চিকুনগুনিয়া
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ জনগণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগে থেকেই সকল প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আহ্বান দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) দেশবাসীর উদ্দেশে এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ জনগণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমরা সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এডিস মশার কামড় থেকে মানুষ ডেঙ্গু কিংবা চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। সুতরাং, ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগে থেকেই সকল প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই সময়টিতে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকলেও জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। যেকোনো সময়ই মানুষের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায়। তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশা জন্মাতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পঁচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সুতরাং, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যাক্ত টায়ার, ডোবা, বাড়ি বা বাসার ছাদে পানি জমতে দেবেন না। পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা জরুরি। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বাড়ি বা বাসার ভেতর-বাহির পরিষ্কার রাখুন।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্ষা মৌসুমের আগে থেকেই সরকার আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে পরচ্ছিন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আমার আহ্বান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শনিবার আপনারা যার যার এলাকার নিজ নিজ বসতবাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করুন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললে, আসন্ন দিনে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী জ্বর থেকে জনগণ নিজেদের রক্ষা করতে সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূলনীতি হচ্ছে—প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর, অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। অতএব, কোথাও ময়লা পানি জমে থাকতে দেবেন না। নিজের বাসাবাড়ি এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন।
এডিস কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করুন; নিজেদের রক্ষা করুন, অপরকেও রক্ষা করুন।
৩ দিন আগে
চীনে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ৭ হাজার, কঠোর অবস্থানে সরকার
চীনজুড়ে ফের ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস। এবার মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশটির ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক সংক্রমণ এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার।
মশার উৎপত্তিস্থল অনুসন্ধানে ড্রোন ব্যবহার, মশারি, জীবাণুনাশক স্প্রে থেকে শুরু করে জড়িতদের জরিমানা করার মতো বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে চীন।
বুধবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর অধিকাংশই হংকংয়ের নিকটবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ফোশান শহরে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে।
চিকুনগুনিয়া মূলত মশাবাহিত একটি রোগ। এই ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গুর মতো জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথা হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শহরের সড়ক, আবাসিক এলাকা, নির্মাণস্থলসহ অন্যান্য স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে করার খবর দেখানো হয়েছে। এমনকি কর্মীরা অফিস ভবনে প্রবেশের আগে কিছু জায়গায় স্প্রে করা হচ্ছে।
পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণে বছরে দেড় লাখ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যঝুঁকি
দেশটিতে মশারোধে খালি বোতল, ফুলদানি বা অন্যান্য স্থানে জমাট পানি ফেলে না দিলে ১০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১,৪০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের গুয়াংডং প্রদেশে, যেখানে ডংগুয়ানসহ অন্যান্য শিল্পকেন্দ্র অবস্থিত, ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বোলিভিয়া ও ভারত মহাসাগরের কিছু দ্বীপরাজ্যও বিপৎসীমার মধ্যে রয়েছে। ব্রাজিলও ভাইরাসের প্রভাব ব্যাপক দেখেছে।
চীনে ভারী বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা পরিস্থিতি আরও অবনতি করেছে। ২০০৩ সালের মারাত্মক সার্স মহামারির পর থেকে চীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এবার ফোশানে রোগীদের ন্যূনতম এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মশার লার্ভা খাওয়া মাছ ব্যবহার ও বড় মশাদের মাধ্যমে ভাইরাসবাহী মশাদের শিকার করার চেষ্টা নিয়েও খবর এসেছে। জাতীয় পর্যায়ে সভা হয়েছে এবং প্রোটোকল গৃহীত হয়েছে, যা চীনের ভাইরাস সংক্রমণ থামানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২২০ দিন আগে