সালাহউদ্দিন আহমদ
ইসির স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি সম্ভাব্য, চূড়ান্ত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সেটি কেবল ‘সম্ভাব্য’ পরিকল্পনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কমিশন যে সময়সূচি উপস্থাপন করেছে, সেখানে সেটিকে স্পষ্টভাবেই ‘সম্ভাব্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এর জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা শহরে মেগা প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট যানজট রোধ-সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির ঘোষণা এবং পরে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটি দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে আইনে প্রদত্ত অন্যান্য নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করার কথা বলা আছে।’
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়া নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কাজ করতে পারে। এটি সমন্বয়ের বিষয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন গতকাল (সোমবার) ‘টেন্টেটিভ’ একটি পরিকল্পনা দিয়েছে, যার ভিডিও তিনি দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘টেন্টেটিভ’ মানেই তারা ‘সম্ভাব্য’ সময়সূচি দিয়েছে। মনে হয়, গণমাধ্যমে বিষয়টি অন্যভাবে এসেছে, যেন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তারা বক্তব্যেই বলেছে, এটি একটি ‘টেন্টেটিভ প্ল্যান’। ‘টেন্টেটিভ’ পরিকল্পনার ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্ভবত নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করেছে। ওই সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অংশ নেবেন।’
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা যে মতামত দেবেন, তার আলোকে নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য তফসিল সাজাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এর আগে ইসি যে পরিকল্পনার কথা বলেছে, সেটি ‘টেন্টেটিভ’। তাই সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
৮ ঘণ্টা আগে
পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট করার পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অ্যাডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত করা হবে।
সভায় পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ, পুলিশ স্টাফ কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া ইন্টারপার সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স ও মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভার শুরুতে পরিচালনা বোর্ডের ২০তম সভার কার্যবিবরণী পেশ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে আগের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
১২ ঘণ্টা আগে
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু (সংরক্ষিত নারী আসন-৪) কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেওয়া নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুবিধার কারণে গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এ খাত চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবা প্রদানকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে।
তবে এ খাতের দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একই সময়ে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
মন্ত্রী এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ব্যবহার এবং নিয়ম না মেনে পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি। তিনি বলেন, এর ফলে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
নিবন্ধনহীন যানবাহন, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলোকব্যবস্থা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা।
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত রিকশার গ্যারেজের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) যৌথ অভিযানও পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অটোরিকশাকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে অনুমোদিত ও বৈধ অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনা, কিউআর কোডের মাধ্যমে চালকদের নিবন্ধন শনাক্ত করা এবং ধাপে ধাপে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য নির্দেশনার আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া, রুট নির্ধারণ, চালক ও তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এসব পদক্ষেপ রাজধানীর যানজট কমাতে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এসব ক্যামেরা ইতিবাচক ফল দিয়েছে। রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের আওতায় আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও ধীরে ধীরে আরও এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর, বিশেষ করে রাজধানীর সড়কে ধীরে ধীরে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। লাল বাতি অমান্য করা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন ও গতিসীমা অতিক্রমের মতো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখনও নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারলেও জরিমানা করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, এসব বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব রিকশা সরিয়ে নিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অটোরিকশার নকশার ত্রুটি দূর করে নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও লাইসেন্স দেওয়াসহ সবকিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না করে সরকারকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলেও মনে করেন রানু। তিনি বলেন, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের যানবাহন জব্দ করে ফেলে দেওয়া এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা ঠিক নয়।
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারকেও শর্ত হিসেবে রাখা হবে এবং নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে অবৈধ চার্জিং স্টেশন পরিচালনার কারণে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতিও জড়িত। যারা এসব অবৈধ চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবহার করছে, তাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত বলেও মন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব যাতে না বাড়ে, কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে, যানবাহনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়—সরকার সব দিক বিবেচনায় রাখবে।
৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বৈশ্বিক সহযোগিতা জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলোর জোরালো সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সবসময় সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতির নেতৃস্থানীয় দেশসমূহ ও জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাসহ (ইউএনএইচসিআর) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—আশ্রিত প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআরের হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’
এছাড়া সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৯ বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, জমি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জীবনধারণের মৌলিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।
ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় নাগরিক—উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া (ফেন্সিং) ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে। বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সরকার একটি সর্বাত্মক ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদত্ত মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদকে কমিয়ে দিতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুত একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও ফিরে যাওয়ার উপযোগী উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, টেকসই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সক্ষম হবে।
আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবির অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব, ইউল্যাবের সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজসহ আরও অনেকে।
৯ দিন আগে
‘ভোট ব্যাংক’ মিথ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’
অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণই বিচারক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।’
সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।
তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু সংবিধানে এ বিষয়টি ‘কিতাবী’ রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
১১ দিন আগে
জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে ২ পর্বে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাবলিগ জামাতের মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা আগামী জানুয়ারিতে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম বা সাদপন্থীদের ইজতেমা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাদপন্থী নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের দুই অংশের একটি অংশ, যারা সাদপন্থী হিসেবে পরিচিত, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইতোপূর্বে কয়েক দিন আগে ইজতেমার আরেক অংশ জুবায়েরপন্থী হিসেবে যারা পরিচিত, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই আমরা বলেছিলাম, অপর অংশের সঙ্গেও আলোচনা করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথম সভায় প্রাথমিকভাবে তারিখ নির্ধারণের যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, সেটা এই অংশকে জানিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, গতবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচনের কারণে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই এ বছর আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করেছি, এটা দুই পর্বে হবে, অর্থাৎ আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠেই এটা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের দাবি, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ যেন তারা ব্যবহার করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি চিঠি এবং একই বছরের ২৭ জানুয়ারি জারি করা আরেকটি পত্রের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই দুইটা পত্রের সারমর্ম হচ্ছে—তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ মাওলানা সাদ অনুসারীরা আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে করবেন না। জুবায়েরপন্থীরা দাবি করছেন, যেহেতু তারা সম্মত হয়েছিলেন যে শেষবারের মতো তারা টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করবেন, সাদপন্থীরা আগামী থেকে এটা আর ব্যবহার করতে পারবেন না, অন্য কোনো জায়গায় করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তবে আজকের আলোচনায় দেখা গেল, এটাতে সাদপন্থীগণ একমত নন। তাদের দাবি হচ্ছে, এটা কীভাবে তারা সই করেছেন, তারা জানেন না। আমরা তো সরকারের দায়িত্বে তখন ছিলাম না। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে উভয় পক্ষের আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে এটা অনুষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্তে তারা এসেছিলেন এবং সবাই তখন একমত হয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সাদপন্থীদের দাবি হচ্ছে, জুবায়েরপন্থীদের দুই পর্বের ইজতেমা শেষে যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে তারা এক পর্বে ইজতেমা করতে চান। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টা নিয়ে অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব বলে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। যেহেতু ইতোপূর্বে হতাহতের ঘটনার নজির রয়েছে, সেজন্য আমরা এটা লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখনও এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি, তাই এর বেশি এই মুহূর্তে বলতে পারবেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীরা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা করবেন। আর সাদপন্থীদের প্রস্তাব হচ্ছে, ওই দুই পর্বের পর রমজান শুরুর আগে মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা জানুয়ারির দুই পর্বের আগে নভেম্বরের শেষ দিকে ইজতেমা করার প্রস্তাবও তারা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে তাদের প্রস্তাব। আমরা বলেছি, অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুবায়েরপন্থীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল, সাদপন্থীরা যেন বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় ইজতেমা আয়োজন করেন। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার কথাও তাদের জানানো হয়েছে। তবে সাদপন্থীরা এ প্রস্তাবে একমত হননি।
তিনি আরও বলেন, তাবলিগ জামাত বিভক্ত হওয়ার আগে থেকেই বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মূলত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে সুবিধার্থে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করা হতো।
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করার জন্য সরকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নিতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাওলানা সাদ এবার বিশ্ব ইজতেমায় আসতে পারবেন কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি ভিসা নীতির আওতায় ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
প্রতিবার মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো বাধা থাকে, এবারও সে ধরনের কোনো বাধা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। ভিসা নীতি অনুযায়ী যেভাবে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়, সেভাবেই নেওয়া হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। বর্তমানে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
১২ দিন আগে
রাতারাতি পুলিশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করতে পারি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
তার ভাষ্য, ‘একটি ঘটনাও নাই! এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, যে আকাশসম উচ্চতার প্রত্যাশা—জনপ্রত্যাশা আমরা পেয়েছি, আমাদের যেটা প্রত্যাশা আছে, সবকিছু আমাদের একসাথে বিবেচনায় নিতে হবে।’
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, তাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করার কাজ একসঙ্গে করতে হচ্ছে এবং সরকার তা করে যাচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই, যেটা সংগঠিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে নাই বা বিচারের আওতায় আনে নাই।’
তিনি বলেন, ভঙ্গুর মনোবল ও দুর্বল অবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাওয়ার পর গত ছয় মাসে তাদের অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে।
রংপুরের ৪ খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ঘটনা সংগঠিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
‘এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয় নাই, প্রত্যেকটা অপরাধের আমরা অ্যাড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পেরেছি, আদালতের কাছে সোপর্দ করতে পেরেছি।’
ক্ষেত্রবিশেষে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার ক্ষেত্রেও সরকার সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছুই আপনারা জানেন, এর চাইতে এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না।’
তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রত্যাশিত ও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং তাদের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ দেশের গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব, তাতে জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে।’
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
বর্তমান বিশ্বে ইসলামের শান্তির বাণী অনুসরণ করা হলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বার্থের সংঘাত, অর্থনৈতিক সংঘাত এবং পরস্পর স্বার্থের জন্য যুদ্ধবিগ্রহ—এগুলোর কোনোকিছুই থাকবে না যদি আমরা শান্তির পথে, সাম্যের পথে থাকি এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি।’
এ সময় দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
২০ দিন আগে
বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর, আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিবেদনটি অনুমাননির্ভর হওয়ায় সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল কায়েদা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি, সেটা পড়িনি। সেখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না, রিপোর্টও এখনও পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুকু শুনেছি পত্রিকার অন্তরে, সেখানে বলা হয়েছে যে, তারা একটা অ্যাজাম্পশন (অনুমান) করেছে; অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।’
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো গুঞ্জন শোনেননি বলে জানান।
২৯ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে জনপ্রত্যাশা পূরণে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের ১৮০ দিন পার হলো, এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টা জনগণ বলবে। আমরা তো সবসময় বলব যে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পেরেছি, তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নীতকরণের জন্য আরও সময় লাগবে। আমাদের এখন মাত্র ছয় মাস পার হলো।’
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ আপনারা দেখতে পেয়েছেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৮০ দিনে সরকার বাস্তবায়ন করেছে এবং শুরু করেছে—এমন অনেক কর্মসূচি প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার একাধিক সংকটময় মুহূর্ত সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহে সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশে প্রায় এক মাস কোনো জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই সময় সারা বিশ্বে—আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ অনেক দেশেই—জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বোরো মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করিনি। বোরো মৌসুমের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে একটা পর্যায়ে আমরা সহনীয় মাত্রায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছি।
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ের রেখে যাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা রাতারাতি এখান থেকে উত্তরণ করতে পারিনি। এখন এই সমস্ত সমস্যাগুলো আমরা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মজুত নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পনা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট এড়াতে সরকার পরিকল্পনা করছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ আহ্বান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জ্বালানি ও ‘প্রাইমারি এনার্জি’র সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালীতে আরও একটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন ও জরিপের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে এখানে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে আরও একটি বা দুটি এফএসআরইউ নির্মাণ করা হবে।
বর্তমানে থাকা দুটি এফএসআরইউর একটি সামিটের এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জির উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোতে বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
এ সময় গ্যাসের আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আশা করা যায় আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদেই এই গ্যাসের সমস্যাটা সমাধান করতে পারব।’
সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের কর্মকর্তাদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিজীবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় খাদ্য প্রকিউরমেন্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রগতি সংকলন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেকশন থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
২৯ দিন আগে
পুলিশে নিয়োগে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করেনি সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, পুলিশে নিয়োগ নিরপেক্ষভাবে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিরোধী দলের দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা পুলিশে নিয়োগের বিষয়টি উত্থাপন করেননি।
বৈঠকে মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংসদ সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছেন উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ৩০ জুন শেষ হতে চলা অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৩৩ দিন আগে