সালাহউদ্দিন আহমদ
৪৯ বিসিএসের বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। তবে নিয়োগের আগে নিয়ম অনুযায়ী ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন সংবাদে ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে ৬৬৮ জনকে সুপারিশের কথা বলা হলেও পিএসসি প্রকৃতপক্ষে ৬৬৫ জনকে সুপারিশ করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি। এছাড়া আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে মোট ৬৫৭ জনের নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোয়। তাদের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে। ফলে ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন বাকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার প্রজ্ঞাপন একবারেই হতে হবে, এমন কোনো বিষয় নেই। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আগামী সোমবার দিন নির্ধারিত রয়েছে। তাদের সার্ভিসে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর হওয়ায় এখনও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার সময় রয়েছে।
এই ৪৬ জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া একরকম শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জনপ্রশাসনমন্ত্রী, জনপ্রশাসন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রক্রিয়া শেষ করতে শনিবার ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির আগে আরও কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ফাইল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য পাঠাতে হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ভুল তথ্য বা অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত।
‘বৈষম্য করা হবে না’
নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। তাই কারও রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, কোনো পরীক্ষা বা সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সে কারণে বৈষম্য করা হবে না।
সম্প্রতি ৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনে নাম না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রার্থীর আত্মহত্যা কিংবা নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার হুমকির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখার পদধারী নেতা ছিলেন।
তিনি ওই হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওই প্রার্থী তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না বলে সন্দেহ করেছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন এখনও কয়েক ধাপে হতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় উত্তেজিত না হয়ে অপেক্ষা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। সব সরকারের সময়ই বিধি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া হয়ে থাকে। একইভাবে মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বিষয়ও বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভেরিফিকেশনে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে কী হবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়। কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের দণ্ডাদেশ থাকলে সেটি প্রত্যাহার না হওয়া বা আপিলে খালাস না হওয়া পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
এ ধরনের বিষয় বিবেচনায় না নিলে পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেরিফিকেশনের নামে নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে দেওয়া আরেক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভেরিফিকেশনকে কোনো অপসংস্কৃতি বা নিপীড়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কারণে ভেরিফিকেশনে সমস্যা হলে পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ বা আবেদন করে বিষয়টি তদন্তের জন্য অনুরোধ করা যায়। এখনও সেই পর্যায়ে যাওয়ার সময় আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তেজিত না করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান তিনি।
৪ দিন আগে
ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতার সুযোগ পাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো ‘অপশক্তি’কে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’
এছাড়া দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মোকাবিলায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
নতুন আনসার সদর দপ্তর সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর পাওয়ার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।
আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। খিলগাঁওয়ে বিদ্যমান আনসার সদর দপ্তরে জায়গার সংকট এবং যাতায়াত-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল কাজ করছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে ডরমিটরি, ব্যারাকসহ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন জাতীয় সংকটের সময় আনসার বাহিনীর অবদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিগুলো ধীরে ধীরে পূরণের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় না; যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।
এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য একসঙ্গে পুরো সড়ক খনন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করে দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে বলা হয়েছে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময় থাকে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং আরও জোরদার করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কতজন সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হচ্ছে, তা পুলিশ বিভাগ নিয়মিত সংগ্রহ করছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।
এ সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে কোনো একটা বা দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে নিয়ে এসে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করাটা ঠিক হবে না।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে এবং মামলা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছে।’
মিরপুরের একটি ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
ওই ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধীদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তা বিবেচনায় না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী সাইবার পরিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত ইতোমধ্যে সংকলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজকের (সোমবার) বৈঠকটি ছিল সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার পরামর্শ সভা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় সম্পাদকদের লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’
সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।’
প্রস্তাবটি উপযুক্ত মনে হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলোর সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন মন্ত্রী।
এছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আরও সুপারিশ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১৫ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তের পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনও সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে এবং পরে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারব।’
সাইবার স্পেসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
৭ দিন আগে
জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জনের ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা হবে
নাশকতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সন্দেহে রাজধানীর জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জনের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
জাসদ কার্যালয়ে একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন নেতাকর্মীকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কার্যালয়ে আলাপ-আলোচনা করতে অনুমতি লাগে না। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন জড়ো হয়েছে এবং নাশকতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে পুলিশ যায় এবং অনেককে আটক করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৫০ জনের মতো আটক ছিল। ২৭ জন বাদে পুলিশ সবাইকে ছেড়ে দিয়েছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক এবং অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। যদি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।
কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ অভিযান চালানো হয়নি বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৮ দিন আগে
সালমান মুক্তাদির চাঁদাবাজির ঢালাও অভিযোগ করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে, যার জেরে সেখানে ভাঙচুর হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল (শনিবার) একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার তার স্টুডিওতে ভাঙচুরের শিকার হওয়ার পর বলেছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলেছেন। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এই ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। আপনাকে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিয়েও কথা বলেছেন—এভাবে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে উদ্দেশ্য করে তো বলতেই পারে, এটাই গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যিনি এই অভিযোগটা ফেসবুকে লাইভে এসে করছেন, তিনি কি কোনো মামলা দায়ের করেছেন? করেননি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি (সালমান মুক্তাদির) এক পর্যায়ে বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চায়নি, চাইলে নাকি তিনি দিত। অডিওতেও...। তো যার কাছে সরাসরি কোনো চাঁদা দাবি করেনি, তিনি বলছেন চাইলে দিত। তাহলে এটা চিহ্নিত কেউ না এবং তিনি বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলছেন, এটা ঢালাও অভিযোগ।’
এ সময় তিনি জানান, এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা করা হলে বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে দেখা হবে।
সালমান মুক্তাদির ভাঙচুরের ঘটনার ভুক্তভোগী জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনায় তিনি ভিকটিমাইজড (ভুক্তভোগী) হয়েছেন, তা আমরা দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা একটি খুব সংক্ষিপ্ত প্রাথমিক তদন্ত করেছি, তবে আরও বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে।’
এই বিষয়ে মামলা, জিডিসহ আইনি প্রক্রিয়া চালু আছে জানিয়ে তিনি বলেন, হয়ত খুব শিগগিরই মামলা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মামলা হয়নি।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত মানিকদী নামাপাড়ায় একটা বিতর্কিত জমি আছে, সম্ভবত ৩৫ কাঠার। এই জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আছে।
তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি হলো নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। আরেক পক্ষে আছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে জমিটা নিয়ে বিরোধ চলছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের বেশ কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখল করতে গিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় তারা।
তিনি আরও বলেন, সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্থাপনা রয়েছে, যা মূলত শুটিং ও কনটেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ভাঙচুরের ভিডিও তিনি দেখেছেন বলেও জানান।
এছাড়া বিতর্কিত জমি নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, বিতর্কিত এই জায়গা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে, সে বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রওে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বিষয়টা তদন্তাধীন এবং মামলা দায়ের হবে বলে জেনেছি, তাই এই বিষয়ের অগ্রগতি পরে জানানো যাবে।
৮ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ কাজে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।’
এ সময় তিনি জানান, সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ‘ফ্যাসিবাদের দুই শক্ত দোষর’ এবং শুক্রবার আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশকে নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা (আটক) এতদিন এখানেই লুকিয়ে ছিল। আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা কোথায় ছিল?’
দেশে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের সময় এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের মানুষ কখনও আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর যারা কোনো অনুশোচনা, ক্ষমাপ্রার্থণা করেননি বা দুঃখ প্রকাশ করেননি, তারা এখন বাংলাদেশের বাইরে থেকে কথা বলছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত পাঠাতে প্রতিবেশী দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হলে আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকার জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে কিছু রাজনৈতিক দল অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আজকের আলোচনায় কমিটি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রচার করছে, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন যত দ্রুত সম্ভব আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিতে কমিটির উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে এ বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি বৈঠকে অংশ নেয়। সেই সঙ্গে একটি দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে কমিটির কাছে পাঠায়। তবে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বৈঠক বর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে ছিল।
এর আগে আজ (রবিবার) জুলাই জাতীয় সনদে সম্মত সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণভোটে প্রতিফলিত জনগণের রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটটি তাদের এ অবস্থান স্পষ্ট করে। সেখানে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল এবং জনগণ সেসব প্রতিশ্রুতির পক্ষে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি ১৮তম সংবিধান সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জুলাইয়ের যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
কমিটি দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করার চেষ্টা করবে।
জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করব।
জুলাই জাতীয় সনদে কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকার উদাহরণ হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি, সংসদের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। কেউ কেউ ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।
সালাহউদ্দিন বলেন, আলোচনা চলতে থাকবে এবং বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে আমরা তা সংসদে উপস্থাপন করতে পারব। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিল প্রস্তুত করবে, যা পরে সংসদে আসবে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামের একটি রাজনৈতিক দল বৈঠকের মাঝপথে বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটির প্রতিনিধিরা আসলে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, তাদের মতামত উপস্থাপন করেছেন এবং পরে চলে গেছেন। এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) তাদের মতামত লিখিতভাবে জমা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৫ দিন আগে
বিস্ফোরণ-অগ্নিসংযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপতৎপরতায় সরকার মোটেই শংকিত নয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুই দিন ধরে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, মাফিয়া শক্তি, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আইসিটি কোর্টের (মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতের) একটা রায়ের প্রেক্ষিতে তথাকথিত কর্মসূচি দিয়েছে। সেটা মনে হয় আজকে ২০ তারিখ, লকডাউন না কি যেন নাম দিয়েছে। সেটাকে উদ্দেশ্য করে রাজধানীতে কিছু ককটেলবাজি করেছে, রাতের অন্ধকারে দুই-একটি জায়গায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি, মোটরসাইকেলসহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে যারা একটা ককটেল মেরেছিল, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কিছু বাস, পরিত্যক্ত বাস এবং কিছু বাস, যেগুলো চালক ও হেলপারবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং করা থাকে রাতে, সেগুলো টার্গেট করে দুই-একটাতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এগুলোও আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। তাদেরকে শনাক্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা তাদের অপতৎপরতা, আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এগুলোতে আমরা খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছি না।’
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে ফেরার বার্তা দিয়েছেন এবং গত শুক্রবার গুলশানের ঘটনা ও আজকের লকডাউনের মতো কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে আগামী কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউন আমরা শব্দ শুনেছি, তো এখানে লকডাউন কি দৃশ্যমান হয়েছে? এগুলো জাতি প্রত্যাখ্যান করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেই আওয়ামী শক্তি ১৪০০ লোকের প্রাণ নিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, এটা জাতিসংঘের রিপোর্ট, আমাদের রিপোর্ট অনুসারে সেটা ২০০০-এরও বেশি, সেই গণহত্যাকারীরা এখনও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নাই, ভুল স্বীকার করে নাই, উচ্চবাচ্য করছে বিদেশে বসে, তাদের এই সমস্ত অপতৎপরতায় আমরা মোটেই শংকিত না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাতি তাদেরকে কখনও এই দেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। সুতরাং এগুলো অপাংক্তেয়। তারা ডিসেম্বরে ফিরবে বলে, না ফেব্রুয়ারিতে ফিরবে বলে, এগুলোতে আমাদের কোনো মনোযোগ নাই।’
এছাড়া বিরোধী দল যে লং মার্চ করছে, সেটার সুযোগ আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না এবং রাজপথে নামার সুযোগ বিরোধী দলের কাছ থেকে পাচ্ছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যখন সমালোচনা করে, সেটা আমরা মনোযোগের সাথে নেই। বিরোধী দল কিছু দাবি নিয়ে লং মার্চ করেছে, করতেই পারে। এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সেই কর্মসূচি পালন করতে পারে, সহযোগিতা করা। আমরা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে লং মার্চ করেছে, কোথাও কোনো দুর্ঘটনা হয় নাই, সহিংসতা হয় নাই, কোনো ক্ল্যাশ (সংঘর্ষ) হয় নাই। কালকে উত্তরাঞ্চলে লং মার্চ করেছে ঢাকা থেকে, শান্তিপূর্ণভাবে করেছে। তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে, এখন তাদের বিভিন্ন রকমের দাবি থাকতে পারে, সেই দাবির পক্ষে যদি জনগণ থাকে, তখন জনগণ কথা বলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর পরে নির্বাচন হবে বিধি মোতাবেক, নিয়ম মোতাবেক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, তখন জনমত কাদের পক্ষে যায় সেটা তখন দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। তার যাওয়ার সময়ে এক সপ্তাহ ধরে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খলাগ্রস্ত দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভায় যে অংশগ্রহণ, এটা প্রতিবছর একবার হয়ে থাকে, তিনি তাতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। তার সাথে এ সমস্ত ঘটনাবলীর কোনো সম্পর্ক নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি এগুলো করে আসছে আরও দুই বছর আগে থেকেই। এটা কন্টিনিউয়েশন। বিরোধী দলের কর্মসূচির সাথে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না সেটা আপনারাই খুঁজে বের করুন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত দাবি-দাওয়া বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সমাধানের জন্য, তারা আলোচনা করতে চেয়েছে সংসদে, আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে কমিটি করতে চেয়েছে, বিরোধী দল-সরকারি দল মিলায়ে কমিটি করে তারা পরামর্শ দিয়েছে। তো এই বিষয়টায় ওখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল।’
১৫ দিন আগে
গ্রেপ্তাররা ‘অপরাধ স্বীকার করেছে’, দ্রুত বিচারের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে তিনজন এবং আজকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে। এনআইডি যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ‘তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।’
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গিয়েছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না—এসব নিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয় জব্দ করতে পেরেছে।’
পুলিশ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে এবং নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের দাফনও আজ রবিবার সম্পন্ন হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডটির বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা আমাদের সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে এ মামলার বিচারেও বিচার বিভাগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১৫ দিন আগে