অবতরণের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি। ফলে বাধ্য হয়েই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যাত্রীদেরকে হোটেলে না পাঠিয়ে টার্মিনালে অপেক্ষমান রাখতে বাধ্য হয়।
৪. ভারতের নাগপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩৯৬ জন যাত্রীর খাদ্য প্রস্তুতে অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোর তুলনায় বেশি সময় গ্রহণ করে।
৫. ভারতের নাগপুর বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টের স্বল্পতার জন্য যাত্রীদের ব্যাগেজবাহী কন্টেনার লোডিং এ দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে। ফলত, বিমানবন্দর বন্ধের পূর্বে উড্ডয়ন সম্ভব হয়নি।
৬. টার্মিনালের অভ্যন্তরে যাত্রী লাউঞ্জে বিমানের দিল্লির স্টেশন ম্যানেজার প্রবেশের পাশ ইস্যুতে নাগপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করায় যাত্রীদের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়নি।
ভারতের স্থানীয় বিধিনিষেধ এবং নাগপুর বিমানবন্দরের সীমাবদ্ধতার কারণে উপরোল্লিখিত উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে ছিল।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত প্রোপাগান্ডার বিষয়ে প্রতিবাদ প্রসঙ্গে:
এয়ারক্রাফটের ভেতরে ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ থাকার পরেও নাগপুরের ওই উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে বর্তমান সরকার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিব্রত করার জন্য একজন নারী এবং একজন পুরুষ যাত্রী ফ্লাইটের ভেতরে যাত্রী সাধারণের প্রতি উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং ভিডিও ধারণ করে স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তা প্রচার করেন।
ওই দুই যাত্রী ফ্লাইটে ক্রমাগত উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করলেও অন্য যাত্রীরা তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। তারা ধৈর্য নিয়ে ফ্লাইটে অবস্থান করে কর্মরত ক্রুদের সহযোগিতা করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ এবং ফ্লাইটে ক্রুদের সহায়তা করার জন্য তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করছে এবং উল্লিখিত প্রোপাগান্ডার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সর্বোপরি নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের সঙ্গে সংঘটিত অসুবিধার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
৫৭৮ দিন আগে
ভারতে বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণ
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। ঢাকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ের উদ্দেশে প্রায় ৪০০ আরোহী নিয়ে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইটটি। অক্ষত রয়েছেন সব যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোসরা জানান, বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে বিজি-৩৪৭, বোয়িং-৭৭৭ এয়ারক্রাফট ৩৯৫ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে দুবাইয়ে উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত আনুমানিক পৌনে ১১টায় মাঝ আকাশে ক্যাপ্টেন একটি টেকনিক্যাল সিগন্যাল পান, যার ফলে কাছাকাছি ভারতের নাগপুর এয়ারপোর্টে জরুরি অবতরণ করেন।
আরও পড়ুন: ওসমানী বিমানবন্দরে ৮টি স্বর্ণের বার জব্দ
তিনি আরও বলেন, নাগপুর এয়ারপোর্টে সব যাত্রীকে অত্যন্ত সুচারুরূপে সবধরনের সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে আজ সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকা থেকে আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ নাগপুরের উদ্দেশে রওনা হয়ে ১২টা ৩৯ মিনিটে পৌঁছে গেছে এবং নাগপুরে অপেক্ষমান যাত্রী নিয়ে ইতিমধ্যে দুবাই রওনা দিয়েছে।
যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করছে বলে জানান বোসরা ইসলাম।
৫৮১ দিন আগে
ঝাপসা আকাশ, শাহজালালে অবতরণ করতে পারেনি ৬ ফ্লাইট
ঘন কুয়াশার কারণে মধ্যরাত থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশ ঝাপসা ছিল। স্পষ্টভাবে রানওয়ে না দেখতে পেরে ৬টি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি বিমানবন্দরে। পরে ৩টি ফ্লাইট কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ৩টি সিলেটে গিয়ে অবতরণ করে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যরাতে কুয়েত সিটি থেকে আগত কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি ফ্লাইট ও ওমানের মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের ফ্লাইটটিসহ ঢাকায় নামতে না পেরে কলকাতায় চলে যায়। এছাড়াও আরও ৩ ফ্লাইট সিলেটে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সকাল ৯টার পর তারা ঢাকায় ফিরে অবতরণ করে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইমলাম বলেন, ঘন কুয়াশার জন্য কয়েকটি ফ্লাইট ডাইভার্ট করে কলকাতা পাঠানো হয়েছে। এখন ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।। সকাল ১০টা থেকে স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন: এইচএমপিভি: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্দেশনা
অনেক ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণের অপেক্ষায় থাকায় বিমানবন্দরের রানওয়েতে কিছুটা ট্রাফিকের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ঘন কুয়াশায় মধ্যরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১৬টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারেনি। তাদের মধ্যে রয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই, মাস্কাট, রোম, জেদ্দা ফ্লাইট, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দুবাই, গাল্ফ এয়ারের বাহরাইন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুবাই, দোহা, শারজাহ, জেদ্দা, সিঙ্গাপুর, ড্রুক এয়ারের পারো থেকে আগতসহ আরও বেশ কয়েকটি রুটের ফ্লাইট।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানায়, কুয়াশার কারণে মধ্যরাত ফ্লাইট চলাচল ব্যহত হয়। এসময় অনেক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারেনি।
রোববার (২৪ জানুয়ারি) মধ্যরাত আড়াইটা থেকে সোমবার সকাল ৯ পর্যন্ত চলে এই অবস্থা।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো অভিনেত্রী নিপুণকে
৫৯৮ দিন আগে
‘কক্সবাজার-সৈয়দপুরে অবতরণের সময় ঝাঁকুনির কবলে পড়ছে ফ্লাইট’
কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অবতরণের পথে উঁচু উঁচু গাছ থাকায় অবতরণের সময় ফ্লাইটগুলো ঝাঁকুনির কবলে পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন নভোএয়ারের চিফ অব সেফটি ক্যাপ্টেন আশফাক-উর-রহমান খান।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে নভোএয়ার-এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের (এটিজেএফবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলের কোজি রেস্টুরেন্টে 'এভিয়েশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইমপ্যারেটিভস ফর এভিয়েশন সেফটি' শীর্ষক এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে এটিজেএফবির সদস্য ও এভিয়েশন খাতের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: এইচএমপিভি: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্দেশনা
কর্মশালায় নভোএয়ারের চিফ অব সেফটি ক্যাপ্টেন আশফাক-উর-রহমান খান বলেন, ‘এই দুই এয়ারপোর্টে ফ্লাইট অবতরণের পথে গাছের কারণে তীব্র বাতাসের সৃষ্টি হয়। এতে প্লেনে টার্বুলেন্সের (তীব্র ঝাঁকুনি) সৃষ্টি হয়। অনেকেভাবে এই ঝাঁকুনি পাইলটের কারণে হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে এটা প্রাকৃতিক কারণে হচ্ছে। এ বিষয়টি অবগত করে ইতোমধ্যে বেবিচককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও প্রেজেন্টেশনে তিনি ফ্লাইট সেফটির সঙ্গে রানওয়ের সারফেস (পৃষ্ঠ) সমতল থাকা, উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ফ্লাইট চলাকালীন ফ্লাইট কর্মীদের এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সম্পূর্ণ নিয়মগুলো তুলে ধরেন।
ফ্লাইট সেফটির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান বলেন, ‘বিমানবন্দরের সেফটির বিষয়ে বলতে গেলে বার্ড হিট ও লেজার লাইটের বিষয় চলে আসে। বিভিন্ন সময়েই বার্ড হিটের কথা শোনা যায়। এটি প্রতিরোধে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাউন্ড গান ব্যবহারসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকাগুলো থেকে পাখির খাওয়ার উৎসস্থল বিভিন্ন কসাইখানা, মাছ চাষ ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে পাইলটদের চোখে লেজার লাইট মারার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন দেশে এধরনের লেজারলাইট মারার ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ১ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের ধরে ফেলে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা করতে পারে না।’
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন এটিজেএফবির সভাপতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশেষ প্রতিনিধি তানজিম আনোয়ার।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন নভোএয়ারের হেড অব মার্কেটিং মেজবাহ-উল ইসলাম।
কর্মশালা অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো অভিনেত্রী নিপুণকে
৬১৬ দিন আগে