সালাহউদ্দিন আহমদ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারকে বিব্রত করতে একটি মহল পরিচয় গোপন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে বিব্রত করতে চায় এরকম কিছু মহল তো আছেই। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের পরিচয় গোপন করে এখানে একটা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করতে চায়। সেটা দৃশ্যমান হয়েছে। যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে অনেকে দেখা যায় আসলে ছাত্রই না, পরীক্ষার্থীই না।’
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে একই প্রশ্নপত্রে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা দিতে পারবে।
পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ওই দুই প্রশ্নের নম্বর পরীক্ষার্থীদের ক্রেডিট হিসেবে দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে যারা কষ্ট পেয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি সংসদে দুঃখও প্রকাশ করেছেন।
ছাত্রদের উদ্দেশে কোনো বার্তা আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। কারণ আমরা ২-১টা জেলায় এবং ঢাকার বাইরেও ২-১টা স্পটে দেখেছি তাদের সংখ্যা খুব বেশি না।’
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিবালয়ে ঢুকে পরীক্ষা স্থগিত বা বিনা পরীক্ষায় পাসের মতো অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষার মান নষ্ট হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে সরকার আপসহীন।
অতীতে অটো পাস, অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া ও ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত আসামিদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতে তিনজন এবং ইউএইতে একজন আসামিকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাঠানো হয়েছে।
ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে সরকার।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে তিনি জানান, ভারত প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিল, সেগুলো পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশও প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়।
দেশে ফিরলে তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হবেন। এরপর আদালতের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
রোহিঙ্গা ও আরাকান আর্মি বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নাই। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানাবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির পরিচয়ে তিন সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই ঘটনা আমার নজরে আসেনি। অভিযোগ পেলে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
কালেমা লেখা পতাকা উড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কিছু কিছু মানুষ ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে এ কাজগুলো করছে। দেশে কোনো জঙ্গি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
জুলাইয়ের শহিদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায় ৮০০-এর বেশি শহিদ রয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষাসহ নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে ভুয়া বাদী বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হওয়া মামলাগুলোও তদন্ত করে সংশোধন করা হবে। যেসব মামলায় হাজার হাজার আসামি করা হয়েছে, সেগুলোতেও তদন্ত শেষে নির্দোষ ব্যক্তিদের চার্জশিটের আগেই বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়াটা আমরা চাই না। আমরা চাই সবকিছু বিচারিক বা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হোক।’
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠন হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
২১ ঘণ্টা আগে
‘ইউএন-কপস’ সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন ‘ইউএন-কপস’-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনসহ সম্মেলনের বিভিন্ন প্লেনারি সেশনে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এবারের সম্মেলনে ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ এই তিনটি বিষয়ে প্লেনারি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সম্মেলনের সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেবেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্টবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, পিস অপারেশনসবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া, পলিটিক্যাল ও পিস বিল্ডিংবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডিকার্লোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে মন্ত্রী আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সফর শেষে আগামী ১২ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
১১ দিন আগে
ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত সমর্থন অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যুকরণ সহজতর করাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিক স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে জোরালো জনমত ও সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
আলোচনায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে তা যথাযথ যাচাইয়ের লক্ষ্যে আবেদনের একটি অনুলিপি ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানোর অনুরোধ করেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের নাগরিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থি মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইন-চার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ ও আলাইদি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবি দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের পর আসামিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ওই বার্তায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের নিকট প্রেরণ করেছে। কয়েকদিন পূর্বে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সে দেশের ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রত্যুত্তরের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
মাদকের কবলে জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ, শক্তিশালী আইনি কাঠামো হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ মাদকের কবলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মাদকের বিস্তার রোধে সরকার বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর অনুকূলে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল নড়বড়ে আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেওয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো খালি হাতে সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।’ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, আসামিদের থানায় সোপর্দের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলা জটের কারণে যাতে আসামিরা পার পেয়ে না যায়, সেজন্য মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন (সংসদে) উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
তিনি জানান, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শযাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে মানবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মহানগর এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
মাদকের ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন, পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব
দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২১ দিন আগে
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশ নেয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনাকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্যের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের ঘটনার হার সবচেয়ে কম। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান। এ বিষয়ে মন্ত্রী দাবিটি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
২৪ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ.লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামীকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আগামীকাল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু বাহিনী হিসেবে এবং আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে (জেলা) আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দুয়েকটা জায়গায় এসব দেখেছি। তাতে করে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা আমাদের সমস্ত বাহিনীগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।’
তিনি বলেন, তার বাইরে আমরা আজকে থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মেট্রো এবং এর বাইরে দুটো জেলাতে আমরা (সেনাবাহিনী) ডেপ্লয় (মোতায়েন) করেছি, যাতে যেকোনো রকমের অপতৎপরতা চিহ্নিত করা যায়।
২৪ দিন আগে
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি বিশেষ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক সম্মানী প্রদান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ইউএই ফেডারেল পুলিশ কর্তৃক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪৪ পৃষ্ঠার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।
বর্তমান সরকারের কাজের গতি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততর উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ফেডারেল এনসিবি ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের জানায়, ‘বাংলাদেশের অনুরোধে ইস্যুকৃত রেড নোটিশের ভিত্তিতে তারা উক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানায়। সেটি আমরা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মাত্র তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আজ পুরস্কৃত হওয়া ট্রাফিক কনস্টেবল মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ (জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব উদ্যোগে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য ২০ হাজার টাকা ও আইজিপি ব্যাজ প্রাপ্ত) মোট চারটি চাঞ্চল্যকর ও প্রশংসনীয় ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পানিশমেন্ট অ্যান্ড রিওয়ার্ড’ (শাস্তি ও পুরস্কার) নীতি কার্যকর করেছে। কর্তব্যকাজে আন্তরিকতা ও সততা প্রদর্শনকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয়তা, গাফিলতি বা দুর্নীতিতে লিপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অপরাধ প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা রাতারাতি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব না হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনি ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত সম্পন্ন করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, উপপরিদর্শক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মংলার কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী কাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত মিরাজের অনুসারীরা কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালালে কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয় এবং বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আগামী ২৩ জুন একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক (সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পুলিশের অ্যালার্ট জারির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উক্ত দিনটিকে কেন্দ্র করে তারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
বেনজীরকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতি দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হবে এবং তাকে খুব দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করবে।
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবুধাবির ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের মহাপরিচালক কর্তৃক ২০২৬ সালের ১২ জুন পাঠানো একটি ইমেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতি মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশের অধীনে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলার নথিপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে।
বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই।
মন্ত্রী জানান, এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ করেছিল এবং পরবর্তীতে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ জানায়।
৩২ দিন আগে